দুবনা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
Tuesday, April 28, 2026
রাজনীতি
আমরা সবাই বায়ুর সাগরের ডুব সাঁতারু। সে কথা আমরা সবাই জানি মানি আর নাই মানি। কিছু মানুষের কাছে বাতাসের অস্তিত্ব ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে ধরা পড়ে, আবার কেউ কেউ গাছপালা বা পাতা দুলতে দেখেও সেটা টের পায়। গুমোট আবহাওয়ায় অনেকেই ভাবে বাতাস নেই। আসলে সেখানেও বাতাস থাকে, যেমন জল থাকে স্রোতহীন বদ্ধ জলাশয়ে। একই ভাবে মানুষ বসবাস করে রাজনীতির গভীর জলে। সেখানেও জোয়ার ভাটা আসে, আবার তৈরি হয় ডোবাখানা। তাই যখন রাজনৈতিক আলাপ পরিবেশ নষ্ট করে – এ ধরণের কথা শুনি তখন আসলে আমরা ভিন্ন ধরণের রাজনীতিতে আঁটকে যাই। সমস্যা নিয়ে না ভাবলে সমস্যা দূর হয় না বা সমস্যার সমাধান হয় না তা নয়, সমাধান হয় অন্যের মত করে যা আরও বেশি বড় সমস্যা হিসেবে হাজির হবার সম্ভাবনা থাকে। রাজনীতি নিয়ে না ভাবলেও তেমনি রাজনীতি আমাদের ছেড়ে চলে যায় না। চাল ডালের দাম, তেলের দাম, বেকারত্ব, যুদ্ধ, মব – ইত্যাদি আকারে আমাদের জীবনে আসে, আসে অনাহুত অতিথির বেশে – অনেকটা বর্গীদের মত। আসলে কথা বলা কথা না বলার চেয়ে ভালো। তবে সময় মত চুপ করে থাকার প্রয়োজন মোটেই কম নয়। রাজনৈতিক আলোচনা উল্টো পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ায় – সন্দেহ দূর করে। আমাকে বা আমাদের সব বিষয়েই যে একমত হতে হবে তার কোন মানে নেই, দ্বিমত প্রকাশ করার স্বাধীনতা, দ্বিমত প্রকাশ করার পরিবেশই আসল বন্ধুত্বপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যদি বন্ধুরা দ্বিমত করার ব্যাপারে একমত হতে না পারে – সেটা আর যাই হোক বন্ধুত্ব নয় – একই গাড়ির অপরিচিত সহযাত্রী।
Sunday, April 26, 2026
শুভ জন্মদিন
যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করা, ভবিষ্যতে তারা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে সাহায্য করা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যদিও প্রচলিত অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় তবুও এটা মানুষ গড়ার কারখানা। ছাত্র ইউনিয়ন যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য তার কর্মীদের মধ্যে সঞ্চারিত করে সেটা হয়তো সবাই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না, তবে এই সংগঠনের ছত্রছায়ায় যারা বেড়ে উঠেছে তাদের একটি বড় অংশ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংগঠনের জন্মলগ্ন ১৯৫২ সাল থেকেই। সঠিক ভাবে বললে জন্মের পরে ছাত্র ইউনিয়ন কাজ শুরু করেনি, কাজ শুরু করেই সে জন্ম নিয়েছে। আজ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জন্মদিন। ৭৪ বছর বয়সেও সে চিরসবুজ, চির তরুণ। ছাত্র ইউনিয়নের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মীদের জন্য রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা।
মস্কোর পথে, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রশ্ন
কম-বেশি আমরা সবাই বলি বা বিশ্বাস করি যে পুঁজিবাদী সমাজের উপাস্য দেবতা হল অর্থ আর চালিকাশক্তি মুনাফা। মুনাফার জন্য এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করতে পারে না। এই সূত্র ধরেই দেশের গার্মেন্টস মালিকরা কর্মীদের ন্যায্য বেতন দেয় না, দালান ধ্বসে কর্মীদের মৃত্যু হলে সেজন্য জবাবদিহি করে না। এ ধরণের ঘটনার বিবরণ আমরা পাই ঊনবিংশ শতকের ইউরোপের বিভিন্ন খনিতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার খামারে। এখন এসব উপন্যাস বা মুভির প্লট হলেও এক সময় এটাই ছিল কঠিন বাস্তবতা। সেই বিচারে বিগত কয়েক বছরে ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানিতে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুত হওয়া কোন অংশেই কম অমানবিক নয়। অর্থাৎ যখন মুনাফা, ক্ষমতা, মানবতা, ন্যায় বিচার এসব পরস্পরের মুখোমুখি হয় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তখন মুনাফা ও ক্ষমতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। বাকস্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এসব যখন মুনাফা আর ক্ষমতার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় তখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আর তাই যদি হয় তাহলে পুঁজিবাদের পক্ষে কি কখনও মানবিক সমাজ গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? সম্ভব হলে কোন আইনের? যা তারা নিজেরা নিজেদের স্বার্থে প্রনয়ণ করে যেমন ইউনুস করেছিল নিজেকে করমুক্ত করে? তাহলে আমরা কেন নিজের দেশে মানবিক সমাজ গড়ার প্রেসক্রিপশন পুঁজিবাদী বিশ্বের কাছে চাইব, তাদের তত্ত্বাবধানে গড়ব?
মস্কোর পথে, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Saturday, April 18, 2026
মন্দের মন্দ
স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একট আইটেম ছিল কে কত ধীরে সাইকেল চালাতে পারে। যে আগে ফিনিশিং লাইন টাচ করত সেই হেরে যেত। খারাপ করাটাই যেন বিজয়ের সূচক!
ইদানিং কালে তো আমরা ভালো কিছু পাই না। বেছে নেই মন্দের ভালো। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সবাই যেন আগের মন্দের রেকর্ড ভাঙার জন্য উঠেপড়ে লাগে।
তাহলে উপায়? সবচেয়ে রাখাপ অপশন বেছে নেয়া। তাতে আর যাই হোক আশাভঙ্গ হতে হবে না।
মস্কোর পথে, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Friday, April 17, 2026
বর্ষবরণ ১৪৩৩
২০১০ সালের ৪ জুলাই আমরা বাংলাদেশ প্রবাসী পরিষদ রাশিয়া নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলি যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত মস্কোয় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের একত্রিত করা। আমাদের সংগঠনের অন্যতম প্রধান আয়োজন ছিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে প্রথমে করোনা ও পরে সাংগঠনিক দুর্বলতা (সংগঠনের কমিটির অধিকাংশ সদস্য রাশিয়ার বাইরে চলে যাওয়া) ইত্যাদি কারণে নববর্ষ উদযাপন স্থগিত হয়ে যায়। এবার বছরের শুরুতে নতুন ছাত্রদের সাংগঠনিক উদ্যোগ দেখে নববর্ষ পালনের চিন্তা মাথায় আসে। মূল সমস্যা কর্মীর অভাব মিটে গেছে। দ্বিতীয় ছিল হল। সেটা পাওয়ার পর কোন বাধাই ছিল না। প্রবাসী পরিষদ বা অন্য কোন সংগঠনের ব্যানারে নয়, পয়লা বৈশাখ উদযাপন কমিটি নামে আমরা এবার বর্ষবরণ করব আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬। আপনি আমন্ত্রিত। আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য। পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুধু বিদেশের মাটিতে আমাদের সংস্কৃতি তুলে ধরা নয়, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আমাদের নিঃশর্ত সমর্থন; দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নাশকতা মূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ।
Monday, April 13, 2026
শুভ জন্মদিন ১৪৩৩
শুধু বছরটাই নতুন হয়, নতুন হয় ক্যালেন্ডারের পাতা। কিন্তু বাংলাদেশ একই থাকে। রাজা বদলায়, রাজনীতি বদলায় না, শাসক বদলায়, শোষণ বদলায় না। আর বদলায় না মানুষের ভাগ্য। চোরেরা আরও বড় চোর হয়, গরীব আরও গরীব হয়। তবুও সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আর যাই হোক, নববর্ষ তো কোন অপরাধ করেনি।
শুভ নববর্ষ!!!
দুবনার পথে, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Wednesday, April 8, 2026
অপেক্ষা
যুদ্ধের শুরু অবিশ্বাস থেকে, শান্তি আসে পারস্পরিক বিশ্বাসে। যুদ্ধ বিরতি কিসে? সেখানে অবিশ্বাসের (সন্দেহের) পাশাপাশি বিশ্বাসও থাকতে হয় আর বিশ্বাসের পাল্লাটা কিছুটা হলেও ভারী হতে হয়। ইরান, আমেরিকা, পাকিস্তান সবাই যেভাবে নিজের নিজের দিকে শান্তি নামক বহু পুরানো কম্বল টানতে শুরু করেছে তাতে সেটা কতক্ষণ টেকে সেটাই দেখার বিষয়।
দুবনা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
Sunday, April 5, 2026
কাঁধ
কোথায় যেন পড়েছিলাম এক আধুনিক মেয়ে, যে বিয়ে করতে চায় না ও এক সাধুর গল্প। মেয়েটি যখন বিয়ের পক্ষে একের পর এক সাধুর সব যুক্তি খন্ডন করছিল, তিনি তখন বললেন "কোন কাজে ব্যর্থ হলে দায় চাপানোর জন্য একটা কাঁধ তো দরকার। যদি বিয়ে না বস সেই কাঁধটা পাবে কোথায়?"
দেখলাম বিএনপি নেতা রিজভী বলেছেন শয়তানের খপ্পরে পড়ে তিনি ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়েছেন।
ভাবুন তো যদি শয়তান না থাকতো তবে কার কাঁধে ব্যর্থতার দায় চাপাতেন। যার ইচ্ছায় সব হয় সেই পরম করুণাময় কি আপনার ভুলের দায়িত্ব নিতেন?
আসলে মাঝে মধ্যে শত্রুও সবচেয়ে উপকারী হতে পারে। আর এ জন্যেই যাদের দেখতে পারেন না, যাদের সহ্য করতে পারেন না, তাদের যত্ন করে বাঁচিয়ে রাখা দরকার যাতে প্রয়োজনের সময় শয়তানের মত তারাও অজুহাত দেখানোর জন্য কাঁধটা পেতে দিতে পারে।
মস্কো, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
Friday, April 3, 2026
বামন
আমেরিকার গণতন্ত্র মনে হয় আইসবার্গের গণতন্ত্র। চার বছর পর পর এর দৃশ্যমান অংশ মানে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন করা হয় কিন্তু আসল শাসন ব্যবস্থা কমবেশি আগের মতই রয়ে যায়। সেনেটর, কংগ্রেস ম্যান এদের বার্থ সার্টিফিকেট না দেখেও বোঝা যায় কত যুগ যুগ ধরে এরা সেখানে শেকড় গেড়ে বসে আছে। এটাকে হয়তো ক্ল্যাসিকাল অর্থে স্বৈরশাসন বলা যায় না, তবে অন্যান্য দেশের প্রতি আমেরিকার স্বৈরাচারী মনোভাবের মূল এখানে প্রোথিত বলেই মনে হয়। কারণ সমাজ সময়ের সাথে বদলে গেলেও শাসকদের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব বদলায় না। প্রাচীন রোমে যেমন একদল বিশিষ্ট নাগরিক গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করে অন্যদের দাস বানিয়ে রাখত তেমনি করে আমেরিকার শাসকগোষ্ঠীর বেশিরভাগ সেটাই চালাতে চায় বিশ্ব পরিসরে। এখান থেকেই নিজেরা বামুন সেজে অন্যদের অচ্ছুত রাখার জন্য চলে অন্তহীন যুদ্ধ আর দিনের শেষে নিজেরা হয় বামন।
দুবনা, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
Tuesday, March 31, 2026
প্রশ্ন
জুলাইজঙ্গীদের বিচার করলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করতে হয়। বলেছেন নাকি এক মন্ত্রী। তারপরেও জুলাইজঙ্গীদের বিচার হোক। আর মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার যদি করতেই হয় তবে অন্যতম প্রধান মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক বলে মন্ত্রী যাকে দাবি করেন সেই মেজর জিয়াউর রহমানকে দিয়েই সে বিচার শুরু হোক! একদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলবেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সৈনিক মানবেন আর অন্যদিকে তাঁকে জুলাইজঙ্গীদের সাথে এক বাটখাড়ায় মাপবেন সেটা কি করে হয়? আগে মনস্থির করেন আপনি কোন দলের - একাত্তরের না চব্বিশের? জিয়ার না হাসনাতের?
দুবনা, ৩১ মার্চ ২০২৬
Monday, March 30, 2026
Gulf
To eliminate gulf of difference between USA and Iran they started Gulf war. Which gulf would swallow the other is a million dollar question.
On the way to Dubna, 30 March 2026
Friday, March 27, 2026
কুবুদ্ধি
কিছু দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে আমেরিকা উপসাগর রাখলেন। চাইলে তিনি এখন ইরানের নাম পাল্টিয়ে অন্য কিছু (ডনপারশো) রেখে ঘোষণা দিতেই পারেন যে ইরান বলে কোন দেশ আর নেই, ইরানের নাম তিনি পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে দিয়েছেন। কেন যে অযথা এত ডলারের শ্রাদ্ধ, এত লোকের অকাল মৃত্যু? নাম বদলানোর এ খেলায় সাপও মরবে না লাঠিও ভাঙবে না। দুপক্ষই জিতে যাবে।
দুবনা, ২৭ মার্চ ২০২৬
Thursday, March 26, 2026
স্বাধীন হলাম মুক্তি মিলল না
স্বাধীন হওয়া যায় কিন্তু মুক্তি মেলে না। অন্তত রবি বাবুর খপ্পর থেকে।
আজ ইস্কুলে যাইবার জন্য যতটা কাঁদিতেছ একদিন ইস্কুলে না যাইবার জন্য তাহার চাইতে বেশি কাঁদিতে হইবে।
যদিও এরা রবি ঠাকুরকে পছন্দ করে না তবুও তাঁর কথা মেনে
একদিন স্বাধীন হওয়ার জন্য এরা যতটুকু কান্নাকাটি করেছিল আজ স্বাধীন না হওয়ার জন্য তারচেয়ে বেশি কান্নাকাটি করছে।
স্যা লা বি!
দুবনা, ২৬ মার্চ ২০২৬
স্বাধীনতা
স্বাধীন মানে স্ব অধীন, নিজের অধীন। কিন্তু নিজেকে নিজের অধীনে রাখার জন্য যে স্বকীয়তা প্রয়োজন সেটা আমাদের আছে কি? আমরা তো এখনও নিজেদের পরিচয় ঠিক করতে পারলাম না। একেকজন একেক প্রভুর অধীনে থাকাটাই স্বাধীনতা মনে করে। এ যেন তেত্রিশ কোটি দেবতার মত - যত জীব তত শিব। যত মানুষ তত রকমের স্বাধীনতা। সমস্যা হয় না যদি এত এত ভিন্নতার কোন না কোন মিলন বিন্দু থাকে এমনকি সেটা যদি বিন্দুমাত্রও হয়। সমস্যা হল স্বাধীনতার এত বছর পরেও সেই সাধারণ বিন্দু নেই যা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।
সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা!
দুবনা, ২৬ মার্চ ২০২৬
Wednesday, March 25, 2026
অপরাধ
ছাত্রজীবনে আমরা প্রায়ই দুই পংক্তির একটি আইনের উদ্ধৃতি দিতাম
১) বিচারক সবসময়ই সঠিক;
২) যদি বিশ্বাস না হয় প্রথম পংক্তি দেখ।
অনেকেই প্রশ্ন করছে
হরমুজ প্রণালী অবরোধ অবৈধ হলে কিউবা অবরোধ বৈধ কেন?
একই ভাবে বলা চলে কসোবার মানুষের মুক্তির সংগ্রাম বৈধ হলে ক্রিমিয়া বা দনবাসের মানুষের একই লড়াই বৈধ নয় কেন?
কারণ যারা আইন তৈরি করে তারা করে এর মাধ্যমে অন্যদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে, নিজেরা পালন করতে নয়। যতদিন পর্যন্ত সিংহ আইন সৃষ্টি না করতে শিখবে ততদিন পর্যন্ত সিংহ হত্যা করেও শিকারীই নির্দোষ থেকে যাবে। এই দুষ্ট চক্র থেকে মুক্তির একটাই উপায় - দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব মাথায় রেখে নিজেদের আইন নিজেরা সৃষ্টি করা। অন্যের তৈরি আইনে আমরা সবসময়ই অপরাধী।
দুবনা, ২৫ মার্চ ২০২৬
Monday, March 23, 2026
প্রশ্ন
খেয়াল করে দেখলাম বাম ঘরানার অধিকাংশ নেতাদের পরিচয় এমন -
সাবেক ছাত্রনেতা, সাবেক ভিপি, নব্বইয়ের আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ইত্যাদি ইত্যাদি। এক কথায় যা কিছু ভালো সব সুদূর অতীতে। মনে প্রশ্ন জাগছে - নেতাদের পরিচয় যদি অতীতে আটকে থাকে তাহলে বর্তমানে তারা বাম আন্দোলন এগিয়ে নেবে কীভাবে? অতীত পরিচয় (সার্টিফিকেট) লাগে নতুন চাকরিতে ঢুকতে, কিন্তু চলমান চাকরিতে পদোন্নতির জন্য লাগে কর্মদক্ষতা ও বর্তমান সময়ের কাজের ভালো ফলাফল। আপনাদের কি বিষয়টি গোলমেলে মনে হচ্ছে না?
দুবনার পথে, ২৩ মার্চ ২০২৬
Saturday, March 21, 2026
ছবি
যাই বলি না কেন রবীন্দ্রনাথ কিন্তু ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিলেন।কেন?
ধরা যাক "তুমি কি কেবলই ছবি শুধু পটে আঁকা" গানটি। এক সময় এ গান শুনে কোন মানুষের মুখ মনে ভেসে উঠত। সাধারণত প্রিয় মানুষের মুখ। আর এখন? ছবিই সব। চারিদিকে ছবির ছড়াছড়ি। মানুষ ছবিতে ফুলেল শুভেচ্ছা পাঠায়, জন্মদিনে কেকের ছবি পাঠায়, সকাল বিকাল চা কফির ধূমায়িত ছবি, কেউ কেউ আবার হরেক রকম খাবারের ছবি - যেন ছবিই সব, ছবিই জীবন। এসব দেখে আবার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে - ওরা কি কেবলই ছবি?
ছবির মত জীবন - এক সময় এটা ছিল সুন্দর জীবনের অন্য নাম। এখন জীবনের অন্য রূপ -
ছবি দেখে জীবন।
দুবনা, ২১ মার্চ ২০২৬
Monday, March 16, 2026
উপলব্ধি
সব দলই বলে জাতীয় স্বার্থে কারো সাথে আপোষ নয়, জাতীয় স্বার্থ প্রাণ দিয়ে হলেও রক্ষা করব, ব্লা ব্লা ব্লা। তবে বিভিন্ন দলের কথা শুনে ও কাজ দেখে মনে হয় তাদের যার যার নিজের নিজের জাতি। এবং এই জাতির সাথে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কোন সম্পর্ক নেই। এই জাতিতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এসব কিছুই নেই। আছে শুধু ভূখণ্ড যেখানে তারা নিজেদের পছন্দের লোক রোপন করে এক বৃক্ষের এক বন সৃষ্টি করতে চায়।
দুবনার পথে, ১৬ মার্চ ২০২৬
Monday, March 9, 2026
বিবাহ বিচ্ছেদ
বিভিন্ন সময়ে সেলিব্রিটিদের বিবাহ বিচ্ছেদের খবরে বাজার গরম হয়। কত কাপ প্লেটের অকাল মৃত্যু ঘটলো, বাচ্চারা কার সাথে থাকবে, বিবাহিত সময়ের জন্য সাবেক বর তার সাবেক বউকে কত টাকা ভর্তুকি দিল এসব মুখরোচক কাম শ্রুতিমধুর খবর ঘুরে বেড়ায় আকাশে বাতাসে।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই যুদ্ধ অনেকটা বড়লোকের বিবাহ বিচ্ছেদের মত। প্রথমত প্রচুর দামী দামী টি-সেট, ডিনার-সেটের গণহারে মৃত্যু (বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক ঘাঁটি ও বহু মূল্যবান অস্ত্র-শস্ত্রের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি) তার উপর বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়া (মার্কেট ধ্বসে শুধু আমেরিকা নয়, সারা বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতির নাভিশ্বাস উঠেছে)। ইদানিং নাকি বিবাহ বিচ্ছেদের পর ফটোসেশন আর বিশাল বিশাল পার্টি দেয়া হয়। যুদ্ধের ছবি তুলতে সাংবাদিকদের ভীড় আর নিরীহ মানুষ ও শিশু হত্যা সেই ফটোসেশন আর পার্টি। এটাই আধুনিক সভ্যতা, মানবতা।
দুবনা, ০৯ মার্চ ২০২৬
Friday, March 6, 2026
প্রশ্ন
আজ ৬ মার্চ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবস। একটা সময় ছিল যখন এই দিনটির কথা একটু অন্য ভাবে স্মরণ করতাম। তখন এই দিনটির সাথে মানুষের মুক্তির আশা, আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত। আজকাল কেন যেন আগের সেই অনুভূতি আর নেই। বয়স বাড়ছে বলে সন্ন্যাসী হতে বসেছি নাকি আজকে যারা পার্টির হাল ধরেছেন তারা পথ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন? আপনারাও কি এরকম সিম্পটোমে ভুগছেন?
দুবনা, ০৬ মার্চ ২০২৬
Thursday, March 5, 2026
প্রশ্ন
ট্রাম্পের শত্রুর অভাব নেই। এবং তার বেশিরভাগ তাঁর নিজের ঘরেই। আমেরিকান এস্টাবলিশমেন্টে। এখন যদি এদের হাতে ট্রাম্পের কিছু ঘটে মানে এরা যদি ট্রাম্পকে আততায়ীর মাধ্যমে সরিয়ে দেয় তাহলে সেই দায় অনায়াসে ইরান, কিউবা বা ভেনেজুয়েলার কাঁধে চাপিয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালানো যাবে। একেই বলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। এই ধরণের সুযোগ ডীপ স্টেট কি হাতছাড়া করবে?
দুবনা, ০৫ মার্চ ২০২৬
Wednesday, March 4, 2026
শুধু যাওয়া আসা
রুশরা বলে আসা নিজের ইচ্ছায়, যাওয়া পরের ইচ্ছায়। যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তাই। আসে নিজের ইচ্ছায় অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও আতিথেয়তার আলিঙ্গনে জড়িয়ে পরে বছরের পর বছর থেকে যায়। রেখে যায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, হাজার হাজার প্রাণ যায় বেশিরভাগ নিষ্পাপ মানুষ অথবা পরিস্থিতির শিকার। আগে মনে হত মাদক, টাকা এসব বড় নেশা। এখন দেখি রক্তের নেশা বড় নেশা। সব দেখে মনে হয় এই যুদ্ধ সোপ অপেরার মত বহু সিরিয়ালের হবে।
দুবনা, ০৪ মার্চ ২০২৬
Sunday, March 1, 2026
বসন্ত শুভেচ্ছা
সবাইকে পয়লা বসন্তের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বাসার গন্ধরাজ নিজেও বসন্তের আগমন টের পেয়ে হেসে উঠেছে।
মস্কোর পথে, ০১ মার্চ ২০২৬
উপলব্ধি
অন্তর্বর্তী সরকার অন্তর ভর্তি ঘৃণা নিয়ে যেভাবে দেশের লালবাতি জ্বালিয়েছে তাতে ভবিষ্যতে কোন রকম অন্তর্বর্তী, তত্ত্বাবধায়ক বা হেফাজতকারী সরকারের নাম শুনে মানুষ আঁতকে উঠবে।
মস্কোর পথে, ০১ মার্চ ২০২৬
Saturday, February 28, 2026
রেলগাড়ি
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দল মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব শাসকগোষ্ঠী একই রেলগাড়ির যাত্রী। নিজেদের মধ্যে দেশের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে যতই মতপার্থক্য থাকুক না কেন, ক্ষমতা পেলে মানে ড্রাইভারের সীটে বসলে সবাই একই পথে চলে। এ যেন এক লাইনে চলা রেলগাড়ি যা ঘোরানো বা ভিন্ন পথে চালানো অসম্ভব। বিশেষ করে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির এসব প্রশ্নে।
দুবনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Thursday, February 26, 2026
দল ও দেশ
যারা দল করে তাদের কথা শুনে মনে হয় দল ছাড়া দেশোদ্ধার অসম্ভব। আসলে দেশের বা সমাজের মঙ্গল করার জন্য দল করা অপরিহার্য নয়। যা দরকার সেটা ভালো কিছু করার ইচ্ছা ও সেই ইচ্ছা বাস্তবায়ন করার জন্য সক্রিয় হওয়া। শুধু সৎ ভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করলেও সমাজের অনেক উপকার করা যায়, অনেককে অনেক কিছু শেখানো যায়। অবশ্যই এসব কাজ কয়েকজন মিলে দল বেঁধে করলে ভালো হয়। কিন্তু কয়েকজন মিলে করা মানেই কিছু নিয়ম কানুনের মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ করা। তখন দেশ বা সমাজের পাশাপাশি এই দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থও সামন চলে আসে। যদি দেশ বা সমাজের চেয়ে গোষ্ঠীর স্বার্থ বড় হয়ে দেখা দেয় তখন এসব দল দেশের জন্য উল্টো ক্ষতিকর হয়।
দুবনা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Monday, February 23, 2026
বলদ ষাঁড়
ইদানিং ফেসবুকে একজন ষাঁড় নিয়ে আবার ম্যালা আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ইনি ষাঁড় নন, আস্ত একটা বলদ। তবে ধূর্তামিতে শেয়ালের চেয়ে এক কাঠি সরেস।
দুবনা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Friday, February 20, 2026
এবারের একুশ
গত বছর হঠাৎ করেই জাতি কিছু শব্দ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। জাতি বলা ভূল হবে। কারণ জাতির মূল প্রতিনিধি মানে কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ এসব নিয়ে কুতর্কে জড়িয়ে পড়ে না, তারা তাদের মুখের ভাষা কাউকে কেড়ে নিতে দেয় না। শুধু মাত্র কিছু ধূর্ত রাজনীতিবিদ ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকতে এসব বিতর্ক সামনে আনে। ফলে সিনেমার ২৫ তম ফ্রেমের মত ইনসাফ, ইনকিলাব এসব শব্দ জনজীবনে ঢুকে পড়ে ন্যায়, বিপ্লব এসব শব্দকে দূরে সরিয়ে দিয়ে। অনেক বামপন্থী নেতাদের দেখি ভগৎ সিংয়ের দোহাই দিয়ে এসব আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে। একই অর্থ বহন করলেও দুটি শব্দ যে দুই বিপরীত ধারণার প্রতিনিধি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ঈশ্বর ও আল্লাহ। একই ভাবে সমার্থক হলেও ইনসাফ আর ন্যায় বা ইনকিলাব আর বিপ্লব আজ আর একই জনগোষ্ঠীর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে না। ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষ নতুন করে ন্যায় আর বিপ্লবের পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়েছে যা আঠারো মাসের অনিশ্চয়তার পরে এবারের একুশকে ভিন্ন গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলা ভাষা আবার জিতে গেছে।
সবাইকে মহান ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!
দুবনা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sunday, February 15, 2026
প্রশ্ন
বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি ইতিমধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন, রাখছেন। অনেক বিষয়ে অনেক আশাব্যাঞ্জক বাণী শুনিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কারাবন্দী সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে কোন কথা শুনিনি। বিশেষ করে যারা সত্যিই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছেন। সাংবাদিকরা কি এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন?
দুবনা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Saturday, February 14, 2026
ভোটস্থীতি
খবরে প্রকাশ কোন কোন আসনে নাকি ২৪৫% ভোট পড়েছে। এতে অবশ্য অবাক হবার কিছু নেই। ভদ্রলোক অর্থনীতির মানুষ। মুদ্রাস্ফীতির নিয়ম অনুসারে ভোটস্ফীতির তত্ত্ব আবিষ্কার করে আরেকটা নোবেল বাগিয়ে নেবেন। দূরদর্শী মানুষ। সামনের বেকার জীবনের জন্য কাজ তো বের করতে হবে!
দুবনা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Wednesday, February 11, 2026
কথা
কথায় আছে মৌনতা সম্মতির লক্ষণ। তাই ভোট বয়কট মানে যারা সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের আয়োজন করেছে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করা। যদি আপনি এই সংশোধন সমর্থন না করেন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে না ভোট দিন। অনেকেই বলছে কোন লাভ নেই। না কে হ্যাঁ করা হবে। হ্যাঁ কে জিতিয়ে আনা হবে। প্রশ্নটা হারজিতের নয়, প্রশ্নটা নিজের প্রতিবাদটুকু জানিয়ে রাখার। নিজের কাছে হেরে না যাওয়ার।
দুবনা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sunday, February 8, 2026
নিমিত্ত
প্রতিটি নতুন জেনারেশনের ডিভাইস যেমন আগেরটার চেয়ে এক কাঠি সরেস তেমনি গণতন্ত্রের মন্ত্র আওড়িয়ে এক স্বৈরাচারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় আসা শাসকগোষ্ঠী আরও এক কাঠি বেশি নির্মম স্বৈরাচারী হয়। এটা যেমন বিভিন্ন সামাজিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি সত্য বর্তমান এরায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন রঙিন বিপ্লবের ক্ষেত্রে। আগের স্বৈরাচারের অবশিষ্ট মানবিক গুণাবলীকে নতুনরা দুর্বলতা মনে করে এবং নিজেদের রক্ষা কবচ হিসেবে সেসব মানবিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দেয়। তাই জারের আমলে লেনিন বেশ আদর যত্নের সাথে কারাবাস করলেও জার নিকোলাই সপরিবারে নিহত হন। ডঃ ইউনূস বা অন্যান্য অনেকেই বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে জেলে কষ্ট করে বেঁচে থাকলেও ইউনূসের জেলে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষেরা মরে যায়। রমেশ চন্দ্র সেন নব্য স্বৈরাচারের বহু বলির একজন মাত্র। তাঁর আগে ও পেছনে আছে মৃত মানুষের দীর্ঘ সারি। ইউনূস নিমিত্ত মাত্র। এদের তো বটেই এমনকি দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে।
দুবনা, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Friday, February 6, 2026
গ্রে
এপস্টেইন ফাইল রহস্য দেখে মনে হচ্ছে আমরা সবাই আর্টিস্ট বেইসিল যে হঠাৎ করে ডোরিয়ান গ্রের গোপন ঘরে ঢুকে নিজের আঁকা গ্রের পোর্ট্রেটের দুরাবস্থা দেখে হতবাক হয়ে গেছে।
মস্কো, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Monday, February 2, 2026
স্বনির্ভরতা
অনেক দিন আগের কথা। তখন পাকিস্তান নামে একটি দেশ ছিল। বর্তমান বাংলাদেশ ছিল সেই পাকিস্তানের একটি প্রদেশ। কিন্তু পাকিস্তানিদের, বিশেষ করে পাঞ্জাবী শাসক শোষকদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাঙালিরা স্বাধীন হল। এখন শুনি একদল বাঙালি নাকি পুনরায় পাকিস্তানি হবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ পাকিস্তানে আঁটকে পরা বাঙালিরা আজও পাকিস্তানি হতে পারে নাই। আচ্ছা এদের যদি এতই পাকিস্তানি হতে ইচ্ছে করে তাহলে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপ বা অন্যান্য দেশের পরিবর্তে পাকিস্তানে মাইগ্রেট করে না কেন? এখন তো এ জন্য ভিসা পর্যন্ত লাগে না। এমনকি ডাইরেক্ট ফ্লাইট পর্যন্ত চালু হয়েছে। অযথা দেশের বেশির ভাগ মানুষ যারা পাকিস্তানী হতে চায় না, তাদের সাথে নেবার কী দরকার? তবে তাদের এটাও মনে রাখা দরকার যে শুধু একাত্তর সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মধ্য দিয়েই পাকিস্তান ভাঙ্গনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। এখনও খোদ পাকিস্তানে পাঞ্জাবী, সিন্ধি, বালুচ, পশতুন এরা এক জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি আর তাই বালুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশে বিদ্রোহ লেগেই আছে। আরব বিশ্বের এতগুলো দেশ একই ধর্ম, একই ভাষা নিয়েও এক রাষ্ট্র হতে পারল না, সেখানে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান শুধু ধর্মের ভিত্তিতে এক হবে কীভাবে? বাঙালিরা বাঙালি হয়েই নিজের দেশ গড়ে তুলুক আর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক। তাহলেই এক দেশ না হয়েও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। এই দুই দেশের ভাগ বাটোয়ারা করার কিছু নেই, স্বল্পকালীন যে যৌথ অতীত আছে সেটাও সুখকর নয়। তাদের চলার পথ ভিন্ন। তারপরেও দু দেশই নিজের পায়ে শক্ত ভাবে দাঁড়ালে আর পরস্পরের পথকে শ্রদ্ধা করলে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো হবে। সেটা সব দেশের জন্যেই সত্য। তাই পাকিস্তানের আগে বাংলাদেশকে ভালবাসতে শিখুন, এই দেশকে উন্নত ও আধুনিক করুন। বাকিটা আপনার দায়িত্ব নয়।
দুবনা, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sunday, February 1, 2026
সাপ
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাব্য সাংসদ মহিলাদের সাথে একই আলোচনা সভায় বসতে রাজি না হলেও একই সাথে একাধিক মহিলার সাথে বসতে (বাস করতে) গররাজি নয়। একই ভাবে গণতন্ত্রের নামে জপে একদল ডিগ্রিধারী হাফ নাগরিক টাউট বাটপার দেশে মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে এতটুকু দ্বিধান্বিত নয়। এসব দু মুখো সাপের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
দুবনা, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Thursday, January 29, 2026
জালিয়াত
কল্পনা করুন, একজন প্রধান শিক্ষক বলছেন যে তার স্কুলের সব ছাত্র অপদার্থ, মূর্খ। অথবা কোচ বলছে তার টিমের সব খেলোয়াড় আসলে খেলতেই জানে না। বা রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা বলছেন দলের সব কর্মীরা দল বিরোধী কাজে লিপ্ত। এটা যদি হয় তাহলে দায়টা কার? এরপর কি আর সেই সব মানুষের এসব সংগঠনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা শোভা পায়? পায় না। কথায় আছে মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকে।
মোঃ ইউনুসকে বলতে শুনলাম দেশের সব লোক নাকি জালিয়াত। কিন্তু বাস্তবটা কি? তিনি নিজেকে করমুক্ত করলেন, মামলা থেকে বেকসুর খালাস করলেন, তার সাঙ্গপাঙ্গরাই চোখের পলকে কোটি কোটি মালিক হল। আর সাধারণ মানুষ যেমন ছিল ঠিক তেমনই রয়ে গেল, এমনকি আগের চেয়ে আরও বেশি নিঃস্ব হল। তাহলে জালিয়াতিটা কে করল? জালিয়াতটা কে? একজন মানুষ কতটুকু অপদার্থ হলে দেশের সাধারন মানুষদের জালিয়াত বলতে পারে?
চোরের মায়ের শুনেছি বড় গলা।
দুবনা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
মোঃ ইউনুসকে বলতে শুনলাম দেশের সব লোক নাকি জালিয়াত। কিন্তু বাস্তবটা কি? তিনি নিজেকে করমুক্ত করলেন, মামলা থেকে বেকসুর খালাস করলেন, তার সাঙ্গপাঙ্গরাই চোখের পলকে কোটি কোটি মালিক হল। আর সাধারণ মানুষ যেমন ছিল ঠিক তেমনই রয়ে গেল, এমনকি আগের চেয়ে আরও বেশি নিঃস্ব হল। তাহলে জালিয়াতিটা কে করল? জালিয়াতটা কে? একজন মানুষ কতটুকু অপদার্থ হলে দেশের সাধারন মানুষদের জালিয়াত বলতে পারে?
চোরের মায়ের শুনেছি বড় গলা।
দুবনা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
Wednesday, January 28, 2026
তখন?
আত্মসম্মানবোধ ও জাতীয় স্বার্থ - দুটোই জাতির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই চেষ্টা করা উচিৎ উভয়কেই সমুন্নত রাখার। তবে কখনও কখনও এই দুইয়ের মধ্যে কোন একটা বেছে নিতে হয়। তখন? তখন দেখতে হবে জাতির ভবিষ্যতের জন্য কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড, আমেরিকার মত দেশ বলে তাদের চিরস্থায়ী বন্ধু নেই, আছে জাতীয় স্বার্থ। জাতীয় স্বার্থে অনেক সময় তারা আদর্শের সাথে কম্প্রোমাইজ করে। সাধারণত দুর্বল আত্মসম্মান রক্ষা করতে স্বার্থ বিসর্জন দেয়, সবল স্বার্থ রক্ষা করে পরে সম্মান আদায় করে নেয়।
দুবনা, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
Tuesday, January 27, 2026
সমস্যা
পাকিস্তান বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা চায়নি, সে ভারতের সম্ভাব্য হিন্দু শাসন থেকে স্বাধীনতা চেয়েছে। এ রকম একটি ধারণা নতুন নয়। সমস্যা হল যারা পাকিস্তান চেয়েছিল তারা কখনোই হিন্দু্দের কাছে পরাধীন ছিল না। কিন্তু পরাধীন হতে পারে এই ভয় সাধারণ মানুষের মনে তারা এমনভাবে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল যে প্রায় আশি বছর পরেও তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এমনকি বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে পরাধীন থাকার পরেও যতটা না পাকিস্তানি প্রতিশোধের ভয় পায় তারচেয়ে বেশি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, করছে। অথচ এই আগ্রাসন যে কি সেটা কখনোই দৃশ্যমান হয়নি। কারণ একদিকে আমরা ভারতের সবিছু বয়কট করে তার আধিপত্য থেকে মুক্ত হতে চাইব, অন্যদিকে নিজেরাই আগ বাড়িয়ে ভারতের কাছ থেকে তেলটা নুনটা কিনে ভারতের উপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলব অথচ নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে নির্ভরশীলতা কমাব না। বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি দেশই বিভিন্ন ভাবে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। আমরা যখন স্বেচ্ছায় কোন দোকানের চাল কেনা বন্ধ করি, তখন আমার কাছে চালের দোকানের সংখ্যা কমে যায় আর অন্যেরা সেই সুযোগ নিয়ে বেশি দামে আমার কাছে চাল বিক্রি করে। এক নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আমরা আরেক জনের উপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে উঠি। এটা বাজার অর্থনীতির উল্টো স্রোতে চলা। তবে আমাদের সমস্যা অনেক বেশি করে মানসিক। আর সমস্যা যখন মানসিক হয় তখন তার চিকিৎসা অনেক জটিল, আর মানসিক সমস্যা যখন সমষ্টিগত হয় তখন তার নিরাময় প্রায় অসম্ভব।
দুবনা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
Monday, January 26, 2026
বিদায়
মস্কো থেকে ফিরছি। অন্যান্য সোমবার আমি সাধারণত ক্লাস নিয়ে রাতের ট্রেনে দুবনা ফিরি। এখন ছুটি। ক্লাস নেই। তবুও মস্কো এসেছিলাম, আসতে হয়েছিল। আসতে হয়েছিল শানুকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য। অন্তত শানুর শারীরিক সত্তার সাথে এটাই ছিল শেষ দেখা। এখন আমাদের দেখা হবে, কথা হবে স্মৃতির পরতে পরতে। মৃত্যুই তো জীবনের শেষ কথা নয়। যতদিন স্মৃতিতে থাকে মানুষ ততদিন পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকে। শানুর জন্য ভালোবাসা।
দুবনার পথে, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sunday, January 25, 2026
প্রতিবিম্ব
দেশের অবস্থা সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অমৃত বাণী শুনে মনে হয় তারা আসলে আয়না ঘরে বাস করছে আর আয়নায় গত দেড় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিজেদের আহ্লাদে গদগদ প্রতিবিম্ব দেখে ধরেই নিয়েছে দেশ ও দেশের সব মানুষও ফুলে ফেঁপে বটগাছ হয়ে গেছে। এরকম কূয়োর ব্যাঙের সমাবেশ কোন সরকারে ইতিপূর্বে ঘটেছে বলে মনে হয় না।
মস্কো, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
উপলব্ধি
সার্বিক পরিস্থিতি দেখে একটাই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় - বাংলাদেশের সরকার ও এমনকি সামান্য প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী প্রায় সবাই স্যাডিস্ট আর তাদের চোখে দেশ ও জনগণ গনিমতের মাল যাদের কোনই অধিকার নেই এবং যাদের যেমন খুশি তেমন ভাবে নির্যাতন করা যায়।
দুবনা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Saturday, January 24, 2026
গোঁয়ার্তুমি
ছোটবেলায় কোন কারণে রাগ করে অনশন ধর্মঘট করলে মানে খাওয়া বাদ দিলে বড়রা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত "আরেক বার সাধিলেই খাইব"। আসিফ নজরুল নাকি বলেছেন আইসিসি বা ভারত সরকার কারোও পক্ষ থেকেই তাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করা হয়নি। ভারত সরকার তো প্রথম থেকেই ইকুয়েশনে ছিল না। সবাই তো আর বাবা মা না যে আরেক বার সাধবে। আর সব নজরুল নজরুল নয় সেটাও তো প্রমাণিত। কারণ বিদ্রোহ আর গোঁয়ার্তুমি দুটো ভিন্ন জিনিস।
দুবনা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
Wednesday, January 21, 2026
প্রশ্ন
গান্ধী, নেহেরু, সুভাস বসু বা রবীন্দ্রনাথ এদের সবাই ইংল্যান্ডে গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষদের সুযোগ সুবিধা দেখে প্রচণ্ড উদ্বেলিত হয়ে প্রশ্ন করেছেন এই ইংরেজরা কেন ভারতবর্ষের নাগরিকদের জন্য একই রকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারে না। আসলে এখনও কী ইংরেজ, কী আমেরিকান, কী ইউরোপিয়ান - স্বভাবে সেই আগের মতই রয়ে গেছে। তারা আমাদের অর্থে নিজেদের দেশের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করলেও আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আগ্রহী নয়। শুধু সেটুকুই করে যেটা না করলে অন্যদের সামনে লজ্জিত হতে হয়।
দুবনা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
Sunday, January 18, 2026
মানবতা
অনেক দিন আগে বিশ্বে যখন কমিউনিস্ট আন্দোলন শক্তিশালী ছিল তখন আন্তর্জাতিকতাবাদ বা ইন্টারন্যাশনালিজম বলে একটা ধারণা ছিল। এর মূল কথা ছিল সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ লড়াই। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা যখন শক্তির একমাত্র কেন্দ্র হয় তখন নতুন শব্দের আগমন ঘটে - গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন। সুন্দর মোড়কে পরিবেশন করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পুঁজির সীমাহীন শোষণ নিশ্চিত করা। মুক্তি নয় অর্থনীতির নব্য উপনিবেশিক শৃঙ্খলে মেহনতি মানুষ তো বটেই সমগ্র মানব জাতিকে বন্দী করাই এর অঘোষিত লক্ষ্য।
আগে আমরা বলতাম
শোনরে মানুষ ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।
মানুষ ছিল সবার ঊর্ধ্বে। এখন তার জায়গা দখল করেছে মানবতা। নিঃসন্দেহে সুন্দর শব্দ, শ্রুতিমধুর। আমার কেন যেন মনে হয় আন্তর্জাতিকতাবাদ ও বিশ্বায়নের মত মানুষ ও মানবতার মধ্যেও এক অদৃশ্য দেয়াল আছে, আছে দুইয়ের ব্যবহারিক ও ব্যবসায়িক পার্থক্য। মানুষের নামে মানুষ হত্যা করা যায় না কিন্তু মানবতার নামে দেশে দেশে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তাই সবার মুখে মানবতার বাণী শুনে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই।
দুবনা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
তত্ত্ব
তত্ত্ব প্রমাণ করা যায় না, তাকে শুধু ভুল প্রমাণ করা যায়। সত্য, সত্যবাদী এসবের ক্ষেত্রেও তাই। একজন লোককে সত্যবাদী হবার জন্য আজীবন সত্য কথা বলতে হয়, একবার মিথ্যা বললে সে আর সত্যবাদী থাকে না, তার কথা মানুষ আর নিঃসন্দেহে মেনে নেয় না।
মৌলবাদীরা আজীবন মৌলবাদীই থাকে। এমনকি সে যদি আদর্শ পরিবর্তন করে তবু সে নতুন আদর্শের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী হয়। আর এ কারণেই হয়তো প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে হর হামেশাই রাজাকারদের দল ভারী করতে দেখা যায়, উল্টোটা ঘটে না বললেই চলে।
দুবনা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৫
Friday, January 16, 2026
উপহার
ট্রাম্প ও মাচাদোকে অনেক ধন্যবাদ, যাকে বলে হাজার শুকরিয়া। এতদিন জানতাম পুরস্কার বা দানের জিনিস কাউকে দান করা যায় না। এরা সেই স্টেরিওটাইপ মুছে দিলেন। কত লোকের কত পয়সা বাঁচবে, কত লোকের ঘরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পুরস্কারগুলো নতুন করে জীবন ফিরে পাবে। এমনিতেই কি বলে
যেখানে দেখিবে ছাই
উড়াইয়া দেখ তাই
পাইলেও পাইতে পার
অমূল্য রতন।
দুবনা, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Monday, January 12, 2026
বাছাই
আগে মানুষ ভালোদের মধ্য থেকে উত্তমকে বেছে নিত। এখন খারাপের যুগ তাই খারাপদের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয়াই এ যুগের রেওয়াজ।
দুই জন খারাপের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয় বুদ্ধিমানরা। আমাদের লোকজন করে উল্টোটা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে খারাপ অপশন বেছে নেয়। সেটা রাজনীতিতে হোক, অর্থনীতিতে হোক বা কূটনীতিতে হোক। এটা মনে হয় অনেক তপস্যার ফল।
দুবনা, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
দ্বিচারিতা
প্রচুর লোকজন স্বর্গে যাওয়ার জন্য দিনরাত সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে অথচ সবাই সর্বাত্মক চেষ্টা করে স্বর্গে যাওয়ার ফ্লাইট মিস করতে। মনে হয় এটা এমন এক খেলা যেখানে সেই বিজয়ী হয় যে সবার শেষে ফিনিশিং লাইন টাচ করে।
দুবনা, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
Saturday, January 10, 2026
ইতিহাস
কী ব্যক্তি, কী সমাজ, কী দেশ - জীবনের এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবেই পৌঁছাতে পারে। ব্যক্তি যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লেখক, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশা বেছে নিতে পারে নিজ নিজ যোগ্যতা, সামর্থ্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী, সমাজ তেমনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, আধুনিক বা অন্য পথে যেতে পারে যেমন পারে দেশ। তবে সবক্ষেত্রেই কোন এক নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সবাই কোন এক নির্দিষ্ট পথ বেছে নেয়, সে পথেই সাফল্য অর্জন করে বা ব্যর্থ হয়। আর সেটাই হয় ঐ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিহাস। চাইলেই সেই ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। অনেক সময় অনেকেই সেই ইতিহাস বিকৃত করে। এসব বিকৃতি সাময়িক ভাবে ছোট্ট একটি গোষ্ঠীর জন্য লাভজনক হলেও পরিণামে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর হয়। নকল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরিতে ঢোকা যায় কিন্তু সঠিক ভাবে চিকিৎসা করা যায় না, টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। একই ভাবে মিথ্যা ইতিহাস শেখা জাতি দিনের শেষে ব্যর্থ হয়। আর যদি তাই হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব, ১০ জানুয়ারি এসব প্রশ্নে মিথ্যাচার না করে সঠিক ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার। এতে আর কোন লাভ না হলেও মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে না।
দুবনা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
Friday, January 9, 2026
বিরোধিতা
রাজনীতির মাঠে কোন দেশের প্রতি অন্ধ বিরোধিতা তা সে ভারত হোক, পাকিস্তান হোক, চীন আমেরিকা কিংবা রাশিয়া হোক - এটা কোন সবলতা নয়, এটা দুর্বলতা। কতৃপক্ষ যখন সঠিক ভাবে নিজের কাজ করতে ব্যর্থ হয় বা কর্তৃপক্ষের কাছে যখন নিজের পক্ষে কোন যুক্তি থাকে না তখন সে এক বিরোধী পক্ষ দাঁড় করায় আর সাধারণ মানুষ হজ্ব করতে গিয়ে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর ছোঁড়ার মত এই বিরোধী পক্ষের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে নিজেদের ব্যস্ত রাখে। এ ভাবেই কারো বিরুদ্ধে জনগণকে উত্তেজিত করে স্বার্থান্বেষী একদল মানুষ নিজেদের কাজ হাসিল করে। আর দিনের শেষে পস্তায় জনগণ।
দুবনা, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
Subscribe to:
Posts (Atom)

