যেকোন কাজে সফল হবার অন্যতম প্রধান শর্ত মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা। খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টির জন্য তাই বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এমতাবস্থায় জার্মানি সহ বিভিন্ন দল বিশ্বকাপের ঠিক আগেই কাতারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন ইস্যু তুলে যতটা না লাভবান হয়েছে তারচেয়ে বেশি দলের ক্ষতি করেছে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিয়ে। যেসব দেশের ক্ষমতার হাল ধরে বর্তমান ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের ব্যর্থতার জন্য শত্রুর দরকার হয় না।
আজ রাশিয়া মা দিবস পালন করল। আমি গত রবিবার থেকে কাজান আর মস্কোয় দিন কাটাচ্ছি। আগামীকাল ক্লাস নিয়ে ফিরব। গুলিয়া ফোন করে কেক দাবি করল। মা দিবসের কেক। ভাবখানা এই যে ওর মা হবার পেছনে আমার কোন হাত নেই। একেই বলে দিনে দুপুরে ডাকাতি।
খেলোয়াড় খেলে আর দর্শক যুদ্ধ করে। কেন? কারণ এটা খেলোয়াড়দের পেশা, এ থেকেই তার আয়, তার জীবিকা। আমরা যারা দেখি, দেখি গাঁটের পয়সা খরচ করে আর তাই সেই পয়সা উসুল করতে চাই। এখান থেকেই আবেগ, বেগ আর মত রাজ্যের টেনশন। শুধু খেলার জন্য নয়, খেলা দেখতেও খেলুড়ে মন লাগে।
উইকিপিডিয়া দেখছি অনেকের কাছে বেদ বাইবেল হয়ে যাচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে একটা হেল্পফুল রিসোর্স, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনার জন্য এটা একমাত্র রেফারেন্স হলে যে বা যারা এসব করে তাদের জ্ঞান সাগরের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর বিশেষ করে গভীরতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার অনেক সুযোগ থাকে এমনকি তারা যদি আমেরিকার মত দেশে বসবাস করে তথ্য প্রযুক্তির নোনা জলে হাবুডুবু খেতে খেতেও জ্ঞান বিস্ফোরণ (বিচ্ছুরণ নয়) করে।
আমাদের দেশের অনেক সাংবাদিকদের সমস্যা হল তারা কোন কিছু নিজের মেধা ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে যাচাই করার বদলে ইউরোপ আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম যা বলে সেটাকেই ঐশী বাণী বলে ধরে নেয়। তারা ভুলে যায় এসব পত্র পত্রিকা কোন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং সেই সব গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যখন যেভাবে যা প্রচার ও পরিবেশন করতে হয় সেটা করে। আর এইসব খবর আর নিজের সীমাহীন অজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে এরা রীতিমত জ্যোতিষীর মত দিনক্ষণ সহ বিভিন্ন ঘটনার আগাম ফলাফল প্রকাশ করে। বনিক বার্তার এ রকম এক জ্যোতিষীর রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ বাণী দেখলাম আমার এক লেখায়। আর তার ইতিহাস জ্ঞান থেকেই বুঝলাম তার শিক্ষার দৌরাত্ম্য। অবশ্য এ নিয়ে কথা বলা আর চিকা মেরে হাত নষ্ট করা প্রায় সমার্থক।
ফেসবুকে বাংলা ভাষার বিবর্তন বা সঠিক ভাবে বললে বাংলা বানানের বিবর্তন দেখলাম। মনে হল দেশের মানুষ যেহেতু ধর্মীয় কারণে বিবর্তনবাদ নিয়ে তেমন কিছু করতে পারে না, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ধর্মকে বিবর্তনের হাওয়া খাওয়াতে পারে না, তাই এরা দ্বিগুন উৎসাহে মাঠে নেমেছে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা ভাষার উপর চালাতে। লাভ? এদের অধিকাংশই মনে হয় বাংলা ভাষা বিরোধী। ১৯৫২ সালে পারেনি তাই এখন কৌশলে ভাষাকে বিতর্কিত করে তুলে দেশে নতুন কোন ভাষা আমদানির পায়তারা করছে।