মস্কো, ১৭ যে ২০২৬
Untold thoughts
Sunday, May 17, 2026
উপলব্ধি
১৯৪৭ এর পর থেকে দুই বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন দুই ভিন্ন পথে অগ্রসর হলেও বিগত দশকে পথ দুটো খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। উভয় বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তীব্র আকার ধারণ করেছে, মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সবাই সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখছে। সহনশীলতা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এসব শব্দ বাংলা অভিধান থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
Thursday, May 14, 2026
নীতি
টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কির এক সময়ের সেক্রেটারি পরোক্ষভাবে তার নেশাগ্রস্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে আর এও বলেছে যুদ্ধই তার টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। একথা যে আগে জানা ছিল না তা নয়, তবে এখন সেটা স্বীকার করল জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ এক লোক। সে যে অভিনয় জীবনেই নেশা করত সেটাও জানা। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে "সভ্য" দেশগুলো তার উপর বাজি রাখল কেন? ইতিহাস বলে অন্যদের সভ্য করার দায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই শত্রু শিবিরে বা যেসব দেশ নিজেদের বলয়ে রাখতে চায় সেখানে হয় দুর্নীতিবাজ ও বিশ্বাসঘাতক খুঁজে না হয় ক্ষমতা ও অর্থের লোভ দেখিয়ে তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে। আর একবার টোপ গিললে সত্য ফাঁস করে দেবার ভয় দেখিয়ে এদের দিয়ে যা খুশি তাই করিয়ে নেয়। কিন্তু সেই সত্যটা আংশিক। সেখানে ঘুষ যে গ্রহণ করে সেই একমাত্র দোষী, ঘুষ দাতা বা দুর্নীতি করার উস্কানি দাতার কোন দায় নেই - এই মন্ত্র জপ করে নিজেদের সবসময়ই বিচারের ঊর্ধ্বে রাখে পশ্চিমারা। যদিও দিনের শেষে জেলেনস্কি বা ইউনুস যুদ্ধ ও মবের মাধ্যমে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবার জন্য ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে থাকবে তবে এইসব মৃত্যুর নেপথ্য কলাকুশলীরা বরাবরের মতই বেকসুর খালাস পাবে। এটাই সভ্যতা। যতদিন আমরা এই বয়ানকে সভ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করব ততদিন দুর্নীতি হবে আমাদের নীতি।
দুবনা, ১৪ মে ২০২৬
Wednesday, May 13, 2026
বিশ্বাস
একজন অভিযোগের সুরে বলল যে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা উঠে গেছে। চারিদিকে শুধু বিশ্বাসঘাতক আর বেইমানের দল।
আমি বললাম প্রতিদিন যেভাবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেরা পুড়ে মরে আর আমাকে না খাইয়ে মারে তাতে অন্য লোকের বেইমানি আমাকে আর বিচলিত করে না। তোমাকে বোকা বানানোর জন্য সবাই লেজ গুটিয়ে বসে আছে, তুমি বোকা হবে কি হবে না সেটা একান্তই তোমার সিদ্ধান্ত। অন্ধভাবে বিশ্বাস না করলে হয়তো আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে হত না।
দুবনা, ১৩ যে ২০২৬
আশা
পশ্চিম বঙ্গে নতুন মূখ্য মন্ত্রী শপথ নেবার পরে মমতাশঙ্কর বললেন "মনে হল আবার স্বাধীন হলাম।" তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আমার জানা নেই। তাঁকে জানি শিল্পী হিসেবে। এই বক্তব্য শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। হাসিনা পরবর্তী ইউনুসের বাংলাদেশ আমরা দেখেছি। জেনেছি ইউনুসের মেটিকুলাস প্ল্যানের নেপথ্য শক্তির কথা। আশা করি পশ্চিম বঙ্গের মানুষকে একই ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
দুবনা, ১৩ মে ২০২৬
Friday, May 8, 2026
এবারের রবি ভাবনা
ধার্মিক আর নাস্তিক ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা নিয়ে বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। অবিশ্বাস যত যুক্তির উপরেই দাঁড়িয়ে থাকুক না কেন সেটাও বিশ্বাস। কারণ ঠিক যেভাবে ধার্মিক ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, ঠিক একই ভাবে নাস্তিক তাঁর অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে। সেদিক থেকে যারা রবীন্দ্র প্রেমী ও রবীন্দ্র বিরোধী তাদের সমস্যা আরও গভীর। কারণ ভক্তদের মনে রবীন্দ্রনাথ যত উঁচু আসনেই বসে থাকুন না কেন দিনের শেষে তিনি মানুষ যদিও অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। আর রবীন্দ্র বিরোধীরা চাক বা না চাক, তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা, তাঁর অসাধারণত্ব অস্বীকার করতে হলে সেটা তাঁর অস্তিত্বকে স্বীকার করেই করতে হয়। সেই বিবেচনায় নাস্তিকরা রবীন্দ্র বিরোধীদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যারা অতিরিক্ত মাতামাতি করে - তা সে তাঁকে ভক্তি করেই হোক বা তাঁকে ঘৃণা করেই হোক, তাদের বাইরেও বিশাল এক দল মানুষ আছে যারা লেখক, কবি, সুরকার রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসে, ধারণ করে, সুখে দুঃখে, হরষে বিষাদে তাঁর কাছে আশ্রয় নেয়, তাঁকে পাশে নিয়ে চলে। এদের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকেন যুগ যুগান্তর। শুধু জন্মদিনেই নয় এদের কাছে তিনি ফিরে আসেন দিন দিন প্রতিদিন!
দুবনা, ০৮ মে ২০২৬
Monday, May 4, 2026
তেজষ্ক্রিয়তা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যে দূষিত এতে কখনোই সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সব দেখে মনে হয় গত দেড় বছরে দেশের রাজনীতির ময়দানে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। আর এর তেজষ্ক্রিয়তায় দেশে দুই পিতার ঔরষে বিএনপি ও জামায়াত নামক একটি দল জন্ম গ্রহণ করছে। কথাটা আমার নয়, এক বিজ্ঞ মন্ত্রীর। মন্ত্রী যখন বলেছেন হবে হয়তো। শুধু এই মন্ত্রীই নয়, অন্যান্য অনেকেই পাল্লা দিয়ে উদ্ভট সব বাণী উদগার করছে।
মস্কো, ০৪ মে ২০২৬
Thursday, April 30, 2026
তীর্থভ্রমণ
সেদিন এক বন্ধু জিজ্ঞেস করল এত লোক হজ্ব করতে যায়, তীর্থ ভ্রমণ করে, আপনি কোথাও যান না কেন? আপনি তো লিখতে আর ছবি তুলতে পছন্দ করেন। অনেক রষদ পেয়ে যেতেন।
ছোটবেলায় মায়ের সাথে গয়া কাশী পুরি সহ অনেক তীর্থে গেছি। মূলতঃ মায়ের পোটলা হয়ে। এটা ওটা দেখতাম, ভালোই লাগত। এখন তো যাওয়া সহজ, অজুহাত অনেক। যেমন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া
অমুক দিন তমুক জায়গায় ভগবানের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। ভেবে দেখ কত কমেন্ট লাইক পড়ত।
তাহলে যান না কেন?
কীভাবে যাব? ভগবানের এপয়েন্টমেন্ট তো কিছুতেই পাচ্ছি না। পান্ডারা মোটা অংকের বিনিময়ে নাকি যোগাড় করে দিতে পারে। কিন্তু ঘুষ দিয়ে ভগবানের সাথে দেখা করতে মন চায় না।
দুবনা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Subscribe to:
Posts (Atom)