Friday, May 22, 2026

ফাঁদ

মব, ধর্ষণ, বলাৎকার, সংখ্যালঘু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ - একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে আর ভালো ভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে এসবই একটি বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাজ। এর উদ্দেশ্য শুধুই যৌন তৃষ্ণা মেটানো নয়, কারোও বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করা নয় বা সংখ্যালঘুদের চাকরি থেকে উৎখাত করা নয়, এর মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রচলিত আইনকে মানুষের চোখে হেয় করা, অসাড় করা। কারণ বিভিন্ন অজুহাতে সরকার এসব ঘটনার তদন্ত করতে দ্বিধা করে। সরকারের এই দুর্বলতাই এদের মূল অস্ত্র।আইন যখন মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষ শুধু দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দোষ দেয় না, আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আর এটাই এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। কারণ বিকল্প হিসেবে তখন তারা শরিয়া আইন প্রণয়ন করার দাবি জানাতে পারে। যদি দেশের মানুষ ও সরকার এই ফাঁদে পা দিতে না চায় তাদের উচিৎ হবে ইদানিং ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা।

দুবনা, ২৩ মে ২০২৬

Wednesday, May 20, 2026

না

রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম তোলপাড়। অনেকেই বলছে ধর্ষক ও খুনী জামায়াত কর্মী। দাড়িপাল্লায় ভোট চেয়েছে। কোরআনের আইন ও ইসলামী শাসন চেয়েছে। এসব দেখে যে প্রশ্নগুলো মাথায় আসে-

 ইসলামী দলগুলিই কি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারীদের পারতপক্ষে গৃহবন্দী করে রাখার পক্ষে প্রচার করে না?
 আফগানিস্তানে কি সেটারই চর্চা হচ্ছে না? 

দেশের মানুষের একটি বড় অংশ যে রাজনীতি ধর্ষণ, শিশুদের বলাৎকার, ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর বিনা বিচারে/প্ররোচনায় আক্রমণ অনুমোদন করে সেই রাজনীতি সমর্থন করে। এটা যেমন সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস থেকে পরিস্কার, তেমনি পরিস্কার অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন ওয়াজ থেকে।

যদি রামিসাদের বাঁচাতে চান জামায়াত সহ সমস্ত ধরণের ধর্মীয় ও মৌলবাদী রাজনীতিকে না বলুন। রামিসার অকাল মৃত্যু কোন যৌন উন্মাদের একক অপরাধ নয়, এটা দেশের সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ও পচনের ফল। এখনই এদের রুখে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে কোন শিশুই নিরাপদ থাকবে না।

দুবনা, ২১ মে ২০২৬

Monday, May 18, 2026

প্রশ্ন

১৯৯৪ সালে আজকের দিনে মানে ১৮ মে দুবনার জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ- এ কাজ শুরু করি গবেষক হিসেবে। জীবনের অর্ধেকের বেশি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে চলে গেল। উত্তর পাই কিন্তু প্রশ্ন কমে না, উল্টো বেড়েই চলেছে। প্রশ্নই জীবন। যতদিন প্রশ্ন আছে, আছে উত্তর খোঁজার তাড়া। 
আমি কে কেন জন্ম কিসে বা কল্যাণ?

মস্কো, ১৮ মে ২০২৬

Sunday, May 17, 2026

উপলব্ধি

১৯৪৭ এর পর থেকে দুই বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন দুই ভিন্ন পথে অগ্রসর হলেও বিগত দশকে পথ দুটো খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। উভয় বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তীব্র আকার ধারণ করেছে, মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সবাই সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখছে। সহনশীলতা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এসব শব্দ বাংলা অভিধান থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

মস্কো, ১৭ যে ২০২৬

Thursday, May 14, 2026

নীতি

টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কির এক সময়ের সেক্রেটারি পরোক্ষভাবে তার নেশাগ্রস্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে আর এও বলেছে যুদ্ধই তার টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। একথা যে আগে জানা ছিল না তা নয়, তবে এখন সেটা স্বীকার করল জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ এক লোক। সে যে অভিনয় জীবনেই নেশা করত সেটাও জানা। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে "সভ্য" দেশগুলো তার উপর বাজি রাখল কেন? ইতিহাস বলে অন্যদের সভ্য করার দায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই শত্রু শিবিরে বা যেসব দেশ নিজেদের বলয়ে রাখতে চায় সেখানে হয় দুর্নীতিবাজ ও বিশ্বাসঘাতক খুঁজে না হয় ক্ষমতা ও অর্থের লোভ দেখিয়ে তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে। আর একবার টোপ গিললে সত্য ফাঁস করে দেবার ভয় দেখিয়ে এদের দিয়ে যা খুশি তাই করিয়ে নেয়। কিন্তু সেই সত্যটা আংশিক। সেখানে ঘুষ যে গ্রহণ করে সেই একমাত্র দোষী, ঘুষ দাতা বা দুর্নীতি করার উস্কানি দাতার কোন দায় নেই - এই মন্ত্র জপ করে নিজেদের সবসময়ই বিচারের ঊর্ধ্বে রাখে পশ্চিমারা। যদিও দিনের শেষে জেলেনস্কি বা ইউনুস যুদ্ধ ও মবের মাধ্যমে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবার জন্য ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে থাকবে তবে এইসব মৃত্যুর নেপথ্য কলাকুশলীরা বরাবরের মতই বেকসুর খালাস পাবে। এটাই সভ্যতা। যতদিন আমরা এই বয়ানকে সভ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করব ততদিন দুর্নীতি হবে আমাদের নীতি। 

 দুবনা, ১৪ মে ২০২৬

Wednesday, May 13, 2026

বিশ্বাস

একজন অভিযোগের সুরে বলল যে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা উঠে গেছে। চারিদিকে শুধু বিশ্বাসঘাতক আর বেইমানের দল। 
আমি বললাম প্রতিদিন যেভাবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেরা পুড়ে মরে আর আমাকে না খাইয়ে মারে তাতে অন্য লোকের বেইমানি আমাকে আর বিচলিত করে না। তোমাকে বোকা বানানোর জন্য সবাই লেজ গুটিয়ে বসে আছে, তুমি বোকা হবে কি হবে না সেটা একান্তই তোমার সিদ্ধান্ত। অন্ধভাবে বিশ্বাস না করলে হয়তো আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে হত না।

দুবনা, ১৩ যে ২০২৬

আশা

পশ্চিম বঙ্গে নতুন মূখ্য মন্ত্রী শপথ নেবার পরে মমতাশঙ্কর বললেন "মনে হল আবার স্বাধীন হলাম।" তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আমার জানা নেই। তাঁকে জানি শিল্পী হিসেবে। এই বক্তব্য শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। হাসিনা পরবর্তী ইউনুসের বাংলাদেশ আমরা দেখেছি। জেনেছি ইউনুসের মেটিকুলাস প্ল্যানের নেপথ্য শক্তির কথা। আশা করি পশ্চিম বঙ্গের মানুষকে একই ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

দুবনা, ১৩ মে ২০২৬