Wednesday, July 22, 2026

অখাদ্য

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ায় এক ধরণের রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয় আর সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটে। সোভিয়েত আমলে দেশে একটাই রাজনৈতিক দল ছিল – সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিএসইউ। ফলে নতুন দলগুলোর অধিকাংশই গঠিত হয়েছিল পুরানো কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে। সে কারণেই কিনা জানি না, তবে সেই সময় রাশিয়ায় একটি কথ চালু ছিল, যে দলই গঠন কর না কেন, ঘুরে ফিরে তা সিপিএসইউ হয়ে যায়।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাম বা বাম গণতান্ত্রিক মোরচা গঠন করা হয়। সেখানেও দেখি ঘুরে ফিরে একই মুখ, যাদের বেশির ভাগ না বাম, না গণতান্ত্রিক, না বাঙালি জাতীয়তাবাদী, না অসম্প্রদায়িক। কোথায় বলে এক মন দুধ নষ্ট করতে এক ফোঁটা চুনা (গরুর মুত্র)-ই যথেষ্ট। পপুলিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেসব লোকদের নেতৃত্বে এসব মোরচা গঠন করা হয় বেশ কিছু ভাল ইনগ্রেডিয়েন্ট থাকার পরেও সেটা হয় অখাদ্য।

দুবনা, ২২ জুলাই ২০২৬

 

Monday, July 20, 2026

ভুঁড়ি

ন্যাংটো রাজার কথা আমরা সবাই জানি। সবাই জানত রাজা ন্যাংটো তবে ভয়ে কেউ কিছু বলেনি, শুধু এক বাচ্চা ছেলে যার ভয় ডরের বালাই নেই, সে চিৎকার করে বলেছে যে রাজা ন্যাংটো। তবে আমাদের এখানে রাজা নেই, আছে নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তায় গর্বিত একদল মানুষ। যদিও সবাই জানে, সবাই বলে জুলাইয়ে অন্যের বাজনায় নেচে তারা ভুল করেছিল, একদল লোক কিছুতেই তা মানতে রাজি নয়, তারা প্রমাণ করেই ছাড়বে যে তারা সঠিক কাজই করেছিল, এর ফলে দেশ যদি আবারও একাত্তর পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় সেটা মানুষের দোষ। এদের দেখে আমার গোপাল ভাঁড়ের গল্প মনে পড়ে। সাম্রাজ্যবাদীদের ডলারের কারণেই হোক অথবা মাঠে না নেমে টক শো বিপ্লবের কারণেই হোক, এদের ভুঁড়ি এত বড় যে তা ডিঙ্গিয়ে নীচে কাপড় আছে কি নেই সেটা টের পায় না এরা।

দুবনা, ২০ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 19, 2026

বিশ্বাস

মাইসা কাকডাকা ভোরে বাইরে যেতে উদ্যত হলে সারাহ জিজ্ঞেস করল 
- এত ভোরে কোথায় যাচ্ছ?
- গতকাল রাবিন বললেন, যে সকালে ওঠে ঈশ্বর তার সহায় হোন। ভাগ্য পরীক্ষা করতে যাচ্ছি। দেখি ঈশ্বর আজ আমার সহায় না হয়ে যান কোথায়?

কিছুক্ষণ পরে মাইসা ফিরে এল। জামাকাপড় ছেঁড়া, রক্তাক্ত। সারাহ আবার জিজ্ঞেস করল 
- এ কি অবস্থা তোমার? কি হয়েছে? কে করল?
- তুমি বিশ্বাস করবে না সারাহ। কিন্তু কেউ আজ আমার থেকেও আগে ঘুম থেকে উঠেছে।

এটাই হল বিশ্বাস। এমনকি নিজের বিপদেও মাইসা ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারায়নি ঠিক যেমন জুলাই বিপ্লবের বাম শাখা। এমনকি দেশ হাতছাড়া হবার পরেও তারা জুলাই চেতনায় আস্থা হারায়নি। সাবাস!

মস্কো, ১৯ জুলাই ২০২৬

Thursday, July 16, 2026

সাম্যবাদী সমাজ

মানুষ পারেনি কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রবোট পারবে। হ্যাঁ, ওরা সাম্যবাদী সমাজে বাস করবে। ওরা আধুনিক যুগের সব - শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, এমনকি লেখক। ওরা সবাই সমান বেতনে বা বেতন হীনতায়। তবে বিশ্বের সেরা আইটি বিশেষজ্ঞরা ওদের সেবাযত্ন করবে নিরলস ভাবে আর সরকার দুই হাতে অর্থ ঢালবে ওদের সুস্থ, সবল, সচল রাখতে। মানুষের জন্য না হলেও রবোটের জন্য সাম্যবাদ বিরোধী পুঁজিবাদী বিশ্ব গড়বে সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।

দুবনা, ১৬ জুলাই ২০২৬

Tuesday, July 14, 2026

তবুও ভোট দিন

প্রিয় সাববাসী! আগামী শুক্রবারের পর আপনার মহামূল্যবান ভোট ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও খুঁজে পাবেন না বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে। তাই চরম অবমূল্যায়নের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আসছে শুক্রবার ১৭ জুলাই আপনার মুল্যবান ভোট গুলো ডঃ মোস্তফা আবিদ খান, স্থপতি তানিয়া আতিক, ডাঃ খায়রুবন্নেসা আমিন লিপি, ডঃ গণেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ হামিদা মাইদার, ডাঃ সাকী খন্দকার ও ইঞ্জিনীয়ার আব্দুর রাজ্জাক-এর নামে উৎসর্গ করে নিজেও আনন্দে থাকুন আর প্রার্থীদেরও আনন্দে রাখুন। এতে শুধু আপনার ভোটের মানসম্মান রক্ষা পাবে না, অদূর ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী অফিস, অনলাইনে ভোট দেবার অধিকার, শত শত নতুন সদস্য পেয়ে সাব নিজেও অভাবনীয় রকম লাভবান হবে। চাইলে আপনি অবশ্যই যে কাউকে ভোট দিতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ও ভোট দেয়া। হয়তো আপনার একটি ভোট আমার ভোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। 
ভোট দিন ভোট দিন। আপনার ভোট যাতে মাঠে মারা না যায় সেটা দেখার দায়িত্ব একমাত্র আপনার।

দুবনা, ১৫ জুলাই ২০২৬

Sunday, July 12, 2026

স্বপ্ন

কিছু দিন আগে একটি মুভি দেখলাম। ডাকসাইটে সুন্দরী এক নারীর মন জয় করতে চায় দুই অলিগার্খ। সুন্দরীর জন্মদিনে একই সাথে দু'জনে এসেছে দুই উপহার নিয়ে। একজন এনেছে বেন্টলি, অন্যজন এসেছে রেঞ্জ রোভার  নিয়ে। কার উপহার গ্রহণ করবে সুন্দরী?

সাব কি আমাদের কম সুন্দরী? কেমন হত যদি সভাপতি পদপ্রার্থীগণ দুটো অফিসের ছবি ও ঠিকানা সহ হাজির হত সয়ম্বর সভায় মানে ভোট কেন্দ্রে?

দুবনা, ১৩ জুলাই ২০২৬

গনি মিয়ার ভোট

গনি মিয়ারা অতি সাধারণ ভিপুস্কনিক। নিজেদের ভোটে দাঁড়ানোর সাহস নেই। অন্যেরা দাঁড়ায়। গনি মিয়ারা তাদের জন্য কাঁধে ঝুলি ঝুলিয়ে ভোট ভিক্ষায় নেমে পড়ে। এতে রাজা উজির নির্বাচিত হয়। তারা যথারীতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। গনি মিয়ারা মনে কষ্ট পায় কিন্তু কষ্ট পাওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই। আবারো ভোট এসে দরজায় কড়া নাড়ছে। গনি মিয়ারা মালকাছা দিয়ে নেমে পড়েছে ভোট ভিক্ষায়। আর যাই হোক ভিক্ষা তো চুরি ডাকাতি নয়। যদিও জানে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হবার নয় তারপরেও তারা ভোট চায়। চাওয়া পাওয়ার এই জীবনে পাওয়া চাওয়ার কাছে সবসময় হার মানে। তারপরেও তারা চায়, চেয়েই যায় আতালিগহাসারা-র আসন্ন সাব বিজয়।

কিনেশমা, ১২ জুলাই ২০২৬