Thursday, November 5, 2020

বাক স্বাধীনতা

বাক স্বাধীনতায় অন্ধ বিশ্বাসী জন্ম থেকেই কালা অন্যের মত আমাকে শোনাবে? ভূমন্ডলে নেই কোন শালা।


দুবনা, ০৫ নভেম্বর ২০২০

Wednesday, November 4, 2020

কাগুজে দিন

পঁচিশ বছর আগে এই দিন বৌকে বিয়ে করেছিলাম। অনেক উত্থান পতন এড়িয়ে, অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এখনও চলছে আমাদের রিক্সা। দুজন মানুষ মানেই দুটো ভিন্ন সত্ত্বা। মতের মিল, অমিল আর গরমিলের ঝাঁকা মাথায় নিয়ে চলা। পরমতসহিষ্ণুতার প্রথম স্কুল এই সংসার। পরের মতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার, জোর নয় যুক্তি দিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করার আর প্রয়োজনে ভিন্ন মত গ্রহণ করার বিনে পয়সার স্কুল। সময়ের সাথে সাথে বোঝাপড়া বাড়ে নাকি চামড়া মোটা হয় সেটা জানি না, তবে আসল কথা তো বিড়ালের রং নয়, বিড়াল ইঁদুর ধরছে কি না তাই।

দুবনা, ০৪ নভেম্বর ২০২০




































অনুভূতি

আজকাল অনুভূতিটাও ম্যাগনেটিক। এরও দুই মেরু। একটার নাম ধর্ম অনুভূতি। অন্যটা যৌন অনুভূতি।

দুবনা, ০৪ নভেম্বর ২০২০

Tuesday, November 3, 2020

দাঁত

অনেক দিন পরে আজ দাঁতের দোকানে গেলাম, মানে ডেন্টাল ক্লিনিকে। না, আমার কোন সমস্যা নয়। এখানে ভারতীয় কিছু বন্ধু আছেন। ওদেরই এক জনের দাঁতে চুনকাম করতে হবে। রুশটা ঠিক জানে না, তাই সাথে যাওয়া। 


দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলে আমার হৃদপিণ্ড সব সময়ই হাঁটুর নীচে পালিয়ে যায়। দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় ঢোক গিলতে না পেরে গলা শুকিয়ে মরে যাব। সে এক বিচ্ছিরি অবস্থা। 

আজ পাশেই বসে ছিলাম। ডাক্তার বললেন থাকতে তাই। হঠাৎ যদি কিছু জানার দরকার হয়। 

ছেলেমেয়েরা ছোট থাকতে ওদের নিয়ে ক্লিনিকে যেতে হত বিভিন্ন টিকা আর ইঞ্জেকশন দিতে। বউ গেলে সে বাচ্চাদের আগেই কেঁদেকেটে অস্থির। তা দেখে বাচ্চাদের সে কী চিৎকার। আমি গেলে তেমন কিছু হত না। আর যাই হোক ব্যাথা তো আমার লাগত না। তাই কখনোই ভয় পেতাম না। 

আজ বসে থেকে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ল। মিনিট কুঁড়ি পরে দাঁত সুস্থ্য দেহে ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে এলো। 

সত্য বলতে কী আমারও আজ কোন সফোকেশন হয়নি,  গলা শুকায়নি। আমার দাঁতগুলোও সুস্থ্য শরীরে প্রফুল্ল মনে ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে এসেছে।  

দুবনা, ০৩ নভেম্বর ২০২০ 




Monday, November 2, 2020

ভোট

১৯৮৪ সাল। কাজাখস্তানে গেলাম স্ত্রই আত্রিয়াদে (কনস্ট্রাকশন ক্যাম্পে) কাজ করতে। সারাদিন কাজ করি, বিকেলে আহসানের সাথে গল্প করি। ওয়াজেদ কখনও কখনও যোগ দেয়। কয়েকদিন পরে আমাদের প্রথম মিটিং হল। ডাইনিং হলে। সবাই বসে আছি। বিভিন্ন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একসময় শুনলাম ভোট দিতে হবে। রুশ ভাষায় ভোট হল গোলাস, যার আরেকটা অর্থ কণ্ঠস্বর। আমি ভাবলাম কোন ব্যাপারে ভোট চাইলে আওয়াজ দিতে হবে। বসে আছি। হঠাৎ শুনি সিদ্ধান্ত গৃহীত। মানে ভোট হয়ে গেছে। পাশে তাকিয়ে দেখি লোকজন হাত তুলে ভোট দিচ্ছে। রুশ জীবনের প্রথম ভোট (ছাত্র সংগঠন একান্তই আমাদের ছিল তাই সেটা ধরছি না) এভাবে মাঠে মারা গেল ভেবে একটু কষ্টই পেলাম।

আজ বন্ধু সুবাসকে দেখলাম ভোট দিয়ে এলো। মুখে লাগাম আটা, মানে মাস্ক লাগানো। মনে পড়ল কাজাখস্তানের কথা। শব্দ করে ভোট দিতে হলে মাস্ক নিশ্চয়ই বাধার সৃষ্টি করত। কেমনে ব্যাটা পারল সেটা জানতে মাস্ক পরে ভোট হবে একদিন দিতে

দুবনা, ০২ নভেম্বর ২০২০



অসময়ী সময়

অদ্ভুত এক রাজনীতি চলছে দেশে - বিচারহীনতার রাজনীতি। তা না হলে কীভাবে মানুষ বারবার বিচার নিজেদের হাতে তুলে নেয়, কীভাবে কোন বিচার ছাড়াই, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই শুধু গুজবের উপর ভিত্তি করে মানুষ মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে, মানুষ মানুষের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে পারে। যেন এক অন্তহীন দুঃসময়। ভোরের আলো এখানে আসে না, দুঃস্বপ্নের রাত শেষ হয় না।

একি বেওয়ারিশ সময়? মালিকবিহীন ঘটনা প্রবাহ? সরকার, প্রশাসন এরা কি সব ঠুঁটো জগন্নাথ? দেশের মানুষের প্রতি এদের কি কোনই দায়িত্ব নেই? আইন তো প্রথমত ও প্রধানত দুর্বলকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু আমরা কী দেখি? শাসক আজ শক্তের ভক্ত নরমের যম। কিন্তু শক্তের তোষামোদ করে আমরা কোথায় যাচ্ছি? আমরা কী ভুলে গেছি সমাজে সব সময়ই দুর্বল থাকবে, ঠিক যেমন থাকবে সবল। সমাজ তো একটা বিশাল চেইনের মত যেখানে প্রতিটি মানুষ একে অন্যের সাথে বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িত। আজ যে লোকটা চেইনের শেষ প্রান্তে, যে লোকটা সবচেয়ে দুর্বল, তাকে কেটে ফেললে গতকালের অপেক্ষাকৃত সবল, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মানুষটা হবে আগামী কাল সবচেয়ে দুর্বল। এভাবে একটার পর একটা লিংক খুলে পড়বে। আর এভাবে পড়তে থাকলে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন আপনার পালাও আসবে খুলে পড়ার, খসে পড়ার। তখন কিন্তু আপনাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কেউ থাকবে না। খুব বেশি দেরী হওয়ার আগে তাই ভেবে দেখুন আপনি কি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান? আপনিও কি একদিন একই রকম বিচারহীনতার শিকার হতে চান? আপনারাই তো বলেন অন্যের প্রতি সে ব্যবহার করোনা যেটা তুমি অন্যের কাছ থেকে আশা কর না। তাহলে?

দুবনা, ০২ নভেম্বর ২০২০




Sunday, November 1, 2020

বদলে যাও

একসময় মানুষ নির্যাতিতের পক্ষে কথা বলত এখন নির্যাতনের পক্ষে বলে। মানুষ ঠিক আগের মতই আছে শুধু বদলে গেছে ভালমন্দের সংজ্ঞা।

দুবনা, ০১ নভেম্বর ২০২০