Sunday, May 31, 2026

ঐক্য

সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন মস্কো এসেছিলেন রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী এক ফোরামে যোগ দিতে। স্বাভাবিক ভাবেই দেখা করেছি, গল্পগুজব করেছি, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেছি। এসব দেখে একজন প্রশ্ন করল 
- আপনি তো আজকাল সিপিবির খুব সমালোচনা করেন। তাহলে তাদের সাথে এত দহরমমহরম করেন কীভাবে?
- অনেক ভেবে দেখলাম সমালোচনা করলেও কাজের বেলায় সিপিবি আর আমি প্রায় একই রকম। 
- মানে?
- আমি প্রতিদিন রান্না করি আর প্রতিদিন খাবার পুড়াই। পোড়া খাবার খাই। পেট ভরে? ভরে। খাবার টেস্টি হয়? না। রান্না করি খিদে মেটাতে সেই অর্থে মিশন সফল কিন্তু অতৃপ্তি থেকে যায়। 
- এর সাথে সিপিবির সম্পর্ক কি?
- ওরা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন করেছিল। হাসিনার পতন হয়েছে। সেদিক থেকে সফল। কিন্তু এর পরিবর্তে যা পেয়েছে তা হজম করতে পারছে না। আমার মত এসিডিটিতে ভুগছে। তাহলে নিজেই ভেবে দেখ কাজের বেলায় আমরা এক কি না?

দুবনা, ০১ জুন ২০২৬

Wednesday, May 27, 2026

প্রশ্ন

ঈদ ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত।
বাংলাদেশ কি ইউনুসকে ত্যাগ করে (পালাতে দিয়ে) সেই দায়িত্ব পালন করল? নাকি এটাও আরেক ফেসবুক গুজব?

দুবনা, ২৮ মে ৩০২৬

Sunday, May 24, 2026

জীবন

যতদিন পর্যন্ত একমাত্র মানুষই ইতিহাস লিখবে শত বীরত্ব দেখানোর পরেও সিংহ সবসময়ই ভিলেন হিসেবে পরিচিত হবে। পৃথিবীর মানুষের এক বিরাট অংশ ব্যক্তি জীবনে যেমন ধর্মীয় অনুশাসনকে একমাত্র সত্য বলে মনে করে রাষ্ট্রীয় জীবনে তেমনি পশ্চিমা বিশ্বের বয়ানকে একমাত্র সত্য বলে মনে করে। জনপ্রিয় ও জাতীয়তাবাদী শাসকরা নিজ নিজ দেশে তুলনামূলক কম মানুষের অধিকার খর্ব করে স্বৈরাচারী, একনায়ক এসব উপাধি লাভ করে, পৃথিবীর দেশে দেশে তার
চেয়ে অনেক গুণ বেশি মানুষের জীবন নাশ ও বিপর্যস্ত করে পশ্চিমা নেতারা গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়। এসব বয়ানে আস্থা রেখে আমরা নিজেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানোর সুযোগ দেই যেমন কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনতা ধর্ম ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেয় পরকালে সমৃদ্ধ জীবনের লোভ দেখিয়ে নিজেদের শোষণ করার। তাই নিজেদের ইতিহাস নিজেদের লিখতে হবে। অন্যের দেয়া নম্বরের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কারণ জীবনটা একান্তই নিজের, কারোও দয়ার দান নয়।

দুবনা, ২৪ মে ২০২৬

Friday, May 22, 2026

ফাঁদ

মব, ধর্ষণ, বলাৎকার, সংখ্যালঘু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ - একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে আর ভালো ভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে এসবই একটি বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাজ। এর উদ্দেশ্য শুধুই যৌন তৃষ্ণা মেটানো নয়, কারোও বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করা নয় বা সংখ্যালঘুদের চাকরি থেকে উৎখাত করা নয়, এর মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রচলিত আইনকে মানুষের চোখে হেয় করা, অসাড় করা। কারণ বিভিন্ন অজুহাতে সরকার এসব ঘটনার তদন্ত করতে দ্বিধা করে। সরকারের এই দুর্বলতাই এদের মূল অস্ত্র।আইন যখন মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষ শুধু দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দোষ দেয় না, আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আর এটাই এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। কারণ বিকল্প হিসেবে তখন তারা শরিয়া আইন প্রণয়ন করার দাবি জানাতে পারে। যদি দেশের মানুষ ও সরকার এই ফাঁদে পা দিতে না চায় তাদের উচিৎ হবে ইদানিং ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা।

দুবনা, ২৩ মে ২০২৬

Wednesday, May 20, 2026

না

রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম তোলপাড়। অনেকেই বলছে ধর্ষক ও খুনী জামায়াত কর্মী। দাড়িপাল্লায় ভোট চেয়েছে। কোরআনের আইন ও ইসলামী শাসন চেয়েছে। এসব দেখে যে প্রশ্নগুলো মাথায় আসে-

 ইসলামী দলগুলিই কি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারীদের পারতপক্ষে গৃহবন্দী করে রাখার পক্ষে প্রচার করে না?
 আফগানিস্তানে কি সেটারই চর্চা হচ্ছে না? 

দেশের মানুষের একটি বড় অংশ যে রাজনীতি ধর্ষণ, শিশুদের বলাৎকার, ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর বিনা বিচারে/প্ররোচনায় আক্রমণ অনুমোদন করে সেই রাজনীতি সমর্থন করে। এটা যেমন সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস থেকে পরিস্কার, তেমনি পরিস্কার অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন ওয়াজ থেকে।

যদি রামিসাদের বাঁচাতে চান জামায়াত সহ সমস্ত ধরণের ধর্মীয় ও মৌলবাদী রাজনীতিকে না বলুন। রামিসার অকাল মৃত্যু কোন যৌন উন্মাদের একক অপরাধ নয়, এটা দেশের সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ও পচনের ফল। এখনই এদের রুখে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে কোন শিশুই নিরাপদ থাকবে না।

দুবনা, ২১ মে ২০২৬

Monday, May 18, 2026

প্রশ্ন

১৯৯৪ সালে আজকের দিনে মানে ১৮ মে দুবনার জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ- এ কাজ শুরু করি গবেষক হিসেবে। জীবনের অর্ধেকের বেশি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে চলে গেল। উত্তর পাই কিন্তু প্রশ্ন কমে না, উল্টো বেড়েই চলেছে। প্রশ্নই জীবন। যতদিন প্রশ্ন আছে, আছে উত্তর খোঁজার তাড়া। 
আমি কে কেন জন্ম কিসে বা কল্যাণ?

মস্কো, ১৮ মে ২০২৬

Sunday, May 17, 2026

উপলব্ধি

১৯৪৭ এর পর থেকে দুই বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন দুই ভিন্ন পথে অগ্রসর হলেও বিগত দশকে পথ দুটো খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। উভয় বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তীব্র আকার ধারণ করেছে, মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সবাই সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখছে। সহনশীলতা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এসব শব্দ বাংলা অভিধান থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

মস্কো, ১৭ যে ২০২৬