Friday, August 21, 2026

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা

অনেক সময় পুলিশ বিভিন্ন ক্রিমিনাল গং-কে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে শক্তিক্ষয় করতে দেয়। কিন্তু সেই কৌশল যে এদের চেয়েও বড় কোন ক্রিমিনাল গং গ্রহণ করবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে কি? আওয়ামী লীগ ও বিএনপি - এদের কেউই গঙ্গা জলে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। কিন্তু তাদের আভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল আর পরস্পরের প্রতি শত্রুতা শুধু জামায়াত আর অন্যান্য মৌলবাদী গোষ্ঠীকেই শক্তিশালী ও দেশকে দুর্বল করে।

দুবনা, ২১ আগস্ট ২০২৬

Thursday, August 20, 2026

আমাদের গণতন্ত্র

তুমি অন্যের কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার আশা কর তার সাথে সে রকম ব্যবহার কর। এই সত্যটি যুগ যুগ ধরে জানা। তাই অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাচ্যুত হবার পর নব্য ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে হয়রানি আশা করে। 

প্রতিপক্ষ ছাড়া যেমন ফুটবল খেলা যায় না, বিরোধী দল ছাড়াও তেমনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বিরোধী দল শত্রু নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। শুধু তাই নয়, নিজেকে সময়োপযোগী রাখতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ সবচেয়ে কার্যকরী পথ্য। 

আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য মানবিক সমাজ গঠন করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের শাসকরা মানবিক হওয়াকে দুর্বলতা মনে করে, নিষ্ঠুরতাই যেন আজ সফল ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের একমাত্র পরিচয়।

দুবনা, ২০ আগস্ট ২০২৬

Monday, August 17, 2026

আসা যাওয়া

ছোটবেলায় পাছড়া পাছড়ি খেলতাম। এটা অনেকটা মার্শাল আর্টের মত। যেই উপরে থাকুক না কেন, নীচের জন সহজে ছাড়ত না। তাই একসময় ছাড়া পাওয়ার বা লড়াই শেষ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতাম। অথবা হাডুডু খেলায় প্রায় চলে এসেছি, কিন্তু প্রতিপক্ষের কেউ লাইনে পা ধরে বসে আছে, ওদিকে দম শেষের পথে। 

ইরানের সাথে যুদ্ধে আমেরিকার ঠিক সেই অবস্থা। কোন শর্ত নয়, ইরান শুধু মুখ খুলে হেরে গেছে বললেই ট্রাম্প হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। 

এমনি এমনি কি আর বলে আসা নিজের ইচ্ছায়, যাওয়া পরের ইচ্ছায়!

দুবনা, ১৭ আগস্ট ২০২৬

Sunday, August 9, 2026

বিপ্লবের রং

আজকাল রঙিন বিপ্লবের কথা প্রায়ই শোনা যায়। আচ্ছা এরকম প্রথম বিপ্লব কি তিয়ানানমেন স্কয়ারে অকাল মৃত্যু বরণ করেছিল? সেখানেও ছাত্রদের অসন্তোষ। অসন্তোষই সবসময় বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে আর ছাত্ররাই ছিল এসব বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। রাশিয়ায় বলি আর অন্যান্য দেশেই বলি, ছাত্রদের পাঠচক্র থেকেই শুরু হত বিপ্লবী কর্মকাণ্ড। এসব গোপন সংগঠনের বেশিরভাগ ছিল নৈরাজ্যবাদী। যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করত তারা শ্রমিকদের সংগঠিত করত। কারণ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চালিকা শক্তি শ্রমিক শ্রেণী। তবে সমাজ পরিবর্তনে ছাত্রদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিবিপ্লব - সেটাও বিপ্লব। পুঁজিবাদ বা বৃহৎ পুঁজি (যা সরাসরি ক্ষমতায় না থেকে পেছন থেকে ক্ষমতা-ঘোড়ার লাগাম ধরে বসে থাকে) সেটাকেই ব্যবহার করে অপছন্দের রেজিম চেঞ্জের জন্য। এসব বিপ্লবকে প্রতিবিপ্লব বলার কারণ এই যে প্রায় প্রতিটি রঙিন বিপ্লব দিনের শেষে দেশে ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা ভূরাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে। তাই এসব বিপ্লব যে কার স্বার্থে সেটা বুঝতে কষ্ট হয় না। চীন ও বেলারুশে ব্যর্থ হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিপ্লব সার্থক, জনগণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় দালালদের জন্য।

দুবনা, ০৯ আগস্ট ২০২৬

Saturday, August 8, 2026

বিবর্তনের দেশীয় রূপ

বিপ্লব হল ফেজ চেঞ্জ বা পর্যায় পরিবর্তন। যেমন শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে তরল জল কঠিন বরফ হয়ে যায় বা ১০০ ডিগ্রিতে বাষ্প। এতে করে এইচ ট্যুর ও গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান বা নির্বাচন বা মিলিটারি ক্যু - যেভাবেই সরকার পরিবর্তন হোক না কেন সরকার বা দেশের গুণগত পরিবর্তন হয় না, শুধু সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে শোষিত হয়, ক্ষমতাসীনরা আরো বেশি গণবিরোধী হয় আর আরো বেশি করে চুরি করে। এন্ট্রোপির মত আইন-শৃঙ্খলার অবনতির পরিমাণ বাড়তেই থাকে। সার্বিক অর্থে এটাকে বলা চলে নিম্নগামী বিবর্তন।

দুবনা, ০৮ আগস্ট ২০২৬

Friday, August 7, 2026

দুর্বলতা

গৃহস্থের অনুমতি নিয়ে বাড়ীতে চোর বা ডাকাত পড়ে না। কিন্তু বাড়িতে চোর বা ডাকাত পড়লে বিচক্ষণ গৃহস্থ এর দায় নিজের কাঁধে নেয় আর ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না ঘটে সেজন্য ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে তৈরি করে। বিদেশি ষড়যন্ত্রে হোক আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে হোক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ভেঙে পড়ে আর এতে করে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তার দায় সরকার এড়াতে পারে না। সৎ মানুষ, সৎ নেতা এসব ব্যর্থতা স্বীকার করেই সামনের দিকে অগ্রসর হয়। দায়িত্ব অস্বীকার করলে তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভুল স্বীকার দুর্বলতা নয়, ভুল স্বীকার না করার জন্য অজুহাত সৃষ্টি সত্যিকারের দুর্বলতা।

দুবনা, ০৭ আগস্ট ২০২৬

Thursday, August 6, 2026

ঘোষণাপত্র

এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। কোন এক প্রসঙ্গে সে ঘোষণাপত্রের উদ্ধৃতি দিল। আজকাল এসব কথা শুনলেই গা জ্বলে। বললাম 

ঘোষণাপত্রের দোহাই দেয়া আর বেদ বাইবেলের দোহাই দেয়ার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। খাতা কলমে বাংলাদেশও গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, এমনকি সমাজতান্ত্রিক দেশ। বাস্তবে কি? ঘোষণাপত্র - এটা স্বপ্ন। বাস্তবতা আমাদের বর্তমান অবস্থা। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা যায়, কিন্তু তাতে অবস্থার পরিবর্তন হয় না। তাই ঘোষণাপত্রের দোহাই না দিয়ে কি করছ সেটা বল, তা থেকে যদি কিছু বোঝা যায়। সব রুগী সুস্থ হতে চায় - এটা তার ঘোষণাপত্র। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান অসুখটা জানা দরকার। কেবলমাত্র তখনই সঠিক ডায়াগনসিস করার চেষ্টা করা যায়।

মস্কো, ০৬ আগস্ট ২০২৬