Monday, June 22, 2026

তেল বৃষ্টি

এক বন্ধু জানালো মস্কোর আকাশে নাকি তেল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো রাশিয়া জুরে তেল সংকট। এসব খবরে দেশ বিদেশের সব পত্র পত্রিকা ছয়লাভ। সংকট এড়াতে পুতিনের পদত্যাগ করা উচিৎ।

কি বলব? তেলের সঙ্কট হলে তেল বৃষ্টি হয় কীভাবে? তবে তেলের ব্যাপারে রেস্ট্রিকশন আছে, গাড়িতে তেল দিচ্ছে, ক্যানিস্টারে দিচ্ছে না। কারণ মানুষ বেশি বেশি করে মজুত করতে চাইলে সঙ্কট তৈরি হবে। যুদ্ধ যুদ্ধই। আমি ভাবি সব কথা বিশ্বাস করার আগে মানুষ একটু মাথা খাটায় না কেন? পশ্চিমা বিশ্ব আর যাই চাক, রাশিয়ার মঙ্গল চায় না, কোন দিন চায়নি। আর চায় না বলেই যুদ্ধটা জিইয়ে রাখছে। পুতিনকে পদত্যাগ করানোর জন্য তারা তো সেই ২০০৭ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বিভিন্ন দেশের নেতাদের (তা আমাদের পছন্দ হোক আর নাই হোক) পদত্যাগ করিয়ে তো দেশগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাই পুতিন পদত্যাগ করলে আর যাই হোক রাশিয়ার ভালো হবে না। বুঝতে হবে যে যুদ্ধের মাঠে পেরে না উঠে তারা এখন সিভিলিয়ানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে চাইছে। সমস্যা হল, রুশদের যত বেশি চাপে তারা তত বেশি ভয়ঙ্কর, তত বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমা বিশ্ব জীবন পণ করে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে নেমেছে। শুধু এ কথাই বলতে পারব, ওরা যখন বলবে রাশিয়ার অবস্থা খারাপ, এর মানে হল, রাশিয়া যুদ্ধের মাঠে ভাল করছে। অন্তত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর তাই বলে। বাকি আছে দানিয়েৎস্কের শেষ বড় শহর ক্রিমাতোরস্ক। এরপর ওদের আর প্রতিরোধ করার তেমন দুর্গ থাকবে না। খেলা জমছে।

দুবনা, ২২ জুন ২০২৬

Sunday, June 21, 2026

প্রশ্ন

জেলেনস্কি বেলারুশ আক্রমণের হুমকি দেয়ায় কেউ কেউ জানতে চাইছে এটা কি শুধুই ব্লাফ? না, এটা তার একান্ত মনের কথা। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে প্রচুর অস্ত্র, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি পেয়েও ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের একমাত্র বিনিয়োগ, ইউক্রেনের সবচেয়ে সবল ও কর্মক্ষম মানুষের মজুদ শেষের পথে। তারা মৃত, আহত, পলাতক বা যুদ্ধের অযোগ্য। তাই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও অপেক্ষাকৃত ভালো শর্তে যুদ্ধ বন্ধের প্রায় একমাত্র পথ ইউরোপকে যুদ্ধে জড়ানো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও বাল্টিকের দেশগুলো কমবেশি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে। তাদের দরকার কোন অজুহাত। যদি কোন ভাবে ইউক্রেন বেলারুশ আক্রমণ করে আর লুকাশোঙ্কো তার উত্তর দেয়, তাহলে এসব দেশ সেটাকে ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে নামার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা বিশ্বাস করে রাশিয়া কোন অবস্থাতেই তাদের সিভিলিয়ানদের উপর আক্রমণ করবে না আর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। আর যদি করে আমেরিকা তাদের উদ্ধার করবে। শিকারী কুকুর জানে সে যদি ভালুক বা নেকড়ে আক্রমণ করে করে তবে তার মালিক বন্য প্রাণীকে হত্যা করে তাকে উদ্ধার করবে। সমস্যা হল শিকারী বন্য প্রাণী হত্যা করার আগে কুকুর নিজেই যে অক্কা পাবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে। ইউরোপের নেতারা কি এই সহজ সত্যটি জানে?

দুবনা, ২১ জুন ২০২৬

Saturday, June 20, 2026

পররাষ্ট্র মন্ত্রী

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেটস। এই স্টেটস কি মার্কিন স্টেটস নাকি মার্কিন বাদে পৃথিবীর বাকি সব স্টেট। আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেটস যেভাবে বাইরের সব দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তাতে মনে হয় দ্বিতীয়টাই সত্য। এদিক থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কম যায় না। তারাও আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে শুধু নাক নয় শরীর পর্যন্ত গলায়। অনেকেই তো রাখঢাক না করে সরাসরি আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে দোকানপাট খুলে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এমনকি ভোট দিয়ে আমেরিকাকে বাংলাদেশের উপনিবেশ বানাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

দুবনা, ২০ জুন ২০২৬

Wednesday, June 17, 2026

বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে নাকি প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। জানি না এটা শেখ হাসিনার মডেল মসজিদের উত্তরে কি না, এমনকি সেটা হলেও বলব এটা ব্যাড আইডিয়া। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে আউট পুট ভিন্ন কিছু হবে না, শুধু ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এমনকি গ্রিনিজ বুকস অফ রেকর্ডসে নাম উঠতে পারে। মনে হয় এসব পরিকল্পনা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কারো অধিকার আছে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করার। ফলে সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব পার্টির সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব দলের উপস্থিতি দেখিয়ে দেশ গণতন্ত্রের ভান করতে পারে কিন্তু তাতে গণতন্ত্র কমে বই বাড়ে না। ঠিক একই ভাবে নতুন ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ডিগ্রিধারী বেকারের জন্ম দিতে পারে কিন্তু তাতে শিক্ষার মান কমবে বই বাড়বে না, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যায়ও কোন হেরফের হবে না। শুধু আরও তিন শ' অনুগত ভিসি ও কয়েক হাজার স্তাবক তৈরি হবে। এতে দেশের কোন লাভ হবে না। দলেরও না। নিকট অতীত অন্ততঃ সেটাই বলে। এক সময়ে ফেসবুকে কিছু কিছু ব্রীজের ছবি দেখতাম। বিশাল মাঠে একাকী ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দুই পাশে কোন রাস্তা নেই যাদের সে সংযুক্ত করে। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে যা আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে মনযোগ দেয়া উচিৎ। শরীর খারাপ হলে আমরা তার চিকিৎসা করি, আলি এক্সপ্রেসে নতুন শরীর অর্ডার দেই না।

দুবনা, ১৭ জুন ২০২৬

Monday, June 15, 2026

একটি নিষ্পাপ প্রস্তাব

আমাদের দেশে সব কিছুর পরেও সরকার প্রধানের কথাই শেষ কথা। সেটা সব আমলেই ছিল। আর এ কারণে বছর পাঁচেক আগে লিখেছিলাম আইন করে প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত আর সব মন্ত্রী পদে বোবাদের নিয়োগ করা হোক। এতে মন্ত্রী পরিষদের কাজ খুব বেশি খারাপ হবে বলে মনে হয় না, তবে জনগণ মন্ত্রীদের শিশুসুলভ কথাবার্তা গলাধঃকরণ করার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে। শিশুরা যেমন দন্ত বিহীন মুখ গহ্বর হতে সময়ে সময়ে কিছু শব্দ উগড়ে দেয় আর পারিপার্শ্বিক সবাই তার অর্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাদের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে। সেই বাস্তবতা থেকে মূক মন্ত্রী কোন ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়া নয়। এতে করে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে হয় না, আর মৌনতাই যেহেতু সম্মতির লক্ষণ তাই সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে আগে থেকেই ধরে নেয়া যায়। শুধু আগে থেকেই প্রস্তাবগুলো সঠিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সরকার প্রধান এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে।

মস্কো, ১৫ জুন ২০২৬

Saturday, June 13, 2026

ভাব না ভাবনা

আমাদের দেশের রাজনীতি ধর্মকে প্রভাবিত করে না ধর্ম রাজনীতিকে সেটাই ভাবছি। এটা ঠিক যে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ যা থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাই ধর্মের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও নেতারাই ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি তোলে। তবে সেটা ধর্মের খেদমত করার জন্য নয়, নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধর্ম মন্দির মসজিদের দেয়াল পেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে আসে। স্বাধীনতার পরে খুব অল্প সময়ের জন্য রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কমলেও সেটা দ্রুত ফিরে আসে। আমাদের ছোটবেলাতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হত। কথায় কথায় বুঝিয়ে দেয়া হত দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক কারা। পরে সেই ধারণা সম্প্রদায়ের চৌকাঠ পেরিয়ে দলীয় রাজনীতিতে ঢুকে যায়। সরকারি দলের নেতা কর্মীরা তা সে আওয়ামী লীগের হোক, বিএনপির হোক, জাতীয় পার্টি বা এনসিপির হোক - নিজেদের বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করে। যেহেতু সরকারি দল আর ধর্মীয় সংখ্যাগুরু - দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে অন্যদের অধিকার ক্ষুন্ন করার কাজে ব্যবহার করে তাই তারা পরস্পরের সহযোগিতা খোঁজে - প্রকাশ্যে বা গোপনে। ধর্ম ও রাজনীতি, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, এক হয়ে গেলে গণতন্ত্র সঙ্কুচিত হয় আর দেশ মধ্য যুগে ফিরে যায়। 

দুবনা, ১৩ জুন ২০২৬

Friday, June 12, 2026

নো অপশন

বড় কোম্পানি নিজের অবস্থান উন্নত করতে সাধারণত সফল মানুষদের আমন্ত্রণ জানায়। মমতা ব্যানার্জিকে লাইম লাইটে এনেছিলেন রাজীব গান্ধী। তিনি সবসময়ই কংগ্রেসকে ব্যবহার করেছেন এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন দল ও জোটের সাথে। এখন তাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতির পদ দেবার চিন্তা কতটুকু যৌক্তিক। আসলে দুটো নষ্ট ডিভাইস দিয়ে একটা চলনসই ডিভাইস তৈরি করা যায়, তবে সেটা সাময়িক, স্বল্পায়ু। দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান চাইলে মমতা ব্যানার্জি কোন অপশন বলে মনে হয় না। আশার কথা সোনিয়া গান্ধী মনে হয় ইতিমধ্যেই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। 

দুবনা, ১২ জুন ২০২৬


Thursday, June 11, 2026

কয়লা

ইউক্রেন সেভাস্তোপোলের ঐতিহাসিক মিউজিয়ামে আক্রমণ করল। এটা সেভাস্তোপোল প্রতিরক্ষা প্যানারমা। ১৮৫৪ - ১৮৫৫ সালে তুরস্ক, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সম্মিলিত বাহিনীর কয়েক গুণ বেশি নৌ-সেনার আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিহত করে রুশ নাবিকরা। সেই ঘটনাকেই চির স্মরণীয় করতে এই প্যানোরমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী এই প্যানারমা ধ্বংস করে। পরে তা নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এখন হিটলারের অনুসারী (যা তারা শুধু স্বীকার করে না, হিটলারের সহযোগী বান্দেরা ও অন্যদের রাষ্ট্রীয় ভাবে হিরোর মর্যাদা দিয়ে নিজেদের ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়াকে সম্মানের মনে করে) ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নতুন করে আঘাত হানে। ধারণা করা যায় যে এসব হয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। জন্মের পর থেকে অন্য দেশের ধনসম্পদ লুটপাট করা, অন্য দেশের জনগণকে শোষণ করা ছিল যাদের ঐতিহ্য তারা কীভাবে এ ধরণের সুযোগ হাতছাড়া করবে?

দুবনা, ১১ জুন ২০২৬

Wednesday, June 10, 2026

মামা

দেখলাম অধ্যাপক আবুল বারকাত জামিনে মুক্তি পাবার পরেও নতুন এক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। অন্য দিকে অধ্যাপক ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করছে না পুলিশ। আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে মামলা ক্ষমতাসীনদের মস্তক প্রসূত, ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলায় মনে হয় সারা দেশ সাক্ষ্য দেবে। দেশে একটা কথা চালু আছে যে মামা চাচা ছাড়া দেশে নাকি এমনকি ঝাড়ুদারের চাকরিও পাওয়া যায় না। তবে খুঁটি ছাড়া যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না সেটা সব সরকারই বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। যদি ইউরোপ, আমেরিকার প্রশাসনে এরকম কেউ না থাকে তবে বাংলাদেশে ন্যায় বিচার তো দূরের কথা এমনকি জামিনের মত ব্যাপারগুলোও অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে যায়। হায়রে দেশ, হায়রে স্বাধীনতা!

দুবনা, ১০ জুন ২০২৬

Monday, June 8, 2026

উপলব্ধি

 আমার এক সময় মনে হত সমস্ত রাজনীতিবিদদের ভালো করে ফিজিক্স পড়া দরকার। কারণ ফিজিক্সের ছাত্ররা আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে প্রাধান্য দেয় আর সমস্যা সমাধানে যতদূর সম্ভব নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। সমস্যার সমাধান পক্ষপাতদুষ্ট হলে সেটা হয় স্বল্পস্থায়ী, অস্থিতিশীল। 

তবে যে জিনিস দুটো আমি ধর্তব্যের বাইরে রেখেছিলাম তা হল আমরা পদার্থবিদরা নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করি আর পরে সেসব সমস্যার সমাধান করি। এটা আমরা করি কোন বিষয়ে আমাদের জ্ঞানকে আরও নিখুঁত করার জন্য। কারণ আমাদের কাছে শেষ কথা বলে কিছু নেই, আছে ক্রমাগত এগিয়ে চলা, নিজেদের আরও উন্নত করা। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমি ধর্তব্যের মধ্যে রাখিনি তা হল আমাদের কাছে নেগেটিভ রেজাল্ট বলে কিছু নেই। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তবে এসবই হতে হবে একই সাথে। 

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমার রাজনীতিবিদ বন্ধুরা যুক্তির পরিবর্তে আবেগকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে সমস্যার জন্ম দিয়েছে ও তার সমাধান করতে গিয়ে ভুল লক্ষ্যে পৌঁছেছে। আশা করি তারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে এগুবে। তাদের আরোও মনে রাখতে হবে যে তাদের তৈরি সমস্যা ফিজিক্সের মত খাতা কলমে সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় মানুষের পেটে লাথি মারে।

মস্কো, ০৮ জুন ২০২৬

Sunday, June 7, 2026

উই পোকা

ছোটবেলায় বাড়িতে যাত্রার দল ছিল। এছাড়াও শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন খেলা বা অন্য কোন কারণে বাড়িতে প্রায়ই হ্যাজাক জ্বালানো হত। অবাক হয়ে দেখতাম উই পোকা হ্যাজাকের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে তাতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করছে। তবে আত্মহত্যা কথাটি কতটুকু সত্য তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কেননা ওরা নিশ্চয়ই মরার জন্য আলোতে ঝাঁপ দিত না, অনিচ্ছা সত্ত্বেও মরত। 

মানুষও সেই উই পোকার মত। পৃথিবী অনেক বড়। মানুষ চাইলেই সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে পারত। কিন্তু তার দরকার অন্যদের বঞ্চিত করা, অন্যের সম্পদ দখল করা, অন্যের উপর ছড়ি ঘোরানো। আর তাই সে অবলীলায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জিতুক আর নাই জিতুক একসময় নিজেই নিজের লোভের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। মানুষ উই পোকা।

মস্কোর পথে, ০৭ জুন ২০২৬

Wednesday, June 3, 2026

সচেতনতা

জনগণ নাকি ধীরে ধীরে আওয়ামী দুঃশাসন ভুলে তাদের ফেরার অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন জরীপ অন্তত সেটাই দেখায়। তবে এই জরীপের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করা যেতেই পারে। ঢাকায় অনুমতি না দেবার পরেও ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে রাজনীতির মাঠে না থাকলেও মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগ আছে, ভালো ভাবেই আছে যদিও বর্তমান আওয়ামী লীগ সেই সমর্থন পাওয়ার যোগ্য কিনা সে প্রশ্নও মনে উঁকি দেয়। এমতাবস্থায় কথায় কথায় অনেকেই যখন আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচার বলে গালি দেয় এবং বিভিন্ন দেশ বিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে যৌথ ভাবে আন্দোলন করতে টালবাহানা করে তখন বোঝা যায় এরা কতটুকু জনবিচ্ছিন্ন। অনেক সময় মনে হয় দেশ নয় দেশের ভালো মন্দ সম্পর্কে নিজেদের ধারণাই তাদের কাছে একমাত্র সত্য।

দুবনা, ০৪ জুন ২০২৬

প্রশ্ন

ঘুম থেকে উঠে খবরে দেখলাম ইউক্রেন মস্কো থেকে সিম্ফেরাপোলগামী এক যাত্রীবাহী বাসে আঘাত হানলে সাত জন মারা যায়, দুই জনের অবস্থা শঙ্কাজনক, আরও কয়েকজন আহত। গতকাল রাতে মস্কো ও মস্কো রিজিয়নে ড্রোন আক্রমণ বিষয়ে সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একুশটি ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দেয় মস্কোর মেয়র। সামরিক ভাবে না পেরে ইউক্রেন এখন সন্ত্রাসবাদী পথ বেছে নিচ্ছে। আর এই কাজে সাহাজ্য করছে পশ্চিমা বিশ্ব যারা অস্ত্র শস্ত্র ও স্পুটনিক থেকে তথ্য সরবরাহ করে ইউক্রেনের আক্রমণ সফল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এঞ্জেলা মারকেল কম করে হলেও দশ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। কেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারকে সহযোগিতা করে যারা হাজার হাজার রুশ, পোলিশ ও ইহুদিদের নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদের জাতীয় বীর ঘোষণা ও দেহাবশেষ কিয়েভে সমাহিত করে ইউক্রেন সরকার নিজেদের ফ্যাসিস্টদের সাথে একাকার করে ফেলেছে। তাহলে কি বুঝতে হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এমনকি ফ্যাসিস্টদের সাথে আতাত করতেও পশ্চিমা বিশ্বের কোন আপত্তি নেই? এ ধরণের আক্রমণে প্রযুক্তিগত সহায়তা তাদেরকেও কি ফ্যাসিবাদী করে তোলে না? তাছাড়া মারকেল কোন যুক্তিতে ১০ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছেন? এরমধ্যে হয় পুতিন মরবে না হয় রাশিয়া ধ্বংস হবে না হয় ইউরোপ ধ্বংস হবে - খোজা নাসিরুদ্দীনের সেই যুক্তিই কি তাঁকে এ পথে পা বাড়াতে উতসাহিত করছেল?

 দুবনা, ০৩ জুন ২০২৬

Tuesday, June 2, 2026

পরকিয়া

আল কাপোনেকে আইনের আওতায় আনার জন্য তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয় যদিও তার অপরাধের সীমা পরিসীমা ছিল না। রাশিয়া যখন কোন দেশের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতে চায় তবে প্রথম এগিয়ে আসে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর যে বিভিন্ন অজুহাতে কোন দেশের কোন পণ্য এদেশে আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর্মেনিয়ার দুই চেয়ারে বসে থাকার বিষয়ে এরা আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল। কারণ ইউরেশিয়ান ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন ভর্তুকি পেয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদানের ব্যাপরটা অনেকটা স্বামীর খেয়েপরে প্রকাশ্য দিবালোকে পরকিয়া করার মত। তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন পানীয়ের পর ফলমূলের উপর নিষেধাজ্ঞা নেমে এসেছে। আর্মেনিয়ার এসব পণ্যের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ রপ্তানি হত রাশিয়ায়, বাজার মূল্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ দরে রাশিয়া থেকে গ্যাস পেত আর্মেনিয়া। এখন ইউরোপ কি এই দামে আর্মেনিয়াকে তেল গ্যাস সরবরাহ করবে, আর্মেনিয়ার পণ্য কিনবে? অন্যের বৌকে অনেকেই পটায়, খুব কম লোকেই বিয়ে করে। বিশেষ করে পাত্রী যদি দেউলিয়া হয়। আর্মেনিয়া নিজেকে দেউলিয়া করার পথে হাঁটছে।

মস্কো, ০২ জুন ২০২৬