Monday, June 29, 2026

জবাবদিহিতা

পরীক্ষা এক ধরণের জবাবদিহিতা। আমাদের ছেলেমেয়েরা জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য উদগ্রীব। এই রেজাল্ট করার পেছনে নিশ্চয়ই জবাবদিহিতার মনোভাব কাজ করে, মানে আমি যে ভালোভাবে নিজের কাজটি অর্থাৎ পড়াশুনা করেছি আমার রেজাল্টই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু এই আমরাই পরবর্তী জীবনে এসে জবাবদিহিতার কথা বেমালুম ভুলে যাই, নিজের সাফল্য ব্যর্থতার জন্য যে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে সেটা আমরা মনেই করি না। আমাদের সমাজের গঠন এমন যে শিশু কাল থেকেই তাকে উঠতে বসতে জবাব দিতে হয়, জবাব দিতে হয় শুধু নিজের নয়, বড়দের ভুলের জন্যও। কর্ম জীবন শুরুর আগেই হয়তো সবার জবাব দেবার কোটা শেষ হয়ে যায়। ফলে যখন জবাবদিহিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন আর তার জবাব দেবার কোন সুযোগ, ইচ্ছা কোনটাই থাকে না।

দুবনা, ২৯ জুন ২০২৬

Saturday, June 27, 2026

বুদ্ধিমাস্তান

আমাদের দেশ সংজ্ঞা বিভ্রাটে আক্রান্ত। ফলে কোন শব্দ সঠিক অর্থে ব্যবহার করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা এখানে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এসব শব্দের ব্যবহার নির্ভর করে যার উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হয় তার প্রতি ব্যবহারকারী ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতির রসায়নের উপর। ফলে একই কাজের জন্য একজন স্বৈরাচারী, অন্যজন গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক।‌ একই কারণে বুদ্ধিচোরা ও বুদ্ধিডাকাত বনে যায় বুদ্ধিজীবী। জ্ঞান যখন অপকর্মে ব্যবহার করা হয় তখন সেটা আর জ্ঞান থাকে না, যেমন অপব্যবহারে ওষুধ হয় বিষ।‌ নিজের কাজ বা চিন্তাকে যৌক্তিক ভিত্তি দেবার জন্য অন্যদের প্রাসঙ্গিক কাজ ও চিন্তার উদ্ধৃতি দেয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে অন্যের কাজের উদ্ধৃতি যদি রচনার মূল বিষয়বস্তু হয় তবে সেটা আর আর মৌলিক রচনা থাকে না। অন্যের কাঁধে চড়ে ভ্রমণ হয়তো আরামদায়ক, তবে দীর্ঘ সময় ধরে মাটির সাথে পায়ের সংযোগ না থাকলে একসময় পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যেতে পারে। সত্যিকারের জ্ঞানী জ্ঞানের বিশুদ্ধতা রক্ষায় কাজ করে, যারা জ্ঞানকে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে লাগায় তারা জ্ঞানী থাকে না। এদের বলা যায় বুদ্ধিমাস্তান।

দুবনা, ২৭ জুন ২০২৬

Wednesday, June 24, 2026

প্রতিবাদ

যেকোনো রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হল অনুৎপাদনশীল খাত। তারপরেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কারণে তাকে রাখতে হয়। এর বাইরের যেকোনো অনুৎপাদনশীল গোষ্ঠীর ভরণপোষণ করা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য বোঝা। প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে ও জনগণকে ঠকাতে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইত্যাদির ব্যবহার মানে ভবিষ্যতে আরেক দল মানুষ তৈরি করা যারা ভালো খেতে ও পরতে চায়, যাদের রক্ত টগবগ করে কিন্তু যারা জনমনে আতঙ্ক ছাড়া কিছু্ই উৎপাদন করতে পারে না বা করতে চায় না। ক্ষমতায় যারাই থাক না কেন রাষ্ট্রকেই এদের দায়িত্ব নিতে হয় আর সেই ব্যয় বহন করে সাধারণ মানুষ। তাই দিনের শেষে মানুষকেই এসবের প্রতিবাদ করতে হবে।

দুবনা, ২৪ জুন ২০২৬

Monday, June 22, 2026

তেল বৃষ্টি

এক বন্ধু জানালো মস্কোর আকাশে নাকি তেল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো রাশিয়া জুরে তেল সংকট। এসব খবরে দেশ বিদেশের সব পত্র পত্রিকা ছয়লাভ। সংকট এড়াতে পুতিনের পদত্যাগ করা উচিৎ।

কি বলব? তেলের সঙ্কট হলে তেল বৃষ্টি হয় কীভাবে? তবে তেলের ব্যাপারে রেস্ট্রিকশন আছে, গাড়িতে তেল দিচ্ছে, ক্যানিস্টারে দিচ্ছে না। কারণ মানুষ বেশি বেশি করে মজুত করতে চাইলে সঙ্কট তৈরি হবে। যুদ্ধ যুদ্ধই। আমি ভাবি সব কথা বিশ্বাস করার আগে মানুষ একটু মাথা খাটায় না কেন? পশ্চিমা বিশ্ব আর যাই চাক, রাশিয়ার মঙ্গল চায় না, কোন দিন চায়নি। আর চায় না বলেই যুদ্ধটা জিইয়ে রাখছে। পুতিনকে পদত্যাগ করানোর জন্য তারা তো সেই ২০০৭ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বিভিন্ন দেশের নেতাদের (তা আমাদের পছন্দ হোক আর নাই হোক) পদত্যাগ করিয়ে তো দেশগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাই পুতিন পদত্যাগ করলে আর যাই হোক রাশিয়ার ভালো হবে না। বুঝতে হবে যে যুদ্ধের মাঠে পেরে না উঠে তারা এখন সিভিলিয়ানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে চাইছে। সমস্যা হল, রুশদের যত বেশি চাপে তারা তত বেশি ভয়ঙ্কর, তত বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমা বিশ্ব জীবন পণ করে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে নেমেছে। শুধু এ কথাই বলতে পারব, ওরা যখন বলবে রাশিয়ার অবস্থা খারাপ, এর মানে হল, রাশিয়া যুদ্ধের মাঠে ভাল করছে। অন্তত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর তাই বলে। বাকি আছে দানিয়েৎস্কের শেষ বড় শহর ক্রিমাতোরস্ক। এরপর ওদের আর প্রতিরোধ করার তেমন দুর্গ থাকবে না। খেলা জমছে।

দুবনা, ২২ জুন ২০২৬

Sunday, June 21, 2026

প্রশ্ন

জেলেনস্কি বেলারুশ আক্রমণের হুমকি দেয়ায় কেউ কেউ জানতে চাইছে এটা কি শুধুই ব্লাফ? না, এটা তার একান্ত মনের কথা। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে প্রচুর অস্ত্র, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি পেয়েও ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের একমাত্র বিনিয়োগ, ইউক্রেনের সবচেয়ে সবল ও কর্মক্ষম মানুষের মজুদ শেষের পথে। তারা মৃত, আহত, পলাতক বা যুদ্ধের অযোগ্য। তাই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও অপেক্ষাকৃত ভালো শর্তে যুদ্ধ বন্ধের প্রায় একমাত্র পথ ইউরোপকে যুদ্ধে জড়ানো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও বাল্টিকের দেশগুলো কমবেশি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে। তাদের দরকার কোন অজুহাত। যদি কোন ভাবে ইউক্রেন বেলারুশ আক্রমণ করে আর লুকাশোঙ্কো তার উত্তর দেয়, তাহলে এসব দেশ সেটাকে ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে নামার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা বিশ্বাস করে রাশিয়া কোন অবস্থাতেই তাদের সিভিলিয়ানদের উপর আক্রমণ করবে না আর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। আর যদি করে আমেরিকা তাদের উদ্ধার করবে। শিকারী কুকুর জানে সে যদি ভালুক বা নেকড়ে আক্রমণ করে করে তবে তার মালিক বন্য প্রাণীকে হত্যা করে তাকে উদ্ধার করবে। সমস্যা হল শিকারী বন্য প্রাণী হত্যা করার আগে কুকুর নিজেই যে অক্কা পাবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে। ইউরোপের নেতারা কি এই সহজ সত্যটি জানে?

দুবনা, ২১ জুন ২০২৬

Saturday, June 20, 2026

পররাষ্ট্র মন্ত্রী

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেটস। এই স্টেটস কি মার্কিন স্টেটস নাকি মার্কিন বাদে পৃথিবীর বাকি সব স্টেট। আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেটস যেভাবে বাইরের সব দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তাতে মনে হয় দ্বিতীয়টাই সত্য। এদিক থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কম যায় না। তারাও আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে শুধু নাক নয় শরীর পর্যন্ত গলায়। অনেকেই তো রাখঢাক না করে সরাসরি আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে দোকানপাট খুলে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এমনকি ভোট দিয়ে আমেরিকাকে বাংলাদেশের উপনিবেশ বানাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

দুবনা, ২০ জুন ২০২৬

Wednesday, June 17, 2026

বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে নাকি প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। জানি না এটা শেখ হাসিনার মডেল মসজিদের উত্তরে কি না, এমনকি সেটা হলেও বলব এটা ব্যাড আইডিয়া। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে আউট পুট ভিন্ন কিছু হবে না, শুধু ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এমনকি গ্রিনিজ বুকস অফ রেকর্ডসে নাম উঠতে পারে। মনে হয় এসব পরিকল্পনা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কারো অধিকার আছে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করার। ফলে সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব পার্টির সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব দলের উপস্থিতি দেখিয়ে দেশ গণতন্ত্রের ভান করতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্র কমে বই বাড়ে না। ঠিক একই ভাবে নতুন ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ডিগ্রিধারী বেকারের জন্ম দিতে পারে কিন্তু তাতে শিক্ষার মান কমবে বই বাড়বে না, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যায়ও কোন হেরফের হবে না। শুধু আরও তিন শ' অনুগত ভিসি ও কয়েক হাজার স্তাবক তৈরি হবে। এতে দেশের কোন লাভ হবে না। দলেরও না। নিকট অতীত অন্ততঃ সেটাই বলে। এক সময়ে ফেসবুকে কিছু কিছু ব্রীজের ছবি দেখতাম। বিশাল মাঠে একাকী ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দুই পাশে কোন রাস্তা নেই যাদের সে সংযুক্ত করে। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে যা আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে মনযোগ দেয়া উচিৎ। শরীর খারাপ হলে আমরা তার চিকিৎসা করি, আলি এক্সপ্রেসে নতুন শরীর অর্ডার দেই না।

দুবনা, ১৭ জুন ২০২৬