Wednesday, May 13, 2026

বিশ্বাস

একজন অভিযোগের সুরে বলল যে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা উঠে গেছে। চারিদিকে শুধু বিশ্বাসঘাতক আর বেইমানের দল। 
আমি বললাম প্রতিদিন যেভাবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেরা পুড়ে মরে আর আমাকে না খাইয়ে মারে তাতে অন্য লোকের বেইমানি আমাকে আর বিচলিত করে না। তোমাকে বোকা বানানোর জন্য সবাই লেজ গুটিয়ে বসে আছে, তুমি বোকা হবে কি হবে না সেটা একান্তই তোমার সিদ্ধান্ত। অন্ধভাবে বিশ্বাস না করলে হয়তো আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে হত না।

দুবনা, ১৩ যে ২০২৬

আশা

পশ্চিম বঙ্গে নতুন মূখ্য মন্ত্রী শপথ নেবার পরে মমতাশঙ্কর বললেন "মনে হল আবার স্বাধীন হলাম।" তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আমার জানা নেই। তাঁকে জানি শিল্পী হিসেবে। এই বক্তব্য শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। হাসিনা পরবর্তী ইউনুসের বাংলাদেশ আমরা দেখেছি। জেনেছি ইউনুসের মেটিকুলাস প্ল্যানের নেপথ্য শক্তির কথা। আশা করি পশ্চিম বঙ্গের মানুষকে একই ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

দুবনা, ১৩ মে ২০২৬

Friday, May 8, 2026

এবারের রবি ভাবনা

ধার্মিক আর নাস্তিক ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা নিয়ে বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। অবিশ্বাস যত যুক্তির উপরেই দাঁড়িয়ে থাকুক না কেন সেটাও বিশ্বাস। কারণ ঠিক যেভাবে ধার্মিক ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, ঠিক একই ভাবে নাস্তিক তাঁর অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে। সেদিক থেকে যারা রবীন্দ্র প্রেমী ও রবীন্দ্র বিরোধী তাদের সমস্যা আরও গভীর। কারণ ভক্তদের মনে রবীন্দ্রনাথ যত উঁচু আসনেই বসে থাকুন না কেন দিনের শেষে তিনি মানুষ যদিও অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। আর রবীন্দ্র বিরোধীরা চাক বা না চাক, তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা, তাঁর অসাধারণত্ব অস্বীকার করতে হলে সেটা তাঁর অস্তিত্বকে স্বীকার করেই করতে হয়। সেই বিবেচনায় নাস্তিকরা রবীন্দ্র বিরোধীদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যারা অতিরিক্ত মাতামাতি করে - তা সে তাঁকে ভক্তি করেই হোক বা তাঁকে ঘৃণা করেই হোক, তাদের বাইরেও বিশাল এক দল মানুষ আছে যারা লেখক, কবি, সুরকার রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসে, ধারণ করে, সুখে দুঃখে, হরষে বিষাদে তাঁর কাছে আশ্রয় নেয়, তাঁকে পাশে নিয়ে চলে। এদের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকেন যুগ যুগান্তর। শুধু জন্মদিনেই নয় এদের কাছে তিনি ফিরে আসেন দিন দিন প্রতিদিন!

দুবনা, ০৮ মে ২০২৬

Monday, May 4, 2026

তেজষ্ক্রিয়তা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যে দূষিত এতে কখনোই সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সব দেখে মনে হয় গত দেড় বছরে দেশের রাজনীতির ময়দানে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। আর এর তেজষ্ক্রিয়তায় দেশে দুই পিতার ঔরষে বিএনপি ও জামায়াত নামক একটি দল জন্ম গ্রহণ করছে। কথাটা আমার নয়, এক বিজ্ঞ মন্ত্রীর। মন্ত্রী যখন বলেছেন হবে হয়তো। শুধু এই মন্ত্রীই নয়, অন্যান্য অনেকেই পাল্লা দিয়ে উদ্ভট সব বাণী উদগার করছে। 

মস্কো, ০৪ মে ২০২৬

Thursday, April 30, 2026

তীর্থভ্রমণ

সেদিন এক বন্ধু জিজ্ঞেস করল এত লোক হজ্ব করতে যায়, তীর্থ ভ্রমণ করে, আপনি কোথাও যান না কেন? আপনি তো লিখতে আর ছবি তুলতে পছন্দ করেন। অনেক রষদ পেয়ে যেতেন। 

ছোটবেলায় মায়ের সাথে গয়া কাশী পুরি সহ অনেক তীর্থে গেছি। মূলতঃ মায়ের পোটলা হয়ে। এটা ওটা দেখতাম, ভালোই লাগত। এখন তো যাওয়া সহজ, অজুহাত অনেক। যেমন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া 
অমুক দিন তমুক জায়গায় ভগবানের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। ভেবে দেখ কত কমেন্ট লাইক পড়ত।
তাহলে যান না কেন?
কীভাবে যাব? ভগবানের এপয়েন্টমেন্ট তো কিছুতেই পাচ্ছি না। পান্ডারা মোটা অংকের বিনিময়ে নাকি যোগাড় করে দিতে পারে। কিন্তু ঘুষ দিয়ে ভগবানের সাথে দেখা করতে মন চায় না।

দুবনা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

Tuesday, April 28, 2026

রাজনীতি

আমরা সবাই বায়ুর সাগরের ডুব সাঁতারু। সে কথা আমরা সবাই জানি মানি আর নাই মানি। কিছু মানুষের কাছে বাতাসের অস্তিত্ব ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে ধরা পড়ে, আবার কেউ কেউ গাছপালা বা পাতা দুলতে দেখেও সেটা টের পায়। গুমোট আবহাওয়ায় অনেকেই ভাবে বাতাস নেই। আসলে সেখানেও বাতাস থাকে, যেমন জল থাকে স্রোতহীন বদ্ধ জলাশয়ে। একই ভাবে মানুষ বসবাস করে রাজনীতির গভীর জলে। সেখানেও জোয়ার ভাটা আসে, আবার তৈরি হয় ডোবাখানা। তাই যখন রাজনৈতিক আলাপ পরিবেশ নষ্ট করে – এ ধরণের কথা শুনি তখন আসলে আমরা ভিন্ন ধরণের রাজনীতিতে আঁটকে যাই। সমস্যা নিয়ে না ভাবলে সমস্যা দূর হয় না বা সমস্যার সমাধান হয় না তা নয়, সমাধান হয় অন্যের মত করে যা আরও বেশি বড় সমস্যা হিসেবে হাজির হবার সম্ভাবনা থাকে। রাজনীতি নিয়ে না ভাবলেও তেমনি রাজনীতি আমাদের ছেড়ে চলে যায় না। চাল ডালের দাম, তেলের দাম, বেকারত্ব, যুদ্ধ, মব – ইত্যাদি আকারে আমাদের জীবনে আসে, আসে অনাহুত অতিথির বেশে – অনেকটা বর্গীদের মত। আসলে কথা বলা কথা না বলার চেয়ে ভালো। তবে সময় মত চুপ করে থাকার প্রয়োজন মোটেই কম নয়। রাজনৈতিক আলোচনা উল্টো পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ায় – সন্দেহ দূর করে। আমাকে বা আমাদের সব বিষয়েই যে একমত হতে হবে তার কোন মানে নেই, দ্বিমত প্রকাশ করার স্বাধীনতা, দ্বিমত প্রকাশ করার পরিবেশই আসল বন্ধুত্বপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যদি বন্ধুরা দ্বিমত করার ব্যাপারে একমত হতে না পারে – সেটা আর যাই হোক বন্ধুত্ব নয় – একই গাড়ির অপরিচিত সহযাত্রী। 

দুবনা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

Sunday, April 26, 2026

শুভ জন্মদিন

যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করা, ভবিষ্যতে তারা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে সাহায্য করা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যদিও প্রচলিত অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় তবুও এটা মানুষ গড়ার কারখানা। ছাত্র ইউনিয়ন যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য তার কর্মীদের মধ্যে সঞ্চারিত করে সেটা হয়তো সবাই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না, তবে এই সংগঠনের ছত্রছায়ায় যারা বেড়ে উঠেছে তাদের একটি বড় অংশ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংগঠনের জন্মলগ্ন ১৯৫২ সাল থেকেই। সঠিক ভাবে বললে জন্মের পরে ছাত্র ইউনিয়ন কাজ শুরু করেনি, কাজ শুরু করেই সে জন্ম নিয়েছে। আজ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জন্মদিন। ৭৪ বছর বয়সেও সে চিরসবুজ, চির তরুণ। ছাত্র ইউনিয়নের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মীদের জন্য রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা।

মস্কোর পথে, ২৬ এপ্রিল ২০২৬