Wednesday, September 30, 2020

স্বীকারোক্তি

 আমার নিজের কোন গুন নেই। তোমার দোষই আমার গুন। তোমার দুর্বলতাই আমার একমাত্র সবলতা।

দুবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

নাম কাহিনী

ছোটবেলায় বাড়িতে শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম শীর্ষক একটা বই ছিল। সেখানে শ্রীকৃষ্ণকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে। অনেক নামই ছিল বিশেষণ। কয়েক বছর পর আমাদের নেতাদের নিয়ে এমন বই বের হলে অবাক হব না

দুবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

Tuesday, September 29, 2020

উন্নয়ন

আপনারা যাই বলুন আমার কিন্তু দেশের অর্থনীতির জন্য গর্ব করতে ইচ্ছে করে। ৩২ লাখের জিনিস ১ কোটি ৩৩ লাখে কেনা তো আজকাল মামুলি (এতক্ষণে বুঝলাম দেশে সবাই আজকাল মামু মামু বলে ডাকে কেন)। প্রায় প্রতিদিন এ রকম হাজার হাজার টাকা গচ্চা যাওয়ার পরেও যে দেশের অর্থনীতি শক্ত খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে সে দেশ নিয়ে, সে দেশের অর্থনীতি নিয়ে গর্বিত না হয়ে পারা যায়?

দুবনা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
 

 

ট্রেণ্ড

আমেরিকা থেকে শুরু করে বিশ্বের দেশে দেশে আজ একটাই নিয়ম - জোর যার, মুল্লুক তার। যে আমেরিকা বা ইউরোপ অন্য দেশে শাসক গোষ্ঠীর সমালোচনা করে বল প্রয়োগের কারণে তারা নিজেরাই আবার সেই বল ব্যবহার করে নিজ দেশে। তার মানে একটাই - "আমি যেটা করি সেটা করো না, আমি যেটা বলি সেটা কর। আমি যেটা করি সেটা করলে আমার এক্সক্লুসিভনেস থাকে না, আমিও আর দশ জনের মত হয়ে যাই।" সমস্যা হল মানুষ এদের দেখেই শেখে। দেশ যদি জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে বিশ্বাসী হয়, দেশের মানুষও তাই করে। ফলে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন, ধর্ষণ - এগুলো বলতে গেলে প্রচলিত নীতির প্রতিফলন, কথায় না হলেও কাজে সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত। আর এ সবের একটাই কারণ - অপরাজনীতির অবাধ বিচরণ - রাজনীতির বানিজ্যিকিকরন। এটা আজ কোন এক দেশের সমস্যা নয়, সারা বিশ্বের সমস্যা। যে দেশগুলো নিজেদের ক্ষেত্রে লিবারেল তারাই কেউ ট্রেণ্ডের বাইরে গেলে তার প্রতি মহাখাপ্পা। ট্রেণ্ড - এটাই আসল। এই শেকল ভাংতে না পারলে অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না।

দুবনা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
 

 

Monday, September 28, 2020

ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ

গতকাল দিনটা ছিল বেশ সুন্দর। আলো ঝলমল। ভল্গার উপরে ভাসতে যদিও শীত শীত করছিল, তবে সেটা ছিল সহ্যের সীমার মধ্যে। বাসা থেকে বেরোই সকাল ৯-৪০ এ। সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরলাম ঘড়িতে ১৮-৪০। মাঝখানে সময়টা মূলত দাঁড়িয়ে। না, বসার জায়গার অভাব ছিল না, তবে ছবি তুলতে গেলে বসাটা ঠিক হয়ে ওঠে না। এখন শীত পড়বে পড়বে করছে, "বাবিয়ে লেতো"  শেষের পথে। সন্ধ্যায় পাখিরা যেমন সূর্যের শেষ রশ্মিটুকু প্রাণ ভরে উপভোগ করে, মানুষজন ঠিক তেমনি করেই গ্রীষ্মের শেষ আদরটুকু উপভোগ করছে। গ্রীষ্ম অবশ্য বিদেয় নিয়েছে সেই ৩১ আগস্ট, তবে যাই যাই করেও তার ঠিক যাওয়া হয়ে ওঠেনি, যে যে যেভাবে পারে তাকে ধরে বেঁধে রেখেছে। তবে যেতে তো হবেই, তাই সে যাওয়ার আগে সবাইকে আরেকটু উষ্ণতা, আরেকটু ভালবাসা বিলিয়ে দিচ্ছে। 

আমরা গেছিলাম বেলি গরদ নামে নামে ছোট্ট এক জনপদে। দেখার মত জিনিস বলতে খোৎসা নদী যেখানে ভল্গায় লীন হয় - তাদের সেই মিলন স্থলে একটি গির্জা। তারপর আরও একটা গির্জা, সেটা অবশ্য উজানে, মানে দুবনার দিকে। ওখানে জাহাজ ভেড়ানোর উপায় নেই বলে বাসে উল্টো পথে আসা। এর মাঝে গির্জায় দুপুরের খাওয়া। 

বাসায় ফিরে আর রাঁধতে ইচ্ছে হল না। তাই ডাল ভাত করলাম, মানে চাল ডাল সবজি মশলা সব এক সাথে দিয়ে জীবানুমুক্ত করা। আগে এর নাম ছিল খিচুড়ি, তবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষিতদের কর্মকাণ্ড দেখে আমি সে নামটি আর নিতে চাইছি না। 

পথের ক্লান্তি চোখে ঘুম আনিয়ে দিল। রাত দুপুরে জেগে দেখি মাক্সওয়েলের সমীকরণগুলো পেটের মধ্যে ডিগবাজী খাচ্ছে আর মুখে দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আমি ওদের এই রটোর এই ডাইভারগেন্স দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু চোখের পাতা বুজতে না বুজতেই ওরা আবার হৈ হুল্লোড় শুরু করে। সকালে ছিল ইলেক্ট্রডাইনামিক্সের ক্লাস। ভাবলাম তাই হয়তো কেউ পেটের মধ্যে আটকে গেছে। সাথে একটু তেষ্টা। অনেক পড়ে মনে হল ডালের কথা। ইদানীং কালে মসুরের ডাল খেলেই পেটে গ্যাসের খনি আবিষ্কার করি। তারপর মনে হল সাথে সালাদ করেছিলাম পেঁয়াজ দিয়ে - ওটাই পেটে গিয়ে বেশি বেশি জল খেতে চাইছিল। করোনা কাল না হলে পাত্তাই দিতাম না। মনে হল নাকে গন্ধটাও ঠিক মত আসছে না। অন্যান্য দিন ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই কুকুরগুলো হেগেমুতে একাকার করে রাখে। আজ ওরাও যেন হরতালে নেমেছে। বলতে ইচ্ছে করে, আরে ব্যাটা হাগ তো, দেখি গন্ধ পাই কি না। শেষ পর্যন্ত ওদের কেউ কেউ সদয় হল। হেগেমুতে করোনা তাড়াল। দুটো লেকচার ভালো ভাবেই হল,  তৃতীয়টার সময় ঘুম ঘুম পাচ্ছিল। তাই ১০ মিনিট আগেই ছেড়ে দিলাম। যাহোক, এখন আর ম্যাক্সওয়েল সমীকরণগুলো বিরক্ত করছে না।         

দুবনা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 




Saturday, September 26, 2020

সুপার লাঞ্চ

বৌ বলল সুপার লাঞ্চ। না, কিছুই ছিল না। ডাল, ভাত আর মাছ। আমি অবাক হয়ে তাকালাম -
"কিছুই পুড়েনি। কবে যে শেষ না পুড়িয়ে রান্না করেছ মনেই করতে পারছি না।"
বৌ ভাজা পছন্দ করে না, আমি সেদ্ধ।
কম্প্রোমাইজ - মাছ সেদ্ধ করে শেষে তেল দিয়ে একটু ভাজা।
আশা ছিল ভাজতে পারব, কিছু তেল দেওয়ার সাথে সাথেই বউদের হাতের যাদুতে চুল্লী অফ হয়ে গেল।
কী অল্পই না দরকার মাঝে মধ্যে সুপার লাঞ্চ বানাতে। তবে তাঁর আগে অনেক দিন এক নাগাড়ে খাবার পুড়াতে ভুলবেন না যেন!

দুবনা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ব্যর্থতার রকমফের

একটা ঘর, তাতে কিছু চেয়ার টেবিল, আর কিছু লোকজন থাকলেই যেমন সেটা স্কুল হয় না, একটা সরকার, ভোট, কিছু জনতা থাকলেই সেটা দেশ হয় না। একটা ভূখণ্ডকে রাষ্ট্র হতে হলে তাতে কিছু আইন কানুন থাকতে হয়, দল মত নির্বিশেষে সবার উপর সেই আইনের সমান প্রয়োগ থাকতে হয়। কোন নীলা রায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হলে, পাহাড়ে কোন চাকমা মেয়ে ধর্ষিতা হলে তাতে শুধু এই পরিবারগুলোই দুঃখের সাগরে ভাসে না, দেশটাও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে যায়। রাষ্ট্র যখন ব্যর্থ হয় তখন মন্ত্রীত্ব বলুন আর সুশীলত্ব বলুন, উন্নয়ন বলুন আর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পজিটিভ ব্যালেন্স বলুন, এ সবই বহু ব্যবহৃত টিস্যু পেপার বই আর কিছু নয়।

মস্কো, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০