আজকাল রঙিন বিপ্লবের কথা প্রায়ই শোনা যায়। আচ্ছা এরকম প্রথম বিপ্লব কি তিয়ানানমেন স্কয়ারে অকাল মৃত্যু বরণ করেছিল? সেখানেও ছাত্রদের অসন্তোষ। অসন্তোষই সবসময় বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে আর ছাত্ররাই ছিল এসব বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। রাশিয়ায় বলি আর অন্যান্য দেশেই বলি, ছাত্রদের পাঠচক্র থেকেই শুরু হত বিপ্লবী কর্মকাণ্ড। এসব গোপন সংগঠনের বেশিরভাগ ছিল নৈরাজ্যবাদী। যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করত তারা শ্রমিকদের সংগঠিত করত। কারণ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চালিকা শক্তি শ্রমিক শ্রেণী। তবে সমাজ পরিবর্তনে ছাত্রদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিবিপ্লব - সেটাও বিপ্লব। পুঁজিবাদ বা বৃহৎ পুঁজি (যা সরাসরি ক্ষমতায় না থেকে পেছন থেকে ক্ষমতা-ঘোড়ার লাগাম ধরে বসে থাকে) সেটাকেই ব্যবহার করে অপছন্দের রেজিম চেঞ্জের জন্য। এসব বিপ্লবকে প্রতিবিপ্লব বলার কারণ এই যে প্রায় প্রতিটি রঙিন বিপ্লব দিনের শেষে দেশে ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা ভূরাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে। তাই এসব বিপ্লব যে কার স্বার্থে সেটা বুঝতে কষ্ট হয় না। চীন ও বেলারুশে ব্যর্থ হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিপ্লব সার্থক, জনগণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় দালালদের জন্য।
দুবনা, ০৯ আগস্ট ২০২৬