Thursday, February 9, 2017

কথোপকথন

কমরেড রিগ্যান শ্রীযুক্ত বাবু গরবাচভকে একবার বলেছিলেন 

- আপনাদের মতে সমাজতন্ত্র - এটা পুজিবাদকে বাইপাস করে সমন্তবাদ থেকে সাম্যবাদে উত্তরনের সহজ পথ। আমার মনে হয় সমাজতন্ত্র - এটা সামন্তবাদ থেকে পুজিবাদে উত্তরনের এক কঠিন ও রক্তাক্ত  পথ। 

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা  দেখলে উনি হয়ত বলতেন 

- আপনাদের মতে একাত্তর সাম্প্রদায়িকতাকে বাইপাস করে পাকিস্তান থেকে ধর্নিমরপেক্ষ রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হবার পথ, তবে আমার মনে হয় একাত্তর - এটা পাকিস্তান থেকে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিনত হবার রক্তাক্ত পথ। 

দুবনা, ১০ জানুয়ারী ২০১৭



প্রস্তাব

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে মরণোত্তর একুশের পদক দেয়া হোক, কারন
১) এটা বরতমানের মূলধারার রাজনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ 
২) "উর্দু একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা" জিন্নাহ এ কথা না বললে ভাষা আন্দোলন, একুশ আর সর্বোপরি একাত্তর হতো কিনা সেটা গবেষণার বিষয়। সেই অর্থে জিন্নাহ একুশের সৃষ্টিকারী বললেও ভুল হবে না।
দুবনা, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


Wednesday, February 8, 2017

দুটো প্রশ্ন


শয়তানের কাছে আত্মা বিক্রি করলে অমরত্ব লাভ করা হয়তো যায়, কিন্তু মানুষ থাকা যায়না।
স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আতাত করলে ক্ষমতায় থাকা হয়তো যায়, কিন্তু এর পরেও কি নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবী করা যায়?
ভাষায় সাম্প্রদায়িকতা এনে ভোট পাওয়া গেলে যেতেও পারে, কিন্তু তার পরেও কি নিজেকে একুশের উত্তরাধিকারী বলে দাবী করা যায়?

দুবনা, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ 


Sunday, February 5, 2017

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

মনে নেই ঠিক কখন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নাম শুনেছি, তবে এটুকু জানি, তার নাম শুনেছি একজন ঝানু রাজনীতিবিদ হিসেবে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তিনি দেশের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু নষ্ট রাজনীতির এই দেশে তিনি নিজেও নষ্ট হয়েছিলেন। আর সে কারনে তিনি নিজে যেমন হারিয়েছেন, তেমনি হারিয়েছে দেশ।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
নিজের ধন করেছিলেন গুপ্ত
গোপন না করে
দিতেন যদি খুলে
তবে কি এত অপবাদ
জুটতো তার কপালে?
ধন লুকানো এই দেশেতে
মস্ত বড় পাপ
খুলে ফেলে দাও
কেটে যাবে সকল অভিশাপ
জায়েজ হবে পুকুর চুরি
জায়েজ হবে খুন
ধন খোলা না গুপ্ত তোমার
এটাতেই সব দোষগুন।   

মস্কো, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭



Thursday, January 26, 2017

হাতিয়ার

Politics এর বাংলা কে, কেন রাজনীতি করেছিল জানি না, তবে ভদ্রলোক যে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন সেটা মানতেই হবে। যদিও রাজনীতি করা হয় সাধারন মানুষের কথা বলে, তাদের জীবন স্বর্গ সুখে পরিপূর্ণ করার আশ্বাস দিয়ে, ক্ষমতা পাবার পর অধিকাংশ রাজনীতিবিদই সেই অঙ্গীকার পালন করেন প্রজাদের স্বর্গে পাঠিয়ে। অন্যরাও কম যায় না। মানুষের কথা বলে রাজনীতি করলেও বেলা শেষে দেখা যায় তারাও মুলত নিজেদের রাজনৈতিক, দলগত বা আদর্শগত লাভলোকসানের হিসেব মিলাতেই ব্যাস্ত। জনগন তাদের খামখেয়ালী বা উচ্চাভিলাষ পুরনের হাতিয়ার মাত্র। এই যুদ্ধে জেতে সেই, যে এই জনগণকে যত বিধ্বংসী মারণাস্ত্রে পরিনত করতে পারে।

দুবনা, ২৬ জানুয়ারী ২০১৭

ক্রিস্টিনা যখন ছোট ছিল


Thursday, January 19, 2017

জানতে চাই

পার্টি মেম্বার নই তাতে কি বা এসে যায়?
শুধু ঐ সদস্যপত্রই কি সব?
এই যে এত ভালবাসা, এত উৎকণ্ঠা, এত নিদ্রাহীন রাত ......
এসবের মূল্য কি একেবারেই নাই?
পথ ভুলে আইকন যদি উলটো দিকে যায় 
পার্টির পতাকা যখন ধুলায় গড়ায়
মুখে কুলুপ দেয়া কি তখনও মানায়?
আর কত এই ভাবে রাজনীতি খেলা?
স্বপ্ন আর ভালবাসা দুই পায়ে ঠেলা?
হয়তো-বা আপনার কাছেও কোনই উত্তর নাই
তারপরও আপনার ব্যাখ্যা শুনতে চাই।  


দুবনা, ২০ জানুয়ারী ২০১৭  


ফালতু চাঁদ

অন্ধকারে হাঁটছিলাম আনমনে
আকাশের তারা গুনে গুনে
বারচ আর পাইনের ডগা থেকে উকি দিচ্ছিল
এক টুকরা ফালতু চাঁদ
যখন স্বপ্নে বিভোর
হঠাৎই কিসের উপর যেন হুমড়ি খেয়ে পড়লাম
ভাবলাম মাতাল কেউ পড়ে আছে
হতচ্ছাড়া বনে
ওমা, এযে দেখি বিপ্লব পড়ে আছে মুখ থুবড়ে
গুনছে দিন মৃত্যুর প্রতীক্ষায়।
দুবনা, ১৯ জানুয়ারী ২০১৭