Thursday, December 3, 2020

আবার ডিসেম্বর


আবার ডিসেম্বর আবার বিজয় এ বিজয়ে মানুষের আজ বড় ভয় এক সাগর রক্ত দিয়ে অর্জিত বিজয় ভয় হয় বিজয় আজ বিজয়ীর নয় পরাজিত শক্তি আজ বিজয়ীর বেশে ঘুরে বেড়ায় বাংলার বুকে হেসে হেসে ধর্মের অনুভূতি করে তারা পুঁজি মুক্তিকামী মানুষেরে মারে খুঁজি খুঁজি আবার ডিসেম্বর বিজয়ের মাস বিজয়ের উচ্ছ্বাস নেই মানুষ হতাশ ভোটের যোগ বিয়োগ সুক্ষ গননা নীরবে গায়েব হয় একাত্তরের চেতনা লোভের কানা গলি রাজনীতি হারায় বাংলার আকাশ ভারী মুক্তির কান্নায়

দুবনা, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০



Wednesday, December 2, 2020

নস্টালজিক

নস্টালজিক - নষ্ট রকমের এলার্জিক? দুবনা, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

ভাস্কর্যের আসল মূর্তি

অনেকেই আজকাল বিভিন্ন মুসলিম দেশে কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদদের ভাস্কর্যের ছবি দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছেন যে এটা মোটেই আনৈসলামিক নয়। ভাবখানা এই এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা বিশ্বভ্রমণ করেনি, তারা এসব দেখেনি। আমার বিশ্বাস তারা এসব আমাদের চেয়ে ভাল জানে, বিশেষ করে ইকবাল বা জিন্নাহর ভাস্কর্য সম্পর্কে। তাদের নিয়ে কথা নেই কারণ এরা সবাই ইসলামের পক্ষে ছিলেন। কামাল পাশা তুরস্ককে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করলেও তিনি ইউরোপের কবল থেকে তুরস্ককে রক্ষা করেছিলেন। তিনি এদের চোখে ছিলেন ওসমান সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি, মুসলিম বিশ্বের প্রতীক। কাজী নজরুলের "ঐ ক্ষেপেছে পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই" পড়েই এরা কামাল পাশা সম্পর্কে জেনেছে।  সেখানে শেখ মুজিব শুধু জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বই পরিত্যাগ করেননি, শত্রু ভারতের সাহায্য নিয়ে সাধের পাকিস্তান বিভক্ত করেছেন, হিন্দুদের সাথে হাত মিলিয়ে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার বাণী প্রচার করেছেন। তাই এদের চোখে শেখ মুজিব ইসলামের বন্ধু নন, আর যিনি ইসলামের বন্ধু নন তাঁর ভাস্কর্য এদেশে শোভা পাবে সেটা তারা মানবে কিভাবে? কই, জিয়ার ভাস্কর্য নিয়ে তো কোন প্রশ্ন নেই। তাই মূর্তি না ভাস্কর্য এসব ধানাই পানাই বাদ দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকারের কথা বুলন, সেজন্যে মুখ খুলুন। নইলে আজ না হলেও কাল তারা শুধুই মূর্তিই নয় এমনকি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পর্যন্ত সরাবে। ভুলে যাবেন না, পঁচাত্তর পরবর্তী একটা দীর্ঘ সময় ধরে এদেশে এমনকি শেখ মুজিবের নাম নেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ ছিল না।   

দুবনা, ০২ ডিসেম্বর  ২০২০



Tuesday, December 1, 2020

রচনামৃত

আগে রচনামৃত বলতে অমৃতসম রচনা বোঝাত। এখন রচনামৃত বলতে সাধারণত মৃত রচনাকে বোঝায়। দুবনা, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

শীতের হরিণ Зимняя олень

একটু খেয়াল করলে দেখবেন গাছে কিছু সবুজ পাতা। এগুলো লাইলাক গাছ। এ সময় পাতা থাকে না। তবে এ সময় যদি তাপমাত্রা ওঠা নামা করে, মানে একবার ঠাণ্ডা পড়ে যদি আবার প্লাস হয়, অনেক গাছ মনে করে বসন্ত এসে গেছে। ওরা তো আর মানুষের মত মাসের নাম জানে না, অনুভূতিই (ধর্মীয় নয়, প্রাকৃতিক) ওদের একমাত্র সম্বল। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রকৃতিকে স্বাগত জানাতে চায়, সবুজ পাতা বের করে হাতছানি দেয়। কিন্তু প্রকৃতি ওদের এই সারল্যকে পাত্তা দেয় না। নেমে আসে শীতের ভয়ঙ্কর তীব্রতা। অনেক গাছ এটা সহ্য করতে পারে না। মরে যায়। ফসল নষ্ট হয়। রাশিয়ায় শীতের আগে বীজ ছড়িয়ে দেয়, যাতে বসন্তের শুরুতে ওরা প্রাণ পায়। হ্যাঁ, প্রকৃতিও মাঝে মাঝে ট্রয়ের ঘোড়া পাঠিয়ে রসিকতা করে নিজের সন্তানদের সাথে।


দুবনা, ০১ ডিসেম্বর ২০২০



ওজন আর সাইকেলের গল্প

এক সময় ঠাণ্ডা বা গরম লাগছে কিনা এ প্রশ্নের আমার ষ্ট্যাণ্ডার্ড উত্তর ছিল হাড্ডির আবার গরম ঠাণ্ডা। আমার ধারণা ছিল যাদের হাড্ডি মাংস আর চর্বির ওভার কোট পরে থাকে তাদের নিশ্চয়ই একটু গরম লাগে।

এক সময় আমি সারা বছরই সাইকেল চালাতাম। বিশেষ করে ছেলেমেয়েরা যখন ছোট ছিল সাইকেল ছিল পুষ্পক রথের মত। ওদের অনবরত এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে, গানের, নাচের বা ছবি আঁকার ক্লাবে নিয়ে যেতে সাইকেল ছিল আনপ্যারালেল।
আমার শীতে সাইকেলে চড়ার রেকর্ড মাইনাস ২৫ ডিগ্রি। সেদিন অর্ধেক পথ গিয়ে না যেতে পারছি সামনে, না পেছনে। এরপর থেকে তাপমাত্রা মাইনাস ১৫ নীচে নামলে ওকে আস্তাবলে রাখি। তবে শীতে সাইকেল চালানোর একটা প্লাস পয়েন্ট অনেকেই, বিশেষ করে বৃদ্ধারা আমার দিকে তাকিয়ে বলে "হা ঈশ্বর, হা ঈশ্বর।" আমিও মনে মনে ভাবি এইসব নাস্তিকদের ঈশ্বরকে স্মরণ করতে উদ্বুদ্ধ করায় আমার পুণ্যের ঘরে দু চার পয়েন্ট যোগ হলে হতেও পারে।
সেদিন রাতে অফিস থেকে আসার পথে দেখি হাত জমে যাচ্ছে। কারণ? করোনা কালে শরীরে চর্বি আর মাংসের প্রলেপ পড়েছে। সমাজে নিজের ওজন মানে ওয়েট না বাড়লেও শরীরের ওজন ৬ কেজি বেড়ে গেছে। হয় এই এক্সট্রা ওজন বইতে বেশি শক্তি ব্যয় হচ্ছে নয়তো হাড্ডির উপর চর্বি আর মাংসের জ্যাকেট ট্রয়ের ঘোড়ার মত শীতকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বয়সও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। গবেষণার ব্যাপার!
দুবনা, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

সংশয়

এত বেশি মানুষের চিন্তা ভাবনা আজ পশ্চাদগামী যে প্রশ্ন জাগে মানুষের মগজ মাথায় না কি অন্য কোথাও? দুবনা, ০১ ডিসেম্বর ২০২০