দুবনা, ১৭ জুন ২০২৬
Untold thoughts
Wednesday, June 17, 2026
বিশ্ববিদ্যালয়
দেশে নাকি প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। জানি না এটা শেখ হাসিনার মডেল মসজিদের উত্তরে কি না, এমনকি সেটা হলেও বলব এটা ব্যাড আইডিয়া। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে আউট পুট ভিন্ন কিছু হবে না, শুধু ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এমনকি গ্রিনিজ বুকস অফ রেকর্ডসে নাম উঠতে পারে।
মনে হয় এসব পরিকল্পনা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কারো অধিকার আছে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করার। ফলে সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব পার্টির সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব দলের উপস্থিতি দেখিয়ে দেশ গণতন্ত্রের ভান করতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্র কমে বই বাড়ে না। ঠিক একই ভাবে নতুন ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ডিগ্রিধারী বেকারের জন্ম দিতে পারে কিন্তু তাতে শিক্ষার মান কমবে বই বাড়বে না, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যায়ও কোন হেরফের হবে না। শুধু আরও তিন শ' অনুগত ভিসি ও কয়েক হাজার স্তাবক তৈরি হবে। এতে দেশের কোন লাভ হবে না। দলেরও না। নিকট অতীত অন্ততঃ সেটাই বলে। এক সময়ে ফেসবুকে কিছু কিছু ব্রীজের ছবি দেখতাম। বিশাল মাঠে একাকী ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দুই পাশে কোন রাস্তা নেই যাদের সে সংযুক্ত করে। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে যা আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে মনযোগ দেয়া উচিৎ। শরীর খারাপ হলে আমরা তার চিকিৎসা করি, আলি এক্সপ্রেসে নতুন শরীর অর্ডার দেই না।
Monday, June 15, 2026
একটি নিষ্পাপ প্রস্তাব
আমাদের দেশে সব কিছুর পরেও সরকার প্রধানের কথাই শেষ কথা। সেটা সব আমলেই ছিল। আর এ কারণে বছর পাঁচেক আগে লিখেছিলাম আইন করে প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত আর সব মন্ত্রী পদে বোবাদের নিয়োগ করা হোক। এতে মন্ত্রী পরিষদের কাজ খুব বেশি খারাপ হবে বলে মনে হয় না, তবে জনগণ মন্ত্রীদের শিশুসুলভ কথাবার্তা গলাধঃকরণ করার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে। শিশুরা যেমন দন্ত বিহীন মুখ গহ্বর হতে সময়ে সময়ে কিছু শব্দ উগড়ে দেয় আর পারিপার্শ্বিক সবাই তার অর্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাদের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে। সেই বাস্তবতা থেকে মূক মন্ত্রী কোন ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়া নয়। এতে করে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে হয় না, আর মৌনতাই যেহেতু সম্মতির লক্ষণ তাই সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে আগে থেকেই ধরে নেয়া যায়। শুধু আগে থেকেই প্রস্তাবগুলো সঠিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সরকার প্রধান এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে।
মস্কো, ১৫ জুন ২০২৬
Saturday, June 13, 2026
ভাব না ভাবনা
আমাদের দেশের রাজনীতি ধর্মকে প্রভাবিত করে না ধর্ম রাজনীতিকে সেটাই ভাবছি। এটা ঠিক যে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ যা থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাই ধর্মের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও নেতারাই ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি তোলে। তবে সেটা ধর্মের খেদমত করার জন্য নয়, নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধর্ম মন্দির মসজিদের দেয়াল পেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে আসে। স্বাধীনতার পরে খুব অল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কমলেও সেটা দ্রুত ফিরে আসে। আমাদের ছোটবেলাতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হত। কথায় কথায় বুঝিয়ে দেয়া হত দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক কারা। পরে সেই ধারণা সম্প্রদায়ের চৌকাঠ পেরিয়ে দলীয় রাজনীতিতে ঢুকে যায়। সরকারি দলের নেতা কর্মীরা তা সে আওয়ামী লীগের হোক, বিএনপির হোক, জাতীয় পার্টি বা এনসিপির হোক - নিজেদের বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করে। যেহেতু সরকারি দল আর ধর্মীয় সংখ্যাগুরু - দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে অন্যদের অধিকার ক্ষুন্ন করার কাজে ব্যবহার করে তাই তারা পরস্পরের সহযোগিতা খোঁজে - প্রকাশ্যে বা গোপনে। ধর্ম ও রাজনীতি, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, এক হয়ে গেলে গণতন্ত্র সঙ্কুচিত হয় আর দেশ মধ্য যুগে ফিরে যায়।
দুবনা, ১৩ জুন ২০২৬
Friday, June 12, 2026
নো অপশন
বড় কোম্পানি নিজের অবস্থান উন্নত করতে সাধারণত সফল মানুষদের আমন্ত্রণ জানায়। মমতা ব্যানার্জিকে লাইম লাইটে এনেছিলেন রাজীব গান্ধী। তিনি সবসময়ই কংগ্রেসকে ব্যবহার করেছেন এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন দল ও জোটের সাথে। এখন তাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতির পদ দেবার চিন্তা কতটুকু যৌক্তিক। আসলে দুটো নষ্ট ডিভাইস দিয়ে একটা চলনসই ডিভাইস তৈরি করা যায়, তবে সেটা সাময়িক, স্বল্পায়ু। দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চাইলে মমতা ব্যানার্জি কোন অপশন বলে মনে হয় না। আশার কথা সোনিয়া গান্ধী মনে হয় ইতিমধ্যেই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন।
দুবনা, ১২ জুন ২০২৬
Thursday, June 11, 2026
কয়লা
ইউক্রেন সেভাস্তোপোলের ঐতিহাসিক মিউজিয়ামে আক্রমণ করল। এটা সেভাস্তোপোল প্রতিরক্ষা প্যানারমা। ১৮৫৪ - ১৮৫৫ সালে তুরস্ক, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সম্মিলিত বাহিনীর কয়েক গুণ বেশি নৌ-সেনার আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিহত করে রুশ নাবিকরা। সেই ঘটনাকেই চির স্মরণীয় করতে এই প্যানোরমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী এই প্যানারমা ধ্বংস করে। পরে তা নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এখন হিটলারের অনুসারী (যা তারা শুধু স্বীকার করে না, হিটলারের সহযোগী বান্দেরা ও অন্যদের রাষ্ট্রীয় ভাবে হিরোর মর্যাদা দিয়ে নিজেদের ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়াকে সম্মানের মনে করে) ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নতুন করে আঘাত হানে। ধারণা করা যায় যে এসব হয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। জন্মের পর থেকে অন্য দেশের ধনসম্পদ লুটপাট করা, অন্য দেশের জনগণকে শোষণ করা ছিল যাদের ঐতিহ্য তারা কীভাবে এ ধরণের সুযোগ হাতছাড়া করবে?
দুবনা, ১১ জুন ২০২৬
Wednesday, June 10, 2026
মামা
দেখলাম অধ্যাপক আবুল বারকাত জামিনে মুক্তি পাবার পরেও নতুন এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। অন্য দিকে অধ্যাপক ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করছে না পুলিশ। আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে মামলা ক্ষমতাসীনদের মস্তক প্রসূত, ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলায় মনে হয় সারা দেশ সাক্ষ্য দেবে। দেশে একটা কথা চালু আছে যে মামা চাচা ছাড়া দেশে নাকি এমনকি ঝাড়ুদারের চাকরিও পাওয়া যায় না। তবে খুঁটি ছাড়া যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না সেটা সব সরকারই বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। যদি ইউরোপ, আমেরিকার প্রশাসনে এরকম কেউ না থাকে তবে বাংলাদেশে ন্যায় বিচার তো দূরের কথা এমনকি জামিনের মত ব্যাপারগুলোও অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে যায়। হায়রে দেশ, হায়রে স্বাধীনতা!
দুবনা, ১০ জুন ২০২৬
Monday, June 8, 2026
উপলব্ধি
আমার এক সময় মনে হত সমস্ত রাজনীতিবিদদের ভালো করে ফিজিক্স পড়া দরকার। কারণ ফিজিক্সের ছাত্ররা আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে প্রাধান্য দেয় আর সমস্যা সমাধানে যতদূর সম্ভব নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। সমস্যার সমাধান পক্ষপাতদুষ্ট হলে সেটা হয় স্বল্পস্থায়ী, অস্থিতিশীল।
তবে যে জিনিস দুটো আমি ধর্তব্যের বাইরে রেখেছিলাম তা হল আমরা পদার্থবিদরা নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করি আর পরে সেসব সমস্যার সমাধান করি। এটা আমরা করি কোন বিষয়ে আমাদের জ্ঞানকে আরও নিখুঁত করার জন্য। কারণ আমাদের কাছে শেষ কথা বলে কিছু নেই, আছে ক্রমাগত এগিয়ে চলা, নিজেদের আরও উন্নত করা। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমি ধর্তব্যের মধ্যে রাখিনি তা হল আমাদের কাছে নেগেটিভ রেজাল্ট বলে কিছু নেই। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তবে এসবই হতে হবে একই সাথে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমার রাজনীতিবিদ বন্ধুরা যুক্তির পরিবর্তে আবেগকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে সমস্যার জন্ম দিয়েছে ও তার সমাধান করতে গিয়ে ভুল লক্ষ্যে পৌঁছেছে। আশা করি তারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে এগুবে। তাদের আরোও মনে রাখতে হবে যে তাদের তৈরি সমস্যা ফিজিক্সের মত খাতা কলমে সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় মানুষের পেটে লাথি মারে।
মস্কো, ০৮ জুন ২০২৬
Subscribe to:
Posts (Atom)