Saturday, August 8, 2026

বিবর্তনের দেশীয় রূপ

বিপ্লব হল ফেজ চেঞ্জ বা পর্যায় পরিবর্তন। যেমন শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে তরল জল কঠিন বরফ হয়ে যায় বা ১০০ ডিগ্রিতে বাষ্প। এতে করে এইচ ট্যুর ও গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান বা নির্বাচন বা মিলিটারি ক্যু - যেভাবেই সরকার পরিবর্তন হোক না কেন সরকার বা দেশের গুণগত পরিবর্তন হয় না, শুধু সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে শোষিত হয়, ক্ষমতাসীনরা আরো বেশি গণবিরোধী হয় আর আরো বেশি করে চুরি করে। এন্ট্রোপির মত আইন-শৃঙ্খলার অবনতির পরিমাণ বাড়তেই থাকে। সার্বিক অর্থে এটাকে বলা চলে নিম্নগামী বিবর্তন।

দুবনা, ০৮ আগস্ট ২০২৬

Friday, August 7, 2026

দুর্বলতা

গৃহস্থের অনুমতি নিয়ে বাড়ীতে চোর বা ডাকাত পড়ে না। কিন্তু বাড়িতে চোর বা ডাকাত পড়লে বিচক্ষণ গৃহস্থ এর দায় নিজের কাঁধে নেয় আর ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না ঘটে সেজন্য ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে তৈরি করে। বিদেশি ষড়যন্ত্রে হোক আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে হোক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ভেঙে পড়ে আর এতে করে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তার দায় সরকার এড়াতে পারে না। সৎ মানুষ, সৎ নেতা এসব ব্যর্থতা স্বীকার করেই সামনের দিকে অগ্রসর হয়। দায়িত্ব অস্বীকার করলে তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভুল স্বীকার দুর্বলতা নয়, ভুল স্বীকার না করার জন্য অজুহাত সৃষ্টি সত্যিকারের দুর্বলতা।

দুবনা, ০৭ আগস্ট ২০২৬

Thursday, August 6, 2026

ঘোষণাপত্র

এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। কোন এক প্রসঙ্গে সে ঘোষণাপত্রের উদ্ধৃতি দিল। আজকাল এসব কথা শুনলেই গা জ্বলে। বললাম 

ঘোষণাপত্রের দোহাই দেয়া আর বেদ বাইবেলের দোহাই দেয়ার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। খাতা কলমে বাংলাদেশও গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, এমনকি সমাজতান্ত্রিক দেশ। বাস্তবে কি? ঘোষণাপত্র - এটা স্বপ্ন। বাস্তবতা আমাদের বর্তমান অবস্থা। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা যায়, কিন্তু তাতে অবস্থার পরিবর্তন হয় না। তাই ঘোষণাপত্রের দোহাই না দিয়ে কি করছ সেটা বল, তা থেকে যদি কিছু বোঝা যায়। সব রুগী সুস্থ হতে চায় - এটা তার ঘোষণাপত্র। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান অসুখটা জানা দরকার। কেবলমাত্র তখনই সঠিক ডায়াগনসিস করার চেষ্টা করা যায়।

মস্কো, ০৬ আগস্ট ২০২৬

Saturday, August 1, 2026

বৈষম্য

পরস্পর নির্ভরশীল এই বিশ্বে প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের নির্ভরতা সমান নয়। এখানেও বৈষম্য বিদ্যমান। আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার ছাড়া কৃষক বেঁচে থাকতে পারবে, কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত ফসল ছাড়া কেউ বেঁচে থাকতে পারবে না। তারপরেও কৃষক নয়, শ্রমিক নয়, খামার বা কারখানার মালিকরাই বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমন ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে উৎপাদনকারী তৃতীয় বিশ্ব নয়, ভোগকারী প্রথম বিশ্বই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক।

দুবনা, ০১ আগস্ট ২০২৬

Wednesday, July 22, 2026

অখাদ্য

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ায় এক ধরণের রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয় আর সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটে। সোভিয়েত আমলে দেশে একটাই রাজনৈতিক দল ছিল – সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিএসইউ। ফলে নতুন দলগুলোর অধিকাংশই গঠিত হয়েছিল পুরানো কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে। সে কারণেই কিনা জানি না, তবে সেই সময় রাশিয়ায় একটি কথা চালু ছিল, যে দলই গঠন কর না কেন, ঘুরে ফিরে তা সিপিএসইউ হয়ে যায়।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাম বা বাম গণতান্ত্রিক মোরচা গঠন করা হয়। সেখানেও দেখি ঘুরে ফিরে একই মুখ, যাদের বেশির ভাগ না বাম, না গণতান্ত্রিক, না বাঙালি জাতীয়তাবাদী, না অসম্প্রদায়িক। কথায় বলে এক মন দুধ নষ্ট করতে এক ফোঁটা চুনা (গরুর মুত্র)-ই যথেষ্ট। পপুলিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেসব লোকদের নেতৃত্বে এসব মোরচা গঠন করা হয় বেশ কিছু ভাল ইনগ্রেডিয়েন্ট থাকার পরেও সেটা হয় অখাদ্য।

দুবনা, ২২ জুলাই ২০২৬

 

Monday, July 20, 2026

ভুঁড়ি

ন্যাংটো রাজার কথা আমরা সবাই জানি। সবাই জানত রাজা ন্যাংটো তবে ভয়ে কেউ কিছু বলেনি, শুধু এক বাচ্চা ছেলে যার ভয় ডরের বালাই নেই, সে চিৎকার করে বলেছে যে রাজা ন্যাংটো। তবে আমাদের এখানে রাজা নেই, আছে নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তায় গর্বিত একদল মানুষ। যদিও সবাই জানে, সবাই বলে জুলাইয়ে অন্যের বাজনায় নেচে তারা ভুল করেছিল, একদল লোক কিছুতেই তা মানতে রাজি নয়, তারা প্রমাণ করেই ছাড়বে যে তারা সঠিক কাজই করেছিল, এর ফলে দেশ যদি আবারও একাত্তর পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় সেটা মানুষের দোষ। এদের দেখে আমার গোপাল ভাঁড়ের গল্প মনে পড়ে। সাম্রাজ্যবাদীদের ডলারের কারণেই হোক অথবা মাঠে না নেমে টক শো বিপ্লবের কারণেই হোক, এদের ভুঁড়ি এত বড় যে তা ডিঙ্গিয়ে নীচে কাপড় আছে কি নেই সেটা টের পায় না এরা।

দুবনা, ২০ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 19, 2026

বিশ্বাস

মাইসা কাকডাকা ভোরে বাইরে যেতে উদ্যত হলে সারাহ জিজ্ঞেস করল 
- এত ভোরে কোথায় যাচ্ছ?
- গতকাল রাবিন বললেন, যে সকালে ওঠে ঈশ্বর তার সহায় হোন। ভাগ্য পরীক্ষা করতে যাচ্ছি। দেখি ঈশ্বর আজ আমার সহায় না হয়ে যান কোথায়?

কিছুক্ষণ পরে মাইসা ফিরে এল। জামাকাপড় ছেঁড়া, রক্তাক্ত। সারাহ আবার জিজ্ঞেস করল 
- এ কি অবস্থা তোমার? কি হয়েছে? কে করল?
- তুমি বিশ্বাস করবে না সারাহ। কিন্তু কেউ আজ আমার থেকেও আগে ঘুম থেকে উঠেছে।

এটাই হল বিশ্বাস। এমনকি নিজের বিপদেও মাইসা ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারায়নি ঠিক যেমন জুলাই বিপ্লবের বাম শাখা। এমনকি দেশ হাতছাড়া হবার পরেও তারা জুলাই চেতনায় আস্থা হারায়নি। সাবাস!

মস্কো, ১৯ জুলাই ২০২৬