Tuesday, January 27, 2026

সমস্যা

পাকিস্তান বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা চায়নি, সে ভারতের সম্ভাব্য হিন্দু শাসন থেকে স্বাধীনতা চেয়েছে। এ রকম একটি ধারণা নতুন নয়। সমস্যা হল যারা পাকিস্তান চেয়েছিল তারা কখনোই হিন্দু্দের কাছে পরাধীন ছিল না। কিন্তু পরাধীন হতে পারে এই ভয় সাধারণ মানুষের মনে তারা এমনভাবে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল যে প্রায় আশি বছর পরেও তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এমনকি বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে পরাধীন থাকার পরেও যতটা না পাকিস্তানি প্রতিশোধের ভয় পায় তারচেয়ে বেশি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, করছে। অথচ এই আগ্রাসন যে কি সেটা কখনোই দৃশ্যমান হয়নি। কারণ একদিকে আমরা ভারতের সবিছু বয়কট করে তার আধিপত্য থেকে মুক্ত হতে চাইব, অন্যদিকে নিজেরাই আগ বাড়িয়ে ভারতের কাছ থেকে তেলটা নুনটা কিনে ভারতের উপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলব অথচ নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে নির্ভরশীলতা কমাব না। বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি দেশই বিভিন্ন ভাবে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। আমরা যখন স্বেচ্ছায় কোন দোকানের চাল কেনা বন্ধ করি, তখন আমার কাছে চালের দোকানের সংখ্যা কমে যায় আর অন্যেরা সেই সুযোগ নিয়ে বেশি দামে আমার কাছে চাল বিক্রি করে। এক নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আমরা আরেক জনের উপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে উঠি। এটা বাজার অর্থনীতির উল্টো স্রোতে চলা। তবে আমাদের সমস্যা অনেক বেশি করে মানসিক। আর সমস্যা যখন মানসিক হয় তখন তার চিকিৎসা অনেক জটিল, আর মানসিক সমস্যা যখন সমষ্টিগত হয় তখন তার নিরাময় প্রায় অসম্ভব। দুবনা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

Monday, January 26, 2026

বিদায়

মস্কো থেকে ফিরছি। অন্যান্য সোমবার আমি সাধারণত ক্লাস নিয়ে রাতের ট্রেনে দুবনা ফিরি। এখন ছুটি। ক্লাস নেই। তবুও মস্কো এসেছিলাম, আসতে হয়েছিল। আসতে হয়েছিল শানুকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য। অন্তত শানুর শারীরিক সত্তার সাথে এটাই ছিল শেষ দেখা। এখন আমাদের দেখা হবে, কথা হবে স্মৃতির পরতে পরতে। মৃত্যুই তো জীবনের শেষ কথা নয়। যতদিন স্মৃতিতে থাকে মানুষ ততদিন পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকে। শানুর জন্য ভালোবাসা।

দুবনার পথে, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

Sunday, January 25, 2026

প্রতিবিম্ব

দেশের অবস্থা সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অমৃত বাণী শুনে মনে হয় তারা আসলে আয়না ঘরে বাস করছে আর আয়নায় গত দেড় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিজেদের আহ্লাদে গদগদ প্রতিবিম্ব দেখে ধরেই নিয়েছে দেশ ও দেশের সব মানুষও ফুলে ফেঁপে বটগাছ হয়ে গেছে। এরকম কূয়োর ব্যাঙের সমাবেশ কোন সরকারে ইতিপূর্বে ঘটেছে বলে মনে হয় না।

মস্কো, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

উপলব্ধি

সার্বিক পরিস্থিতি দেখে একটাই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় - বাংলাদেশের সরকার ও এমনকি সামান্য প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী প্রায় সবাই স্যাডিস্ট আর তাদের চোখে দেশ ও জনগণ গনিমতের মাল যাদের কোনই অধিকার নেই এবং যাদের যেমন খুশি তেমন ভাবে নির্যাতন করা যায়।

দুবনা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

Saturday, January 24, 2026

গোঁয়ার্তুমি

ছোটবেলায় কোন কারণে রাগ করে অনশন ধর্মঘট করলে মানে খাওয়া বাদ দিলে বড়রা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত "আরেক বার সাধিলেই খাইব"। আসিফ নজরুল নাকি বলেছেন আইসিসি বা ভারত সরকার কারোও পক্ষ থেকেই তাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করা হয়নি। ভারত সরকার তো প্রথম থেকেই ইকুয়েশনে ছিল না। সবাই তো আর বাবা মা না যে আরেক বার সাধবে। আর সব নজরুল নজরুল নয় সেটাও তো প্রমাণিত। কারণ বিদ্রোহ আর গোঁয়ার্তুমি দুটো ভিন্ন জিনিস।

দুবনা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

Wednesday, January 21, 2026

প্রশ্ন

গান্ধী, নেহেরু, সুভাস বসু বা রবীন্দ্রনাথ এদের সবাই ইংল্যান্ডে গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষদের সুযোগ সুবিধা দেখে প্রচণ্ড উদ্বেলিত হয়ে প্রশ্ন করেছেন এই ইংরেজরা কেন ভারতবর্ষের নাগরিকদের জন্য একই রকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারে না। আসলে এখনও কী ইংরেজ, কী আমেরিকান, কী ইউরোপিয়ান - স্বভাবে সেই আগের মতই রয়ে গেছে। তারা আমাদের অর্থে নিজেদের দেশের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করলেও আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আগ্রহী নয়। শুধু সেটুকুই করে যেটা না করলে অন্যদের সামনে লজ্জিত হতে হয়।

দুবনা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

Sunday, January 18, 2026

মানবতা

অনেক দিন আগে বিশ্বে যখন কমিউনিস্ট আন্দোলন শক্তিশালী ছিল তখন আন্তর্জাতিকতাবাদ বা ইন্টারন্যাশনালিজম বলে একটা ধারণা ছিল। এর মূল কথা ছিল সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ লড়াই। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা যখন শক্তির একমাত্র কেন্দ্র হয় তখন নতুন শব্দের আগমন ঘটে - গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন। সুন্দর মোড়কে পরিবেশন করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পুঁজির সীমাহীন শোষণ নিশ্চিত করা। মুক্তি নয় অর্থনীতির নব্য উপনিবেশিক শৃঙ্খলে মেহনতি মানুষ তো বটেই সমগ্র মানব জাতিকে বন্দী করাই এর অঘোষিত লক্ষ্য। 

আগে আমরা বলতাম 

শোনরে মানুষ ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

মানুষ ছিল সবার ঊর্ধ্বে। এখন তার জায়গা দখল করেছে মানবতা। নিঃসন্দেহে সুন্দর শব্দ, শ্রুতিমধুর। আমার কেন যেন মনে হয় আন্তর্জাতিকতাবাদ ও বিশ্বায়নের মত মানুষ ও মানবতার মধ্যেও এক অদৃশ্য দেয়াল আছে, আছে দুইয়ের ব্যবহারিক ও ব্যবসায়িক পার্থক্য। মানুষের নামে মানুষ হত্যা করা যায় না কিন্তু মানবতার নামে দেশে দেশে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তাই সবার মুখে মানবতার বাণী শুনে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই।

দুবনা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬