Sunday, April 26, 2026

প্রশ্ন

কম-বেশি আমরা সবাই বলি বা বিশ্বাস করি যে পুঁজিবাদী সমাজের উপাস্য দেবতা হল অর্থ আর চালিকাশক্তি মুনাফা। মুনাফার জন্য এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করতে পারে না। এই সূত্র ধরেই দেশের গার্মেন্টস মালিকরা কর্মীদের ন্যায্য বেতন দেয় না, দালান ধ্বসে কর্মীদের মৃত্যু হলে সেজন্য জবাবদিহি করে না। এ ধরণের ঘটনার বিবরণ আমরা পাই ঊনবিংশ শতকের ইউরোপের বিভিন্ন খনিতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার খামারে। এখন এসব উপন্যাস বা মুভির প্লট হলেও এক সময় এটাই ছিল কঠিন বাস্তবতা। সেই বিচারে বিগত কয়েক বছরে ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানিতে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুত হওয়া কোন অংশেই কম অমানবিক নয়। অর্থাৎ যখন মুনাফা, ক্ষমতা, মানবতা, ন্যায় বিচার এসব পরস্পরের মুখোমুখি হয় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তখন মুনাফা ও ক্ষমতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। বাকস্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এসব যখন মুনাফা আর ক্ষমতার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় তখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আর তাই যদি হয় তাহলে পুঁজিবাদের পক্ষে কি কখনও মানবিক সমাজ গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? সম্ভব হলে কোন আইনের? যা তারা নিজেরা নিজেদের স্বার্থে প্রনয়ণ করে যেমন ইউনুস করেছিল নিজেকে করমুক্ত করে? তাহলে আমরা কেন নিজের দেশে মানবিক সমাজ গড়ার প্রেসক্রিপশন পুঁজিবাদী বিশ্বের কাছে চাইব, তাদের তত্ত্বাবধানে গড়ব?

মস্কোর পথে, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

Saturday, April 18, 2026

মন্দের মন্দ

স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একট আইটেম ছিল কে কত ধীরে সাইকেল চালাতে পারে। যে আগে ফিনিশিং লাইন টাচ করত সেই হেরে যেত। খারাপ করাটাই যেন বিজয়ের সূচক!
ইদানিং কালে তো আমরা ভালো কিছু পাই না। বেছে নেই মন্দের ভালো। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সবাই যেন আগের মন্দের রেকর্ড ভাঙার জন্য উঠেপড়ে লাগে। 
তাহলে উপায়? সবচেয়ে রাখাপ অপশন বেছে নেয়া। তাতে আর যাই হোক আশাভঙ্গ হতে হবে না।

মস্কোর পথে, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

Friday, April 17, 2026

বর্ষবরণ ১৪৩৩

২০১০ সালের ৪ জুলাই আমরা বাংলাদেশ প্রবাসী পরিষদ রাশিয়া নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলি যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত মস্কোয় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের একত্রিত করা। আমাদের সংগঠনের অন্যতম প্রধান আয়োজন ছিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে প্রথমে করোনা ও পরে সাংগঠনিক দুর্বলতা (সংগঠনের কমিটির অধিকাংশ সদস্য রাশিয়ার বাইরে চলে যাওয়া) ইত্যাদি কারণে নববর্ষ উদযাপন স্থগিত হয়ে যায়। এবার বছরের শুরুতে নতুন ছাত্রদের সাংগঠনিক উদ্যোগ দেখে নববর্ষ পালনের চিন্তা মাথায় আসে। মূল সমস্যা কর্মীর অভাব মিটে গেছে। দ্বিতীয় ছিল হল। সেটা পাওয়ার পর কোন বাধাই ছিল না। প্রবাসী পরিষদ বা অন্য কোন সংগঠনের ব্যানারে নয়, পয়লা বৈশাখ উদযাপন কমিটি নামে আমরা এবার বর্ষবরণ করব আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬। আপনি আমন্ত্রিত। আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য। পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুধু বিদেশের মাটিতে আমাদের সংস্কৃতি তুলে ধরা নয়, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আমাদের নিঃশর্ত সমর্থন; দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নাশকতা মূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ।

Monday, April 13, 2026

শুভ জন্মদিন ১৪৩৩

শুধু বছরটাই নতুন হয়, নতুন হয় ক্যালেন্ডারের পাতা। কিন্তু বাংলাদেশ একই থাকে। রাজা বদলায়, রাজনীতি বদলায় না, শাসক বদলায়, শোষণ বদলায় না। আর বদলায় না মানুষের ভাগ্য। চোরেরা আরও বড় চোর হয়, গরীব আরও গরীব হয়। তবুও সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আর যাই হোক, নববর্ষ তো কোন অপরাধ করেনি।

শুভ নববর্ষ!!!

দুবনার পথে, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

Wednesday, April 8, 2026

অপেক্ষা

যুদ্ধের শুরু অবিশ্বাস থেকে, শান্তি আসে পারস্পরিক বিশ্বাসে। যুদ্ধ বিরতি কিসে? সেখানে অবিশ্বাসের (সন্দেহের) পাশাপাশি বিশ্বাসও থাকতে হয় আর বিশ্বাসের পাল্লাটা কিছুটা হলেও ভারী হতে হয়। ইরান, আমেরিকা, পাকিস্তান সবাই যেভাবে নিজের নিজের দিকে শান্তি নামক বহু পুরানো কম্বল টানতে শুরু করেছে তাতে সেটা কতক্ষণ টেকে সেটাই দেখার বিষয়।

দুবনা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

Sunday, April 5, 2026

কাঁধ

কোথায় যেন পড়েছিলাম এক আধুনিক মেয়ে, যে বিয়ে করতে চায় না ও এক সাধুর গল্প। মেয়েটি যখন বিয়ের পক্ষে একের পর এক সাধুর সব যুক্তি খন্ডন করছিল, তিনি তখন বললেন "কোন কাজে ব্যর্থ হলে দায় চাপানোর জন্য একটা কাঁধ তো দরকার। যদি বিয়ে না বস সেই কাঁধটা পাবে কোথায়?"

দেখলাম বিএনপি নেতা রিজভী বলেছেন শয়তানের খপ্পরে পড়ে তিনি ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়েছেন। 

ভাবুন তো যদি শয়তান না থাকতো তবে কার কাঁধে ব্যর্থতার দায় চাপাতেন। যার ইচ্ছায় সব হয় সেই পরম করুণাময় কি আপনার ভুলের দায়িত্ব নিতেন?

আসলে মাঝে মধ্যে শত্রুও সবচেয়ে উপকারী হতে পারে। আর এ জন্যেই যাদের দেখতে পারেন না, যাদের সহ্য করতে পারেন না, তাদের যত্ন করে বাঁচিয়ে রাখা দরকার যাতে প্রয়োজনের সময় শয়তানের মত তারাও অজুহাত দেখানোর জন্য কাঁধটা পেতে দিতে পারে।

মস্কো, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

Friday, April 3, 2026

বামন

আমেরিকার গণতন্ত্র মনে হয় আইসবার্গের গণতন্ত্র। চার বছর পর পর এর দৃশ্যমান অংশ মানে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন করা হয় কিন্তু আসল শাসন ব্যবস্থা কমবেশি আগের মতই রয়ে যায়। সেনেটর, কংগ্রেস ম্যান এদের বার্থ সার্টিফিকেট না দেখেও বোঝা যায় কত যুগ যুগ ধরে এরা সেখানে শেকড় গেড়ে বসে আছে। এটাকে হয়তো ক্ল্যাসিকাল অর্থে স্বৈরশাসন বলা যায় না, তবে অন্যান্য দেশের প্রতি আমেরিকার স্বৈরাচারী মনোভাবের মূল এখানে প্রোথিত বলেই মনে হয়। কারণ সমাজ সময়ের সাথে বদলে গেলেও শাসকদের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব বদলায় না। প্রাচীন রোমে যেমন একদল বিশিষ্ট নাগরিক গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করে অন্যদের দাস বানিয়ে রাখত তেমনি করে আমেরিকার শাসকগোষ্ঠীর বেশিরভাগ সেটাই চালাতে চায় বিশ্ব পরিসরে। এখান থেকেই নিজেরা বামুন সেজে অন্যদের অচ্ছুত রাখার জন্য চলে অন্তহীন যুদ্ধ আর দিনের শেষে নিজেরা হয় বামন। 

দুবনা, ০৪ এপ্রিল ২০২৬