Tuesday, October 27, 2026

ঐক্য অনৈক্য

প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা সহজেই একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। ফলে এখন প্রত্যেকেই বিভিন্ন গ্রুপের সাথে জড়িত। এখানে আছে স্কুল বা কলেজের গ্রুপ, আছে ভার্সিটি ও পেশাজীবীদের গ্রুপ। যারা রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের নিজেদের গ্রুপ। সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা কর্মীদের আছে এমন এক গ্রুপ। এসব গ্রুপের অভিজ্ঞতা বলে অতীত যত ঐক্যবদ্ধ বর্তমান তত বিচ্ছিন্ন। আর
যারা আজ সিপিবির বাইরে সিপিবি তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে, আর যারা ভেতরে সিপিবি তাদের করেছে বিভক্ত। অন্তত নেতৃত্বের পর্যায়ে। আমরা প্রায়ই বলি শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ আর বর্তমান আওয়ামী লীগ এক না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় মনি সিংহ - কমরেড ফরহাদের সিপিবি আর আজকের সিপিবি এক নয়। অথচ আদর্শ ভিত্তিক দলের এমনটা হবার কথা ছিল না। 

দুবনা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Monday, October 26, 2026

অকারণে

পদার্থ বিজ্ঞানে কার্যকারণ সম্পর্ক বলে একটা কথা আছে। মানে সব কাজের পেছনে কোন কারণ থাকে। যেমন সুইচ অন করলে আলো জ্বলে, উল্টোটা নয়। কিন্তু রাজনীতিতে এই নিয়ম প্রায়ই ভাঙা হয়। অকারণে কাউকে গ্রেফতার করার পরে সরকার কারণ খুঁজতে শুরু করে। এতে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও প্রকৃতি বিরুদ্ধ বিধায় একদিন সুদে আসলে মাশুল দিতে হয়। দীপক শীল সহ সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি না দেয়া প্রকৃতি বিরুদ্ধ।

মস্কো, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

Sunday, October 25, 2026

প্রশ্ন

বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়া মানিক পশারী মারা গেছেন। যে দেশের জন্য অস্ত্র হাতে লড়াই করলেন, স্বাধীনতা আনলেন সেই স্বাধীন দেশে তিনি বীরের বেশে মরতে পারলেন না। যে সমস্ত কমরেডরা এখনও জুলাই বিপ্লবী বলে গর্বিত হয় তাদের কাছে প্রশ্ন - দেশের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার জন্যই কি আপনারা চব্বিশে লড়াই করেছিলেন? যে সব কমরেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারাই বা এসব ব্যাপারে কি ভাবছেন? নাকি আপনাদের মতে কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধা একটু বেশি রকমের সমান? তাহলে সাম্যের রাজনীতি কি শুধু মুখোস? 

মস্কো, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মোরগ

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় শান্তির উৎসবে ইউরোপ নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না। তারা এখন নিজেদের মধ্য থেকে এমন কাউকে খুঁজছে যে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে রাশিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। এটা আমাকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত কবিতা মনে করিয়ে দেয় 
ছোট্ট মোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখে 
প্রাসাদের ভেতর রাশি রাশি খাবার। 

আশা করি এখনও সময় আছে যখন ইউরোপ খাবার হিসেবে আসবে না, আসবে খাবার খেতে।

দুবনা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

Saturday, October 24, 2026

ডুয়ালিটি

শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অচল, শুধু মগজ এখনও বেঁচে আছে কষ্ট অনুভব করার জন্য। 

শরীরে তেজ উপচে পড়ছে কিন্তু মস্তিষ্ক অনুভূতিহীন।

দুটো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান হলেও ব্যক্তি মানুষ বা রাষ্ট্রের জন্য ফলাফল এক ও অভিন্ন। সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় মনে হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বর্তমানে পর্যায়ক্রমে এই দুটো অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে - অনেকটা ওয়েভ পার্টিকল বা তরঙ্গ-কণা ডুয়ালিটির মত।‌

দুবনা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

Wednesday, October 21, 2026

ভাবনা

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ বলেছেন যে ইউক্রেনের লড়াই এটা আমাদের (রাশিয়ার) লড়াই, এই লড়াইয়ে জিততে হলে আমাদেরকেই জিততে হবে, কারও উপর ভরসা করলে চলবে না। বিভিন্ন প্রস্তাব আসছে। তবে সেসবে আমাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিলেই শুধু তা বাস্তবায়ন সম্ভব। 

এর বিপরীতে বলা যায় যে ইউক্রেন যুদ্ধ করছে অন্যের (ইউরোপ আমেরিকার) অর্থে, অন্যের অস্ত্র দিয়ে, পক্ষান্তরে ইউরোপ যুদ্ধ করছে ইউক্রেনের মাটিতে ইউক্রেনের মানুষ দিয়ে। অনেকটা কয়েক বছর আগে তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে শিল্পায়নের মত - ইউরোপ আমেরিকার অর্থ ও যন্ত্রপাতি, তৃতীয় বিশ্বের মাটি ও মানুষ অর্থাৎ স্বল্প বেতনের শ্রমিক। উৎপন্ন পণ্য উন্নত বিশ্বের, পরিবেশ দূষণের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের রুটি রুজি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের। এই ফর্মুলায় শিল্পায়ন করা যায় কিন্তু যুদ্ধ জয় করা যায় না। কারণ ভাগের মা গঙ্গা পায় না। তাছাড়া শিল্পায়নে মানুষ লড়াই করে বাঁচার জন্য, জীবনের জন্য, যুদ্ধে ইউক্রেন লড়াই করছে মরার জন্য। ইউরোপের স্লোগান কিন্তু ইউক্রেনের শেষ মানুষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। মানে তারা মুখে যাই বলুক ইউক্রেনের জীবিত মানুষ তাদের দরকার নেই।

দুবনা, ২২ অক্টোবর ২০২৬

Tuesday, October 20, 2026

লোক চেনার ফর্মুলা

আজ মস্কোয় আমার মেডিক্যাল চেক আপ। বছরে একবার। মাস্ট। দুবনায় আরেক বার। চেক আপ মানেই অনেক ডাক্তার দেখানো। লাইন ধরা আর এক ডাক্তার থেকে অন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া। আমি যেহেতু মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারি না, তাই বারবার লাইন হারিয়ে ফেলি আর নতুন করে লাইন ধরি। কতবার ভেবেছি, লাইন ধরে যার পেছনে দাঁড়াই তার সাথে একটা সেলফি তুলে রাখব। প্রথমত সেটা করতে ভুলে যাই আর মনে থাকলেও সেলফি তোলার অজুহাত খুঁজে পাই না। আজ এক ছেলে ডাক্তারের কাছ থেকে বেরুলে বললাম আমি ওর পেছনে ছিলাম। অন্যেরা রাজি ছিল। তবে ঐ ছেলে বলল আমাকে দেখে নাই। ডাহা মিথ্যা। তবে আংশিক সত্য। আমি ওর পেছনে দাঁড়িয়েছিলাম ব্লাড দেবার সময়। ও এখন বেরুল সাইকাট্রিস্টকে দেখিয়ে। তবে এটা আমি বুঝলাম বেশ পরে। আমি যে ছেলেটার পেছনে দাঁড়িয়েছিলাম সেও ছিল আফ্রিকা থেকে, তবে ওর গায়ে ছিল কালো জামা ও কম বয়সী। এই ছেলে আফ্রিকার হলেও বয়স্ক আর সবুজ টিশার্ট পরা। লোক চেনার নতুন ফর্মুলা খুঁজতে হবে।‌

মস্কো, ২০ অক্টোবর ২০২৬