Wednesday, July 8, 2026

প্রশ্ন

আচ্ছা, শুধু গুলি করে মারলেই হত্যা করা হয়? বিমান, ড্রোন হামলা বা মিসাইলের আঘাতে হাজার হাজার বাড়ি ঘর ও মানুষ হত্যা করলেই কোন দেশকে যুদ্ধের অপরাধে নিন্দা করা যায়? এই যে কিউবার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করে সেই দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে এটা কি জেনোসাইড নয়? বিভিন্ন সময় ইউরোপের দেশগুলো তাদের উপনিবেশগুলোয় কৃত্রিম ভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে কোটি কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর পরেও তাদের কখনো এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি। কেন? কারণ তাদের প্রচেষ্টায় পৃথিবীর দেশের দেশে যে শিক্ষিত ও এলিট শ্রেণী গড়ে উঠেছিল সেই শ্রেণীর মূল কাজ ছিল শাসক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করা, তাদের জীবন দর্শন, তাদের সত্য মিথ্যা, তাদের ন্যায় অন্যায় পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই অর্থনৈতিক অবরোধ, বায়োলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট সহ অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে মানুষ হত্যা হবে গণতন্ত্রের বেদীতে বৃহৎ পুঁজির সামান্য উৎসর্গ। ভালোই তো? ভালো না?

দুবনা, ০৮ জুলাই ২০২৬

Tuesday, July 7, 2026

ভূত

জামায়াত, শিবির ও মৌলবাদী গোষ্ঠী, যারা একাত্তরকে ঐতিহাসিক ভুল বলে বিশ্বাস করে, তারা বাদে চব্বিশে যে অনেক কিছুই ভুল ছিল এবং এই ভুলের ফাঁকফোকর দিয়ে স্বাধীনতার সমস্ত অর্জনগুলো একে একে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে এটা কেউ অস্বীকার করে না। তবে সরাসরি নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে অনেকেই মৌলবাদের উত্থানে শেখ হাসিনাকে দায়ী করে দায় সারতে চায়। মৌলবাদের উত্থানের পেছনে যে হাসিনার ক্ষমতা লিপ্সা দায়ী সেটা মিথ্যা নয়। তবে হাসিনার ভুলের আড়ালে নিজেদের ব্যর্থতা লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা হাসিনার জন্য যতটা নয় (নতুন করে আর কি ক্ষতিই বা তার হতে পারে), এসব দল ও দেশের জন্য তারচেয়ে অনেক গুণ বেশি ক্ষতিকর। একসময় বাংলাদেশে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এমনকি মন্ত্রীরা পর্যন্ত ভারতেও এমন হয় বলে অজুহাত দাঁড় করাত। এখন অন্যকে দায়ী করার এই আওয়ামী ভূত অন্যদের কাঁধে ভর করেছে। যতদিন আমরা অন্যদের ব্যর্থতার মধ্যে নিজের ভুলের যৌক্তিকতা খুঁজব ততদিন সাফল্য আমাদের অধরাই থেকে যাবে। আর সময় মত ভুল না ভাংলে একসময় নিজেরাই ভূত হয়ে যাব। দুবনা, ০৭ জুলাই ২০২৬

Monday, July 6, 2026

গাদ্দার

ফেসবুকে জুলাই গাদ্দার নামে এক নতুন প্রাণীর আবির্ভাব ঘটেছে। লেখকের ভাষায় যারা জুলাইকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তারাই জুলাই গাদ্দার। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন, যা একসময় জুলাইয়ের মূল স্লোগান হয়ে উঠেছিল, ছিল একাত্তরের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। পরে যেভাবে জুলাইয়ের স্টেকহোল্ডাররা একাত্তরকে মুছে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লাগল তাতে একাত্তর আর চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে কি উপায় ছিল? ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর বিপ্লব - দুটোই বিপ্লব ছিল, এক অর্থে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ সুগম করে দিয়েছে, তাই পরেও তাদের এক করে দেখার, পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় না করানোর সুযোগ নেই।

দুবনা, ০৬ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 5, 2026

সমস্যা

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ কেন আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস পালনের ভেন্যু। প্রশ্নটি শুনে আমার একাত্তরের বিভিন্ন ইতিহাস মনে পড়ে গেল। কথিত আছে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সেনাদের আদেশ দিয়েছিল এদেশে যত বেশি সম্ভব অবৈধ সন্তান জন্ম দিতে যারা পরে পাকিস্তানের হয়ে বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে লড়াই করে পাকিস্তান পুনরুদ্ধার করবে। ২০২৪ এর পর বাংলাদেশ কার্যত আমেরিকার একান্নতম স্টেট, তবে অবৈধ। তাই দায় আছে কিন্তু অধিকার নেই। সমস্যা হল যে সময় মত সঠিক প্রশ্ন না করে কাজে নামলে সমাধান আরও বড় সমস্যার রূপ নেয়।

দুবাই, ০৫ জুলাই ২০২৬

Saturday, July 4, 2026

সংখ্যা

সব অনু পরমানু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত। ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন পরমানু বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পায়। সংখ্যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজ বা রাষ্ট্রে তার মৌলিক উপাদান মানুষের সংখ্যার ভূমিকা অবশ্য রৈখিক নয়। বেশি লোক মানে বেশি জটিল সিস্টেম তবে সেটা নিশ্চিত ভাবে ভালো বা মন্দ নয়। কারণ সব মানুষ সব ইলেকট্রন, প্রোটন বা নিউট্রনের মত একই ধরণের গুণে গুণান্বিত নয়। 

পাক্রোভ, ০৪ জুলাই ২০২৬

Friday, July 3, 2026

সাব নির্বাচন

আজ সাবের নির্বাচন। কেউ আশ্বাস দিয়েছে, কেউ কোন আশ্বাস না দিয়েই নির্বাচন করছে। কথা না দেয়া মানে কথ রক্ষা করা থেকে দায়মুক্তি নয়। কারণ যেই জয়লাভ করুক না কেন সবার কাছেই আমাদের দাবি থাকবে সংগঠনকে গতিশীল করা, গতানুগতিক কিছু অনুষ্ঠানের বাইরেও সাবকে কর্মময় রাখা। ৮ মার্চের বাইরেও নারীদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মতই কয়েকটি অনুষ্ঠানের বাইরেও অন্যান্য সময়ে সদস্যদের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হওয়া আর সদস্যদের শুধু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নয়, অন্যান্য সময়ের মেধা ও শ্রম দিয়ে সাবের কার্যকরী কমিটিকে সাহায্য করা - এটাই হোক আমাদের স্লোগান। নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন তাদের দায়িত্ব হবে আমাদের স্বপ্ন পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যারা জিতবে না তারাও সাবের পথচলা মসৃণ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করি। আমার ভোট একটি ঐক্যবদ্ধ, সুন্দর ও জনমুখী সাবের জন্য। সাব দীর্ঘজীবী হোক!

দুবনা, ০৩ জুলাই ২০২৬

Monday, June 29, 2026

জবাবদিহিতা

পরীক্ষা এক ধরণের জবাবদিহিতা। আমাদের ছেলেমেয়েরা জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য উদগ্রীব। এই রেজাল্ট করার পেছনে নিশ্চয়ই জবাবদিহিতার মনোভাব কাজ করে, মানে আমি যে ভালোভাবে নিজের কাজটি অর্থাৎ পড়াশুনা করেছি আমার রেজাল্টই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু এই আমরাই পরবর্তী জীবনে এসে জবাবদিহিতার কথা বেমালুম ভুলে যাই, নিজের সাফল্য ব্যর্থতার জন্য যে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে সেটা আমরা মনেই করি না। আমাদের সমাজের গঠন এমন যে শিশু কাল থেকেই তাকে উঠতে বসতে জবাব দিতে হয়, জবাব দিতে হয় শুধু নিজের নয়, বড়দের ভুলের জন্যও। কর্ম জীবন শুরুর আগেই হয়তো সবার জবাব দেবার কোটা শেষ হয়ে যায়। ফলে যখন জবাবদিহিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন আর তার জবাব দেবার কোন সুযোগ, ইচ্ছা কোনটাই থাকে না।

দুবনা, ২৯ জুন ২০২৬