দুবনা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Untold thoughts
Friday, October 16, 2026
মুল্লুক
মার্কিন মুলুকে একটি কথা প্রচলিত ছিল বলে শুনেছি - যদি এক ডলার চুরি কর তবে তুমি চোর, মিলিয়ন ডলার চুরি করলে শিল্পপতি। আজকের বাংলাদেশে মনে হয় অনুরূপ কিছু বলা যায় - যদি একা খুন করে তবে তুমি খুনি আর যদি দল বেঁধে মব করে খুন করে তবে তোমরা ধর্ম রক্ষক বা দেশপ্রেমিক।
Tuesday, October 13, 2026
যুদ্ধ কথা
দেশ থেকে কেউ ফোন করলে সবার আগে যে জিনিসটা জানতে চায় তা হল যুদ্ধ কবে থামবে। বলি আপাতত সেরকম কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ যুদ্ধ শান্তি এসব রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনীতিবিদরা এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। ইউরোপের অনেক দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যত না রাজনীতির তারচেয়ে বেশি ফাইনান্সের মানুষ।এরা আবার ব্ল্যাক রক, রকফেলার, রথসচাইল্ড, সোরস - এদের পোষা পাখি। তাই দেশের মানুষের চেয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির লাভ লোকসান তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি ছোট ছোট দেশের নেতাদের কথা বলি তাহলে তারা চলে ইউরোপের বড় দেশের দানের টাকায় আর নিজেদের প্রাসঙ্গিক করার জন্য কারণে অকারণে শোরগোল শুরু করে। এদের না আছে প্রাকৃতিক সম্পদ, না আছে জনবল, না আছে শিল্প বাণিজ্য। এরা সর্বহারা। আর সর্বহারার হারানোর কিছু নেই শেকল ছাড়া। এদের শেকল এদের স্বাধীনতা। না হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মুক্তি পেতে না পেতেই আমেরিকার গলায় মালা পরাবে কেন?
দুবনা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Monday, October 12, 2026
জানতে ইচ্ছে করে
গতকাল এক ভিডিও দেখলাম যেখানে সলিমুল্লাহ খান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করার নিজের অভিযোগের সাফাই গাইছে ভিন্ন ভাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী যেহেতু রবীন্দ্রনাথ এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপক্ষে বিবৃতি দেননি তাই সেটাকে বিরুদ্ধাচরণ বলা যায়। মৌনতা এখানে অসম্মতি। আরেকটা যুক্তি হল রবীন্দ্রনাথ তখন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান খুঁজছিলেন। তাই প্রকাশ্যে না হলেও মনে মনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা তিনি করতেই পারতেন। এটা জ্ঞানের পরিচয় নয়। বাংলাদেশের মানুষ একে বলে ঘাউরামি।
জানতে ইচ্ছে করে সলিমুল্লাহ খান নিজে না পারলেও তার পিতা বা পিতামহ-মাতামহ এদের কেউ কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষে কোন বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছিল, দিলে কোন বই বা পত্রিকায় সেটা ছাপা হয়েছিল।
মস্কো, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Sunday, October 4, 2026
হালাল হারাম
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বাংলাদেশের সবকিছু হালাল ও হারাম এই দুই ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। তবে কোন লিস্টে কে থাকবে সেটা নির্ভর করে কখন কোন দল সরকার গঠন করেছে তার উপর। যে মানুষ, যে দল, যে বই এক আমলে হালাল ছিল অন্য আমলে তারাই হারাম হয়ে যায়। সেই অর্থে দেশ মূলতঃ দলীয় ধর্মীয় শাসনে পরিচালিত। দলীয় গুন্ডা বাহিনী আর মব হচ্ছে ধর্মীয় পুলিশ বাহিনী।
মস্কোর পথে, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
Saturday, October 3, 2026
প্রশ্ন
একটা বহুল প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে সমস্ত দুর্ভোগের মূল হল অজ্ঞতা। কিন্তু জ্ঞান কি শুধুই পুঁথিতে লেখা বিদ্যা? পৃথিবীর সব জ্ঞান, সব বিদ্যা কি পুঁথি বা নথি বদ্ধ? প্রতিটি মানুষ কোন না কোনভাবে একমেবাদ্বিতীয়ম। প্রতিটি মানুষ নিজের নিজের পথে চলে, একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এমনকি দুই জন ফটোগ্রাফার একই স্টুডিওতে একই আলো ব্যবহার করে ছবি তুললেও সেগুলো ভিন্ন হয়। এখানে আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কিছুই কাজ করে। দুর্ভোগের মূলে বেশিরভাগ সময় থাকে তথাকথিত শিক্ষিত লোকদের ম্যানিপুলেশন।
দুবনা, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Friday, October 2, 2026
উপলব্ধি
মাঝেমধ্যে আমার মনে হয় বাংলাদেশ পিতৃহীন মাতৃহারা এক তরুণী যাকে সবাই পেতে চায় কিন্তু কেউ তার দায়িত্ব নিতে, তার ঘর গোছাতে চায় না। একথা দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখানে সব রাজনৈতিক দল পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার যোগ্য প্রতিনিধি।
দুবনা, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Wednesday, September 30, 2026
মুখোস
অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া শুধু সুলভ নয় নিরাপদও বটে। তবুও মানুষ নিজে ভুল করে শিক্ষা নিতে চায়। এর কারণ সবাই ভাবে সে ঐ রকম ভুল করতেই পারে না আর করলেও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সে এখন বেশি সতর্ক, বেশি বুদ্ধিমান। ঐ ভুল এড়াতে শুধু আরোও বেশি কঠোর হতে হবে, বিশেষ করে বিরোধী দল ঠেঙ্গানোর ক্ষেত্রে। তাই যে ভুলে অন্যেরা পস্তিয়েছে তার ক্ষেত্রে সেটা ঘটবে না। তবে অনেকেই অন্যের তো দূরের কথা নিজেদের ভুল থেকেও শিক্ষা নেয় না। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য। পঁচাত্তরের পর বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিষিদ্ধ করেছিল। কাজ হয়নি। কিন্তু এখন আবার একই পথে হাঁটছে। নিষিদ্ধ করে কাউকে যতটা না নিষিদ্ধ করা যায় তারচেয়ে বেশি তার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আওয়ামী আমলে তারা যতবার বিএনপি জামায়াতের নাম নিয়েছে আর বর্তমানে আওয়ামী বিরোধীরা যতবার আওয়ামী লীগের নাম নেয় তাতে আর তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য পয়সা খরচ করতে হয় না। সবেচেয়ে বড় কথা এভাবে বিরোধিতা করে এরা নিজেদের মুখোস উন্মোচন করে যার নীচ থেকে উঁকি দেয় ভয়ঙ্কর সব মুখ।
দুবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subscribe to:
Posts (Atom)