Monday, January 12, 2026

বাছাই

আগে মানুষ ভালোদের মধ্য থেকে উত্তমকে বেছে নিত। এখন খারাপের যুগ তাই খারাপদের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয়াই এ যুগের রেওয়াজ।‌ 

দুই জন খারাপের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয় বুদ্ধিমানরা। আমাদের লোকজন করে উল্টোটা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে খারাপ অপশন বেছে নেয়। সেটা রাজনীতিতে হোক, অর্থনীতিতে হোক বা কূটনীতিতে হোক। এটা মনে হয় অনেক তপস্যার ফল।

দুবনা, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

দ্বিচারিতা

প্রচুর লোকজন স্বর্গে যাওয়ার জন্য দিনরাত সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে অথচ সবাই সর্বাত্মক চেষ্টা করে স্বর্গে যাওয়ার ফ্লাইট মিস করতে। মনে হয় এটা এমন এক খেলা যেখানে সেই বিজয়ী হয় যে সবার শেষে ফিনিশিং লাইন টাচ করে। 

দুবনা, ১২ জানুয়ারি ২০২৬


Saturday, January 10, 2026

ইতিহাস

কী ব্যক্তি, কী সমাজ, কী দেশ - জীবনের এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবেই পৌঁছাতে পারে। ব্যক্তি যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লেখক, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশা বেছে নিতে পারে নিজ নিজ যোগ্যতা, সামর্থ্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী, সমাজ তেমনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, আধুনিক বা অন্য পথে যেতে পারে যেমন পারে দেশ। তবে সবক্ষেত্রেই কোন এক নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সবাই কোন এক নির্দিষ্ট পথ বেছে নেয়, সে পথেই সাফল্য অর্জন করে বা ব্যর্থ হয়। আর সেটাই হয় ঐ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিহাস। চাইলেই সেই ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। অনেক সময় অনেকেই সেই ইতিহাস বিকৃত করে। এসব বিকৃতি সাময়িক ভাবে ছোট্ট একটি গোষ্ঠীর জন্য লাভজনক হলেও পরিণামে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর হয়। নকল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরিতে ঢোকা যায় কিন্তু সঠিক ভাবে চিকিৎসা করা যায় না, টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। একই ভাবে মিথ্যা ইতিহাস শেখা জাতি দিনের শেষে ব্যর্থ হয়। আর যদি তাই হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব, ১০ জানুয়ারি এসব প্রশ্নে মিথ্যাচার না করে সঠিক ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার।‌ এতে আর কোন লাভ না হলেও মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে না।

দুবনা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

Friday, January 9, 2026

বিরোধিতা

রাজনীতির মাঠে কোন দেশের প্রতি অন্ধ বিরোধিতা তা সে ভারত হোক, পাকিস্তান হোক, চীন আমেরিকা কিংবা রাশিয়া হোক - এটা কোন সবলতা নয়, এটা দুর্বলতা। কতৃপক্ষ যখন সঠিক ভাবে নিজের কাজ করতে ব্যর্থ হয় বা কর্তৃপক্ষের কাছে যখন নিজের পক্ষে কোন যুক্তি থাকে না তখন সে এক বিরোধী পক্ষ দাঁড় করায় আর সাধারণ মানুষ হজ্ব করতে গিয়ে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর ছোঁড়ার মত এই বিরোধী পক্ষের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে নিজেদের ব্যস্ত রাখে।‌ এ ভাবেই কারো বিরুদ্ধে জনগণকে উত্তেজিত করে স্বার্থান্বেষী একদল মানুষ নিজেদের কাজ হাসিল করে।‌ আর দিনের শেষে পস্তায় জনগণ।

দুবনা, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

Wednesday, January 7, 2026

সাইড ইফেক্ট

অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তুলতে হলে ওষুধ দিতে হয়। একজন ভালো ডাক্তার ওষুধের সাইড ইফেক্ট মাথায় রেখে সেটা দেয়া বা না দেয়ার বা দিলে কত ডোজ দেবেন তার সিদ্ধান্ত নেন। মূল কথা হল ওষুধের সাইড ইফেক্ট যেন মূল রোগের চেয়ে ক্ষতিকর না হয়। চব্বিশের পরিবর্তনে বাম দলগুলো মনে হয় সাইড ইফেক্ট ব্যাপারটা মাথায় রাখেনি। এটা নতুন করে তাদের সমাজ বিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করল। তাদের দাওয়াই বাংলাদেশ নামক রুগিকে মৃত্যু শয্যায় শায়িত করল। তবে অধিকাংশ ডাক্তারের মত তারা সেলামি পেয়েই খুশি। একটাই স্বান্তনা, জীবন মরণের মালিক তারা নন।

দুবাই, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬


Sunday, January 4, 2026

শান্তি

ভেনেজুয়েলায় ঝটিকা আক্রমণ ও আপাত বিজয় শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার নিশ্চয়ই দাবি করবেন যে আটটি নয়, তিনি নয় নয়টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। যদি প্রয়োজন হয় তিনি আরও একানব্বুইটা যুদ্ধ থামাবেন আর প্রয়োজনে এসব যুদ্ধ লাগাবেন। একবার না পারিলে দেখ শতবার। সুতরাং এবার তাঁর নোবেল ঠেকায় কে? আমার তো মনে হয় বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের উচিত ট্রাম্পের জন্য নোবেল শান্তি দাবি করা। রীতিমত ধর্ণা দেয়া। ভাগ্য ভালো হলে আর ট্রাম্প সু চি - ইউনূস - মাচাদোর পথে হাঁটলে আমেরিকায় শান্তি আসতে তাহলে আর খুব দেরি হবে না। আর আমেরিকায় শান্তি এলে বিশ্ব অশান্তিতে ভুগবে না।

দুবনার পথে, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬


ডঃ ডেথ

বিগত কয়েক দিনে দেশে বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছে তথাকথিত মবের হাতে। ডক্টরকে ধন্যবাদই দিতে হয়। তার মব এখন শুধু হত্যাই করে না, সংখ্যালঘুদের কষ্ট লাঘব করতে সেই সাথে শবদাহ পর্যন্ত সম্পন্ন করে নিজ খরচে। এক সময় জার্মানির এক ডাক্তারকে ডঃ ডেথ বলে ডাকা হত। বাংলাদেশের জনগণের উচিত আমাদের ডঃ কে এই পদে মনোনয়ন দেয়া।

মস্কো, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬