দুবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Untold thoughts
Tuesday, September 15, 2026
উপলব্ধি
পরীক্ষায় ফেল করলে মন খারাপ হয়, বছর নষ্ট হয়। কিন্তু পরের বার পরীক্ষায় বসে পাশ করা যায়, এমনকি চেষ্টা করলে হারানো সময়ও মেক আপ করা যায়। তবে চিকিৎসায় ভুল হলে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একই কথা বলা চলে রাজনীতির ক্ষেত্রে। এখানে ভুল করলে দেশের খোলনলচে পাল্টে যায়। তখন হাজারটা মিটিং মিছিলও সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তারপরেও সেসব করতে হয়। আর শুরুতেই ভুলটা স্বীকার করতে হয়। তাতে এ প্রজন্মে না হলেও পরবর্তী কোন প্রজন্মে শাপমোচন হয়। এমনকি দেশ তার নিজের বলয়ে ফিরে আসে।
Sunday, September 13, 2026
শরতের রোদ নাকি শর্তের রোদ?
জানালার বাইরে শরতের রোদ
নেই কোন রাগ তার নেই কোন ক্রোধ।
কুসুম গরম সেই সূর্য কিরণ
দেখলেই মূহুর্তে জুড়িয়ে যায় মন
রোদের আলতো ছোঁয়া গাছেরা হাসে
তাই তো সবাই তাকে এত ভালোবাসে
নীল আকাশে সাদা মেঘ রোদ ঝলমল
রোদের বৃষ্টিতে ভিজে ভোলগা টলটল
মস্কো, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অস্ত্র
অনেক আগে গরুর রচনা পড়ে বেশ হেসেছিলাম। তবে একটু ভেবে দেখলাম এটা আমাদের জীবনে হরহামেশাই ঘটে। এমনকি সবচেয়ে অত্যাচারী শাসকের উজির নাজিররা নূন্যতম সুযোগে জনগণকে তাদের মহানুভবতা ও সাফল্যের বয়ান শোনায়।
ইউক্রেন এখন যুদ্ধরত। জেলেনস্কি ব্যস্ত দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে অর্থ ও অস্ত্র ভিক্ষায়। অস্ত্র যে কতটা অর্থহীন সেটা সে কবে বুঝবে এটাই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।
কয়েক দিন আগে জেলেনস্কি গিয়েছিল নরওয়ের রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে। সেখানে গিয়েও অস্ত্র সাহায্য চাইলে অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আচ্ছা একজন লোক যদি মানসিক ভাবে সুস্থ না হয় সে কি পারবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে? এখন রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করছে তাতে অচিরেই শুধু ইউক্রেন নয় ইউরোপও অস্ত্র মুক্ত হবে বলে ধারণা করা যায়।
মস্কোর পথে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Friday, September 11, 2026
সময়
নতুন বাংলাদেশে
জীবনকে ঝুলিয়ে মৃত্যুরা আসে
মৃত্যুর মিছিল আজ সারা দেশ জুড়ে
বাংলার হৃদপিন্ড খায় কুড়ে কুড়ে।
দুবনা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Thursday, September 10, 2026
সময়
শুনলাম ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আপনি ভাবতেই পারেন এটা ছাত্রলীগের সমস্যা, এটা আওয়ামী লীগের সমস্যা বা ঐ জাতীয় কিছু। বাস্তবে এটা আপনার সমস্যা।
আচ্ছা আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কিসের জন্য? সম্পত্তির। মামলায় লড়ে ভাই -ভাই, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র। তাই স্বার্থের কাছে আপন পর বলে কেউ নেই, কিছু নেই।
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, সংখ্যালঘু - এরা আসলে কে? ভিন্নমতাবলম্বী। কোন না কোন প্রশ্নে মতের অমিল হলেই কাউকে হত্যা করা গেলে সেই দিন খুব দূরে নয় যখন এদের অস্ত্র আপনার দিকে তাক করা হবে। তখন আর চারপাশে কেউ থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা তখন আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না, এটা হবে সামাজিক বিধি।
এখনও যদি মেরুদন্ড পুরোপুরি খোয়া না যায়, এখনও যদি মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তাহলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, যেকোন মবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, অন্যদের প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করুন। না হলে কলঙ্কময় মৃত্যু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
দুবনা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Sunday, September 6, 2026
শিক্ষা
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে সুশীল সমাজ বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবী সমাজ জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার প্রধান কুশীলব। একদল ভাঙে সরকারের ন্যায় অন্যায় সবকিছুর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে, অন্যদল সরকারের ভালো মন্দ সবকিছুর সমালোচনা করে। দল নিরপেক্ষ না হয়ে বুদ্ধিজীবীরা হয়ে ওঠেন পার্টিজান। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর তারা যারা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিজেদের সেলিব্রিটি বানানোর জন্য সত্য না বলে বাতাস বুঝে কথা বলে, মানুষকে প্রিয় মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে, তাদের চিন্তাশক্তি ধ্বংস করে। এই সমস্ত লেখক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী মনে করে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ আধুনিক মাদ্রাসা। আসলে এরা নিজেরাই একটু উপরের স্তরের ওয়াজকারী। মধ্যবিত্ত মনোভাবের কারণে টুপি পরে দাড়ি রেখে গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ করতে এদের বাঁধে বিধায় স্যুটেড বুটেড হয়ে ক্লিন শেভড মুখে বিশ্ব বিদ্যালয় বা টেলিভিশনের পর্দা থেকে এরা মার্জিত ভাষায় সেই সস্তা কথাগুলোই আকর্ষণীয় প্যাকেটে করে সর্বসাধারণের মধ্যে বিক্রি করে। তা সে ছাব্বিশ লক্ষ ভারতীয়, হিন্দুরা ভারত পন্থী, মার্কিন গণতন্ত্র ভাই অন্য যেকোনো শিরোনামেই হোক না কেন।
মস্কো, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পন্থা
কোন কোন তথাকথিত সুশীল নাকি বলে যে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারত পন্থী। এরা একথা বলে নিজেরা যে পাকিস্তান পন্থী সেটা আড়াল করার জন্য। বাস্তবতা হল এদেশের হিন্দুরাই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ পন্থী। বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, আঁকড়ে ধরে থাকে। দেশ শুধু ভূমি নয় আর জাতি শুধু মানুষ নয়। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব কেউ যদি মনেপ্রাণে ধরে রাখতে চায়, মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে তবে তারা মূলতঃ এ দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক কৃষক আর শিক্ষিত অশিক্ষিত সব ধরনের হিন্দুরা। তাই এদের ভারত পন্থী বলা আসলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস করার নগ্ন প্রচেষ্টা। আর যেসব সুশীল এসব করে তারা ঘৃণা ছাড়া আর কোন কিছুর যোগ্য নয়।
মস্কোর পথে, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মস্কোর পথে, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subscribe to:
Posts (Atom)