Friday, September 18, 2026

শরৎ

অনেক দিন পর আজ তোমাকে দেখলাম 
শরতের আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘে 
মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয়া সেই দুটি চোখ!
তাতে কি জিজ্ঞাসা ছিল নাকি অবজ্ঞা?
আজীবন দুজনা ছিলাম দুজনার বাকির খাতায়
না প্রশ্ন না অবজ্ঞা 
কিছুই আর বিচলিত করে না আমায়
তবু
মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে 
কেমন আছ তুমি? 
কেমন কাটছে তোমার শরৎ?

দুবনা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Tuesday, September 15, 2026

উপলব্ধি

পরীক্ষায় ফেল করলে মন খারাপ হয়, বছর নষ্ট হয়। কিন্তু পরের বার পরীক্ষায় বসে পাশ করা যায়, এমনকি চেষ্টা করলে হারানো সময়ও মেক আপ করা যায়। তবে চিকিৎসায় ভুল হলে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একই কথা বলা চলে রাজনীতির ক্ষেত্রে। এখানে ভুল করলে দেশের খোলনলচে পাল্টে যায়। তখন হাজারটা মিটিং মিছিলও সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তারপরেও সেসব করতে হয়। আর শুরুতেই ভুলটা স্বীকার করতে হয়। তাতে এ প্রজন্মে না হলেও পরবর্তী কোন প্রজন্মে শাপমোচন হয়। এমনকি দেশ তার নিজের বলয়ে ফিরে আসে।

দুবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 13, 2026

শরতের রোদ নাকি শর্তের রোদ?

জানালার বাইরে শরতের রোদ
নেই কোন রাগ তার নেই কোন ক্রোধ।
কুসুম গরম সেই সূর্য কিরণ 
দেখলেই মূহুর্তে জুড়িয়ে যায় মন
রোদের আলতো ছোঁয়া গাছেরা হাসে 
তাই তো সবাই তাকে এত ভালোবাসে 
নীল আকাশে সাদা মেঘ রোদ ঝলমল
রোদের বৃষ্টিতে ভিজে ভোলগা টলটল 

মস্কো, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ত্র

অনেক আগে গরুর রচনা পড়ে বেশ হেসেছিলাম। তবে একটু ভেবে দেখলাম এটা আমাদের জীবনে হরহামেশাই ঘটে। এমনকি সবচেয়ে অত্যাচারী শাসকের উজির নাজিররা নূন্যতম সুযোগে জনগণকে তাদের মহানুভবতা ও সাফল্যের বয়ান শোনায়। 

ইউক্রেন এখন যুদ্ধরত। জেলেনস্কি ব্যস্ত দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে অর্থ ও অস্ত্র ভিক্ষায়। অস্ত্র যে কতটা অর্থহীন সেটা সে কবে বুঝবে এটাই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। 

কয়েক দিন আগে জেলেনস্কি গিয়েছিল নরওয়ের রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে। সেখানে গিয়েও অস্ত্র সাহায্য চাইলে অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আচ্ছা একজন লোক যদি মানসিক ভাবে সুস্থ না হয় সে কি পারবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে? এখন রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করছে তাতে অচিরেই শুধু ইউক্রেন নয় ইউরোপও অস্ত্র মুক্ত হবে বলে ধারণা করা যায়।

মস্কোর পথে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Friday, September 11, 2026

সময়

নতুন বাংলাদেশে
জীবনকে ঝুলিয়ে মৃত্যুরা আসে 
মৃত্যুর মিছিল আজ সারা দেশ জুড়ে 
বাংলার হৃদপিন্ড খায় কুড়ে কুড়ে।

দুবনা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 10, 2026

সময়

শুনলাম ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আপনি ভাবতেই পারেন এটা ছাত্রলীগের সমস্যা, এটা আওয়ামী লীগের সমস্যা বা ঐ জাতীয় কিছু। বাস্তবে এটা আপনার সমস্যা। 

আচ্ছা আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কিসের জন্য? সম্পত্তির। মামলায় লড়ে ভাই -ভাই, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র। তাই স্বার্থের কাছে আপন পর বলে কেউ নেই, কিছু নেই। 

আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, সংখ্যালঘু - এরা আসলে কে? ভিন্নমতাবলম্বী। কোন না কোন প্রশ্নে মতের অমিল হলেই কাউকে হত্যা করা গেলে সেই দিন খুব দূরে নয় যখন এদের অস্ত্র আপনার দিকে তাক করা হবে। তখন আর চারপাশে কেউ থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা তখন আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না, এটা হবে সামাজিক বিধি। 

এখনও যদি মেরুদন্ড পুরোপুরি খোয়া না যায়, এখনও যদি মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তাহলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, যেকোন মবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, অন্যদের প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করুন। না হলে কলঙ্কময় মৃত্যু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

দুবনা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 6, 2026

শিক্ষা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে সুশীল সমাজ বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবী সমাজ জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার প্রধান কুশীলব। একদল ভাঙে সরকারের ন্যায় অন্যায় সবকিছুর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে, অন্যদল সরকারের ভালো মন্দ সবকিছুর সমালোচনা করে। দল নিরপেক্ষ না হয়ে বুদ্ধিজীবীরা হয়ে ওঠেন পার্টিজান। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর তারা যারা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিজেদের সেলিব্রিটি বানানোর জন্য সত্য না বলে বাতাস বুঝে কথা বলে, মানুষকে প্রিয় মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে, তাদের চিন্তাশক্তি ধ্বংস করে। এই সমস্ত লেখক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী মনে করে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ আধুনিক মাদ্রাসা। আসলে এরা নিজেরাই একটু উপরের স্তরের ওয়াজকারী। মধ্যবিত্ত মনোভাবের কারণে টুপি পরে দাড়ি রেখে গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ করতে এদের বাঁধে বিধায় স্যুটেড বুটেড হয়ে ক্লিন শেভড মুখে বিশ্ব বিদ্যালয় বা টেলিভিশনের পর্দা থেকে এরা মার্জিত ভাষায় সেই সস্তা কথাগুলোই আকর্ষণীয় প্যাকেটে করে সর্বসাধারণের মধ্যে বিক্রি করে। তা সে ছাব্বিশ লক্ষ ভারতীয়, হিন্দুরা ভারত পন্থী, মার্কিন গণতন্ত্র ভাই অন্য যেকোনো শিরোনামেই হোক না কেন।

মস্কো, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পন্থা

কোন কোন তথাকথিত সুশীল নাকি বলে যে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারত পন্থী। এরা একথা বলে নিজেরা যে পাকিস্তান পন্থী সেটা আড়াল করার জন্য। বাস্তবতা হল এদেশের হিন্দুরাই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ পন্থী। বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, আঁকড়ে ধরে থাকে। দেশ শুধু ভূমি নয় আর জাতি শুধু মানুষ নয়। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব কেউ যদি মনেপ্রাণে ধরে রাখতে চায়, মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে তবে তারা মূলতঃ এ দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক কৃষক আর শিক্ষিত অশিক্ষিত সব ধরনের হিন্দুরা। তাই এদের ভারত পন্থী বলা আসলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস করার নগ্ন প্রচেষ্টা। আর যেসব সুশীল এসব করে তারা ঘৃণা ছাড়া আর কোন কিছুর যোগ্য নয়।

মস্কোর পথে, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Saturday, September 5, 2026

দোষ

সব দেখে মনে হয় বর্তমান যুগে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হল নন্দ ঘোষ। কেউ নিজের সাফল্য নিয়ে ততটা চিন্তিত নয় যতটা অন্যের ব্যর্থতা নিয়ে। সমস্যা হল নন্দ ঘোষ এমনি এমনি হওয়া যায় না, সেজন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে হয়। আর ব্যর্থরা নিজেদের ব্যর্থতা লুকানোর জন্য এদের দোষ খুঁজে বেড়ায়।

সেলিগের, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 3, 2026

সমস্যা

আমাদের সমস্যা হল সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে আমরা নিজেদের অন্যায়কে অন্যায় আর প্রতিপক্ষের ন্যায়কে ন্যায় বলতে দ্বিধা করি। এতে প্রতিপক্ষ আমাদের চিন্তা ভাবনা বায়াস বলে এড়িয়ে যায় আর স্বপক্ষ নিজেদের ভুলটা জানতেই পারে না। আমার দৃষ্টিতে ভালো কোন লোকের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া মানে যেকোনো অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেয়া। ন্যায় অন্যায় এটা কারোও কাজের ফল, কে করল তার উপর এর চরিত্র নির্ভর করে না।

দুবনা, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Tuesday, September 1, 2026

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

সব দেখে মনে হয় দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার গরু ঘোড়া বা হাঁস মুরগির চেয়েও কম। হাট বাজারে বিক্রির আগে মালিকরা এসব প্রাণীর একটু যত্ন আত্তি করে, ভালোমন্দ খাইয়ে মোটাতাজা করে। কিন্তু প্রান্তিক জনগণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবার আগে রাজা মহারাজারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করে না। ইচ্ছে হল কোন রাস্তায় রিকশা বা অটোরিকশা চালানো নিষিদ্ধ করা হল। জীবিকা অর্জনের একমাত্র উপায় হারিয়ে এসব পরিবার কিভাবে বাঁচবে সেটা নিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এরা ধরেই নেয় ক্ষমতা মানেই সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার হোলসেল লাইসেন্স হাতে পাওয়া।

দুবনা, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Monday, August 31, 2026

জীবন

আমি মরিয়া গিয়াছি। হ্যাঁ, সত্যি সত্যি আমি মরিয়া গিয়াছি। ঘুম ভাঙিতেই টের পাইলাম আমি মরিয়া ভূত হইয়া গিয়াছি। অনেক খুঁজিয়াও পায়ের টিকির দেখা পাইলাম না। অবশ্য খুঁজিয়াছিলাম যে তাহাই বা বলিব কী করিয়া। হাত চক্ষু সবাই তো বেমালুম গায়েব হইয়া গিয়াছে। জীবন কি? জীবন হইল কাজ, জীবন হইল ব্যস্ততা। গত সপ্তাহের সুপার ব্যস্ততার পর আজ সকালে ক্লান্ত শরীরটাকে নিথর ভাবে বিছানায় পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া মনে হইল আমি মরিয়া গিয়াছি।‌

দুবনা, ৩১ আগস্ট ২০২৬

Saturday, August 29, 2026

যোগ্যতা

অযোগ্য হবার জন্যেও যোগ্যতা লাগে। সরকারের কিছু কিছু কর্মকর্তার কথা শুনে মনে হয় যোগ্য কোন ছার, এমনকি অযোগ্য হবার নূন্যতম যোগ্যতাও এদের নেই। এরা দেশ চালালে দেশ অচল হবে না তো হবেটা কি?

মস্কোর পথে, ২৯ আগস্ট ২০২৬

Tuesday, August 25, 2026

চোখে চোখ

আজকাল প্রায়ই একটা কথা শোনা যায় 
চোখে চোখ রেখে কথা বলা। 
অনেকেই এটাকে মনে করে সাহসী পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে বক্তা শ্রোতাকে ভয় পায় না, প্রয়োজনে দুর্বিনীত হতে পারে অর্থাৎ সে নিজেকে স্বাধীনচেতা হিসেবে শ্রোতার সামনে প্রকাশ করতে পারে। তবে এটা যে সব সমস্যার সমাধান নয়, সব ক্ষেত্রে চোখে চোখ রাখার প্রয়োজন নেই সেটাও বুঝতে হবে। সাধারণ ভাবে মানুষ যখন কথা বলে তখন সে চায় শ্রোতা তার কথা শুনুক। এক্ষেত্রে চোখ কোথায় আছে তারচেয়ে বড় কথা সে শুনছে কি না। তাছাড়া চোখে চোখ রেখে কথা বলতে বলে জেরাকারী বক্তা যে মিথ্যা কথা বলছে না সেটা প্রমাণের জন্য। চোখে চোখ রেখে কথা বলার ঘোষণা দেয়া মানে শুরুতেই নিজের অপেক্ষাকৃত নীচু অবস্থানকে স্বীকার করে নেওয়া। তাই চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারার মধ্যে নিজের ভূলুণ্ঠিত আত্মবিশ্বাস টেনে তোলার প্রচেষ্টা আছে কিন্তু প্রাগমাটিজম নেই। এটা দুর্বল আর ব্যর্থ মানুষের আস্ফালন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থহীন, এমনকি ক্ষতিকর।

ভেলিকি নভগোরাদের পথে, ২৬ আগস্ট ২০২৬

Monday, August 24, 2026

সভ্যতা

বর্তমান বাস্তবতায় মুষিকের সিংহে রূপান্তর ও ঋষিকে হত্যা করতে উদ্যত হবার কথা মনে পড়ে। সমস্যা হল এখন আমাদের সেই ঋষি নেই যে সিংহকে পুনরায় ইঁদুরে পরিণত করবে। 

খবরে শোনা যায় অনেক উন্নত দেশেও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা ঠিকঠাক পড়তে বা লিখতে পারে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তাদের হাতে এমন সব ডিভাইস দিয়েছে যে পড়তে শেখাটা তারা আগের মত প্রয়োজনীয় মনে করে না। মননে ও সত্যিকার জ্ঞান বুদ্ধিতে মুষিক হয়েও তারা নিজেদের সিংহ মনে করে। অর্থ, মিথ্যা ও অন্ধ বিশ্বাস যাদের হাতিয়ার তাদের কাছে মানবতা আশা করা বৃথা। ফুল প্রুফ বলে একটা বিষয় আছে যখন বেঠিক কম্পোনেন্ট জোর করেও ঢোকানো যায় না। এখন বিজ্ঞানীদের ভাবতে হবে এমন এক ফুল প্রুফ সিস্টেমের কথা যাতে অমানবিক, হিংস্র কেউ চাইলেই হাইলি সফিস্টিকেটেড ডিভাইস ব্যবহার করতে না পারে যার সাহায্যে তারা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজ ও ব্যক্তি মানুষের ক্ষতি করতে পারে। ফ্রাঙ্কেনস্টাইনদের সৃষ্টি করে বুদ্ধিমান মানুষ আর তার ফল ভোগ করে সমস্ত মানবজাতি, বিশেষ করে নিরীহ লোকজন।

পস্কোভের পথে, ২৫ আগস্ট ২০২৬

Friday, August 21, 2026

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা

অনেক সময় পুলিশ বিভিন্ন ক্রিমিনাল গং-কে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে শক্তিক্ষয় করতে দেয়। কিন্তু সেই কৌশল যে এদের চেয়েও বড় কোন ক্রিমিনাল গং গ্রহণ করবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে কি? আওয়ামী লীগ ও বিএনপি - এদের কেউই গঙ্গা জলে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। কিন্তু তাদের আভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল আর পরস্পরের প্রতি শত্রুতা শুধু জামায়াত আর অন্যান্য মৌলবাদী গোষ্ঠীকেই শক্তিশালী ও দেশকে দুর্বল করে।

দুবনা, ২১ আগস্ট ২০২৬

Thursday, August 20, 2026

আমাদের গণতন্ত্র

তুমি অন্যের কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার আশা কর তার সাথে সে রকম ব্যবহার কর। এই সত্যটি যুগ যুগ ধরে জানা। তাই অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাচ্যুত হবার পর নব্য ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে হয়রানি আশা করে। 

প্রতিপক্ষ ছাড়া যেমন ফুটবল খেলা যায় না, বিরোধী দল ছাড়াও তেমনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বিরোধী দল শত্রু নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। শুধু তাই নয়, নিজেকে সময়োপযোগী রাখতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ সবচেয়ে কার্যকরী পথ্য। 

আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য মানবিক সমাজ গঠন করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের শাসকরা মানবিক হওয়াকে দুর্বলতা মনে করে, নিষ্ঠুরতাই যেন আজ সফল ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের একমাত্র পরিচয়।

দুবনা, ২০ আগস্ট ২০২৬

Monday, August 17, 2026

আসা যাওয়া

ছোটবেলায় পাছড়া পাছড়ি খেলতাম। এটা অনেকটা মার্শাল আর্টের মত। যেই উপরে থাকুক না কেন, নীচের জন সহজে ছাড়ত না। তাই একসময় ছাড়া পাওয়ার বা লড়াই শেষ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতাম। অথবা হাডুডু খেলায় প্রায় চলে এসেছি, কিন্তু প্রতিপক্ষের কেউ লাইনে পা ধরে বসে আছে, ওদিকে দম শেষের পথে। 

ইরানের সাথে যুদ্ধে আমেরিকার ঠিক সেই অবস্থা। কোন শর্ত নয়, ইরান শুধু মুখ খুলে হেরে গেছে বললেই ট্রাম্প হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। 

এমনি এমনি কি আর বলে আসা নিজের ইচ্ছায়, যাওয়া পরের ইচ্ছায়!

দুবনা, ১৭ আগস্ট ২০২৬

Sunday, August 9, 2026

বিপ্লবের রং

আজকাল রঙিন বিপ্লবের কথা প্রায়ই শোনা যায়। আচ্ছা এরকম প্রথম বিপ্লব কি তিয়ানানমেন স্কয়ারে অকাল মৃত্যু বরণ করেছিল? সেখানেও ছাত্রদের অসন্তোষ। অসন্তোষই সবসময় বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে আর ছাত্ররাই ছিল এসব বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। রাশিয়ায় বলি আর অন্যান্য দেশেই বলি, ছাত্রদের পাঠচক্র থেকেই শুরু হত বিপ্লবী কর্মকাণ্ড। এসব গোপন সংগঠনের বেশিরভাগ ছিল নৈরাজ্যবাদী। যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করত তারা শ্রমিকদের সংগঠিত করত। কারণ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চালিকা শক্তি শ্রমিক শ্রেণী। তবে সমাজ পরিবর্তনে ছাত্রদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিবিপ্লব - সেটাও বিপ্লব। পুঁজিবাদ বা বৃহৎ পুঁজি (যা সরাসরি ক্ষমতায় না থেকে পেছন থেকে ক্ষমতা-ঘোড়ার লাগাম ধরে বসে থাকে) সেটাকেই ব্যবহার করে অপছন্দের রেজিম চেঞ্জের জন্য। এসব বিপ্লবকে প্রতিবিপ্লব বলার কারণ এই যে প্রায় প্রতিটি রঙিন বিপ্লব দিনের শেষে দেশে ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা ভূরাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে। তাই এসব বিপ্লব যে কার স্বার্থে সেটা বুঝতে কষ্ট হয় না। চীন ও বেলারুশে ব্যর্থ হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিপ্লব সার্থক, জনগণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় দালালদের জন্য।

দুবনা, ০৯ আগস্ট ২০২৬

Saturday, August 8, 2026

বিবর্তনের দেশীয় রূপ

বিপ্লব হল ফেজ চেঞ্জ বা পর্যায় পরিবর্তন। যেমন শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে তরল জল কঠিন বরফ হয়ে যায় বা ১০০ ডিগ্রিতে বাষ্প। এতে করে এইচ ট্যুর ও গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান বা নির্বাচন বা মিলিটারি ক্যু - যেভাবেই সরকার পরিবর্তন হোক না কেন সরকার বা দেশের গুণগত পরিবর্তন হয় না, শুধু সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে শোষিত হয়, ক্ষমতাসীনরা আরো বেশি গণবিরোধী হয় আর আরো বেশি করে চুরি করে। এন্ট্রোপির মত আইন-শৃঙ্খলার অবনতির পরিমাণ বাড়তেই থাকে। সার্বিক অর্থে এটাকে বলা চলে নিম্নগামী বিবর্তন।

দুবনা, ০৮ আগস্ট ২০২৬

Friday, August 7, 2026

দুর্বলতা

গৃহস্থের অনুমতি নিয়ে বাড়ীতে চোর বা ডাকাত পড়ে না। কিন্তু বাড়িতে চোর বা ডাকাত পড়লে বিচক্ষণ গৃহস্থ এর দায় নিজের কাঁধে নেয় আর ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না ঘটে সেজন্য ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে তৈরি করে। বিদেশি ষড়যন্ত্রে হোক আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে হোক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ভেঙে পড়ে আর এতে করে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তার দায় সরকার এড়াতে পারে না। সৎ মানুষ, সৎ নেতা এসব ব্যর্থতা স্বীকার করেই সামনের দিকে অগ্রসর হয়। দায়িত্ব অস্বীকার করলে তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভুল স্বীকার দুর্বলতা নয়, ভুল স্বীকার না করার জন্য অজুহাত সৃষ্টি সত্যিকারের দুর্বলতা।

দুবনা, ০৭ আগস্ট ২০২৬

Thursday, August 6, 2026

ঘোষণাপত্র

এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। কোন এক প্রসঙ্গে সে ঘোষণাপত্রের উদ্ধৃতি দিল। আজকাল এসব কথা শুনলেই গা জ্বলে। বললাম 

ঘোষণাপত্রের দোহাই দেয়া আর বেদ বাইবেলের দোহাই দেয়ার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। খাতা কলমে বাংলাদেশও গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, এমনকি সমাজতান্ত্রিক দেশ। বাস্তবে কি? ঘোষণাপত্র - এটা স্বপ্ন। বাস্তবতা আমাদের বর্তমান অবস্থা। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা যায়, কিন্তু তাতে অবস্থার পরিবর্তন হয় না। তাই ঘোষণাপত্রের দোহাই না দিয়ে কি করছ সেটা বল, তা থেকে যদি কিছু বোঝা যায়। সব রুগী সুস্থ হতে চায় - এটা তার ঘোষণাপত্র। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান অসুখটা জানা দরকার। কেবলমাত্র তখনই সঠিক ডায়াগনসিস করার চেষ্টা করা যায়।

মস্কো, ০৬ আগস্ট ২০২৬

Saturday, August 1, 2026

বৈষম্য

পরস্পর নির্ভরশীল এই বিশ্বে প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের নির্ভরতা সমান নয়। এখানেও বৈষম্য বিদ্যমান। আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার ছাড়া কৃষক বেঁচে থাকতে পারবে, কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত ফসল ছাড়া কেউ বেঁচে থাকতে পারবে না। তারপরেও কৃষক নয়, শ্রমিক নয়, খামার বা কারখানার মালিকরাই বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমন ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে উৎপাদনকারী তৃতীয় বিশ্ব নয়, ভোগকারী প্রথম বিশ্বই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক।

দুবনা, ০১ আগস্ট ২০২৬

Wednesday, July 22, 2026

অখাদ্য

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ায় এক ধরণের রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয় আর সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটে। সোভিয়েত আমলে দেশে একটাই রাজনৈতিক দল ছিল – সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিএসইউ। ফলে নতুন দলগুলোর অধিকাংশই গঠিত হয়েছিল পুরানো কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে। সে কারণেই কিনা জানি না, তবে সেই সময় রাশিয়ায় একটি কথা চালু ছিল, যে দলই গঠন কর না কেন, ঘুরে ফিরে তা সিপিএসইউ হয়ে যায়।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাম বা বাম গণতান্ত্রিক মোরচা গঠন করা হয়। সেখানেও দেখি ঘুরে ফিরে একই মুখ, যাদের বেশির ভাগ না বাম, না গণতান্ত্রিক, না বাঙালি জাতীয়তাবাদী, না অসম্প্রদায়িক। কথায় বলে এক মন দুধ নষ্ট করতে এক ফোঁটা চুনা (গরুর মুত্র)-ই যথেষ্ট। পপুলিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেসব লোকদের নেতৃত্বে এসব মোরচা গঠন করা হয় বেশ কিছু ভাল ইনগ্রেডিয়েন্ট থাকার পরেও সেটা হয় অখাদ্য।

দুবনা, ২২ জুলাই ২০২৬

 

Monday, July 20, 2026

ভুঁড়ি

ন্যাংটো রাজার কথা আমরা সবাই জানি। সবাই জানত রাজা ন্যাংটো তবে ভয়ে কেউ কিছু বলেনি, শুধু এক বাচ্চা ছেলে যার ভয় ডরের বালাই নেই, সে চিৎকার করে বলেছে যে রাজা ন্যাংটো। তবে আমাদের এখানে রাজা নেই, আছে নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তায় গর্বিত একদল মানুষ। যদিও সবাই জানে, সবাই বলে জুলাইয়ে অন্যের বাজনায় নেচে তারা ভুল করেছিল, একদল লোক কিছুতেই তা মানতে রাজি নয়, তারা প্রমাণ করেই ছাড়বে যে তারা সঠিক কাজই করেছিল, এর ফলে দেশ যদি আবারও একাত্তর পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় সেটা মানুষের দোষ। এদের দেখে আমার গোপাল ভাঁড়ের গল্প মনে পড়ে। সাম্রাজ্যবাদীদের ডলারের কারণেই হোক অথবা মাঠে না নেমে টক শো বিপ্লবের কারণেই হোক, এদের ভুঁড়ি এত বড় যে তা ডিঙ্গিয়ে নীচে কাপড় আছে কি নেই সেটা টের পায় না এরা।

দুবনা, ২০ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 19, 2026

বিশ্বাস

মাইসা কাকডাকা ভোরে বাইরে যেতে উদ্যত হলে সারাহ জিজ্ঞেস করল 
- এত ভোরে কোথায় যাচ্ছ?
- গতকাল রাবিন বললেন, যে সকালে ওঠে ঈশ্বর তার সহায় হোন। ভাগ্য পরীক্ষা করতে যাচ্ছি। দেখি ঈশ্বর আজ আমার সহায় না হয়ে যান কোথায়?

কিছুক্ষণ পরে মাইসা ফিরে এল। জামাকাপড় ছেঁড়া, রক্তাক্ত। সারাহ আবার জিজ্ঞেস করল 
- এ কি অবস্থা তোমার? কি হয়েছে? কে করল?
- তুমি বিশ্বাস করবে না সারাহ। কিন্তু কেউ আজ আমার থেকেও আগে ঘুম থেকে উঠেছে।

এটাই হল বিশ্বাস। এমনকি নিজের বিপদেও মাইসা ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারায়নি ঠিক যেমন জুলাই বিপ্লবের বাম শাখা। এমনকি দেশ হাতছাড়া হবার পরেও তারা জুলাই চেতনায় আস্থা হারায়নি। সাবাস!

মস্কো, ১৯ জুলাই ২০২৬

Thursday, July 16, 2026

সাম্যবাদী সমাজ

মানুষ পারেনি কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রবোট পারবে। হ্যাঁ, ওরা সাম্যবাদী সমাজে বাস করবে। ওরা আধুনিক যুগের সব - শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, এমনকি লেখক। ওরা সবাই সমান বেতনে বা বেতন হীনতায়। তবে বিশ্বের সেরা আইটি বিশেষজ্ঞরা ওদের সেবাযত্ন করবে নিরলস ভাবে আর সরকার দুই হাতে অর্থ ঢালবে ওদের সুস্থ, সবল, সচল রাখতে। মানুষের জন্য না হলেও রবোটের জন্য সাম্যবাদ বিরোধী পুঁজিবাদী বিশ্ব গড়বে সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।

দুবনা, ১৬ জুলাই ২০২৬

Tuesday, July 14, 2026

তবুও ভোট দিন

প্রিয় সাববাসী! আগামী শুক্রবারের পর আপনার মহামূল্যবান ভোট ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও খুঁজে পাবেন না বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে। তাই চরম অবমূল্যায়নের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আসছে শুক্রবার ১৭ জুলাই আপনার মুল্যবান ভোট গুলো ডঃ মোস্তফা আবিদ খান, স্থপতি তানিয়া আতিক, ডাঃ খায়রুবন্নেসা আমিন লিপি, ডঃ গণেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ হামিদা মাইদার, ডাঃ সাকী খন্দকার ও ইঞ্জিনীয়ার আব্দুর রাজ্জাক-এর নামে উৎসর্গ করে নিজেও আনন্দে থাকুন আর প্রার্থীদেরও আনন্দে রাখুন। এতে শুধু আপনার ভোটের মানসম্মান রক্ষা পাবে না, অদূর ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী অফিস, অনলাইনে ভোট দেবার অধিকার, শত শত নতুন সদস্য পেয়ে সাব নিজেও অভাবনীয় রকম লাভবান হবে। চাইলে আপনি অবশ্যই যে কাউকে ভোট দিতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ও ভোট দেয়া। হয়তো আপনার একটি ভোট আমার ভোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। 
ভোট দিন ভোট দিন। আপনার ভোট যাতে মাঠে মারা না যায় সেটা দেখার দায়িত্ব একমাত্র আপনার।

দুবনা, ১৫ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 12, 2026

স্বপ্ন

কিছু দিন আগে একটি মুভি দেখলাম। ডাকসাইটে সুন্দরী এক নারীর মন জয় করতে চায় দুই অলিগার্খ। সুন্দরীর জন্মদিনে একই সাথে দু'জনে এসেছে দুই উপহার নিয়ে। একজন এনেছে বেন্টলি, অন্যজন এসেছে রেঞ্জ রোভার  নিয়ে। কার উপহার গ্রহণ করবে সুন্দরী?

সাব কি আমাদের কম সুন্দরী? কেমন হত যদি সভাপতি পদপ্রার্থীগণ দুটো অফিসের ছবি ও ঠিকানা সহ হাজির হত সয়ম্বর সভায় মানে ভোট কেন্দ্রে?

দুবনা, ১৩ জুলাই ২০২৬

গনি মিয়ার ভোট

গনি মিয়ারা অতি সাধারণ ভিপুস্কনিক। নিজেদের ভোটে দাঁড়ানোর সাহস নেই। অন্যেরা দাঁড়ায়। গনি মিয়ারা তাদের জন্য কাঁধে ঝুলি ঝুলিয়ে ভোট ভিক্ষায় নেমে পড়ে। এতে রাজা উজির নির্বাচিত হয়। তারা যথারীতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। গনি মিয়ারা মনে কষ্ট পায় কিন্তু কষ্ট পাওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই। আবারো ভোট এসে দরজায় কড়া নাড়ছে। গনি মিয়ারা মালকাছা দিয়ে নেমে পড়েছে ভোট ভিক্ষায়। আর যাই হোক ভিক্ষা তো চুরি ডাকাতি নয়। যদিও জানে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হবার নয় তারপরেও তারা ভোট চায়। চাওয়া পাওয়ার এই জীবনে পাওয়া চাওয়ার কাছে সবসময় হার মানে। তারপরেও তারা চায়, চেয়েই যায় আতালিগহাসারা-র আসন্ন সাব বিজয়।

কিনেশমা, ১২ জুলাই ২০২৬

Friday, July 10, 2026

মদ

দেশে এরকম কথা প্রচলিত ছিল -"তুমি মদ খাও, কিন্তু মদ যেন তোমাকে না খায়।" এর সারমর্ম হল, তুমি যা কর তার উপর যেন নিয়ন্ত্রণ না হারাও। ইউক্রেনের যুদ্ধে মনে হয় সেটাই ঘটছে। ইউরোপ যুদ্ধ লাগিয়ে এখন না পারছে চালিয়ে যেতে, না পারছে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে। প্রশ্ন আর হার জিতের নয়, প্রশ্ন মুখ রক্ষা করার। কারণ এখন যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে হয় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসবে তাহলে সেটা লাগানোর প্রয়োজন কি ছিল? এই যে বছরের পর বছর রাশিয়া ইউরোপ আক্রমণ করবে বলে প্রোপ্যাগান্ডা চালানো হল, সেটারই বা কি দরকার ছিল? মিথ্যার এই এক সমস্যা। একবার মিথ্যা বলতে শুরু করলে সেই মিথ্যাকে ধামা চাপা দেবার জন্য একের পর এক মিথ্যা বলে যেতেই হয়।

দুবনা, ১০ জুলাই ২০২৬

 

Wednesday, July 8, 2026

প্রশ্ন

আচ্ছা, শুধু গুলি করে মারলেই হত্যা করা হয়? বিমান, ড্রোন হামলা বা মিসাইলের আঘাতে হাজার হাজার বাড়ি ঘর ও মানুষ হত্যা করলেই কোন দেশকে যুদ্ধের অপরাধে নিন্দা করা যায়? এই যে কিউবার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করে সেই দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে এটা কি জেনোসাইড নয়? বিভিন্ন সময় ইউরোপের দেশগুলো তাদের উপনিবেশগুলোয় কৃত্রিম ভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে কোটি কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর পরেও তাদের কখনো এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি। কেন? কারণ তাদের প্রচেষ্টায় পৃথিবীর দেশের দেশে যে শিক্ষিত ও এলিট শ্রেণী গড়ে উঠেছিল সেই শ্রেণীর মূল কাজ ছিল শাসক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করা, তাদের জীবন দর্শন, তাদের সত্য মিথ্যা, তাদের ন্যায় অন্যায় পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই অর্থনৈতিক অবরোধ, বায়োলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট সহ অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে মানুষ হত্যা হবে গণতন্ত্রের বেদীতে বৃহৎ পুঁজির সামান্য উৎসর্গ। ভালোই তো? ভালো না?

দুবনা, ০৮ জুলাই ২০২৬

Tuesday, July 7, 2026

ভূত

জামায়াত, শিবির ও মৌলবাদী গোষ্ঠী, যারা একাত্তরকে ঐতিহাসিক ভুল বলে বিশ্বাস করে, তারা বাদে চব্বিশে যে অনেক কিছুই ভুল ছিল এবং এই ভুলের ফাঁকফোকর দিয়ে স্বাধীনতার সমস্ত অর্জনগুলো একে একে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে এটা কেউ অস্বীকার করে না। তবে সরাসরি নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে অনেকেই মৌলবাদের উত্থানে শেখ হাসিনাকে দায়ী করে দায় সারতে চায়। মৌলবাদের উত্থানের পেছনে যে হাসিনার ক্ষমতা লিপ্সা দায়ী সেটা মিথ্যা নয়। তবে হাসিনার ভুলের আড়ালে নিজেদের ব্যর্থতা লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা হাসিনার জন্য যতটা নয় (নতুন করে আর কি ক্ষতিই বা তার হতে পারে), এসব দল ও দেশের জন্য তারচেয়ে অনেক গুণ বেশি ক্ষতিকর। একসময় বাংলাদেশে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এমনকি মন্ত্রীরা পর্যন্ত ভারতেও এমন হয় বলে অজুহাত দাঁড় করাত। এখন অন্যকে দায়ী করার এই আওয়ামী ভূত অন্যদের কাঁধে ভর করেছে। যতদিন আমরা অন্যদের ব্যর্থতার মধ্যে নিজের ভুলের যৌক্তিকতা খুঁজব ততদিন সাফল্য আমাদের অধরাই থেকে যাবে। আর সময় মত ভুল না ভাংলে একসময় নিজেরাই ভূত হয়ে যাব। দুবনা, ০৭ জুলাই ২০২৬

Monday, July 6, 2026

গাদ্দার

ফেসবুকে জুলাই গাদ্দার নামে এক নতুন প্রাণীর আবির্ভাব ঘটেছে। লেখকের ভাষায় যারা জুলাইকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তারাই জুলাই গাদ্দার। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন, যা একসময় জুলাইয়ের মূল স্লোগান হয়ে উঠেছিল, ছিল একাত্তরের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। পরে যেভাবে জুলাইয়ের স্টেকহোল্ডাররা একাত্তরকে মুছে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লাগল তাতে একাত্তর আর চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে কি উপায় ছিল? ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর বিপ্লব - দুটোই বিপ্লব ছিল, এক অর্থে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ সুগম করে দিয়েছে, তাই পরেও তাদের এক করে দেখার, পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় না করানোর সুযোগ নেই।

দুবনা, ০৬ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 5, 2026

সমস্যা

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ কেন আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস পালনের ভেন্যু। প্রশ্নটি শুনে আমার একাত্তরের বিভিন্ন ইতিহাস মনে পড়ে গেল। কথিত আছে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সেনাদের আদেশ দিয়েছিল এদেশে যত বেশি সম্ভব অবৈধ সন্তান জন্ম দিতে যারা পরে পাকিস্তানের হয়ে বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে লড়াই করে পাকিস্তান পুনরুদ্ধার করবে। ২০২৪ এর পর বাংলাদেশ কার্যত আমেরিকার একান্নতম স্টেট, তবে অবৈধ। তাই দায় আছে কিন্তু অধিকার নেই। সমস্যা হল যে সময় মত সঠিক প্রশ্ন না করে কাজে নামলে সমাধান আরও বড় সমস্যার রূপ নেয়।

দুবাই, ০৫ জুলাই ২০২৬

Saturday, July 4, 2026

সংখ্যা

সব অনু পরমানু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত। ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন পরমানু বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পায়। সংখ্যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজ বা রাষ্ট্রে তার মৌলিক উপাদান মানুষের সংখ্যার ভূমিকা অবশ্য রৈখিক নয়। বেশি লোক মানে বেশি জটিল সিস্টেম তবে সেটা নিশ্চিত ভাবে ভালো বা মন্দ নয়। কারণ সব মানুষ সব ইলেকট্রন, প্রোটন বা নিউট্রনের মত একই ধরণের গুণে গুণান্বিত নয়। 

পাক্রোভ, ০৪ জুলাই ২০২৬

Friday, July 3, 2026

সাব নির্বাচন

আজ সাবের নির্বাচন। কেউ আশ্বাস দিয়েছে, কেউ কোন আশ্বাস না দিয়েই নির্বাচন করছে। কথা না দেয়া মানে কথ রক্ষা করা থেকে দায়মুক্তি নয়। কারণ যেই জয়লাভ করুক না কেন সবার কাছেই আমাদের দাবি থাকবে সংগঠনকে গতিশীল করা, গতানুগতিক কিছু অনুষ্ঠানের বাইরেও সাবকে কর্মময় রাখা। ৮ মার্চের বাইরেও নারীদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মতই কয়েকটি অনুষ্ঠানের বাইরেও অন্যান্য সময়ে সদস্যদের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হওয়া আর সদস্যদের শুধু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নয়, অন্যান্য সময়ের মেধা ও শ্রম দিয়ে সাবের কার্যকরী কমিটিকে সাহায্য করা - এটাই হোক আমাদের স্লোগান। নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন তাদের দায়িত্ব হবে আমাদের স্বপ্ন পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যারা জিতবে না তারাও সাবের পথচলা মসৃণ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করি। আমার ভোট একটি ঐক্যবদ্ধ, সুন্দর ও জনমুখী সাবের জন্য। সাব দীর্ঘজীবী হোক!

দুবনা, ০৩ জুলাই ২০২৬

Monday, June 29, 2026

জবাবদিহিতা

পরীক্ষা এক ধরণের জবাবদিহিতা। আমাদের ছেলেমেয়েরা জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য উদগ্রীব। এই রেজাল্ট করার পেছনে নিশ্চয়ই জবাবদিহিতার মনোভাব কাজ করে, মানে আমি যে ভালোভাবে নিজের কাজটি অর্থাৎ পড়াশুনা করেছি আমার রেজাল্টই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু এই আমরাই পরবর্তী জীবনে এসে জবাবদিহিতার কথা বেমালুম ভুলে যাই, নিজের সাফল্য ব্যর্থতার জন্য যে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে সেটা আমরা মনেই করি না। আমাদের সমাজের গঠন এমন যে শিশু কাল থেকেই তাকে উঠতে বসতে জবাব দিতে হয়, জবাব দিতে হয় শুধু নিজের নয়, বড়দের ভুলের জন্যও। কর্ম জীবন শুরুর আগেই হয়তো সবার জবাব দেবার কোটা শেষ হয়ে যায়। ফলে যখন জবাবদিহিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন আর তার জবাব দেবার কোন সুযোগ, ইচ্ছা কোনটাই থাকে না।

দুবনা, ২৯ জুন ২০২৬

Saturday, June 27, 2026

বুদ্ধিমাস্তান

আমাদের দেশ সংজ্ঞা বিভ্রাটে আক্রান্ত। ফলে কোন শব্দ সঠিক অর্থে ব্যবহার করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা এখানে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এসব শব্দের ব্যবহার নির্ভর করে যার উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হয় তার প্রতি ব্যবহারকারী ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতির রসায়নের উপর। ফলে একই কাজের জন্য একজন স্বৈরাচারী, অন্যজন গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক।‌ একই কারণে বুদ্ধিচোরা ও বুদ্ধিডাকাত বনে যায় বুদ্ধিজীবী। জ্ঞান যখন অপকর্মে ব্যবহার করা হয় তখন সেটা আর জ্ঞান থাকে না, যেমন অপব্যবহারে ওষুধ হয় বিষ।‌ নিজের কাজ বা চিন্তাকে যৌক্তিক ভিত্তি দেবার জন্য অন্যদের প্রাসঙ্গিক কাজ ও চিন্তার উদ্ধৃতি দেয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে অন্যের কাজের উদ্ধৃতি যদি রচনার মূল বিষয়বস্তু হয় তবে সেটা আর আর মৌলিক রচনা থাকে না। অন্যের কাঁধে চড়ে ভ্রমণ হয়তো আরামদায়ক, তবে দীর্ঘ সময় ধরে মাটির সাথে পায়ের সংযোগ না থাকলে একসময় পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যেতে পারে। সত্যিকারের জ্ঞানী জ্ঞানের বিশুদ্ধতা রক্ষায় কাজ করে, যারা জ্ঞানকে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে লাগায় তারা জ্ঞানী থাকে না। এদের বলা যায় বুদ্ধিমাস্তান।

দুবনা, ২৭ জুন ২০২৬

Wednesday, June 24, 2026

প্রতিবাদ

যেকোনো রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হল অনুৎপাদনশীল খাত। তারপরেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কারণে তাকে রাখতে হয়। এর বাইরের যেকোনো অনুৎপাদনশীল গোষ্ঠীর ভরণপোষণ করা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য বোঝা। প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে ও জনগণকে ঠকাতে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইত্যাদির ব্যবহার মানে ভবিষ্যতে আরেক দল মানুষ তৈরি করা যারা ভালো খেতে ও পরতে চায়, যাদের রক্ত টগবগ করে কিন্তু যারা জনমনে আতঙ্ক ছাড়া কিছু্ই উৎপাদন করতে পারে না বা করতে চায় না। ক্ষমতায় যারাই থাক না কেন রাষ্ট্রকেই এদের দায়িত্ব নিতে হয় আর সেই ব্যয় বহন করে সাধারণ মানুষ। তাই দিনের শেষে মানুষকেই এসবের প্রতিবাদ করতে হবে।

দুবনা, ২৪ জুন ২০২৬

Monday, June 22, 2026

তেল বৃষ্টি

এক বন্ধু জানালো মস্কোর আকাশে নাকি তেল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো রাশিয়া জুরে তেল সংকট। এসব খবরে দেশ বিদেশের সব পত্র পত্রিকা ছয়লাভ। সংকট এড়াতে পুতিনের পদত্যাগ করা উচিৎ।

কি বলব? তেলের সঙ্কট হলে তেল বৃষ্টি হয় কীভাবে? তবে তেলের ব্যাপারে রেস্ট্রিকশন আছে, গাড়িতে তেল দিচ্ছে, ক্যানিস্টারে দিচ্ছে না। কারণ মানুষ বেশি বেশি করে মজুত করতে চাইলে সঙ্কট তৈরি হবে। যুদ্ধ যুদ্ধই। আমি ভাবি সব কথা বিশ্বাস করার আগে মানুষ একটু মাথা খাটায় না কেন? পশ্চিমা বিশ্ব আর যাই চাক, রাশিয়ার মঙ্গল চায় না, কোন দিন চায়নি। আর চায় না বলেই যুদ্ধটা জিইয়ে রাখছে। পুতিনকে পদত্যাগ করানোর জন্য তারা তো সেই ২০০৭ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বিভিন্ন দেশের নেতাদের (তা আমাদের পছন্দ হোক আর নাই হোক) পদত্যাগ করিয়ে তো দেশগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাই পুতিন পদত্যাগ করলে আর যাই হোক রাশিয়ার ভালো হবে না। বুঝতে হবে যে যুদ্ধের মাঠে পেরে না উঠে তারা এখন সিভিলিয়ানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে চাইছে। সমস্যা হল, রুশদের যত বেশি চাপে তারা তত বেশি ভয়ঙ্কর, তত বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমা বিশ্ব জীবন পণ করে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে নেমেছে। শুধু এ কথাই বলতে পারব, ওরা যখন বলবে রাশিয়ার অবস্থা খারাপ, এর মানে হল, রাশিয়া যুদ্ধের মাঠে ভাল করছে। অন্তত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর তাই বলে। বাকি আছে দানিয়েৎস্কের শেষ বড় শহর ক্রিমাতোরস্ক। এরপর ওদের আর প্রতিরোধ করার তেমন দুর্গ থাকবে না। খেলা জমছে।

দুবনা, ২২ জুন ২০২৬

Sunday, June 21, 2026

প্রশ্ন

জেলেনস্কি বেলারুশ আক্রমণের হুমকি দেয়ায় কেউ কেউ জানতে চাইছে এটা কি শুধুই ব্লাফ? না, এটা তার একান্ত মনের কথা। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে প্রচুর অস্ত্র, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি পেয়েও ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের একমাত্র বিনিয়োগ, ইউক্রেনের সবচেয়ে সবল ও কর্মক্ষম মানুষের মজুদ শেষের পথে। তারা মৃত, আহত, পলাতক বা যুদ্ধের অযোগ্য। তাই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও অপেক্ষাকৃত ভালো শর্তে যুদ্ধ বন্ধের প্রায় একমাত্র পথ ইউরোপকে যুদ্ধে জড়ানো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও বাল্টিকের দেশগুলো কমবেশি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে। তাদের দরকার কোন অজুহাত। যদি কোন ভাবে ইউক্রেন বেলারুশ আক্রমণ করে আর লুকাশোঙ্কো তার উত্তর দেয়, তাহলে এসব দেশ সেটাকে ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে নামার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা বিশ্বাস করে রাশিয়া কোন অবস্থাতেই তাদের সিভিলিয়ানদের উপর আক্রমণ করবে না আর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। আর যদি করে আমেরিকা তাদের উদ্ধার করবে। শিকারী কুকুর জানে সে যদি ভালুক বা নেকড়ে আক্রমণ করে করে তবে তার মালিক বন্য প্রাণীকে হত্যা করে তাকে উদ্ধার করবে। সমস্যা হল শিকারী বন্য প্রাণী হত্যা করার আগে কুকুর নিজেই যে অক্কা পাবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে। ইউরোপের নেতারা কি এই সহজ সত্যটি জানে?

দুবনা, ২১ জুন ২০২৬

Saturday, June 20, 2026

পররাষ্ট্র মন্ত্রী

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেটস। এই স্টেটস কি মার্কিন স্টেটস নাকি মার্কিন বাদে পৃথিবীর বাকি সব স্টেট। আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেটস যেভাবে বাইরের সব দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তাতে মনে হয় দ্বিতীয়টাই সত্য। এদিক থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কম যায় না। তারাও আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে শুধু নাক নয় শরীর পর্যন্ত গলায়। অনেকেই তো রাখঢাক না করে সরাসরি আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে দোকানপাট খুলে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এমনকি ভোট দিয়ে আমেরিকাকে বাংলাদেশের উপনিবেশ বানাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

দুবনা, ২০ জুন ২০২৬

Wednesday, June 17, 2026

বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে নাকি প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। জানি না এটা শেখ হাসিনার মডেল মসজিদের উত্তরে কি না, এমনকি সেটা হলেও বলব এটা ব্যাড আইডিয়া। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে আউট পুট ভিন্ন কিছু হবে না, শুধু ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এমনকি গ্রিনিজ বুকস অফ রেকর্ডসে নাম উঠতে পারে। মনে হয় এসব পরিকল্পনা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কারো অধিকার আছে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করার। ফলে সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব পার্টির সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব দলের উপস্থিতি দেখিয়ে দেশ গণতন্ত্রের ভান করতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্র কমে বই বাড়ে না। ঠিক একই ভাবে নতুন ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ডিগ্রিধারী বেকারের জন্ম দিতে পারে কিন্তু তাতে শিক্ষার মান কমবে বই বাড়বে না, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যায়ও কোন হেরফের হবে না। শুধু আরও তিন শ' অনুগত ভিসি ও কয়েক হাজার স্তাবক তৈরি হবে। এতে দেশের কোন লাভ হবে না। দলেরও না। নিকট অতীত অন্ততঃ সেটাই বলে। এক সময়ে ফেসবুকে কিছু কিছু ব্রীজের ছবি দেখতাম। বিশাল মাঠে একাকী ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দুই পাশে কোন রাস্তা নেই যাদের সে সংযুক্ত করে। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে যা আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে মনযোগ দেয়া উচিৎ। শরীর খারাপ হলে আমরা তার চিকিৎসা করি, আলি এক্সপ্রেসে নতুন শরীর অর্ডার দেই না।

দুবনা, ১৭ জুন ২০২৬

Monday, June 15, 2026

একটি নিষ্পাপ প্রস্তাব

আমাদের দেশে সব কিছুর পরেও সরকার প্রধানের কথাই শেষ কথা। সেটা সব আমলেই ছিল। আর এ কারণে বছর পাঁচেক আগে লিখেছিলাম আইন করে প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত আর সব মন্ত্রী পদে বোবাদের নিয়োগ করা হোক। এতে মন্ত্রী পরিষদের কাজ খুব বেশি খারাপ হবে বলে মনে হয় না, তবে জনগণ মন্ত্রীদের শিশুসুলভ কথাবার্তা গলাধঃকরণ করার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে। শিশুরা যেমন দন্ত বিহীন মুখ গহ্বর হতে সময়ে সময়ে কিছু শব্দ উগড়ে দেয় আর পারিপার্শ্বিক সবাই তার অর্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাদের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে। সেই বাস্তবতা থেকে মূক মন্ত্রী কোন ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়া নয়। এতে করে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে হয় না, আর মৌনতাই যেহেতু সম্মতির লক্ষণ তাই সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে আগে থেকেই ধরে নেয়া যায়। শুধু আগে থেকেই প্রস্তাবগুলো সঠিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সরকার প্রধান এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে।

মস্কো, ১৫ জুন ২০২৬

Saturday, June 13, 2026

ভাব না ভাবনা

আমাদের দেশের রাজনীতি ধর্মকে প্রভাবিত করে না ধর্ম রাজনীতিকে সেটাই ভাবছি। এটা ঠিক যে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ যা থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাই ধর্মের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও নেতারাই ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি তোলে। তবে সেটা ধর্মের খেদমত করার জন্য নয়, নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধর্ম মন্দির মসজিদের দেয়াল পেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে আসে। স্বাধীনতার পরে খুব অল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কমলেও সেটা দ্রুত ফিরে আসে। আমাদের ছোটবেলাতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হত। কথায় কথায় বুঝিয়ে দেয়া হত দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক কারা। পরে সেই ধারণা সম্প্রদায়ের চৌকাঠ পেরিয়ে দলীয় রাজনীতিতে ঢুকে যায়। সরকারি দলের নেতা কর্মীরা তা সে আওয়ামী লীগের হোক, বিএনপির হোক, জাতীয় পার্টি বা এনসিপির হোক - নিজেদের বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করে। যেহেতু সরকারি দল আর ধর্মীয় সংখ্যাগুরু - দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে অন্যদের অধিকার ক্ষুন্ন করার কাজে ব্যবহার করে তাই তারা পরস্পরের সহযোগিতা খোঁজে - প্রকাশ্যে বা গোপনে। ধর্ম ও রাজনীতি, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, এক হয়ে গেলে গণতন্ত্র সঙ্কুচিত হয় আর দেশ মধ্য যুগে ফিরে যায়। 

দুবনা, ১৩ জুন ২০২৬

Friday, June 12, 2026

নো অপশন

বড় কোম্পানি নিজের অবস্থান উন্নত করতে সাধারণত সফল মানুষদের আমন্ত্রণ জানায়। মমতা ব্যানার্জিকে লাইম লাইটে এনেছিলেন রাজীব গান্ধী। তিনি সবসময়ই কংগ্রেসকে ব্যবহার করেছেন এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন দল ও জোটের সাথে। এখন তাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতির পদ দেবার চিন্তা কতটুকু যৌক্তিক। আসলে দুটো নষ্ট ডিভাইস দিয়ে একটা চলনসই ডিভাইস তৈরি করা যায়, তবে সেটা সাময়িক, স্বল্পায়ু। দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চাইলে মমতা ব্যানার্জি কোন অপশন বলে মনে হয় না। আশার কথা সোনিয়া গান্ধী মনে হয় ইতিমধ্যেই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। 

দুবনা, ১২ জুন ২০২৬


Thursday, June 11, 2026

কয়লা

ইউক্রেন সেভাস্তোপোলের ঐতিহাসিক মিউজিয়ামে আক্রমণ করল। এটা সেভাস্তোপোল প্রতিরক্ষা প্যানারমা। ১৮৫৪ - ১৮৫৫ সালে তুরস্ক, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সম্মিলিত বাহিনীর কয়েক গুণ বেশি নৌ-সেনার আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিহত করে রুশ নাবিকরা। সেই ঘটনাকেই চির স্মরণীয় করতে এই প্যানোরমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী এই প্যানারমা ধ্বংস করে। পরে তা নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এখন হিটলারের অনুসারী (যা তারা শুধু স্বীকার করে না, হিটলারের সহযোগী বান্দেরা ও অন্যদের রাষ্ট্রীয় ভাবে হিরোর মর্যাদা দিয়ে নিজেদের ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়াকে সম্মানের মনে করে) ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নতুন করে আঘাত হানে। ধারণা করা যায় যে এসব হয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। জন্মের পর থেকে অন্য দেশের ধনসম্পদ লুটপাট করা, অন্য দেশের জনগণকে শোষণ করা ছিল যাদের ঐতিহ্য তারা কীভাবে এ ধরণের সুযোগ হাতছাড়া করবে?

দুবনা, ১১ জুন ২০২৬

Wednesday, June 10, 2026

মামা

দেখলাম অধ্যাপক আবুল বারকাত জামিনে মুক্তি পাবার পরেও নতুন এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। অন্য দিকে অধ্যাপক ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করছে না পুলিশ। আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে মামলা ক্ষমতাসীনদের মস্তক প্রসূত, ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলায় মনে হয় সারা দেশ সাক্ষ্য দেবে। দেশে একটা কথা চালু আছে যে মামা চাচা ছাড়া দেশে নাকি এমনকি ঝাড়ুদারের চাকরিও পাওয়া যায় না। তবে খুঁটি ছাড়া যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না সেটা সব সরকারই বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। যদি ইউরোপ, আমেরিকার প্রশাসনে এরকম কেউ না থাকে তবে বাংলাদেশে ন্যায় বিচার তো দূরের কথা এমনকি জামিনের মত ব্যাপারগুলোও অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে যায়। হায়রে দেশ, হায়রে স্বাধীনতা!

দুবনা, ১০ জুন ২০২৬

Monday, June 8, 2026

উপলব্ধি

 আমার এক সময় মনে হত সমস্ত রাজনীতিবিদদের ভালো করে ফিজিক্স পড়া দরকার। কারণ ফিজিক্সের ছাত্ররা আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে প্রাধান্য দেয় আর সমস্যা সমাধানে যতদূর সম্ভব নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। সমস্যার সমাধান পক্ষপাতদুষ্ট হলে সেটা হয় স্বল্পস্থায়ী, অস্থিতিশীল। 

তবে যে জিনিস দুটো আমি ধর্তব্যের বাইরে রেখেছিলাম তা হল আমরা পদার্থবিদরা নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করি আর পরে সেসব সমস্যার সমাধান করি। এটা আমরা করি কোন বিষয়ে আমাদের জ্ঞানকে আরও নিখুঁত করার জন্য। কারণ আমাদের কাছে শেষ কথা বলে কিছু নেই, আছে ক্রমাগত এগিয়ে চলা, নিজেদের আরও উন্নত করা। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমি ধর্তব্যের মধ্যে রাখিনি তা হল আমাদের কাছে নেগেটিভ রেজাল্ট বলে কিছু নেই। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তবে এসবই হতে হবে একই সাথে। 

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমার রাজনীতিবিদ বন্ধুরা যুক্তির পরিবর্তে আবেগকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে সমস্যার জন্ম দিয়েছে ও তার সমাধান করতে গিয়ে ভুল লক্ষ্যে পৌঁছেছে। আশা করি তারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে এগুবে। তাদের আরোও মনে রাখতে হবে যে তাদের তৈরি সমস্যা ফিজিক্সের মত খাতা কলমে সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় মানুষের পেটে লাথি মারে।

মস্কো, ০৮ জুন ২০২৬