দুবনা,০৭ এপ্রিল ২০২৩
Friday, April 7, 2023
ঘুম
গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরীদের অতি মাত্রায় সক্রিয়তা সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
Monday, April 3, 2023
ভয়
যে সমাজের মানুষ যত বেশি স্পর্শকাতর সে সমাজ তত বেশি সর্বগ্রাসী, টোটালিটারিয়ান। পাছে কোন বিপদে পড়ি এই আশংকা সেই সমাজের মানুষকে প্রায় প্রতিটি ব্যাপারে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলে, জন্ম নেয় ভয়ের সংস্কৃতি, মানুষ হারায় স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি, এমনকি এটা যে অচিরেই ধ্বংস ডেকে আনতে পারে তা জেনেও স্ব-সংরক্ষণের প্রবৃত্তি থেকে সে এই আত্মঘাতী ব্যবস্থাকেই সমর্থন করে যায়। এটা যেকোন সমাজ ব্যবস্থাতেই হতে পারে - তা সে রাজতন্ত্র হোক, সমাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র। যখনই কোন ইস্যু বা বিষয়কে কোন রকম সমালোচনার ঊর্ধ্বে তোলা হয় তখনই জন্ম নেয় এ ধরণের ভয়ের পরিবেশ যেটাকে ক্ষমতাসীনরা ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে।
দুবনা, ০৪ এপ্রিল ২০২৩
নদীর এপার কহে
যাদের গরু আছে এবং সেই গরু দুষ্ট তারা ভাবে "দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।" অবশ্য আমার কখনোই বোধগম্য হয় না শূন্য গোয়াল কি কাজে লাগবে? আর গরু না থাকলে সেটার নাম গোয়াল হবে কেন?
যাদের গরু নেই তারা দুষ্ট গরুর জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকে কিন্তু মুখে বলে "নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।"
সমস্যা!
দুবনার পথে, ০৩ এপ্রিল ২০২৩
সীমান্ত রেখা
রাজনীতিবিদ দেশ ভাগ করে মাটির উপর রেখা টেনে। বাস্তবে এই রেখা চলে যায় লাখ লাখ সাধারণ মানুষের বুক ভেদ করে, তাদের ভবিষ্যৎ রক্তাক্ত করে দিয়ে। তাই ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাশুল আজও দিয়ে যাচ্ছে উপমহাদেশের লাখ লাখ মানুষ। আজ ইউক্রেনের যে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ সেটাও এই মানুষের বুকের ভেতর দিয়ে সীমানা টানার ফল।
মস্কো, ০৩ এপ্রিল ২০২৩
Sunday, April 2, 2023
গণতন্ত্র
গণতন্ত্র আজ অনেকটা ঈশ্বরের মত। ঈশ্বরের নামে যেমন, গণতন্ত্রের নামেও তেমনি আজকাল সব কিছু চালিয়ে দেয়া যায়। পার্থক্য শুধু এই যে ঈশ্বরের মত গণতন্ত্র এখনও সর্বশক্তিমান নয়, এখনও গণতন্ত্রের ইচ্ছায় সবকিছু হয় না। তবে যে গতিতে গণতন্ত্রের জয়রথ এগিয়ে চলছে তাতে সেদিন দূরে নেই যেদিন মানুষ বলবে গণতন্ত্র যা করে সবার মঙ্গলের জন্যই করে। এভাবেই অদূর ভবিষ্যতে গণতন্ত্র ঈশ্বরের মতই স্বর্গের অধিবাসী হবে আর মানুষ মৃত্যুর পর সেই গণতন্ত্রের সুবিচার পাওয়ার আশায় জীবিত অবস্থায় নিজেদের মধ্যে মারামারি হানাহানি চালিয়ে যাবে কার গণতন্ত্র সেরা সেটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
মস্কো, ০৩ এপ্রিল ২০২৩
Saturday, April 1, 2023
সৃষ্টি রহস্য
হিন্দু ধর্ম ক্লাসে পন্ডিত স্যার প্রশ্ন করিলেন
- বল তো শ্যাম কিভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হইয়াছিল?
শ্যাম বিন্দুমাত্র না ভাবিয়া উত্তর দিল
- একদিন বিষ্ণু স্যার লক্ষ্মী ম্যাডামের সাথে ঘুমাইতেছিলেন। ব্রহ্মা স্যার পাশেই....
- ঐ শ্যামা ভগবান বিষ্ণু আবার তোর স্যার হইলেন কবে? লক্ষ্মী ম্যাডাম আবার কি? ম্যাডামের যুগ আমাদের দেশে অনেক আগেই শেষ।
- কেন স্যার। সরকারি কর্মচারীরা যদি স্যার হইতে পারে তাহা হইলে দেবতারা কি দোষ করিল। ওঁরা তো স্যারদের স্যার। দেখেন নাই পাবলিকের নিকট হইতে ঘুষ লইয়া তাহারা প্রথমেই উপাসনালয়ে দৌড়ায় দেবতাদের ভাগ বুঝাইয়া দিবার জন্য। কয়েক দিন পরে লোকজন কৃষ্ণ স্যার, বুদ্ধ স্যার, যীশু স্যার এই সব বলিতে শুরু করিবে। আর ম্যাডামে সমস্যা থাকলে লক্ষ্মী স্যার বলব স্যার। লক্ষ্মী ছেলে, লক্ষ্মী মেয়ে থাকলে লক্ষ্মী স্যার থাকতে সমস্যা কোথায়?
দুবনা, ০১ এপ্রিল ২০২৩
অসীম সীমা
সব কিছুরই শেষ আছে। উচ্চতারও। এক সময় এভারেস্ট শৃঙ্গও শেষ হয়ে যায়। উপরে ওঠার আর সুযোগ থাকে না। জীবন গতিময় বা গতিই জীবন। এই গতি বা জীবনকে ধরে রাখার জন্য নীচে নামতে হয়। যারা নামতে চায় না বা নামতে জানে না প্রকৃতির নিয়মেই তারা বাধ্য পড়ে যেতে। সেটা যেমন ব্যক্তি মানুষের জন্য সত্য তেমনি সত্য সমাজ বা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও। তাহলে কি মানুষ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হবে না? অবশ্যই হবে। তবে তাকে হতে হবে বিনয়ী। এই বিনয় আসে জ্ঞান থেকে। জ্ঞান বিনয়ী বলেই তার উচ্চতার কোন সীমানা নেই।
দুবনা, ০১ এপ্রিল ২০২৩
Subscribe to:
Posts (Atom)