Monday, February 2, 2026

স্বনির্ভরতা

অনেক দিন আগের কথা। তখন পাকিস্তান নামে একটি দেশ ছিল। বর্তমান বাংলাদেশ ছিল সেই পাকিস্তানের একটি প্রদেশ। কিন্তু পাকিস্তানিদের, বিশেষ করে পাঞ্জাবী শাসক শোষকদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাঙালিরা স্বাধীন হল। এখন শুনি একদল বাঙালি নাকি পুনরায় পাকিস্তানি হবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ পাকিস্তানে আঁটকে পরা বাঙালিরা আজও পাকিস্তানি হতে পারে নাই। আচ্ছা এদের যদি এতই পাকিস্তানি হতে ইচ্ছে করে তাহলে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপ বা অন্যান্য দেশের পরিবর্তে পাকিস্তানে মাইগ্রেট করে না কেন? এখন তো এ জন্য ভিসা পর্যন্ত লাগে না। এমনকি ডাইরেক্ট ফ্লাইট পর্যন্ত চালু হয়েছে। অযথা দেশের বেশির ভাগ মানুষ যারা পাকিস্তানী হতে চায় না, তাদের সাথে নেবার কী দরকার? তবে তাদের এটাও মনে রাখা দরকার যে শুধু একাত্তর সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মধ্য দিয়েই পাকিস্তান ভাঙ্গনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। এখনও খোদ পাকিস্তানে পাঞ্জাবী, সিন্ধি, বালুচ, পশতুন এরা এক জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি আর তাই বালুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশে বিদ্রোহ লেগেই আছে। আরব বিশ্বের এতগুলো দেশ একই ধর্ম, একই ভাষা নিয়েও এক রাষ্ট্র হতে পারল না, সেখানে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান শুধু ধর্মের ভিত্তিতে এক হবে কীভাবে? বাঙালিরা বাঙালি হয়েই নিজের দেশ গড়ে তুলুক আর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক। তাহলেই এক দেশ না হয়েও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। এই দুই দেশের ভাগ বাটোয়ারা করার কিছু নেই, স্বল্পকালীন যে যৌথ অতীত আছে সেটাও সুখকর নয়। তাদের চলার পথ ভিন্ন। তারপরেও দু দেশই নিজের পায়ে শক্ত ভাবে দাঁড়ালে আর পরস্পরের পথকে শ্রদ্ধা করলে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো হবে। সেটা সব দেশের জন্যেই সত্য। তাই পাকিস্তানের আগে বাংলাদেশকে ভালবাসতে শিখুন, এই দেশকে উন্নত ও আধুনিক করুন। বাকিটা আপনার দায়িত্ব নয়। দুবনা, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Sunday, February 1, 2026

সাপ

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাব্য সাংসদ মহিলাদের সাথে একই আলোচনা সভায় বসতে রাজি না হলেও একই সাথে একাধিক মহিলার সাথে বসতে (বাস করতে) গররাজি নয়। একই ভাবে গণতন্ত্রের নামে জপে একদল ডিগ্রিধারী হাফ নাগরিক টাউট বাটপার দেশে মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে এতটুকু দ্বিধান্বিত নয়। এসব দু মুখো সাপের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। 

দুবনা, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Thursday, January 29, 2026

জালিয়াত

কল্পনা করুন, একজন প্রধান শিক্ষক বলছেন যে তার স্কুলের সব ছাত্র অপদার্থ, মূর্খ। অথবা কোচ বলছে তার টিমের সব খেলোয়াড় আসলে খেলতেই জানে না। বা রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা বলছেন দলের সব কর্মীরা দল বিরোধী কাজে লিপ্ত। এটা যদি হয় তাহলে দায়টা কার? এরপর কি আর সেই সব মানুষের এসব সংগঠনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা শোভা পায়? পায় না। কথায় আছে মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকে।

মোঃ ইউনুসকে বলতে শুনলাম দেশের সব লোক নাকি জালিয়াত। কিন্তু বাস্তবটা কি? তিনি নিজেকে করমুক্ত করলেন, মামলা থেকে বেকসুর খালাস করলেন, তার সাঙ্গপাঙ্গরাই চোখের পলকে কোটি কোটি মালিক হল। আর সাধারণ মানুষ যেমন ছিল ঠিক তেমনই রয়ে গেল, এমনকি আগের চেয়ে আরও বেশি নিঃস্ব হল। তাহলে জালিয়াতিটা কে করল? জালিয়াতটা কে? একজন মানুষ কতটুকু অপদার্থ হলে দেশের সাধারন মানুষদের জালিয়াত বলতে পারে?

চোরের মায়ের শুনেছি বড় গলা।

দুবনা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

Wednesday, January 28, 2026

তখন?

আত্মসম্মানবোধ ও জাতীয় স্বার্থ - দুটোই জাতির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই চেষ্টা করা উচিৎ উভয়কেই সমুন্নত রাখার। তবে কখনও কখনও এই দুইয়ের মধ্যে কোন একটা বেছে নিতে হয়। তখন? তখন দেখতে হবে জাতির ভবিষ্যতের জন্য কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড, আমেরিকার মত দেশ বলে তাদের চিরস্থায়ী বন্ধু নেই, আছে জাতীয় স্বার্থ। জাতীয় স্বার্থে অনেক সময় তারা আদর্শের সাথে কম্প্রোমাইজ করে। সাধারণত দুর্বল আত্মসম্মান রক্ষা করতে স্বার্থ বিসর্জন দেয়, সবল স্বার্থ রক্ষা করে পরে সম্মান আদায় করে নেয়।

দুবনা, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

Tuesday, January 27, 2026

সমস্যা

পাকিস্তান বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা চায়নি, সে ভারতের সম্ভাব্য হিন্দু শাসন থেকে স্বাধীনতা চেয়েছে। এ রকম একটি ধারণা নতুন নয়। সমস্যা হল যারা পাকিস্তান চেয়েছিল তারা কখনোই হিন্দু্দের কাছে পরাধীন ছিল না। কিন্তু পরাধীন হতে পারে এই ভয় সাধারণ মানুষের মনে তারা এমনভাবে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল যে প্রায় আশি বছর পরেও তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এমনকি বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে পরাধীন থাকার পরেও যতটা না পাকিস্তানি প্রতিশোধের ভয় পায় তারচেয়ে বেশি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, করছে। অথচ এই আগ্রাসন যে কি সেটা কখনোই দৃশ্যমান হয়নি। কারণ একদিকে আমরা ভারতের সবিছু বয়কট করে তার আধিপত্য থেকে মুক্ত হতে চাইব, অন্যদিকে নিজেরাই আগ বাড়িয়ে ভারতের কাছ থেকে তেলটা নুনটা কিনে ভারতের উপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলব অথচ নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে নির্ভরশীলতা কমাব না। বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি দেশই বিভিন্ন ভাবে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। আমরা যখন স্বেচ্ছায় কোন দোকানের চাল কেনা বন্ধ করি, তখন আমার কাছে চালের দোকানের সংখ্যা কমে যায় আর অন্যেরা সেই সুযোগ নিয়ে বেশি দামে আমার কাছে চাল বিক্রি করে। এক নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আমরা আরেক জনের উপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে উঠি। এটা বাজার অর্থনীতির উল্টো স্রোতে চলা। তবে আমাদের সমস্যা অনেক বেশি করে মানসিক। আর সমস্যা যখন মানসিক হয় তখন তার চিকিৎসা অনেক জটিল, আর মানসিক সমস্যা যখন সমষ্টিগত হয় তখন তার নিরাময় প্রায় অসম্ভব। দুবনা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

Monday, January 26, 2026

বিদায়

মস্কো থেকে ফিরছি। অন্যান্য সোমবার আমি সাধারণত ক্লাস নিয়ে রাতের ট্রেনে দুবনা ফিরি। এখন ছুটি। ক্লাস নেই। তবুও মস্কো এসেছিলাম, আসতে হয়েছিল। আসতে হয়েছিল শানুকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য। অন্তত শানুর শারীরিক সত্তার সাথে এটাই ছিল শেষ দেখা। এখন আমাদের দেখা হবে, কথা হবে স্মৃতির পরতে পরতে। মৃত্যুই তো জীবনের শেষ কথা নয়। যতদিন স্মৃতিতে থাকে মানুষ ততদিন পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকে। শানুর জন্য ভালোবাসা।

দুবনার পথে, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

Sunday, January 25, 2026

প্রতিবিম্ব

দেশের অবস্থা সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অমৃত বাণী শুনে মনে হয় তারা আসলে আয়না ঘরে বাস করছে আর আয়নায় গত দেড় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিজেদের আহ্লাদে গদগদ প্রতিবিম্ব দেখে ধরেই নিয়েছে দেশ ও দেশের সব মানুষও ফুলে ফেঁপে বটগাছ হয়ে গেছে। এরকম কূয়োর ব্যাঙের সমাবেশ কোন সরকারে ইতিপূর্বে ঘটেছে বলে মনে হয় না।

মস্কো, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬