দুবনা, ২০ জুলাই ২০২৬
Monday, July 20, 2026
ভুঁড়ি
ন্যাংটো রাজার কথা আমরা সবাই জানি। সবাই জানত রাজা ন্যাংটো তবে ভয়ে কেউ কিছু বলেনি, শুধু এক বাচ্চা ছেলে যার ভয় ডরের বালাই নেই, সে চিৎকার করে বলেছে যে রাজা ন্যাংটো। তবে আমাদের এখানে রাজা নেই, আছে নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তায় গর্বিত একদল মানুষ। যদিও সবাই জানে, সবাই বলে জুলাইয়ে অন্যের বাজনায় নেচে তারা ভুল করেছিল, একদল লোক কিছুতেই তা মানতে রাজি নয়, তারা প্রমাণ করেই ছাড়বে যে তারা সঠিক কাজই করেছিল, এর ফলে দেশ যদি আবারও একাত্তর পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় সেটা মানুষের দোষ। এদের দেখে আমার গোপাল ভাঁড়ের গল্প মনে পড়ে। সাম্রাজ্যবাদীদের ডলারের কারণেই হোক অথবা মাঠে না নেমে টক শো বিপ্লবের কারণেই হোক, এদের ভুঁড়ি এত বড় যে তা ডিঙ্গিয়ে নীচে কাপড় আছে কি নেই সেটা টের পায় না এরা।
দুবনা, ২০ জুলাই ২০২৬
দুবনা, ২০ জুলাই ২০২৬
Sunday, July 19, 2026
বিশ্বাস
মাইসা কাকডাকা ভোরে বাইরে যেতে উদ্যত হলে সারাহ জিজ্ঞেস করল
- এত ভোরে কোথায় যাচ্ছ?
- গতকাল রাবিন বললেন, যে সকালে ওঠে ঈশ্বর তার সহায় হোন। ভাগ্য পরীক্ষা করতে যাচ্ছি। দেখি ঈশ্বর আজ আমার সহায় না হয়ে যান কোথায়?
কিছুক্ষণ পরে মাইসা ফিরে এল। জামাকাপড় ছেঁড়া, রক্তাক্ত। সারাহ আবার জিজ্ঞেস করল
- এ কি অবস্থা তোমার? কি হয়েছে? কে করল?
- তুমি বিশ্বাস করবে না সারাহ। কিন্তু কেউ আজ আমার থেকেও আগে ঘুম থেকে উঠেছে।
এটাই হল বিশ্বাস। এমনকি নিজের বিপদেও মাইসা ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারায়নি ঠিক যেমন জুলাই বিপ্লবের বাম শাখা। এমনকি দেশ হাতছাড়া হবার পরেও তারা জুলাই চেতনায় আস্থা হারায়নি। সাবাস!
মস্কো, ১৯ জুলাই ২০২৬
Thursday, July 16, 2026
সাম্যবাদী সমাজ
মানুষ পারেনি কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রবোট পারবে। হ্যাঁ, ওরা সাম্যবাদী সমাজে বাস করবে। ওরা আধুনিক যুগের সব - শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, এমনকি লেখক। ওরা সবাই সমান বেতনে বা বেতন হীনতায়। তবে বিশ্বের সেরা আইটি বিশেষজ্ঞরা ওদের সেবাযত্ন করবে নিরলস ভাবে আর সরকার দুই হাতে অর্থ ঢালবে ওদের সুস্থ, সবল, সচল রাখতে। মানুষের জন্য না হলেও রবোটের জন্য সাম্যবাদ বিরোধী পুঁজিবাদী বিশ্ব গড়বে সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।
দুবনা, ১৬ জুলাই ২০২৬
Tuesday, July 14, 2026
তবুও ভোট দিন
প্রিয় সাববাসী! আগামী শুক্রবারের পর আপনার মহামূল্যবান ভোট ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও খুঁজে পাবেন না বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে। তাই চরম অবমূল্যায়নের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আসছে শুক্রবার ১৭ জুলাই আপনার মুল্যবান ভোট গুলো ডঃ মোস্তফা আবিদ খান, স্থপতি তানিয়া আতিক, ডাঃ খায়রুবন্নেসা আমিন লিপি, ডঃ গণেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ হামিদা মাইদার, ডাঃ সাকী খন্দকার ও ইঞ্জিনীয়ার আব্দুর রাজ্জাক-এর নামে উৎসর্গ করে নিজেও আনন্দে থাকুন আর প্রার্থীদেরও আনন্দে রাখুন। এতে শুধু আপনার ভোটের মানসম্মান রক্ষা পাবে না, অদূর ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী অফিস, অনলাইনে ভোট দেবার অধিকার, শত শত নতুন সদস্য পেয়ে সাব নিজেও অভাবনীয় রকম লাভবান হবে। চাইলে আপনি অবশ্যই যে কাউকে ভোট দিতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ও ভোট দেয়া। হয়তো আপনার একটি ভোট আমার ভোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
ভোট দিন ভোট দিন। আপনার ভোট যাতে মাঠে মারা না যায় সেটা দেখার দায়িত্ব একমাত্র আপনার।
দুবনা, ১৫ জুলাই ২০২৬
Sunday, July 12, 2026
স্বপ্ন
কিছু দিন আগে একটি মুভি দেখলাম। ডাকসাইটে সুন্দরী এক নারীর মন জয় করতে চায় দুই অলিগার্খ। সুন্দরীর জন্মদিনে একই সাথে দু'জনে এসেছে দুই উপহার নিয়ে। একজন এনেছে বেন্টলি, অন্যজন এসেছে রেঞ্জ রোভার নিয়ে। কার উপহার গ্রহণ করবে সুন্দরী?
সাব কি আমাদের কম সুন্দরী? কেমন হত যদি সভাপতি পদপ্রার্থীগণ দুটো অফিসের ছবি ও ঠিকানা সহ হাজির হত সয়ম্বর সভায় মানে ভোট কেন্দ্রে?
দুবনা, ১৩ জুলাই ২০২৬
গনি মিয়ার ভোট
গনি মিয়ারা অতি সাধারণ ভিপুস্কনিক। নিজেদের ভোটে দাঁড়ানোর সাহস নেই। অন্যেরা দাঁড়ায়। গনি মিয়ারা তাদের জন্য কাঁধে ঝুলি ঝুলিয়ে ভোট ভিক্ষায় নেমে পড়ে। এতে রাজা উজির নির্বাচিত হয়। তারা যথারীতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। গনি মিয়ারা মনে কষ্ট পায় কিন্তু কষ্ট পাওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই। আবারো ভোট এসে দরজায় কড়া নাড়ছে। গনি মিয়ারা মালকাছা দিয়ে নেমে পড়েছে ভোট ভিক্ষায়। আর যাই হোক ভিক্ষা তো চুরি ডাকাতি নয়। যদিও জানে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হবার নয় তারপরেও তারা ভোট চায়। চাওয়া পাওয়ার এই জীবনে পাওয়া চাওয়ার কাছে সবসময় হার মানে। তারপরেও তারা চায়, চেয়েই যায় আতালিগহাসারা-র আসন্ন সাব বিজয়।
কিনেশমা, ১২ জুলাই ২০২৬
Friday, July 10, 2026
মদ
দেশে এরকম কথা প্রচলিত ছিল -"তুমি মদ খাও, কিন্তু মদ যেন তোমাকে না খায়।" এর সারমর্ম হল, তুমি যা কর তার উপর যেন নিয়ন্ত্রণ না হারাও। ইউক্রেনের যুদ্ধে মনে হয় সেটাই ঘটছে। ইউরোপ যুদ্ধ লাগিয়ে এখন না পারছে চালিয়ে যেতে, না পারছে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে। প্রশ্ন আর হার জিতের নয়, প্রশ্ন মুখ রক্ষা করার। কারণ এখন যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে হয় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসবে তাহলে সেটা লাগানোর প্রয়োজন কি ছিল? এই যে বছরের পর বছর রাশিয়া ইউরোপ আক্রমণ করবে বলে প্রোপ্যাগান্ডা চালানো হল, সেটারই বা কি দরকার ছিল? মিথ্যার এই এক সমস্যা। একবার মিথ্যা বলতে শুরু করলে সেই মিথ্যাকে ধামা চাপা দেবার জন্য একের পর এক মিথ্যা বলে যেতেই হয়।
দুবনা, ১০ জুলাই ২০২৬
দুবনা, ১০ জুলাই ২০২৬
Wednesday, July 8, 2026
প্রশ্ন
আচ্ছা, শুধু গুলি করে মারলেই হত্যা করা হয়? বিমান, ড্রোন হামলা বা মিসাইলের আঘাতে হাজার হাজার বাড়ি ঘর ও মানুষ হত্যা করলেই কোন দেশকে যুদ্ধের অপরাধে নিন্দা করা যায়? এই যে কিউবার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করে সেই দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে এটা কি জেনোসাইড নয়? বিভিন্ন সময় ইউরোপের দেশগুলো তাদের উপনিবেশগুলোয় কৃত্রিম ভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে কোটি কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর পরেও তাদের কখনো এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি। কেন? কারণ তাদের প্রচেষ্টায় পৃথিবীর দেশের দেশে যে শিক্ষিত ও এলিট শ্রেণী গড়ে উঠেছিল সেই শ্রেণীর মূল কাজ ছিল শাসক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করা, তাদের জীবন দর্শন, তাদের সত্য মিথ্যা, তাদের ন্যায় অন্যায় পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই অর্থনৈতিক অবরোধ, বায়োলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট সহ অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে মানুষ হত্যা হবে গণতন্ত্রের বেদীতে বৃহৎ পুঁজির সামান্য উৎসর্গ। ভালোই তো? ভালো না?
দুবনা, ০৮ জুলাই ২০২৬
Tuesday, July 7, 2026
ভূত
জামায়াত, শিবির ও মৌলবাদী গোষ্ঠী, যারা একাত্তরকে ঐতিহাসিক ভুল বলে বিশ্বাস করে, তারা বাদে চব্বিশে যে অনেক কিছুই ভুল ছিল এবং এই ভুলের ফাঁকফোকর দিয়ে স্বাধীনতার সমস্ত অর্জনগুলো একে একে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে এটা কেউ অস্বীকার করে না। তবে সরাসরি নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে অনেকেই মৌলবাদের উত্থানে শেখ হাসিনাকে দায়ী করে দায় সারতে চায়। মৌলবাদের উত্থানের পেছনে যে হাসিনার ক্ষমতা লিপ্সা দায়ী সেটা মিথ্যা নয়। তবে হাসিনার ভুলের আড়ালে নিজেদের ব্যর্থতা লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা হাসিনার জন্য যতটা নয় (নতুন করে আর কি ক্ষতিই বা তার হতে পারে), এসব দল ও দেশের জন্য তারচেয়ে অনেক গুণ বেশি ক্ষতিকর। একসময় বাংলাদেশে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এমনকি মন্ত্রীরা পর্যন্ত ভারতেও এমন হয় বলে অজুহাত দাঁড় করাত। এখন অন্যকে দায়ী করার এই আওয়ামী ভূত অন্যদের কাঁধে ভর করেছে। যতদিন আমরা অন্যদের ব্যর্থতার মধ্যে নিজের ভুলের যৌক্তিকতা খুঁজব ততদিন সাফল্য আমাদের অধরাই থেকে যাবে। আর সময় মত ভুল না ভাংলে একসময় নিজেরাই ভূত হয়ে যাব।
দুবনা, ০৭ জুলাই ২০২৬
Monday, July 6, 2026
গাদ্দার
ফেসবুকে জুলাই গাদ্দার নামে এক নতুন প্রাণীর আবির্ভাব ঘটেছে। লেখকের ভাষায় যারা জুলাইকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তারাই জুলাই গাদ্দার। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন, যা একসময় জুলাইয়ের মূল স্লোগান হয়ে উঠেছিল, ছিল একাত্তরের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। পরে যেভাবে জুলাইয়ের স্টেকহোল্ডাররা একাত্তরকে মুছে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লাগল তাতে একাত্তর আর চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে কি উপায় ছিল? ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর বিপ্লব - দুটোই বিপ্লব ছিল, এক অর্থে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ সুগম করে দিয়েছে, তাই পরেও তাদের এক করে দেখার, পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় না করানোর সুযোগ নেই।
দুবনা, ০৬ জুলাই ২০২৬
দুবনা, ০৬ জুলাই ২০২৬
Sunday, July 5, 2026
সমস্যা
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ কেন আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস পালনের ভেন্যু। প্রশ্নটি শুনে আমার একাত্তরের বিভিন্ন ইতিহাস মনে পড়ে গেল। কথিত আছে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সেনাদের আদেশ দিয়েছিল এদেশে যত বেশি সম্ভব অবৈধ সন্তান জন্ম দিতে যারা পরে পাকিস্তানের হয়ে বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে লড়াই করে পাকিস্তান পুনরুদ্ধার করবে। ২০২৪ এর পর বাংলাদেশ কার্যত আমেরিকার একান্নতম স্টেট, তবে অবৈধ। তাই দায় আছে কিন্তু অধিকার নেই। সমস্যা হল যে সময় মত সঠিক প্রশ্ন না করে কাজে নামলে সমাধান আরও বড় সমস্যার রূপ নেয়।
দুবাই, ০৫ জুলাই ২০২৬
Saturday, July 4, 2026
সংখ্যা
সব অনু পরমানু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত। ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন পরমানু বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পায়। সংখ্যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজ বা রাষ্ট্রে তার মৌলিক উপাদান মানুষের সংখ্যার ভূমিকা অবশ্য রৈখিক নয়। বেশি লোক মানে বেশি জটিল সিস্টেম তবে সেটা নিশ্চিত ভাবে ভালো বা মন্দ নয়। কারণ সব মানুষ সব ইলেকট্রন, প্রোটন বা নিউট্রনের মত একই ধরণের গুণে গুণান্বিত নয়।
পাক্রোভ, ০৪ জুলাই ২০২৬
Friday, July 3, 2026
সাব নির্বাচন
আজ সাবের নির্বাচন। কেউ আশ্বাস দিয়েছে, কেউ কোন আশ্বাস না দিয়েই নির্বাচন করছে। কথা না দেয়া মানে কথ রক্ষা করা থেকে দায়মুক্তি নয়। কারণ যেই জয়লাভ করুক না কেন সবার কাছেই আমাদের দাবি থাকবে সংগঠনকে গতিশীল করা, গতানুগতিক কিছু অনুষ্ঠানের বাইরেও সাবকে কর্মময় রাখা। ৮ মার্চের বাইরেও নারীদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মতই কয়েকটি অনুষ্ঠানের বাইরেও অন্যান্য সময়ে সদস্যদের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হওয়া আর সদস্যদের শুধু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নয়, অন্যান্য সময়ের মেধা ও শ্রম দিয়ে সাবের কার্যকরী কমিটিকে সাহায্য করা - এটাই হোক আমাদের স্লোগান। নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন তাদের দায়িত্ব হবে আমাদের স্বপ্ন পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যারা জিতবে না তারাও সাবের পথচলা মসৃণ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করি। আমার ভোট একটি ঐক্যবদ্ধ, সুন্দর ও জনমুখী সাবের জন্য। সাব দীর্ঘজীবী হোক!
দুবনা, ০৩ জুলাই ২০২৬
Monday, June 29, 2026
জবাবদিহিতা
পরীক্ষা এক ধরণের জবাবদিহিতা। আমাদের ছেলেমেয়েরা জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য উদগ্রীব। এই রেজাল্ট করার পেছনে নিশ্চয়ই জবাবদিহিতার মনোভাব কাজ করে, মানে আমি যে ভালোভাবে নিজের কাজটি অর্থাৎ পড়াশুনা করেছি আমার রেজাল্টই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু এই আমরাই পরবর্তী জীবনে এসে জবাবদিহিতার কথা বেমালুম ভুলে যাই, নিজের সাফল্য ব্যর্থতার জন্য যে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে সেটা আমরা মনেই করি না। আমাদের সমাজের গঠন এমন যে শিশু কাল থেকেই তাকে উঠতে বসতে জবাব দিতে হয়, জবাব দিতে হয় শুধু নিজের নয়, বড়দের ভুলের জন্যও। কর্ম জীবন শুরুর আগেই হয়তো সবার জবাব দেবার কোটা শেষ হয়ে যায়। ফলে যখন জবাবদিহিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন আর তার জবাব দেবার কোন সুযোগ, ইচ্ছা কোনটাই থাকে না।
দুবনা, ২৯ জুন ২০২৬
Saturday, June 27, 2026
বুদ্ধিমাস্তান
আমাদের দেশ সংজ্ঞা বিভ্রাটে আক্রান্ত। ফলে কোন শব্দ সঠিক অর্থে ব্যবহার করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা এখানে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এসব শব্দের ব্যবহার নির্ভর করে যার উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হয় তার প্রতি ব্যবহারকারী ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতির রসায়নের উপর। ফলে একই কাজের জন্য একজন স্বৈরাচারী, অন্যজন গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। একই কারণে বুদ্ধিচোরা ও বুদ্ধিডাকাত বনে যায় বুদ্ধিজীবী। জ্ঞান যখন অপকর্মে ব্যবহার করা হয় তখন সেটা আর জ্ঞান থাকে না, যেমন অপব্যবহারে ওষুধ হয় বিষ। নিজের কাজ বা চিন্তাকে যৌক্তিক ভিত্তি দেবার জন্য অন্যদের প্রাসঙ্গিক কাজ ও চিন্তার উদ্ধৃতি দেয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে অন্যের কাজের উদ্ধৃতি যদি রচনার মূল বিষয়বস্তু হয় তবে সেটা আর আর মৌলিক রচনা থাকে না। অন্যের কাঁধে চড়ে ভ্রমণ হয়তো আরামদায়ক, তবে দীর্ঘ সময় ধরে মাটির সাথে পায়ের সংযোগ না থাকলে একসময় পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যেতে পারে। সত্যিকারের জ্ঞানী জ্ঞানের বিশুদ্ধতা রক্ষায় কাজ করে, যারা জ্ঞানকে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে লাগায় তারা জ্ঞানী থাকে না। এদের বলা যায় বুদ্ধিমাস্তান।
দুবনা, ২৭ জুন ২০২৬
Wednesday, June 24, 2026
প্রতিবাদ
যেকোনো রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হল অনুৎপাদনশীল খাত। তারপরেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কারণে তাকে রাখতে হয়। এর বাইরের যেকোনো অনুৎপাদনশীল গোষ্ঠীর ভরণপোষণ করা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য বোঝা। প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে ও জনগণকে ঠকাতে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইত্যাদির ব্যবহার মানে ভবিষ্যতে আরেক দল মানুষ তৈরি করা যারা ভালো খেতে ও পরতে চায়, যাদের রক্ত টগবগ করে কিন্তু যারা জনমনে আতঙ্ক ছাড়া কিছু্ই উৎপাদন করতে পারে না বা করতে চায় না। ক্ষমতায় যারাই থাক না কেন রাষ্ট্রকেই এদের দায়িত্ব নিতে হয় আর সেই ব্যয় বহন করে সাধারণ মানুষ। তাই দিনের শেষে মানুষকেই এসবের প্রতিবাদ করতে হবে।
দুবনা, ২৪ জুন ২০২৬
Monday, June 22, 2026
তেল বৃষ্টি
এক বন্ধু জানালো মস্কোর আকাশে নাকি তেল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো রাশিয়া জুরে তেল সংকট। এসব খবরে দেশ বিদেশের সব পত্র পত্রিকা ছয়লাভ। সংকট এড়াতে পুতিনের পদত্যাগ করা উচিৎ।
কি বলব? তেলের সঙ্কট হলে তেল বৃষ্টি হয় কীভাবে? তবে তেলের ব্যাপারে রেস্ট্রিকশন আছে, গাড়িতে তেল দিচ্ছে, ক্যানিস্টারে দিচ্ছে না। কারণ মানুষ বেশি বেশি করে মজুত করতে চাইলে সঙ্কট তৈরি হবে। যুদ্ধ যুদ্ধই। আমি ভাবি সব কথা বিশ্বাস করার আগে মানুষ একটু মাথা খাটায় না কেন? পশ্চিমা বিশ্ব আর যাই চাক, রাশিয়ার মঙ্গল চায় না, কোন দিন চায়নি। আর চায় না বলেই যুদ্ধটা জিইয়ে রাখছে। পুতিনকে পদত্যাগ করানোর জন্য তারা তো সেই ২০০৭ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বিভিন্ন দেশের নেতাদের (তা আমাদের পছন্দ হোক আর নাই হোক) পদত্যাগ করিয়ে তো দেশগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাই পুতিন পদত্যাগ করলে আর যাই হোক রাশিয়ার ভালো হবে না। বুঝতে হবে যে যুদ্ধের মাঠে পেরে না উঠে তারা এখন সিভিলিয়ানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে চাইছে। সমস্যা হল, রুশদের যত বেশি চাপে তারা তত বেশি ভয়ঙ্কর, তত বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমা বিশ্ব জীবন পণ করে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে নেমেছে। শুধু এ কথাই বলতে পারব, ওরা যখন বলবে রাশিয়ার অবস্থা খারাপ, এর মানে হল, রাশিয়া যুদ্ধের মাঠে ভাল করছে। অন্তত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর তাই বলে। বাকি আছে দানিয়েৎস্কের শেষ বড় শহর ক্রিমাতোরস্ক। এরপর ওদের আর প্রতিরোধ করার তেমন দুর্গ থাকবে না। খেলা জমছে।
দুবনা, ২২ জুন ২০২৬
কি বলব? তেলের সঙ্কট হলে তেল বৃষ্টি হয় কীভাবে? তবে তেলের ব্যাপারে রেস্ট্রিকশন আছে, গাড়িতে তেল দিচ্ছে, ক্যানিস্টারে দিচ্ছে না। কারণ মানুষ বেশি বেশি করে মজুত করতে চাইলে সঙ্কট তৈরি হবে। যুদ্ধ যুদ্ধই। আমি ভাবি সব কথা বিশ্বাস করার আগে মানুষ একটু মাথা খাটায় না কেন? পশ্চিমা বিশ্ব আর যাই চাক, রাশিয়ার মঙ্গল চায় না, কোন দিন চায়নি। আর চায় না বলেই যুদ্ধটা জিইয়ে রাখছে। পুতিনকে পদত্যাগ করানোর জন্য তারা তো সেই ২০০৭ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বিভিন্ন দেশের নেতাদের (তা আমাদের পছন্দ হোক আর নাই হোক) পদত্যাগ করিয়ে তো দেশগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাই পুতিন পদত্যাগ করলে আর যাই হোক রাশিয়ার ভালো হবে না। বুঝতে হবে যে যুদ্ধের মাঠে পেরে না উঠে তারা এখন সিভিলিয়ানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে চাইছে। সমস্যা হল, রুশদের যত বেশি চাপে তারা তত বেশি ভয়ঙ্কর, তত বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমা বিশ্ব জীবন পণ করে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে নেমেছে। শুধু এ কথাই বলতে পারব, ওরা যখন বলবে রাশিয়ার অবস্থা খারাপ, এর মানে হল, রাশিয়া যুদ্ধের মাঠে ভাল করছে। অন্তত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর তাই বলে। বাকি আছে দানিয়েৎস্কের শেষ বড় শহর ক্রিমাতোরস্ক। এরপর ওদের আর প্রতিরোধ করার তেমন দুর্গ থাকবে না। খেলা জমছে।
দুবনা, ২২ জুন ২০২৬
Sunday, June 21, 2026
প্রশ্ন
জেলেনস্কি বেলারুশ আক্রমণের হুমকি দেয়ায় কেউ কেউ জানতে চাইছে এটা কি শুধুই ব্লাফ? না, এটা তার একান্ত মনের কথা। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে প্রচুর অস্ত্র, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি পেয়েও ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের একমাত্র বিনিয়োগ, ইউক্রেনের সবচেয়ে সবল ও কর্মক্ষম মানুষের মজুদ শেষের পথে। তারা মৃত, আহত, পলাতক বা যুদ্ধের অযোগ্য। তাই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও অপেক্ষাকৃত ভালো শর্তে যুদ্ধ বন্ধের প্রায় একমাত্র পথ ইউরোপকে যুদ্ধে জড়ানো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও বাল্টিকের দেশগুলো কমবেশি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে। তাদের দরকার কোন অজুহাত। যদি কোন ভাবে ইউক্রেন বেলারুশ আক্রমণ করে আর লুকাশোঙ্কো তার উত্তর দেয়, তাহলে এসব দেশ সেটাকে ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে নামার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা বিশ্বাস করে রাশিয়া কোন অবস্থাতেই তাদের সিভিলিয়ানদের উপর আক্রমণ করবে না আর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। আর যদি করে আমেরিকা তাদের উদ্ধার করবে। শিকারী কুকুর জানে সে যদি ভালুক বা নেকড়ে আক্রমণ করে করে তবে তার মালিক বন্য প্রাণীকে হত্যা করে তাকে উদ্ধার করবে। সমস্যা হল শিকারী বন্য প্রাণী হত্যা করার আগে কুকুর নিজেই যে অক্কা পাবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে। ইউরোপের নেতারা কি এই সহজ সত্যটি জানে?
দুবনা, ২১ জুন ২০২৬
Saturday, June 20, 2026
পররাষ্ট্র মন্ত্রী
আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেটস। এই স্টেটস কি মার্কিন স্টেটস নাকি মার্কিন বাদে পৃথিবীর বাকি সব স্টেট। আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেটস যেভাবে বাইরের সব দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তাতে মনে হয় দ্বিতীয়টাই সত্য। এদিক থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কম যায় না। তারাও আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে শুধু নাক নয় শরীর পর্যন্ত গলায়। অনেকেই তো রাখঢাক না করে সরাসরি আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে দোকানপাট খুলে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এমনকি ভোট দিয়ে আমেরিকাকে বাংলাদেশের উপনিবেশ বানাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
দুবনা, ২০ জুন ২০২৬
Wednesday, June 17, 2026
বিশ্ববিদ্যালয়
দেশে নাকি প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। জানি না এটা শেখ হাসিনার মডেল মসজিদের উত্তরে কি না, এমনকি সেটা হলেও বলব এটা ব্যাড আইডিয়া। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে আউট পুট ভিন্ন কিছু হবে না, শুধু ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এমনকি গ্রিনিজ বুকস অফ রেকর্ডসে নাম উঠতে পারে।
মনে হয় এসব পরিকল্পনা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কারো অধিকার আছে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করার। ফলে সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব পার্টির সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব দলের উপস্থিতি দেখিয়ে দেশ গণতন্ত্রের ভান করতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্র কমে বই বাড়ে না। ঠিক একই ভাবে নতুন ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ডিগ্রিধারী বেকারের জন্ম দিতে পারে কিন্তু তাতে শিক্ষার মান কমবে বই বাড়বে না, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যায়ও কোন হেরফের হবে না। শুধু আরও তিন শ' অনুগত ভিসি ও কয়েক হাজার স্তাবক তৈরি হবে। এতে দেশের কোন লাভ হবে না। দলেরও না। নিকট অতীত অন্ততঃ সেটাই বলে। এক সময়ে ফেসবুকে কিছু কিছু ব্রীজের ছবি দেখতাম। বিশাল মাঠে একাকী ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দুই পাশে কোন রাস্তা নেই যাদের সে সংযুক্ত করে। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে যা আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে মনযোগ দেয়া উচিৎ। শরীর খারাপ হলে আমরা তার চিকিৎসা করি, আলি এক্সপ্রেসে নতুন শরীর অর্ডার দেই না।
দুবনা, ১৭ জুন ২০২৬
Monday, June 15, 2026
একটি নিষ্পাপ প্রস্তাব
আমাদের দেশে সব কিছুর পরেও সরকার প্রধানের কথাই শেষ কথা। সেটা সব আমলেই ছিল। আর এ কারণে বছর পাঁচেক আগে লিখেছিলাম আইন করে প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত আর সব মন্ত্রী পদে বোবাদের নিয়োগ করা হোক। এতে মন্ত্রী পরিষদের কাজ খুব বেশি খারাপ হবে বলে মনে হয় না, তবে জনগণ মন্ত্রীদের শিশুসুলভ কথাবার্তা গলাধঃকরণ করার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে। শিশুরা যেমন দন্ত বিহীন মুখ গহ্বর হতে সময়ে সময়ে কিছু শব্দ উগড়ে দেয় আর পারিপার্শ্বিক সবাই তার অর্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাদের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে। সেই বাস্তবতা থেকে মূক মন্ত্রী কোন ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়া নয়। এতে করে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে হয় না, আর মৌনতাই যেহেতু সম্মতির লক্ষণ তাই সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে আগে থেকেই ধরে নেয়া যায়। শুধু আগে থেকেই প্রস্তাবগুলো সঠিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সরকার প্রধান এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে।
মস্কো, ১৫ জুন ২০২৬
Saturday, June 13, 2026
ভাব না ভাবনা
আমাদের দেশের রাজনীতি ধর্মকে প্রভাবিত করে না ধর্ম রাজনীতিকে সেটাই ভাবছি। এটা ঠিক যে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ যা থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাই ধর্মের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও নেতারাই ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি তোলে। তবে সেটা ধর্মের খেদমত করার জন্য নয়, নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধর্ম মন্দির মসজিদের দেয়াল পেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে আসে। স্বাধীনতার পরে খুব অল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কমলেও সেটা দ্রুত ফিরে আসে। আমাদের ছোটবেলাতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হত। কথায় কথায় বুঝিয়ে দেয়া হত দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক কারা। পরে সেই ধারণা সম্প্রদায়ের চৌকাঠ পেরিয়ে দলীয় রাজনীতিতে ঢুকে যায়। সরকারি দলের নেতা কর্মীরা তা সে আওয়ামী লীগের হোক, বিএনপির হোক, জাতীয় পার্টি বা এনসিপির হোক - নিজেদের বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করে। যেহেতু সরকারি দল আর ধর্মীয় সংখ্যাগুরু - দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে অন্যদের অধিকার ক্ষুন্ন করার কাজে ব্যবহার করে তাই তারা পরস্পরের সহযোগিতা খোঁজে - প্রকাশ্যে বা গোপনে। ধর্ম ও রাজনীতি, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, এক হয়ে গেলে গণতন্ত্র সঙ্কুচিত হয় আর দেশ মধ্য যুগে ফিরে যায়।
দুবনা, ১৩ জুন ২০২৬
Friday, June 12, 2026
নো অপশন
বড় কোম্পানি নিজের অবস্থান উন্নত করতে সাধারণত সফল মানুষদের আমন্ত্রণ জানায়। মমতা ব্যানার্জিকে লাইম লাইটে এনেছিলেন রাজীব গান্ধী। তিনি সবসময়ই কংগ্রেসকে ব্যবহার করেছেন এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন দল ও জোটের সাথে। এখন তাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতির পদ দেবার চিন্তা কতটুকু যৌক্তিক। আসলে দুটো নষ্ট ডিভাইস দিয়ে একটা চলনসই ডিভাইস তৈরি করা যায়, তবে সেটা সাময়িক, স্বল্পায়ু। দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চাইলে মমতা ব্যানার্জি কোন অপশন বলে মনে হয় না। আশার কথা সোনিয়া গান্ধী মনে হয় ইতিমধ্যেই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন।
দুবনা, ১২ জুন ২০২৬
Thursday, June 11, 2026
কয়লা
ইউক্রেন সেভাস্তোপোলের ঐতিহাসিক মিউজিয়ামে আক্রমণ করল। এটা সেভাস্তোপোল প্রতিরক্ষা প্যানারমা। ১৮৫৪ - ১৮৫৫ সালে তুরস্ক, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সম্মিলিত বাহিনীর কয়েক গুণ বেশি নৌ-সেনার আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিহত করে রুশ নাবিকরা। সেই ঘটনাকেই চির স্মরণীয় করতে এই প্যানোরমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী এই প্যানারমা ধ্বংস করে। পরে তা নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এখন হিটলারের অনুসারী (যা তারা শুধু স্বীকার করে না, হিটলারের সহযোগী বান্দেরা ও অন্যদের রাষ্ট্রীয় ভাবে হিরোর মর্যাদা দিয়ে নিজেদের ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়াকে সম্মানের মনে করে) ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নতুন করে আঘাত হানে। ধারণা করা যায় যে এসব হয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। জন্মের পর থেকে অন্য দেশের ধনসম্পদ লুটপাট করা, অন্য দেশের জনগণকে শোষণ করা ছিল যাদের ঐতিহ্য তারা কীভাবে এ ধরণের সুযোগ হাতছাড়া করবে?
দুবনা, ১১ জুন ২০২৬
Wednesday, June 10, 2026
মামা
দেখলাম অধ্যাপক আবুল বারকাত জামিনে মুক্তি পাবার পরেও নতুন এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। অন্য দিকে অধ্যাপক ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করছে না পুলিশ। আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে মামলা ক্ষমতাসীনদের মস্তক প্রসূত, ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলায় মনে হয় সারা দেশ সাক্ষ্য দেবে। দেশে একটা কথা চালু আছে যে মামা চাচা ছাড়া দেশে নাকি এমনকি ঝাড়ুদারের চাকরিও পাওয়া যায় না। তবে খুঁটি ছাড়া যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না সেটা সব সরকারই বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। যদি ইউরোপ, আমেরিকার প্রশাসনে এরকম কেউ না থাকে তবে বাংলাদেশে ন্যায় বিচার তো দূরের কথা এমনকি জামিনের মত ব্যাপারগুলোও অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে যায়। হায়রে দেশ, হায়রে স্বাধীনতা!
দুবনা, ১০ জুন ২০২৬
Monday, June 8, 2026
উপলব্ধি
আমার এক সময় মনে হত সমস্ত রাজনীতিবিদদের ভালো করে ফিজিক্স পড়া দরকার। কারণ ফিজিক্সের ছাত্ররা আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে প্রাধান্য দেয় আর সমস্যা সমাধানে যতদূর সম্ভব নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। সমস্যার সমাধান পক্ষপাতদুষ্ট হলে সেটা হয় স্বল্পস্থায়ী, অস্থিতিশীল।
তবে যে জিনিস দুটো আমি ধর্তব্যের বাইরে রেখেছিলাম তা হল আমরা পদার্থবিদরা নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করি আর পরে সেসব সমস্যার সমাধান করি। এটা আমরা করি কোন বিষয়ে আমাদের জ্ঞানকে আরও নিখুঁত করার জন্য। কারণ আমাদের কাছে শেষ কথা বলে কিছু নেই, আছে ক্রমাগত এগিয়ে চলা, নিজেদের আরও উন্নত করা। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমি ধর্তব্যের মধ্যে রাখিনি তা হল আমাদের কাছে নেগেটিভ রেজাল্ট বলে কিছু নেই। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তবে এসবই হতে হবে একই সাথে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমার রাজনীতিবিদ বন্ধুরা যুক্তির পরিবর্তে আবেগকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে সমস্যার জন্ম দিয়েছে ও তার সমাধান করতে গিয়ে ভুল লক্ষ্যে পৌঁছেছে। আশা করি তারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে এগুবে। তাদের আরোও মনে রাখতে হবে যে তাদের তৈরি সমস্যা ফিজিক্সের মত খাতা কলমে সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় মানুষের পেটে লাথি মারে।
মস্কো, ০৮ জুন ২০২৬
Sunday, June 7, 2026
উই পোকা
ছোটবেলায় বাড়িতে যাত্রার দল ছিল। এছাড়াও শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন খেলা বা অন্য কোন কারণে বাড়িতে প্রায়ই হ্যাজাক জ্বালানো হত। অবাক হয়ে দেখতাম উই পোকা হ্যাজাকের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে তাতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করছে। তবে আত্মহত্যা কথাটি কতটুকু সত্য তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কেননা ওরা নিশ্চয়ই মরার জন্য আলোতে ঝাঁপ দিত না, অনিচ্ছা সত্ত্বেও মরত।
মানুষও সেই উই পোকার মত। পৃথিবী অনেক বড়। মানুষ চাইলেই সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে পারত। কিন্তু তার দরকার অন্যদের বঞ্চিত করা, অন্যের সম্পদ দখল করা, অন্যের উপর ছড়ি ঘোরানো। আর তাই সে অবলীলায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জিতুক আর নাই জিতুক একসময় নিজেই নিজের লোভের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। মানুষ উই পোকা।
মস্কোর পথে, ০৭ জুন ২০২৬
Wednesday, June 3, 2026
সচেতনতা
জনগণ নাকি ধীরে ধীরে আওয়ামী দুঃশাসন ভুলে তাদের ফেরার অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন জরীপ অন্তত সেটাই দেখায়। তবে এই জরীপের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করা যেতেই পারে। ঢাকায় অনুমতি না দেবার পরেও ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে রাজনীতির মাঠে না থাকলেও মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগ আছে, ভালো ভাবেই আছে যদিও বর্তমান আওয়ামী লীগ সেই সমর্থন পাওয়ার যোগ্য কিনা সে প্রশ্নও মনে উঁকি দেয়। এমতাবস্থায় কথায় কথায় অনেকেই যখন আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচার বলে গালি দেয় এবং বিভিন্ন দেশ বিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে যৌথ ভাবে আন্দোলন করতে টালবাহানা করে তখন বোঝা যায় এরা কতটুকু জনবিচ্ছিন্ন। অনেক সময় মনে হয় দেশ নয় দেশের ভালো মন্দ সম্পর্কে নিজেদের ধারণাই তাদের কাছে একমাত্র সত্য।
দুবনা, ০৪ জুন ২০২৬
প্রশ্ন
ঘুম থেকে উঠে খবরে দেখলাম ইউক্রেন মস্কো থেকে সিম্ফেরাপোলগামী এক যাত্রীবাহী বাসে আঘাত হানলে সাত জন মারা যায়, দুই জনের অবস্থা শঙ্কাজনক, আরও কয়েকজন আহত। গতকাল রাতে মস্কো ও মস্কো রিজিয়নে ড্রোন আক্রমণ বিষয়ে সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একুশটি ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দেয় মস্কোর মেয়র। সামরিক ভাবে না পেরে ইউক্রেন এখন সন্ত্রাসবাদী পথ বেছে নিচ্ছে। আর এই কাজে সাহাজ্য করছে পশ্চিমা বিশ্ব যারা অস্ত্র শস্ত্র ও স্পুটনিক থেকে তথ্য সরবরাহ করে ইউক্রেনের আক্রমণ সফল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এঞ্জেলা মারকেল কম করে হলেও দশ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। কেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারকে সহযোগিতা করে যারা হাজার হাজার রুশ, পোলিশ ও ইহুদিদের নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদের জাতীয় বীর ঘোষণা ও দেহাবশেষ কিয়েভে সমাহিত করে ইউক্রেন সরকার নিজেদের ফ্যাসিস্টদের সাথে একাকার করে ফেলেছে। তাহলে কি বুঝতে হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এমনকি ফ্যাসিস্টদের সাথে আতাত করতেও পশ্চিমা বিশ্বের কোন আপত্তি নেই? এ ধরণের আক্রমণে প্রযুক্তিগত সহায়তা তাদেরকেও কি ফ্যাসিবাদী করে তোলে না? তাছাড়া মারকেল কোন যুক্তিতে ১০ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছেন? এরমধ্যে হয় পুতিন মরবে না হয় রাশিয়া ধ্বংস হবে না হয় ইউরোপ ধ্বংস হবে - খোজা নাসিরুদ্দীনের সেই যুক্তিই কি তাঁকে এ পথে পা বাড়াতে উতসাহিত করছেল?
দুবনা, ০৩ জুন ২০২৬
Tuesday, June 2, 2026
পরকিয়া
আল কাপোনেকে আইনের আওতায় আনার জন্য তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয় যদিও তার অপরাধের সীমা পরিসীমা ছিল না। রাশিয়া যখন কোন দেশের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতে চায় তবে প্রথম এগিয়ে আসে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর যে বিভিন্ন অজুহাতে কোন দেশের কোন পণ্য এদেশে আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর্মেনিয়ার দুই চেয়ারে বসে থাকার বিষয়ে এরা আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল। কারণ ইউরেশিয়ান ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন ভর্তুকি পেয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদানের ব্যাপরটা অনেকটা স্বামীর খেয়েপরে প্রকাশ্য দিবালোকে পরকিয়া করার মত। তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন পানীয়ের পর ফলমূলের উপর নিষেধাজ্ঞা নেমে এসেছে। আর্মেনিয়ার এসব পণ্যের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ রপ্তানি হত রাশিয়ায়, বাজার মূল্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ দরে রাশিয়া থেকে গ্যাস পেত আর্মেনিয়া। এখন ইউরোপ কি এই দামে আর্মেনিয়াকে তেল গ্যাস সরবরাহ করবে, আর্মেনিয়ার পণ্য কিনবে? অন্যের বৌকে অনেকেই পটায়, খুব কম লোকেই বিয়ে করে। বিশেষ করে পাত্রী যদি দেউলিয়া হয়। আর্মেনিয়া নিজেকে দেউলিয়া করার পথে হাঁটছে।
মস্কো, ০২ জুন ২০২৬
Sunday, May 31, 2026
ঐক্য
সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন মস্কো এসেছিলেন রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী এক ফোরামে যোগ দিতে। স্বাভাবিক ভাবেই দেখা করেছি, গল্পগুজব করেছি, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেছি। এসব দেখে একজন প্রশ্ন করল
- আপনি তো আজকাল সিপিবির খুব সমালোচনা করেন। তাহলে তাদের সাথে এত দহরমমহরম করেন কীভাবে?
- অনেক ভেবে দেখলাম সমালোচনা করলেও কাজের বেলায় সিপিবি আর আমি প্রায় একই রকম।
- মানে?
- আমি প্রতিদিন রান্না করি আর প্রতিদিন খাবার পুড়াই। পোড়া খাবার খাই। পেট ভরে? ভরে। খাবার টেস্টি হয়? না। রান্না করি খিদে মেটাতে সেই অর্থে মিশন সফল কিন্তু অতৃপ্তি থেকে যায়।
- এর সাথে সিপিবির সম্পর্ক কি?
- ওরা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন করেছিল। হাসিনার পতন হয়েছে। সেদিক থেকে সফল। কিন্তু এর পরিবর্তে যা পেয়েছে তা হজম করতে পারছে না। আমার মত এসিডিটিতে ভুগছে। তাহলে নিজেই ভেবে দেখ কাজের বেলায় আমরা এক কি না?
দুবনা, ০১ জুন ২০২৬
Wednesday, May 27, 2026
প্রশ্ন
ঈদ ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত।
বাংলাদেশ কি ইউনুসকে ত্যাগ করে (পালাতে দিয়ে) সেই দায়িত্ব পালন করল? নাকি এটাও আরেক ফেসবুক গুজব?
দুবনা, ২৮ মে ৩০২৬
Sunday, May 24, 2026
জীবন
যতদিন পর্যন্ত একমাত্র মানুষই ইতিহাস লিখবে শত বীরত্ব দেখানোর পরেও সিংহ সবসময়ই ভিলেন হিসেবে পরিচিত হবে। পৃথিবীর মানুষের এক বিরাট অংশ ব্যক্তি জীবনে যেমন ধর্মীয় অনুশাসনকে একমাত্র সত্য বলে মনে করে রাষ্ট্রীয় জীবনে তেমনি পশ্চিমা বিশ্বের বয়ানকে একমাত্র সত্য বলে মনে করে। জনপ্রিয় ও জাতীয়তাবাদী শাসকরা নিজ নিজ দেশে তুলনামূলক কম মানুষের অধিকার খর্ব করে স্বৈরাচারী, একনায়ক এসব উপাধি লাভ করে, পৃথিবীর দেশে দেশে তার
চেয়ে অনেক গুণ বেশি মানুষের জীবন নাশ ও বিপর্যস্ত করে পশ্চিমা নেতারা গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়। এসব বয়ানে আস্থা রেখে আমরা নিজেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানোর সুযোগ দেই যেমন কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনতা ধর্ম ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেয় পরকালে সমৃদ্ধ জীবনের লোভ দেখিয়ে নিজেদের শোষণ করার। তাই নিজেদের ইতিহাস নিজেদের লিখতে হবে। অন্যের দেয়া নম্বরের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কারণ জীবনটা একান্তই নিজের, কারোও দয়ার দান নয়।
দুবনা, ২৪ মে ২০২৬
Friday, May 22, 2026
ফাঁদ
মব, ধর্ষণ, বলাৎকার, সংখ্যালঘু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ - একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে আর ভালো ভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে এসবই একটি বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাজ। এর উদ্দেশ্য শুধুই যৌন তৃষ্ণা মেটানো নয়, কারোও বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করা নয় বা সংখ্যালঘুদের চাকরি থেকে উৎখাত করা নয়, এর মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রচলিত আইনকে মানুষের চোখে হেয় করা, অসাড় করা। কারণ বিভিন্ন অজুহাতে সরকার এসব ঘটনার তদন্ত করতে দ্বিধা করে। সরকারের এই দুর্বলতাই এদের মূল অস্ত্র।আইন যখন মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষ শুধু দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দোষ দেয় না, আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আর এটাই এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। কারণ বিকল্প হিসেবে তখন তারা শরিয়া আইন প্রণয়ন করার দাবি জানাতে পারে। যদি দেশের মানুষ ও সরকার এই ফাঁদে পা দিতে না চায় তাদের উচিৎ হবে ইদানিং ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা।
দুবনা, ২৩ মে ২০২৬
Wednesday, May 20, 2026
না
রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম তোলপাড়। অনেকেই বলছে ধর্ষক ও খুনী জামায়াত কর্মী। দাড়িপাল্লায় ভোট চেয়েছে। কোরআনের আইন ও ইসলামী শাসন চেয়েছে। এসব দেখে যে প্রশ্নগুলো মাথায় আসে-
ইসলামী দলগুলিই কি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারীদের পারতপক্ষে গৃহবন্দী করে রাখার পক্ষে প্রচার করে না?
আফগানিস্তানে কি সেটারই চর্চা হচ্ছে না?
দেশের মানুষের একটি বড় অংশ যে রাজনীতি ধর্ষণ, শিশুদের বলাৎকার, ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর বিনা বিচারে/প্ররোচনায় আক্রমণ অনুমোদন করে সেই রাজনীতি সমর্থন করে। এটা যেমন সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস থেকে পরিস্কার, তেমনি পরিস্কার অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন ওয়াজ থেকে।
যদি রামিসাদের বাঁচাতে চান জামায়াত সহ সমস্ত ধরণের ধর্মীয় ও মৌলবাদী রাজনীতিকে না বলুন। রামিসার অকাল মৃত্যু কোন যৌন উন্মাদের একক অপরাধ নয়, এটা দেশের সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ও পচনের ফল। এখনই এদের রুখে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে কোন শিশুই নিরাপদ থাকবে না।
দুবনা, ২১ মে ২০২৬
Monday, May 18, 2026
প্রশ্ন
১৯৯৪ সালে আজকের দিনে মানে ১৮ মে দুবনার জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ- এ কাজ শুরু করি গবেষক হিসেবে। জীবনের অর্ধেকের বেশি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে চলে গেল। উত্তর পাই কিন্তু প্রশ্ন কমে না, উল্টো বেড়েই চলেছে। প্রশ্নই জীবন। যতদিন প্রশ্ন আছে, আছে উত্তর খোঁজার তাড়া।
আমি কে কেন জন্ম কিসে বা কল্যাণ?
মস্কো, ১৮ মে ২০২৬
Sunday, May 17, 2026
উপলব্ধি
১৯৪৭ এর পর থেকে দুই বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন দুই ভিন্ন পথে অগ্রসর হলেও বিগত দশকে পথ দুটো খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। উভয় বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তীব্র আকার ধারণ করেছে, মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সবাই সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখছে। সহনশীলতা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এসব শব্দ বাংলা অভিধান থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
মস্কো, ১৭ যে ২০২৬
Thursday, May 14, 2026
নীতি
টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কির এক সময়ের সেক্রেটারি পরোক্ষভাবে তার নেশাগ্রস্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে আর এও বলেছে যুদ্ধই তার টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। একথা যে আগে জানা ছিল না তা নয়, তবে এখন সেটা স্বীকার করল জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ এক লোক। সে যে অভিনয় জীবনেই নেশা করত সেটাও জানা। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে "সভ্য" দেশগুলো তার উপর বাজি রাখল কেন? ইতিহাস বলে অন্যদের সভ্য করার দায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই শত্রু শিবিরে বা যেসব দেশ নিজেদের বলয়ে রাখতে চায় সেখানে হয় দুর্নীতিবাজ ও বিশ্বাসঘাতক খুঁজে না হয় ক্ষমতা ও অর্থের লোভ দেখিয়ে তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে। আর একবার টোপ গিললে সত্য ফাঁস করে দেবার ভয় দেখিয়ে এদের দিয়ে যা খুশি তাই করিয়ে নেয়। কিন্তু সেই সত্যটা আংশিক। সেখানে ঘুষ যে গ্রহণ করে সেই একমাত্র দোষী, ঘুষ দাতা বা দুর্নীতি করার উস্কানি দাতার কোন দায় নেই - এই মন্ত্র জপ করে নিজেদের সবসময়ই বিচারের ঊর্ধ্বে রাখে পশ্চিমারা। যদিও দিনের শেষে জেলেনস্কি বা ইউনুস যুদ্ধ ও মবের মাধ্যমে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবার জন্য ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে থাকবে তবে এইসব মৃত্যুর নেপথ্য কলাকুশলীরা বরাবরের মতই বেকসুর খালাস পাবে। এটাই সভ্যতা। যতদিন আমরা এই বয়ানকে সভ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করব ততদিন দুর্নীতি হবে আমাদের নীতি।
দুবনা, ১৪ মে ২০২৬
Wednesday, May 13, 2026
বিশ্বাস
একজন অভিযোগের সুরে বলল যে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা উঠে গেছে। চারিদিকে শুধু বিশ্বাসঘাতক আর বেইমানের দল।
আমি বললাম প্রতিদিন যেভাবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেরা পুড়ে মরে আর আমাকে না খাইয়ে মারে তাতে অন্য লোকের বেইমানি আমাকে আর বিচলিত করে না। তোমাকে বোকা বানানোর জন্য সবাই লেজ গুটিয়ে বসে আছে, তুমি বোকা হবে কি হবে না সেটা একান্তই তোমার সিদ্ধান্ত। অন্ধভাবে বিশ্বাস না করলে হয়তো আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে হত না।
দুবনা, ১৩ যে ২০২৬
আশা
পশ্চিম বঙ্গে নতুন মূখ্য মন্ত্রী শপথ নেবার পরে মমতাশঙ্কর বললেন "মনে হল আবার স্বাধীন হলাম।" তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আমার জানা নেই। তাঁকে জানি শিল্পী হিসেবে। এই বক্তব্য শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। হাসিনা পরবর্তী ইউনুসের বাংলাদেশ আমরা দেখেছি। জেনেছি ইউনুসের মেটিকুলাস প্ল্যানের নেপথ্য শক্তির কথা। আশা করি পশ্চিম বঙ্গের মানুষকে একই ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
দুবনা, ১৩ মে ২০২৬
Friday, May 8, 2026
এবারের রবি ভাবনা
ধার্মিক আর নাস্তিক ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা নিয়ে বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। অবিশ্বাস যত যুক্তির উপরেই দাঁড়িয়ে থাকুক না কেন সেটাও বিশ্বাস। কারণ ঠিক যেভাবে ধার্মিক ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, ঠিক একই ভাবে নাস্তিক তাঁর অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে। সেদিক থেকে যারা রবীন্দ্র প্রেমী ও রবীন্দ্র বিরোধী তাদের সমস্যা আরও গভীর। কারণ ভক্তদের মনে রবীন্দ্রনাথ যত উঁচু আসনেই বসে থাকুন না কেন দিনের শেষে তিনি মানুষ যদিও অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। আর রবীন্দ্র বিরোধীরা চাক বা না চাক, তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা, তাঁর অসাধারণত্ব অস্বীকার করতে হলে সেটা তাঁর অস্তিত্বকে স্বীকার করেই করতে হয়। সেই বিবেচনায় নাস্তিকরা রবীন্দ্র বিরোধীদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যারা অতিরিক্ত মাতামাতি করে - তা সে তাঁকে ভক্তি করেই হোক বা তাঁকে ঘৃণা করেই হোক, তাদের বাইরেও বিশাল এক দল মানুষ আছে যারা লেখক, কবি, সুরকার রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসে, ধারণ করে, সুখে দুঃখে, হরষে বিষাদে তাঁর কাছে আশ্রয় নেয়, তাঁকে পাশে নিয়ে চলে। এদের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকেন যুগ যুগান্তর। শুধু জন্মদিনেই নয় এদের কাছে তিনি ফিরে আসেন দিন দিন প্রতিদিন!
দুবনা, ০৮ মে ২০২৬
Monday, May 4, 2026
তেজষ্ক্রিয়তা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যে দূষিত এতে কখনোই সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সব দেখে মনে হয় গত দেড় বছরে দেশের রাজনীতির ময়দানে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। আর এর তেজষ্ক্রিয়তায় দেশে দুই পিতার ঔরষে বিএনপি ও জামায়াত নামক একটি দল জন্ম গ্রহণ করছে। কথাটা আমার নয়, এক বিজ্ঞ মন্ত্রীর। মন্ত্রী যখন বলেছেন হবে হয়তো। শুধু এই মন্ত্রীই নয়, অন্যান্য অনেকেই পাল্লা দিয়ে উদ্ভট সব বাণী উদগার করছে।
মস্কো, ০৪ মে ২০২৬
Thursday, April 30, 2026
তীর্থভ্রমণ
সেদিন এক বন্ধু জিজ্ঞেস করল এত লোক হজ্ব করতে যায়, তীর্থ ভ্রমণ করে, আপনি কোথাও যান না কেন? আপনি তো লিখতে আর ছবি তুলতে পছন্দ করেন। অনেক রষদ পেয়ে যেতেন।
ছোটবেলায় মায়ের সাথে গয়া কাশী পুরি সহ অনেক তীর্থে গেছি। মূলতঃ মায়ের পোটলা হয়ে। এটা ওটা দেখতাম, ভালোই লাগত। এখন তো যাওয়া সহজ, অজুহাত অনেক। যেমন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া
অমুক দিন তমুক জায়গায় ভগবানের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। ভেবে দেখ কত কমেন্ট লাইক পড়ত।
তাহলে যান না কেন?
কীভাবে যাব? ভগবানের এপয়েন্টমেন্ট তো কিছুতেই পাচ্ছি না। পান্ডারা মোটা অংকের বিনিময়ে নাকি যোগাড় করে দিতে পারে। কিন্তু ঘুষ দিয়ে ভগবানের সাথে দেখা করতে মন চায় না।
দুবনা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Tuesday, April 28, 2026
রাজনীতি
আমরা সবাই বায়ুর সাগরের ডুব সাঁতারু। সে কথা আমরা সবাই জানি মানি আর নাই মানি। কিছু মানুষের কাছে বাতাসের অস্তিত্ব ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে ধরা পড়ে, আবার কেউ কেউ গাছপালা বা পাতা দুলতে দেখেও সেটা টের পায়। গুমোট আবহাওয়ায় অনেকেই ভাবে বাতাস নেই। আসলে সেখানেও বাতাস থাকে, যেমন জল থাকে স্রোতহীন বদ্ধ জলাশয়ে। একই ভাবে মানুষ বসবাস করে রাজনীতির গভীর জলে। সেখানেও জোয়ার ভাটা আসে, আবার তৈরি হয় ডোবাখানা। তাই যখন রাজনৈতিক আলাপ পরিবেশ নষ্ট করে – এ ধরণের কথা শুনি তখন আসলে আমরা ভিন্ন ধরণের রাজনীতিতে আঁটকে যাই। সমস্যা নিয়ে না ভাবলে সমস্যা দূর হয় না বা সমস্যার সমাধান হয় না তা নয়, সমাধান হয় অন্যের মত করে যা আরও বেশি বড় সমস্যা হিসেবে হাজির হবার সম্ভাবনা থাকে। রাজনীতি নিয়ে না ভাবলেও তেমনি রাজনীতি আমাদের ছেড়ে চলে যায় না। চাল ডালের দাম, তেলের দাম, বেকারত্ব, যুদ্ধ, মব – ইত্যাদি আকারে আমাদের জীবনে আসে, আসে অনাহুত অতিথির বেশে – অনেকটা বর্গীদের মত। আসলে কথা বলা কথা না বলার চেয়ে ভালো। তবে সময় মত চুপ করে থাকার প্রয়োজন মোটেই কম নয়। রাজনৈতিক আলোচনা উল্টো পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ায় – সন্দেহ দূর করে। আমাকে বা আমাদের সব বিষয়েই যে একমত হতে হবে তার কোন মানে নেই, দ্বিমত প্রকাশ করার স্বাধীনতা, দ্বিমত প্রকাশ করার পরিবেশই আসল বন্ধুত্বপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যদি বন্ধুরা দ্বিমত করার ব্যাপারে একমত হতে না পারে – সেটা আর যাই হোক বন্ধুত্ব নয় – একই গাড়ির অপরিচিত সহযাত্রী।
দুবনা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
Sunday, April 26, 2026
শুভ জন্মদিন
যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করা, ভবিষ্যতে তারা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে সাহায্য করা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যদিও প্রচলিত অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় তবুও এটা মানুষ গড়ার কারখানা। ছাত্র ইউনিয়ন যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য তার কর্মীদের মধ্যে সঞ্চারিত করে সেটা হয়তো সবাই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না, তবে এই সংগঠনের ছত্রছায়ায় যারা বেড়ে উঠেছে তাদের একটি বড় অংশ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংগঠনের জন্মলগ্ন ১৯৫২ সাল থেকেই। সঠিক ভাবে বললে জন্মের পরে ছাত্র ইউনিয়ন কাজ শুরু করেনি, কাজ শুরু করেই সে জন্ম নিয়েছে। আজ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জন্মদিন। ৭৪ বছর বয়সেও সে চিরসবুজ, চির তরুণ। ছাত্র ইউনিয়নের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মীদের জন্য রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা।
মস্কোর পথে, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রশ্ন
কম-বেশি আমরা সবাই বলি বা বিশ্বাস করি যে পুঁজিবাদী সমাজের উপাস্য দেবতা হল অর্থ আর চালিকাশক্তি মুনাফা। মুনাফার জন্য এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করতে পারে না। এই সূত্র ধরেই দেশের গার্মেন্টস মালিকরা কর্মীদের ন্যায্য বেতন দেয় না, দালান ধ্বসে কর্মীদের মৃত্যু হলে সেজন্য জবাবদিহি করে না। এ ধরণের ঘটনার বিবরণ আমরা পাই ঊনবিংশ শতকের ইউরোপের বিভিন্ন খনিতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার খামারে। এখন এসব উপন্যাস বা মুভির প্লট হলেও এক সময় এটাই ছিল কঠিন বাস্তবতা। সেই বিচারে বিগত কয়েক বছরে ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানিতে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুত হওয়া কোন অংশেই কম অমানবিক নয়। অর্থাৎ যখন মুনাফা, ক্ষমতা, মানবতা, ন্যায় বিচার এসব পরস্পরের মুখোমুখি হয় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তখন মুনাফা ও ক্ষমতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। বাকস্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এসব যখন মুনাফা আর ক্ষমতার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় তখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আর তাই যদি হয় তাহলে পুঁজিবাদের পক্ষে কি কখনও মানবিক সমাজ গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? সম্ভব হলে কোন আইনের? যা তারা নিজেরা নিজেদের স্বার্থে প্রনয়ণ করে যেমন ইউনুস করেছিল নিজেকে করমুক্ত করে? তাহলে আমরা কেন নিজের দেশে মানবিক সমাজ গড়ার প্রেসক্রিপশন পুঁজিবাদী বিশ্বের কাছে চাইব, তাদের তত্ত্বাবধানে গড়ব?
মস্কোর পথে, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Saturday, April 18, 2026
মন্দের মন্দ
স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একট আইটেম ছিল কে কত ধীরে সাইকেল চালাতে পারে। যে আগে ফিনিশিং লাইন টাচ করত সেই হেরে যেত। খারাপ করাটাই যেন বিজয়ের সূচক!
ইদানিং কালে তো আমরা ভালো কিছু পাই না। বেছে নেই মন্দের ভালো। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সবাই যেন আগের মন্দের রেকর্ড ভাঙার জন্য উঠেপড়ে লাগে।
তাহলে উপায়? সবচেয়ে রাখাপ অপশন বেছে নেয়া। তাতে আর যাই হোক আশাভঙ্গ হতে হবে না।
মস্কোর পথে, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Friday, April 17, 2026
বর্ষবরণ ১৪৩৩
২০১০ সালের ৪ জুলাই আমরা বাংলাদেশ প্রবাসী পরিষদ রাশিয়া নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলি যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত মস্কোয় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের একত্রিত করা। আমাদের সংগঠনের অন্যতম প্রধান আয়োজন ছিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে প্রথমে করোনা ও পরে সাংগঠনিক দুর্বলতা (সংগঠনের কমিটির অধিকাংশ সদস্য রাশিয়ার বাইরে চলে যাওয়া) ইত্যাদি কারণে নববর্ষ উদযাপন স্থগিত হয়ে যায়। এবার বছরের শুরুতে নতুন ছাত্রদের সাংগঠনিক উদ্যোগ দেখে নববর্ষ পালনের চিন্তা মাথায় আসে। মূল সমস্যা কর্মীর অভাব মিটে গেছে। দ্বিতীয় ছিল হল। সেটা পাওয়ার পর কোন বাধাই ছিল না। প্রবাসী পরিষদ বা অন্য কোন সংগঠনের ব্যানারে নয়, পয়লা বৈশাখ উদযাপন কমিটি নামে আমরা এবার বর্ষবরণ করব আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬। আপনি আমন্ত্রিত। আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য। পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুধু বিদেশের মাটিতে আমাদের সংস্কৃতি তুলে ধরা নয়, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আমাদের নিঃশর্ত সমর্থন; দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নাশকতা মূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ।
Monday, April 13, 2026
শুভ জন্মদিন ১৪৩৩
শুধু বছরটাই নতুন হয়, নতুন হয় ক্যালেন্ডারের পাতা। কিন্তু বাংলাদেশ একই থাকে। রাজা বদলায়, রাজনীতি বদলায় না, শাসক বদলায়, শোষণ বদলায় না। আর বদলায় না মানুষের ভাগ্য। চোরেরা আরও বড় চোর হয়, গরীব আরও গরীব হয়। তবুও সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আর যাই হোক, নববর্ষ তো কোন অপরাধ করেনি।
শুভ নববর্ষ!!!
দুবনার পথে, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Wednesday, April 8, 2026
অপেক্ষা
যুদ্ধের শুরু অবিশ্বাস থেকে, শান্তি আসে পারস্পরিক বিশ্বাসে। যুদ্ধ বিরতি কিসে? সেখানে অবিশ্বাসের (সন্দেহের) পাশাপাশি বিশ্বাসও থাকতে হয় আর বিশ্বাসের পাল্লাটা কিছুটা হলেও ভারী হতে হয়। ইরান, আমেরিকা, পাকিস্তান সবাই যেভাবে নিজের নিজের দিকে শান্তি নামক বহু পুরানো কম্বল টানতে শুরু করেছে তাতে সেটা কতক্ষণ টেকে সেটাই দেখার বিষয়।
দুবনা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
Subscribe to:
Posts (Atom)
