Monday, June 22, 2026

তেল বৃষ্টি

এক বন্ধু জানালো মস্কোর আকাশে নাকি তেল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো রাশিয়া জুরে তেল সংকট। এসব খবরে দেশ বিদেশের সব পত্র পত্রিকা ছয়লাভ। সংকট এড়াতে পুতিনের পদত্যাগ করা উচিৎ।

কি বলব? তেলের সঙ্কট হলে তেল বৃষ্টি হয় কীভাবে? তবে তেলের ব্যাপারে রেস্ট্রিকশন আছে, গাড়িতে তেল দিচ্ছে, ক্যানিস্টারে দিচ্ছে না। কারণ মানুষ বেশি বেশি করে মজুত করতে চাইলে সঙ্কট তৈরি হবে। যুদ্ধ যুদ্ধই। আমি ভাবি সব কথা বিশ্বাস করার আগে মানুষ একটু মাথা খাটায় না কেন? পশ্চিমা বিশ্ব আর যাই চাক, রাশিয়ার মঙ্গল চায় না, কোন দিন চায়নি। আর চায় না বলেই যুদ্ধটা জিইয়ে রাখছে। পুতিনকে পদত্যাগ করানোর জন্য তারা তো সেই ২০০৭ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বিভিন্ন দেশের নেতাদের (তা আমাদের পছন্দ হোক আর নাই হোক) পদত্যাগ করিয়ে তো দেশগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাই পুতিন পদত্যাগ করলে আর যাই হোক রাশিয়ার ভালো হবে না। বুঝতে হবে যে যুদ্ধের মাঠে পেরে না উঠে তারা এখন সিভিলিয়ানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে চাইছে। সমস্যা হল, রুশদের যত বেশি চাপে তারা তত বেশি ভয়ঙ্কর, তত বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমা বিশ্ব জীবন পণ করে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে নেমেছে। শুধু এ কথাই বলতে পারব, ওরা যখন বলবে রাশিয়ার অবস্থা খারাপ, এর মানে হল, রাশিয়া যুদ্ধের মাঠে ভাল করছে। অন্তত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর তাই বলে। বাকি আছে দানিয়েৎস্কের শেষ বড় শহর ক্রিমাতোরস্ক। এরপর ওদের আর প্রতিরোধ করার তেমন দুর্গ থাকবে না। খেলা জমছে।

দুবনা, ২২ জুন ২০২৬

Sunday, June 21, 2026

প্রশ্ন

জেলেনস্কি বেলারুশ আক্রমণের হুমকি দেয়ায় কেউ কেউ জানতে চাইছে এটা কি শুধুই ব্লাফ? না, এটা তার একান্ত মনের কথা। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে প্রচুর অস্ত্র, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি পেয়েও ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের একমাত্র বিনিয়োগ, ইউক্রেনের সবচেয়ে সবল ও কর্মক্ষম মানুষের মজুদ শেষের পথে। তারা মৃত, আহত, পলাতক বা যুদ্ধের অযোগ্য। তাই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও অপেক্ষাকৃত ভালো শর্তে যুদ্ধ বন্ধের প্রায় একমাত্র পথ ইউরোপকে যুদ্ধে জড়ানো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও বাল্টিকের দেশগুলো কমবেশি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে। তাদের দরকার কোন অজুহাত। যদি কোন ভাবে ইউক্রেন বেলারুশ আক্রমণ করে আর লুকাশোঙ্কো তার উত্তর দেয়, তাহলে এসব দেশ সেটাকে ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে নামার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা বিশ্বাস করে রাশিয়া কোন অবস্থাতেই তাদের সিভিলিয়ানদের উপর আক্রমণ করবে না আর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। আর যদি করে আমেরিকা তাদের উদ্ধার করবে। শিকারী কুকুর জানে সে যদি ভালুক বা নেকড়ে আক্রমণ করে করে তবে তার মালিক বন্য প্রাণীকে হত্যা করে তাকে উদ্ধার করবে। সমস্যা হল শিকারী বন্য প্রাণী হত্যা করার আগে কুকুর নিজেই যে অক্কা পাবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে। ইউরোপের নেতারা কি এই সহজ সত্যটি জানে?

দুবনা, ২১ জুন ২০২৬

Saturday, June 20, 2026

পররাষ্ট্র মন্ত্রী

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেটস। এই স্টেটস কি মার্কিন স্টেটস নাকি মার্কিন বাদে পৃথিবীর বাকি সব স্টেট। আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেটস যেভাবে বাইরের সব দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তাতে মনে হয় দ্বিতীয়টাই সত্য। এদিক থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কম যায় না। তারাও আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে শুধু নাক নয় শরীর পর্যন্ত গলায়। অনেকেই তো রাখঢাক না করে সরাসরি আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে দোকানপাট খুলে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এমনকি ভোট দিয়ে আমেরিকাকে বাংলাদেশের উপনিবেশ বানাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

দুবনা, ২০ জুন ২০২৬

Wednesday, June 17, 2026

বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে নাকি প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। জানি না এটা শেখ হাসিনার মডেল মসজিদের উত্তরে কি না, এমনকি সেটা হলেও বলব এটা ব্যাড আইডিয়া। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে আউট পুট ভিন্ন কিছু হবে না, শুধু ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এমনকি গ্রিনিজ বুকস অফ রেকর্ডসে নাম উঠতে পারে। মনে হয় এসব পরিকল্পনা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কারো অধিকার আছে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করার। ফলে সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব পার্টির সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব দলের উপস্থিতি দেখিয়ে দেশ গণতন্ত্রের ভান করতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্র কমে বই বাড়ে না। ঠিক একই ভাবে নতুন ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ডিগ্রিধারী বেকারের জন্ম দিতে পারে কিন্তু তাতে শিক্ষার মান কমবে বই বাড়বে না, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যায়ও কোন হেরফের হবে না। শুধু আরও তিন শ' অনুগত ভিসি ও কয়েক হাজার স্তাবক তৈরি হবে। এতে দেশের কোন লাভ হবে না। দলেরও না। নিকট অতীত অন্ততঃ সেটাই বলে। এক সময়ে ফেসবুকে কিছু কিছু ব্রীজের ছবি দেখতাম। বিশাল মাঠে একাকী ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দুই পাশে কোন রাস্তা নেই যাদের সে সংযুক্ত করে। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে যা আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে মনযোগ দেয়া উচিৎ। শরীর খারাপ হলে আমরা তার চিকিৎসা করি, আলি এক্সপ্রেসে নতুন শরীর অর্ডার দেই না।

দুবনা, ১৭ জুন ২০২৬

Monday, June 15, 2026

একটি নিষ্পাপ প্রস্তাব

আমাদের দেশে সব কিছুর পরেও সরকার প্রধানের কথাই শেষ কথা। সেটা সব আমলেই ছিল। আর এ কারণে বছর পাঁচেক আগে লিখেছিলাম আইন করে প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত আর সব মন্ত্রী পদে বোবাদের নিয়োগ করা হোক। এতে মন্ত্রী পরিষদের কাজ খুব বেশি খারাপ হবে বলে মনে হয় না, তবে জনগণ মন্ত্রীদের শিশুসুলভ কথাবার্তা গলাধঃকরণ করার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে। শিশুরা যেমন দন্ত বিহীন মুখ গহ্বর হতে সময়ে সময়ে কিছু শব্দ উগড়ে দেয় আর পারিপার্শ্বিক সবাই তার অর্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাদের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে। সেই বাস্তবতা থেকে মূক মন্ত্রী কোন ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়া নয়। এতে করে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে হয় না, আর মৌনতাই যেহেতু সম্মতির লক্ষণ তাই সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে আগে থেকেই ধরে নেয়া যায়। শুধু আগে থেকেই প্রস্তাবগুলো সঠিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সরকার প্রধান এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে।

মস্কো, ১৫ জুন ২০২৬

Saturday, June 13, 2026

ভাব না ভাবনা

আমাদের দেশের রাজনীতি ধর্মকে প্রভাবিত করে না ধর্ম রাজনীতিকে সেটাই ভাবছি। এটা ঠিক যে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ যা থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাই ধর্মের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও নেতারাই ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি তোলে। তবে সেটা ধর্মের খেদমত করার জন্য নয়, নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধর্ম মন্দির মসজিদের দেয়াল পেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে আসে। স্বাধীনতার পরে খুব অল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কমলেও সেটা দ্রুত ফিরে আসে। আমাদের ছোটবেলাতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হত। কথায় কথায় বুঝিয়ে দেয়া হত দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক কারা। পরে সেই ধারণা সম্প্রদায়ের চৌকাঠ পেরিয়ে দলীয় রাজনীতিতে ঢুকে যায়। সরকারি দলের নেতা কর্মীরা তা সে আওয়ামী লীগের হোক, বিএনপির হোক, জাতীয় পার্টি বা এনসিপির হোক - নিজেদের বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করে। যেহেতু সরকারি দল আর ধর্মীয় সংখ্যাগুরু - দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে অন্যদের অধিকার ক্ষুন্ন করার কাজে ব্যবহার করে তাই তারা পরস্পরের সহযোগিতা খোঁজে - প্রকাশ্যে বা গোপনে। ধর্ম ও রাজনীতি, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, এক হয়ে গেলে গণতন্ত্র সঙ্কুচিত হয় আর দেশ মধ্য যুগে ফিরে যায়। 

দুবনা, ১৩ জুন ২০২৬

Friday, June 12, 2026

নো অপশন

বড় কোম্পানি নিজের অবস্থান উন্নত করতে সাধারণত সফল মানুষদের আমন্ত্রণ জানায়। মমতা ব্যানার্জিকে লাইম লাইটে এনেছিলেন রাজীব গান্ধী। তিনি সবসময়ই কংগ্রেসকে ব্যবহার করেছেন এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন দল ও জোটের সাথে। এখন তাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতির পদ দেবার চিন্তা কতটুকু যৌক্তিক। আসলে দুটো নষ্ট ডিভাইস দিয়ে একটা চলনসই ডিভাইস তৈরি করা যায়, তবে সেটা সাময়িক, স্বল্পায়ু। দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চাইলে মমতা ব্যানার্জি কোন অপশন বলে মনে হয় না। আশার কথা সোনিয়া গান্ধী মনে হয় ইতিমধ্যেই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। 

দুবনা, ১২ জুন ২০২৬