Saturday, October 24, 2026

ডুয়ালিটি

শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অচল, শুধু মগজ এখনও বেঁচে আছে কষ্ট অনুভব করার জন্য। 

শরীরে তেজ উপচে পড়ছে কিন্তু মস্তিষ্ক অনুভূতিহীন।

দুটো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান হলেও ব্যক্তি মানুষ বা রাষ্ট্রের জন্য ফলাফল এক ও অভিন্ন। সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় মনে হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বর্তমানে পর্যায়ক্রমে এই দুটো অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে - অনেকটা ওয়েভ পার্টিকল বা তরঙ্গ-কণা ডুয়ালিটির মত।‌

দুবনা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

Wednesday, October 21, 2026

ভাবনা

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ বলেছেন যে ইউক্রেনের লড়াই এটা আমাদের (রাশিয়ার) লড়াই, এই লড়াইয়ে জিততে হলে আমাদেরকেই জিততে হবে, কারও উপর ভরসা করলে চলবে না। বিভিন্ন প্রস্তাব আসছে। তবে সেসবে আমাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিলেই শুধু তা বাস্তবায়ন সম্ভব। 

এর বিপরীতে বলা যায় যে ইউক্রেন যুদ্ধ করছে অন্যের (ইউরোপ আমেরিকার) অর্থে, অন্যের অস্ত্র দিয়ে, পক্ষান্তরে ইউরোপ যুদ্ধ করছে ইউক্রেনের মাটিতে ইউক্রেনের মানুষ দিয়ে। অনেকটা কয়েক বছর আগে তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে শিল্পায়নের মত - ইউরোপ আমেরিকার অর্থ ও যন্ত্রপাতি, তৃতীয় বিশ্বের মাটি ও মানুষ অর্থাৎ স্বল্প বেতনের শ্রমিক। উৎপন্ন পণ্য উন্নত বিশ্বের, পরিবেশ দূষণের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের রুটি রুজি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের। এই ফর্মুলায় শিল্পায়ন করা যায় কিন্তু যুদ্ধ জয় করা যায় না। কারণ ভাগের মা গঙ্গা পায় না। তাছাড়া শিল্পায়নে মানুষ লড়াই করে বাঁচার জন্য, জীবনের জন্য, যুদ্ধে ইউক্রেন লড়াই করছে মরার জন্য। ইউরোপের স্লোগান কিন্তু ইউক্রেনের শেষ মানুষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। মানে তারা মুখে যাই বলুক ইউক্রেনের জীবিত মানুষ তাদের দরকার নেই।

দুবনা, ২২ অক্টোবর ২০২৬

Tuesday, October 20, 2026

লোক চেনার ফর্মুলা

আজ মস্কোয় আমার মেডিক্যাল চেক আপ। বছরে একবার। মাস্ট। দুবনায় আরেক বার। চেক আপ মানেই অনেক ডাক্তার দেখানো। লাইন ধরা আর এক ডাক্তার থেকে অন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া। আমি যেহেতু মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারি না, তাই বারবার লাইন হারিয়ে ফেলি আর নতুন করে লাইন ধরি। কতবার ভেবেছি, লাইন ধরে যার পেছনে দাঁড়াই তার সাথে একটা সেলফি তুলে রাখব। প্রথমত সেটা করতে ভুলে যাই আর মনে থাকলেও সেলফি তোলার অজুহাত খুঁজে পাই না। আজ এক ছেলে ডাক্তারের কাছ থেকে বেরুলে বললাম আমি ওর পেছনে ছিলাম। অন্যেরা রাজি ছিল। তবে ঐ ছেলে বলল আমাকে দেখে নাই। ডাহা মিথ্যা। তবে আংশিক সত্য। আমি ওর পেছনে দাঁড়িয়েছিলাম ব্লাড দেবার সময়। ও এখন বেরুল সাইকাট্রিস্টকে দেখিয়ে। তবে এটা আমি বুঝলাম বেশ পরে। আমি যে ছেলেটার পেছনে দাঁড়িয়েছিলাম সেও ছিল আফ্রিকা থেকে, তবে ওর গায়ে ছিল কালো জামা ও কম বয়সী। এই ছেলে আফ্রিকার হলেও বয়স্ক আর সবুজ টিশার্ট পরা। লোক চেনার নতুন ফর্মুলা খুঁজতে হবে।‌

মস্কো, ২০ অক্টোবর ২০২৬

Sunday, October 18, 2026

রাজা

কেউ যখন মদ, গাঁজা, নারকোটিক্সে আসক্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন বেপরোয়া জীবন যাপন করে, পতিতালয় যখন তার দ্বিতীয় বাড়ি এমতাবস্থায় সে যদি এইডস রোগে আক্রান্ত হয় তবে এ জন্য কেউ মদ গাঁজা বা পতিতালয়কে দায়ী করে না, দায়ী করে সেই লোককে, তার জীবনযাত্রাকে। একই ভাবে রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি মাখানো বা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গরু হত্যা এসবের দায় কোন মেয়ে বা কিছু ছাত্রের নয়, এর দায় সমাজের প্রতিটি সদস্যের, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের, রাষ্ট্রের নিজের। রাষ্ট্রের এক নাগরিককে আঘাত করে অন্য নাগরিক আসলে সমাজ আর রাষ্ট্রের প্রতিই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।‌ কারণ কাউকে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র অধিকারী রাষ্ট্র। সরকার ও প্রশাসন যখন এসব ঘটনা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, যারা এসব ঘটায় তাদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, তখন সরকার ও প্রশাসন আসলে নিজেদের অস্তিত্বকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে। কারণ ব্যর্থ রাষ্ট্রে এসব প্রতিষ্ঠান ভেন্না বনে খাটাশ রাজার মতই নখদন্তহীন।

মস্কোর পথে, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

Friday, October 16, 2026

মুল্লুক

মার্কিন মুলুকে একটি কথা প্রচলিত ছিল বলে শুনেছি - যদি এক ডলার চুরি কর তবে তুমি চোর, মিলিয়ন ডলার চুরি করলে শিল্পপতি। আজকের বাংলাদেশে মনে হয় অনুরূপ কিছু বলা যায় - যদি একা খুন করে তবে তুমি খুনি আর যদি দল বেঁধে মব করে খুন করে তবে তোমরা ধর্ম রক্ষক বা দেশপ্রেমিক।

দুবনা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

Tuesday, October 13, 2026

যুদ্ধ কথা

দেশ থেকে কেউ ফোন করলে সবার আগে যে জিনিসটা জানতে চায় তা হল যুদ্ধ কবে থামবে। বলি আপাতত সেরকম কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ যুদ্ধ শান্তি এসব রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনীতিবিদরা এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। ইউরোপের অনেক দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যত না রাজনীতির তারচেয়ে বেশি ফাইনান্সের মানুষ।এরা আবার ব্ল্যাক রক, রকফেলার, রথসচাইল্ড, সোরস - এদের পোষা পাখি। তাই দেশের মানুষের চেয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির লাভ লোকসান তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি ছোট ছোট দেশের নেতাদের কথা বলি তাহলে তারা চলে ইউরোপের বড় দেশের দানের টাকায় আর নিজেদের প্রাসঙ্গিক করার জন্য কারণে অকারণে শোরগোল শুরু করে। এদের না আছে প্রাকৃতিক সম্পদ, না আছে জনবল, না আছে শিল্প বাণিজ্য। এরা সর্বহারা। আর সর্বহারার হারানোর কিছু নেই শেকল ছাড়া। এদের শেকল এদের স্বাধীনতা। না হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মুক্তি পেতে না পেতেই আমেরিকার গলায় মালা পরাবে কেন?

দুবনা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

Monday, October 12, 2026

জানতে ইচ্ছে করে

গতকাল এক ভিডিও দেখলাম যেখানে সলিমুল্লাহ খান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করার নিজের অভিযোগের সাফাই গাইছে ভিন্ন ভাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী যেহেতু রবীন্দ্রনাথ এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপক্ষে বিবৃতি দেননি তাই সেটাকে বিরুদ্ধাচরণ বলা যায়। মৌনতা এখানে অসম্মতি। আরেকটা যুক্তি হল রবীন্দ্রনাথ তখন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান খুঁজছিলেন। তাই প্রকাশ্যে না হলেও মনে মনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা তিনি করতেই পারতেন। এটা জ্ঞানের পরিচয় নয়। বাংলাদেশের মানুষ একে বলে ঘাউরামি। 
জানতে ইচ্ছে করে সলিমুল্লাহ খান নিজে না পারলেও তার পিতা বা পিতামহ-মাতামহ এদের কেউ কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষে কোন বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছিল, দিলে কোন বই বা পত্রিকায় সেটা ছাপা হয়েছিল।

মস্কো, ১২ অক্টোবর ২০২৬

Sunday, October 4, 2026

হালাল হারাম

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বাংলাদেশের সবকিছু হালাল ও হারাম এই দুই ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। তবে কোন লিস্টে কে থাকবে সেটা নির্ভর করে কখন কোন দল সরকার গঠন করেছে তার উপর। যে মানুষ, যে দল, যে বই এক আমলে হালাল ছিল অন্য আমলে তারাই হারাম হয়ে যায়। সেই অর্থে দেশ মূলতঃ দলীয় ধর্মীয় শাসনে পরিচালিত। দলীয় গুন্ডা বাহিনী আর মব হচ্ছে ধর্মীয় পুলিশ বাহিনী। 

মস্কোর পথে, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

Saturday, October 3, 2026

প্রশ্ন

একটা বহুল প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে সমস্ত দুর্ভোগের মূল হল অজ্ঞতা। কিন্তু জ্ঞান কি শুধুই পুঁথিতে লেখা বিদ্যা? পৃথিবীর সব জ্ঞান, সব বিদ্যা কি পুঁথি বা নথি বদ্ধ? প্রতিটি মানুষ কোন না কোনভাবে একমেবাদ্বিতীয়ম। প্রতিটি মানুষ নিজের নিজের পথে চলে, একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এমনকি দুই জন ফটোগ্রাফার একই স্টুডিওতে একই আলো ব্যবহার করে ছবি তুললেও সেগুলো ভিন্ন হয়। এখানে আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কিছুই কাজ করে। দুর্ভোগের মূলে বেশিরভাগ সময় থাকে তথাকথিত শিক্ষিত লোকদের ম্যানিপুলেশন। 

দুবনা, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

Friday, October 2, 2026

উপলব্ধি

মাঝেমধ্যে আমার মনে হয় বাংলাদেশ পিতৃহীন মাতৃহারা এক তরুণী যাকে সবাই পেতে চায় কিন্তু কেউ তার দায়িত্ব নিতে, তার ঘর গোছাতে চায় না। একথা দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখানে সব রাজনৈতিক দল পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার যোগ্য প্রতিনিধি।

দুবনা, ০১ অক্টোবর ২০২৬

Wednesday, September 30, 2026

মুখোস

অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া শুধু সুলভ নয় নিরাপদও বটে। তবুও মানুষ নিজে ভুল করে শিক্ষা নিতে চায়। এর কারণ সবাই ভাবে সে ঐ রকম ভুল করতেই পারে না আর করলেও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সে এখন বেশি সতর্ক, বেশি বুদ্ধিমান। ঐ ভুল এড়াতে শুধু আরোও বেশি কঠোর হতে হবে, বিশেষ করে বিরোধী দল ঠেঙ্গানোর ক্ষেত্রে। তাই যে ভুলে অন্যেরা পস্তিয়েছে তার ক্ষেত্রে সেটা ঘটবে না। তবে অনেকেই অন্যের তো দূরের কথা নিজেদের ভুল থেকেও শিক্ষা নেয় না। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য। পঁচাত্তরের পর বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিষিদ্ধ করেছিল। কাজ হয়নি। কিন্তু এখন আবার একই পথে হাঁটছে। নিষিদ্ধ করে কাউকে যতটা না নিষিদ্ধ করা যায় তারচেয়ে বেশি তার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আওয়ামী আমলে তারা যতবার বিএনপি জামায়াতের নাম নিয়েছে আর বর্তমানে আওয়ামী বিরোধীরা যতবার আওয়ামী লীগের নাম নেয় তাতে আর তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য পয়সা খরচ করতে হয় না। সবেচেয়ে বড় কথা এভাবে বিরোধিতা করে এরা নিজেদের মুখোস উন্মোচন করে যার নীচ থেকে উঁকি দেয় ভয়ঙ্কর সব মুখ। দুবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 27, 2026

বক্তব্য

আজকাল প্রায়ই বলতে শোনা যায় উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বক্তব্যের কিছু একটা অংশ প্রকাশ করে বক্তার ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়। যদি জানি এ রকম করা হবে তাহলে কেন বক্তব্য এমন ভাবে পেশ করব না যাতে কোনমতেই এর কোন অংশ অপব্যবহার না করা যায়। আর যদি হয়েই থাকে কেন এর উত্তরে নিজের পুরা বক্তব্য জনতার দরবারে পেশ করব না। তবে ইচ্ছে করেই যে কেউ এমন ভাবে বক্তৃতা দিচ্ছে না যাতে সময় সুযোগে বা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে যেকোনো পক্ষের লোক বলে প্রমাণ করা যায় সেটাই বা কে জানে?

মস্কোর পথে, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 24, 2026

সমস্যা

জাতি সংঘের সাধারণ সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। সন্দেহ নেই যে তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে সভ্যতার সমস্ত ধরণের সীমা অতিক্রম করে গেছেন কিন্তু এজন্য কি তিনি শুধু নিজে দায়ী না কি আমেরিকার শাসন ব্যবস্থা? সেদেশের প্রতিটি শাসক প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করেছেন। প্রতিটি শাসক অন্য যেকোন দেশ ও দেশের শাসকদের অবজ্ঞার চোখে দেখেছেন। অন্যেরা যেটা চক্ষু লজ্জার জন্য প্রকাশ্যে বলেননি ট্রাম্প সেই মনের কথা মুখে প্রকাশ করেছেন। সমস্যা তাই মুখে বা মুখোশে নয়, সমস্যা মনে। আর এই মনের মালিক আমেরিকার এলিট শ্রেণী, তাদের শাসন ব্যবস্থা, বিশেষ করে তাদের পররাষ্ট্রনীতি। সমাধানটাও সেখানেই।

দুবনা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Friday, September 18, 2026

শরৎ

অনেক দিন পর আজ তোমাকে দেখলাম 
শরতের আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘে 
মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয়া সেই দুটি চোখ!
তাতে কি জিজ্ঞাসা ছিল নাকি অবজ্ঞা?
আজীবন দুজনা ছিলাম দুজনার বাকির খাতায়
না প্রশ্ন না অবজ্ঞা 
কিছুই আর বিচলিত করে না আমায়
তবু
মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে 
কেমন আছ তুমি? 
কেমন কাটছে তোমার শরৎ?

দুবনা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Tuesday, September 15, 2026

উপলব্ধি

পরীক্ষায় ফেল করলে মন খারাপ হয়, বছর নষ্ট হয়। কিন্তু পরের বার পরীক্ষায় বসে পাশ করা যায়, এমনকি চেষ্টা করলে হারানো সময়ও মেক আপ করা যায়। তবে চিকিৎসায় ভুল হলে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একই কথা বলা চলে রাজনীতির ক্ষেত্রে। এখানে ভুল করলে দেশের খোলনলচে পাল্টে যায়। তখন হাজারটা মিটিং মিছিলও সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তারপরেও সেসব করতে হয়। আর শুরুতেই ভুলটা স্বীকার করতে হয়। তাতে এ প্রজন্মে না হলেও পরবর্তী কোন প্রজন্মে শাপমোচন হয়। এমনকি দেশ তার নিজের বলয়ে ফিরে আসে।

দুবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 13, 2026

শরতের রোদ নাকি শর্তের রোদ?

জানালার বাইরে শরতের রোদ
নেই কোন রাগ তার নেই কোন ক্রোধ।
কুসুম গরম সেই সূর্য কিরণ 
দেখলেই মূহুর্তে জুড়িয়ে যায় মন
রোদের আলতো ছোঁয়া গাছেরা হাসে 
তাই তো সবাই তাকে এত ভালোবাসে 
নীল আকাশে সাদা মেঘ রোদ ঝলমল
রোদের বৃষ্টিতে ভিজে ভোলগা টলটল 

মস্কো, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ত্র

অনেক আগে গরুর রচনা পড়ে বেশ হেসেছিলাম। তবে একটু ভেবে দেখলাম এটা আমাদের জীবনে হরহামেশাই ঘটে। এমনকি সবচেয়ে অত্যাচারী শাসকের উজির নাজিররা নূন্যতম সুযোগে জনগণকে তাদের মহানুভবতা ও সাফল্যের বয়ান শোনায়। 

ইউক্রেন এখন যুদ্ধরত। জেলেনস্কি ব্যস্ত দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে অর্থ ও অস্ত্র ভিক্ষায়। অস্ত্র যে কতটা অর্থহীন সেটা সে কবে বুঝবে এটাই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। 

কয়েক দিন আগে জেলেনস্কি গিয়েছিল নরওয়ের রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে। সেখানে গিয়েও অস্ত্র সাহায্য চাইলে অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আচ্ছা একজন লোক যদি মানসিক ভাবে সুস্থ না হয় সে কি পারবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে? এখন রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করছে তাতে অচিরেই শুধু ইউক্রেন নয় ইউরোপও অস্ত্র মুক্ত হবে বলে ধারণা করা যায়।

মস্কোর পথে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Friday, September 11, 2026

সময়

নতুন বাংলাদেশে
জীবনকে ঝুলিয়ে মৃত্যুরা আসে 
মৃত্যুর মিছিল আজ সারা দেশ জুড়ে 
বাংলার হৃদপিন্ড খায় কুড়ে কুড়ে।

দুবনা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Thursday, September 10, 2026

সময়

শুনলাম ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আপনি ভাবতেই পারেন এটা ছাত্রলীগের সমস্যা, এটা আওয়ামী লীগের সমস্যা বা ঐ জাতীয় কিছু। বাস্তবে এটা আপনার সমস্যা। 

আচ্ছা আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কিসের জন্য? সম্পত্তির। মামলায় লড়ে ভাই -ভাই, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র। তাই স্বার্থের কাছে আপন পর বলে কেউ নেই, কিছু নেই। 

আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, সংখ্যালঘু - এরা আসলে কে? ভিন্নমতাবলম্বী। কোন না কোন প্রশ্নে মতের অমিল হলেই কাউকে হত্যা করা গেলে সেই দিন খুব দূরে নয় যখন এদের অস্ত্র আপনার দিকে তাক করা হবে। তখন আর চারপাশে কেউ থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা তখন আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না, এটা হবে সামাজিক বিধি। 

এখনও যদি মেরুদন্ড পুরোপুরি খোয়া না যায়, এখনও যদি মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তাহলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, যেকোন মবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, অন্যদের প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করুন। না হলে কলঙ্কময় মৃত্যু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

দুবনা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sunday, September 6, 2026

শিক্ষা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে সুশীল সমাজ বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবী সমাজ জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার প্রধান কুশীলব। একদল ভাঙে সরকারের ন্যায় অন্যায় সবকিছুর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে, অন্যদল সরকারের ভালো মন্দ সবকিছুর সমালোচনা করে। দল নিরপেক্ষ না হয়ে বুদ্ধিজীবীরা হয়ে ওঠেন পার্টিজান। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর তারা যারা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিজেদের সেলিব্রিটি বানানোর জন্য সত্য না বলে বাতাস বুঝে কথা বলে, মানুষকে প্রিয় মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করে, তাদের চিন্তাশক্তি ধ্বংস করে। এই সমস্ত লেখক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী মনে করে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ আধুনিক মাদ্রাসা। আসলে এরা নিজেরাই একটু উপরের স্তরের ওয়াজকারী। মধ্যবিত্ত মনোভাবের কারণে টুপি পরে দাড়ি রেখে গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ করতে এদের বাঁধে বিধায় স্যুটেড বুটেড হয়ে ক্লিন শেভড মুখে বিশ্ব বিদ্যালয় বা টেলিভিশনের পর্দা থেকে এরা মার্জিত ভাষায় সেই সস্তা কথাগুলোই আকর্ষণীয় প্যাকেটে করে সর্বসাধারণের মধ্যে বিক্রি করে। তা সে ছাব্বিশ লক্ষ ভারতীয়, হিন্দুরা ভারত পন্থী, মার্কিন গণতন্ত্র ভাই অন্য যেকোনো শিরোনামেই হোক না কেন।

মস্কো, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬