Thursday, September 10, 2026

সময়

শুনলাম ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আপনি ভাবতেই পারেন এটা ছাত্রলীগের সমস্যা, এটা আওয়ামী লীগের সমস্যা বা ঐ জাতীয় কিছু। বাস্তবে এটা আপনার সমস্যা। 

আচ্ছা আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কিসের জন্য? সম্পত্তির। মামলায় লড়ে ভাই -ভাই, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র। তাই স্বার্থের কাছে আপন পর বলে কেউ নেই, কিছু নেই। 

আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, সংখ্যালঘু - এরা আসলে কে? ভিন্নমতাবলম্বী। কোন না কোন প্রশ্নে মতের অমিল হলেই কাউকে হত্যা করা গেলে সেই দিন খুব দূরে নয় যখন এদের অস্ত্র আপনার দিকে তাক করা হবে। তখন আর চারপাশে কেউ থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা তখন আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না, এটা হবে সামাজিক বিধি। 

এখনও যদি মেরুদন্ড পুরোপুরি খোয়া না যায়, এখনও যদি মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তাহলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, যেকোন মবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, অন্যদের প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করুন। না হলে কলঙ্কময় মৃত্যু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

দুবনা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 6, 2026

শিক্ষা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে সুশীল সমাজ বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবী সমাজ জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার প্রধান কুশীলব। একদল ভাঙে সরকারের ন্যায় অন্যায় সবকিছুর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে, অন্যদল সরকারের ভালো মন্দ সবকিছুর সমালোচনা করে। দল নিরপেক্ষ না হয়ে বুদ্ধিজীবীরা হয়ে ওঠেন পার্টিজান। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর তারা যারা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিজেদের সেলিব্রিটি বানানোর জন্য সত্য না বলে বাতাস বুঝে কথা বলে, মানুষকে প্রিয় মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে, তাদের চিন্তাশক্তি ধ্বংস করে। এই সমস্ত লেখক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী মনে করে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ আধুনিক মাদ্রাসা। আসলে এরা নিজেরাই একটু উপরের স্তরের ওয়াজকারী। মধ্যবিত্ত মনোভাবের কারণে টুপি পরে দাড়ি রেখে গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ করতে এদের বাঁধে বিধায় স্যুটেড বুটেড হয়ে ক্লিন শেভড মুখে বিশ্ব বিদ্যালয় বা টেলিভিশনের পর্দা থেকে এরা মার্জিত ভাষায় সেই সস্তা কথাগুলোই আকর্ষণীয় প্যাকেটে করে সর্বসাধারণের মধ্যে বিক্রি করে। তা সে ছাব্বিশ লক্ষ ভারতীয়, হিন্দুরা ভারত পন্থী, মার্কিন গণতন্ত্র ভাই অন্য যেকোনো শিরোনামেই হোক না কেন।

মস্কো, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পন্থা

কোন কোন তথাকথিত সুশীল নাকি বলে যে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারত পন্থী। এরা একথা বলে নিজেরা যে পাকিস্তান পন্থী সেটা আড়াল করার জন্য। বাস্তবতা হল এদেশের হিন্দুরাই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ পন্থী। বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, আঁকড়ে ধরে থাকে। দেশ শুধু ভূমি নয় আর জাতি শুধু মানুষ নয়। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব কেউ যদি মনেপ্রাণে ধরে রাখতে চায়, মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে তবে তারা মূলতঃ এ দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক কৃষক আর শিক্ষিত অশিক্ষিত সব ধরনের হিন্দুরা। তাই এদের ভারত পন্থী বলা আসলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস করার নগ্ন প্রচেষ্টা। আর যেসব সুশীল এসব করে তারা ঘৃণা ছাড়া আর কোন কিছুর যোগ্য নয়।

মস্কোর পথে, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Saturday, September 5, 2026

দোষ

সব দেখে মনে হয় বর্তমান যুগে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হল নন্দ ঘোষ। কেউ নিজের সাফল্য নিয়ে ততটা চিন্তিত নয় যতটা অন্যের ব্যর্থতা নিয়ে। সমস্যা হল নন্দ ঘোষ এমনি এমনি হওয়া যায় না, সেজন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে হয়। আর ব্যর্থরা নিজেদের ব্যর্থতা লুকানোর জন্য এদের দোষ খুঁজে বেড়ায়।

সেলিগের, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 3, 2026

সমস্যা

আমাদের সমস্যা হল সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে আমরা নিজেদের অন্যায়কে অন্যায় আর প্রতিপক্ষের ন্যায়কে ন্যায় বলতে দ্বিধা করি। এতে প্রতিপক্ষ আমাদের চিন্তা ভাবনা বায়াস বলে এড়িয়ে যায় আর স্বপক্ষ নিজেদের ভুলটা জানতেই পারে না। আমার দৃষ্টিতে ভালো কোন লোকের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া মানে যেকোনো অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেয়া। ন্যায় অন্যায় এটা কারোও কাজের ফল, কে করল তার উপর এর চরিত্র নির্ভর করে না।

দুবনা, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Tuesday, September 1, 2026

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

সব দেখে মনে হয় দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার গরু ঘোড়া বা হাঁস মুরগির চেয়েও কম। হাট বাজারে বিক্রির আগে মালিকরা এসব প্রাণীর একটু যত্ন আত্তি করে, ভালোমন্দ খাইয়ে মোটাতাজা করে। কিন্তু প্রান্তিক জনগণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবার আগে রাজা মহারাজারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করে না। ইচ্ছে হল কোন রাস্তায় রিকশা বা অটোরিকশা চালানো নিষিদ্ধ করা হল। জীবিকা অর্জনের একমাত্র উপায় হারিয়ে এসব পরিবার কিভাবে বাঁচবে সেটা নিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এরা ধরেই নেয় ক্ষমতা মানেই সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার হোলসেল লাইসেন্স হাতে পাওয়া।

দুবনা, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Monday, August 31, 2026

জীবন

আমি মরিয়া গিয়াছি। হ্যাঁ, সত্যি সত্যি আমি মরিয়া গিয়াছি। ঘুম ভাঙিতেই টের পাইলাম আমি মরিয়া ভূত হইয়া গিয়াছি। অনেক খুঁজিয়াও পায়ের টিকির দেখা পাইলাম না। অবশ্য খুঁজিয়াছিলাম যে তাহাই বা বলিব কী করিয়া। হাত চক্ষু সবাই তো বেমালুম গায়েব হইয়া গিয়াছে। জীবন কি? জীবন হইল কাজ, জীবন হইল ব্যস্ততা। গত সপ্তাহের সুপার ব্যস্ততার পর আজ সকালে ক্লান্ত শরীরটাকে নিথর ভাবে বিছানায় পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া মনে হইল আমি মরিয়া গিয়াছি।‌

দুবনা, ৩১ আগস্ট ২০২৬