আজকাল প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়
চোখে চোখ রেখে কথা বলা।
অনেকেই এটাকে মনে করে সাহসী পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে বক্তা শ্রোতাকে ভয় পায় না, প্রয়োজনে দুর্বিনীত হতে পারে অর্থাৎ সে নিজেকে স্বাধীনচেতা হিসেবে শ্রোতার সামনে প্রকাশ করতে পারে। তবে এটা যে সব সমস্যার সমাধান নয়, সব ক্ষেত্রে চোখে চোখ রাখার প্রয়োজন নেই সেটাও বুঝতে হবে। সাধারণ ভাবে মানুষ যখন কথা বলে তখন সে চায় শ্রোতা তার কথা শুনুক। এক্ষেত্রে চোখ কোথায় আছে তারচেয়ে বড় কথা সে শুনছে কি না। তাছাড়া চোখে চোখ রেখে কথা বলতে বলে জেরাকারী বক্তা যে মিথ্যা কথা বলছে না সেটা প্রমাণের জন্য। চোখে চোখ রেখে কথা বলার ঘোষণা দেয়া মানে শুরুতেই নিজের অপেক্ষাকৃত নীচু অবস্থানকে স্বীকার করে নেওয়া। তাই চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারার মধ্যে নিজের ভূলুণ্ঠিত আত্মবিশ্বাস টেনে তোলার প্রচেষ্টা আছে কিন্তু প্রাগমাটিজম নেই। এটা দুর্বল আর ব্যর্থ মানুষের আস্ফালন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থহীন, এমনকি ক্ষতিকর।
ভেলিকি নভগোরাদের পথে, ২৬ আগস্ট ২০২৬