Saturday, October 3, 2026

প্রশ্ন

একটা বহুল প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে সমস্ত দুর্ভোগের মূল হল অজ্ঞতা। কিন্তু জ্ঞান কি শুধুই পুঁথিতে লেখা বিদ্যা? পৃথিবীর সব জ্ঞান, সব বিদ্যা কি পুঁথি বা নথি বদ্ধ? প্রতিটি মানুষ কোন না কোনভাবে একমেবাদ্বিতীয়ম। প্রতিটি মানুষ নিজের নিজের পথে চলে, একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এমনকি দুই জন ফটোগ্রাফার একই স্টুডিওতে একই আলো ব্যবহার করে ছবি তুললেও সেগুলো ভিন্ন হয়। এখানে আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কিছুই কাজ করে। দুর্ভোগের মূলে বেশিরভাগ সময় থাকে তথাকথিত শিক্ষিত লোকদের ম্যানিপুলেশন। 

দুবনা, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

Friday, October 2, 2026

উপলব্ধি

মাঝেমধ্যে আমার মনে হয় বাংলাদেশ পিতৃহীন মাতৃহারা এক তরুণী যাকে সবাই পেতে চায় কিন্তু কেউ তার দায়িত্ব নিতে, তার ঘর গোছাতে চায় না। একথা দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখানে সব রাজনৈতিক দল পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার যোগ্য প্রতিনিধি।

দুবনা, ০১ অক্টোবর ২০২৬

Wednesday, September 30, 2026

মুখোস

অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া শুধু সুলভ নয় নিরাপদও বটে। তবুও মানুষ নিজে ভুল করে শিক্ষা নিতে চায়। এর কারণ সবাই ভাবে সে ঐ রকম ভুল করতেই পারে না আর করলেও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সে এখন বেশি সতর্ক, বেশি বুদ্ধিমান। ঐ ভুল এড়াতে শুধু আরোও বেশি কঠোর হতে হবে, বিশেষ করে বিরোধী দল ঠেঙ্গানোর ক্ষেত্রে। তাই যে ভুলে অন্যেরা পস্তিয়েছে তার ক্ষেত্রে সেটা ঘটবে না। তবে অনেকেই অন্যের তো দূরের কথা নিজেদের ভুল থেকেও শিক্ষা নেয় না। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য। পঁচাত্তরের পর বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিষিদ্ধ করেছিল। কাজ হয়নি। কিন্তু এখন আবার একই পথে হাঁটছে। নিষিদ্ধ করে কাউকে যতটা না নিষিদ্ধ করা যায় তারচেয়ে বেশি তার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আওয়ামী আমলে তারা যতবার বিএনপি জামায়াতের নাম নিয়েছে আর বর্তমানে আওয়ামী বিরোধীরা যতবার আওয়ামী লীগের নাম নেয় তাতে আর তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য পয়সা খরচ করতে হয় না। সবেচেয়ে বড় কথা এভাবে বিরোধিতা করে এরা নিজেদের মুখোস উন্মোচন করে যার নীচ থেকে উঁকি দেয় ভয়ঙ্কর সব মুখ। দুবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 27, 2026

বক্তব্য

আজকাল প্রায়ই বলতে শোনা যায় উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বক্তব্যের কিছু একটা অংশ প্রকাশ করে বক্তার ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়। যদি জানি এ রকম করা হবে তাহলে কেন বক্তব্য এমন ভাবে পেশ করব না যাতে কোনমতেই এর কোন অংশ অপব্যবহার না করা যায়। আর যদি হয়েই থাকে কেন এর উত্তরে নিজের পুরা বক্তব্য জনতার দরবারে পেশ করব না। তবে ইচ্ছে করেই যে কেউ এমন ভাবে বক্তৃতা দিচ্ছে না যাতে সময় সুযোগে বা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে যেকোনো পক্ষের লোক বলে প্রমাণ করা যায় সেটাই বা কে জানে?

মস্কোর পথে, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 24, 2026

সমস্যা

জাতি সংঘের সাধারণ সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। সন্দেহ নেই যে তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে সভ্যতার সমস্ত ধরণের সীমা অতিক্রম করে গেছেন কিন্তু এজন্য কি তিনি শুধু নিজে দায়ী না কি আমেরিকার শাসন ব্যবস্থা? সেদেশের প্রতিটি শাসক প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করেছেন। প্রতিটি শাসক অন্য যেকোন দেশ ও দেশের শাসকদের অবজ্ঞার চোখে দেখেছেন। অন্যেরা যেটা চক্ষু লজ্জার জন্য প্রকাশ্যে বলেননি ট্রাম্প সেই মনের কথা মুখে প্রকাশ করেছেন। সমস্যা তাই মুখে বা মুখোশে নয়, সমস্যা মনে। আর এই মনের মালিক আমেরিকার এলিট শ্রেণী, তাদের শাসন ব্যবস্থা, বিশেষ করে তাদের পররাষ্ট্রনীতি। সমাধানটাও সেখানেই।

দুবনা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Friday, September 18, 2026

শরৎ

অনেক দিন পর আজ তোমাকে দেখলাম 
শরতের আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘে 
মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয়া সেই দুটি চোখ!
তাতে কি জিজ্ঞাসা ছিল নাকি অবজ্ঞা?
আজীবন দুজনা ছিলাম দুজনার বাকির খাতায়
না প্রশ্ন না অবজ্ঞা 
কিছুই আর বিচলিত করে না আমায়
তবু
মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে 
কেমন আছ তুমি? 
কেমন কাটছে তোমার শরৎ?

দুবনা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Tuesday, September 15, 2026

উপলব্ধি

পরীক্ষায় ফেল করলে মন খারাপ হয়, বছর নষ্ট হয়। কিন্তু পরের বার পরীক্ষায় বসে পাশ করা যায়, এমনকি চেষ্টা করলে হারানো সময়ও মেক আপ করা যায়। তবে চিকিৎসায় ভুল হলে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একই কথা বলা চলে রাজনীতির ক্ষেত্রে। এখানে ভুল করলে দেশের খোলনলচে পাল্টে যায়। তখন হাজারটা মিটিং মিছিলও সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তারপরেও সেসব করতে হয়। আর শুরুতেই ভুলটা স্বীকার করতে হয়। তাতে এ প্রজন্মে না হলেও পরবর্তী কোন প্রজন্মে শাপমোচন হয়। এমনকি দেশ তার নিজের বলয়ে ফিরে আসে।

দুবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 13, 2026

শরতের রোদ নাকি শর্তের রোদ?

জানালার বাইরে শরতের রোদ
নেই কোন রাগ তার নেই কোন ক্রোধ।
কুসুম গরম সেই সূর্য কিরণ 
দেখলেই মূহুর্তে জুড়িয়ে যায় মন
রোদের আলতো ছোঁয়া গাছেরা হাসে 
তাই তো সবাই তাকে এত ভালোবাসে 
নীল আকাশে সাদা মেঘ রোদ ঝলমল
রোদের বৃষ্টিতে ভিজে ভোলগা টলটল 

মস্কো, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ত্র

অনেক আগে গরুর রচনা পড়ে বেশ হেসেছিলাম। তবে একটু ভেবে দেখলাম এটা আমাদের জীবনে হরহামেশাই ঘটে। এমনকি সবচেয়ে অত্যাচারী শাসকের উজির নাজিররা নূন্যতম সুযোগে জনগণকে তাদের মহানুভবতা ও সাফল্যের বয়ান শোনায়। 

ইউক্রেন এখন যুদ্ধরত। জেলেনস্কি ব্যস্ত দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে অর্থ ও অস্ত্র ভিক্ষায়। অস্ত্র যে কতটা অর্থহীন সেটা সে কবে বুঝবে এটাই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। 

কয়েক দিন আগে জেলেনস্কি গিয়েছিল নরওয়ের রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে। সেখানে গিয়েও অস্ত্র সাহায্য চাইলে অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আচ্ছা একজন লোক যদি মানসিক ভাবে সুস্থ না হয় সে কি পারবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে? এখন রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করছে তাতে অচিরেই শুধু ইউক্রেন নয় ইউরোপও অস্ত্র মুক্ত হবে বলে ধারণা করা যায়।

মস্কোর পথে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Friday, September 11, 2026

সময়

নতুন বাংলাদেশে
জীবনকে ঝুলিয়ে মৃত্যুরা আসে 
মৃত্যুর মিছিল আজ সারা দেশ জুড়ে 
বাংলার হৃদপিন্ড খায় কুড়ে কুড়ে।

দুবনা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 10, 2026

সময়

শুনলাম ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আপনি ভাবতেই পারেন এটা ছাত্রলীগের সমস্যা, এটা আওয়ামী লীগের সমস্যা বা ঐ জাতীয় কিছু। বাস্তবে এটা আপনার সমস্যা। 

আচ্ছা আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কিসের জন্য? সম্পত্তির। মামলায় লড়ে ভাই -ভাই, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র। তাই স্বার্থের কাছে আপন পর বলে কেউ নেই, কিছু নেই। 

আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, সংখ্যালঘু - এরা আসলে কে? ভিন্নমতাবলম্বী। কোন না কোন প্রশ্নে মতের অমিল হলেই কাউকে হত্যা করা গেলে সেই দিন খুব দূরে নয় যখন এদের অস্ত্র আপনার দিকে তাক করা হবে। তখন আর চারপাশে কেউ থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা তখন আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না, এটা হবে সামাজিক বিধি। 

এখনও যদি মেরুদন্ড পুরোপুরি খোয়া না যায়, এখনও যদি মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তাহলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, যেকোন মবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, অন্যদের প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করুন। না হলে কলঙ্কময় মৃত্যু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

দুবনা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 6, 2026

শিক্ষা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে সুশীল সমাজ বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবী সমাজ জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার প্রধান কুশীলব। একদল ভাঙে সরকারের ন্যায় অন্যায় সবকিছুর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে, অন্যদল সরকারের ভালো মন্দ সবকিছুর সমালোচনা করে। দল নিরপেক্ষ না হয়ে বুদ্ধিজীবীরা হয়ে ওঠেন পার্টিজান। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর তারা যারা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিজেদের সেলিব্রিটি বানানোর জন্য সত্য না বলে বাতাস বুঝে কথা বলে, মানুষকে প্রিয় মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে, তাদের চিন্তাশক্তি ধ্বংস করে। এই সমস্ত লেখক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী মনে করে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ আধুনিক মাদ্রাসা। আসলে এরা নিজেরাই একটু উপরের স্তরের ওয়াজকারী। মধ্যবিত্ত মনোভাবের কারণে টুপি পরে দাড়ি রেখে গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ করতে এদের বাঁধে বিধায় স্যুটেড বুটেড হয়ে ক্লিন শেভড মুখে বিশ্ব বিদ্যালয় বা টেলিভিশনের পর্দা থেকে এরা মার্জিত ভাষায় সেই সস্তা কথাগুলোই আকর্ষণীয় প্যাকেটে করে সর্বসাধারণের মধ্যে বিক্রি করে। তা সে ছাব্বিশ লক্ষ ভারতীয়, হিন্দুরা ভারত পন্থী, মার্কিন গণতন্ত্র ভাই অন্য যেকোনো শিরোনামেই হোক না কেন।

মস্কো, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পন্থা

কোন কোন তথাকথিত সুশীল নাকি বলে যে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারত পন্থী। এরা একথা বলে নিজেরা যে পাকিস্তান পন্থী সেটা আড়াল করার জন্য। বাস্তবতা হল এদেশের হিন্দুরাই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ পন্থী। বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, আঁকড়ে ধরে থাকে। দেশ শুধু ভূমি নয় আর জাতি শুধু মানুষ নয়। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব কেউ যদি মনেপ্রাণে ধরে রাখতে চায়, মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে তবে তারা মূলতঃ এ দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক কৃষক আর শিক্ষিত অশিক্ষিত সব ধরনের হিন্দুরা। তাই এদের ভারত পন্থী বলা আসলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস করার নগ্ন প্রচেষ্টা। আর যেসব সুশীল এসব করে তারা ঘৃণা ছাড়া আর কোন কিছুর যোগ্য নয়।

মস্কোর পথে, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Saturday, September 5, 2026

দোষ

সব দেখে মনে হয় বর্তমান যুগে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হল নন্দ ঘোষ। কেউ নিজের সাফল্য নিয়ে ততটা চিন্তিত নয় যতটা অন্যের ব্যর্থতা নিয়ে। সমস্যা হল নন্দ ঘোষ এমনি এমনি হওয়া যায় না, সেজন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে হয়। আর ব্যর্থরা নিজেদের ব্যর্থতা লুকানোর জন্য এদের দোষ খুঁজে বেড়ায়।

সেলিগের, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 3, 2026

সমস্যা

আমাদের সমস্যা হল সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে আমরা নিজেদের অন্যায়কে অন্যায় আর প্রতিপক্ষের ন্যায়কে ন্যায় বলতে দ্বিধা করি। এতে প্রতিপক্ষ আমাদের চিন্তা ভাবনা বায়াস বলে এড়িয়ে যায় আর স্বপক্ষ নিজেদের ভুলটা জানতেই পারে না। আমার দৃষ্টিতে ভালো কোন লোকের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া মানে যেকোনো অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেয়া। ন্যায় অন্যায় এটা কারোও কাজের ফল, কে করল তার উপর এর চরিত্র নির্ভর করে না।

দুবনা, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Tuesday, September 1, 2026

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

সব দেখে মনে হয় দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার গরু ঘোড়া বা হাঁস মুরগির চেয়েও কম। হাট বাজারে বিক্রির আগে মালিকরা এসব প্রাণীর একটু যত্ন আত্তি করে, ভালোমন্দ খাইয়ে মোটাতাজা করে। কিন্তু প্রান্তিক জনগণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবার আগে রাজা মহারাজারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করে না। ইচ্ছে হল কোন রাস্তায় রিকশা বা অটোরিকশা চালানো নিষিদ্ধ করা হল। জীবিকা অর্জনের একমাত্র উপায় হারিয়ে এসব পরিবার কিভাবে বাঁচবে সেটা নিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এরা ধরেই নেয় ক্ষমতা মানেই সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার হোলসেল লাইসেন্স হাতে পাওয়া।

দুবনা, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Monday, August 31, 2026

জীবন

আমি মরিয়া গিয়াছি। হ্যাঁ, সত্যি সত্যি আমি মরিয়া গিয়াছি। ঘুম ভাঙিতেই টের পাইলাম আমি মরিয়া ভূত হইয়া গিয়াছি। অনেক খুঁজিয়াও পায়ের টিকির দেখা পাইলাম না। অবশ্য খুঁজিয়াছিলাম যে তাহাই বা বলিব কী করিয়া। হাত চক্ষু সবাই তো বেমালুম গায়েব হইয়া গিয়াছে। জীবন কি? জীবন হইল কাজ, জীবন হইল ব্যস্ততা। গত সপ্তাহের সুপার ব্যস্ততার পর আজ সকালে ক্লান্ত শরীরটাকে নিথর ভাবে বিছানায় পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া মনে হইল আমি মরিয়া গিয়াছি।‌

দুবনা, ৩১ আগস্ট ২০২৬

Saturday, August 29, 2026

যোগ্যতা

অযোগ্য হবার জন্যেও যোগ্যতা লাগে। সরকারের কিছু কিছু কর্মকর্তার কথা শুনে মনে হয় যোগ্য কোন ছার, এমনকি অযোগ্য হবার নূন্যতম যোগ্যতাও এদের নেই। এরা দেশ চালালে দেশ অচল হবে না তো হবেটা কি?

মস্কোর পথে, ২৯ আগস্ট ২০২৬

Tuesday, August 25, 2026

চোখে চোখ

আজকাল প্রায়ই একটা কথা শোনা যায় 
চোখে চোখ রেখে কথা বলা। 
অনেকেই এটাকে মনে করে সাহসী পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে বক্তা শ্রোতাকে ভয় পায় না, প্রয়োজনে দুর্বিনীত হতে পারে অর্থাৎ সে নিজেকে স্বাধীনচেতা হিসেবে শ্রোতার সামনে প্রকাশ করতে পারে। তবে এটা যে সব সমস্যার সমাধান নয়, সব ক্ষেত্রে চোখে চোখ রাখার প্রয়োজন নেই সেটাও বুঝতে হবে। সাধারণ ভাবে মানুষ যখন কথা বলে তখন সে চায় শ্রোতা তার কথা শুনুক। এক্ষেত্রে চোখ কোথায় আছে তারচেয়ে বড় কথা সে শুনছে কি না। তাছাড়া চোখে চোখ রেখে কথা বলতে বলে জেরাকারী বক্তা যে মিথ্যা কথা বলছে না সেটা প্রমাণের জন্য। চোখে চোখ রেখে কথা বলার ঘোষণা দেয়া মানে শুরুতেই নিজের অপেক্ষাকৃত নীচু অবস্থানকে স্বীকার করে নেওয়া। তাই চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারার মধ্যে নিজের ভূলুণ্ঠিত আত্মবিশ্বাস টেনে তোলার প্রচেষ্টা আছে কিন্তু প্রাগমাটিজম নেই। এটা দুর্বল আর ব্যর্থ মানুষের আস্ফালন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থহীন, এমনকি ক্ষতিকর।

ভেলিকি নভগোরাদের পথে, ২৬ আগস্ট ২০২৬

Monday, August 24, 2026

সভ্যতা

বর্তমান বাস্তবতায় মুষিকের সিংহে রূপান্তর ও ঋষিকে হত্যা করতে উদ্যত হবার কথা মনে পড়ে। সমস্যা হল এখন আমাদের সেই ঋষি নেই যে সিংহকে পুনরায় ইঁদুরে পরিণত করবে। 

খবরে শোনা যায় অনেক উন্নত দেশেও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা ঠিকঠাক পড়তে বা লিখতে পারে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তাদের হাতে এমন সব ডিভাইস দিয়েছে যে পড়তে শেখাটা তারা আগের মত প্রয়োজনীয় মনে করে না। মননে ও সত্যিকার জ্ঞান বুদ্ধিতে মুষিক হয়েও তারা নিজেদের সিংহ মনে করে। অর্থ, মিথ্যা ও অন্ধ বিশ্বাস যাদের হাতিয়ার তাদের কাছে মানবতা আশা করা বৃথা। ফুল প্রুফ বলে একটা বিষয় আছে যখন বেঠিক কম্পোনেন্ট জোর করেও ঢোকানো যায় না। এখন বিজ্ঞানীদের ভাবতে হবে এমন এক ফুল প্রুফ সিস্টেমের কথা যাতে অমানবিক, হিংস্র কেউ চাইলেই হাইলি সফিস্টিকেটেড ডিভাইস ব্যবহার করতে না পারে যার সাহায্যে তারা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজ ও ব্যক্তি মানুষের ক্ষতি করতে পারে। ফ্রাঙ্কেনস্টাইনদের সৃষ্টি করে বুদ্ধিমান মানুষ আর তার ফল ভোগ করে সমস্ত মানবজাতি, বিশেষ করে নিরীহ লোকজন।

পস্কোভের পথে, ২৫ আগস্ট ২০২৬