Sunday, November 3, 2019

পেশা নেশা

কারো কাছে পেশাটাই নেশা
আবার কারো কাছে নেশাটাই পেশা
এটা কি পেশার নেশা নাকি নেশার পেশা
নাকি না পেশা না নেশা 
 
দুবনা, ০৩ নভেম্বর ২০১৯ 

৩ রা নভেম্বর

আজ জেল হত্যা দিবস। বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিল এদিনই যখন রাস্ত্র নিজে ঘাতকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়। এ ঘটনা শুধু দেশকে পেছনেই ঠেলে দেয় না, স্বাধীনতার চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। দেশ উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে। বর্তমানে আমরা জেলহত্যা দিবস পালন করি, প্রয়াত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। কিন্তু সেই সাথে আমরা কী বিচারবিহীন হত্যারও নিন্দা করি, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করি? রাস্ত্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারহীনতার জন্ম কিন্তু এই দিনই। আমরা যদি সত্যি সত্যিই এই নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই সেটা করতে পারব সমাজের বিভিন্ন স্তরে যে বিচারহীনতা বিরাজ করছে সেটাকে উচ্ছেদ করে যাতে ভবিষ্যতে কাউকে রাজনৈতিক হত্যার শিকার হতে না হয়।

দুবনা, ০৩ নভেম্বর ২০১৯

Friday, November 1, 2019

চোখ

দাদা, ঐ লোকটাকে আপনি কোন চোখে দেখেন?

উত্তরে যাই বলি সেটাই মিথ্যে হবে। উত্তর না দিলে হয় না?

এ যে দেখছি উস্কানিমুলক কথা। তাহলে তো শুনতেই হয়।

দেখো, ইদানীং চোখে আর আগের মত ভালো দেখি না, মানে চোখটা একটু খারাপ। তাই যদি বলি ওকে ভালো চোখে দেখি কথাটা ভুল বলা হবে। খারাপ চোখে তো ভালো দেখা যায় না। আর যদি খারাপ চোখে দেখি, সেটাও ভুল, কারণ ওকে আমার ভালো বলেই মনে হয়। তাই বলি কি, তুমি বরং অন্য প্রশ্ন কর যাতে আমার চোখ নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করতে না হয়।

দুবনা, ০২ নভেম্বর ২০১৯ 
 
 
 

পোশাক

এখন অনেক কিছুই ইউনিভার্সাল সাইজের করা হয়, অথচ আমাদের পূর্বপুরুষেরা সেটা সেই কবেই করে গেছেন। শাড়ি, লুঙ্গি, ধূতি - সাইজের বালাই নেই, সবাই সবারটা পরতে পারে। লাগেজ টানার ঝামেলা নেই। কত না বুদ্ধিমান ছিলেন তারা! 

দুবনা, ০১ নভেম্বর ২০১৯  


রাগরসে রতন


মায়ের উদ্যোগে আমাদের বাড়িতে বরাবরই গান বাজনার রেওয়াজ ছিল। দিদি, রতন গান শিখত, আমিও "ওগো নদী আপন বেগে" দিয়ে গানের হাতে খড়ি নিই আকালী মাস্টারমশাইএর কাছে থেকে। "বউ কথা কও" ছাড়া আরও দুয়েকটা গান জানতাম, তবে গলা সাধার নোটগুলো এখন বেশ মনে আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আসতেন অবিনাশ চক্রবর্তী, কালিপদ ভৌমিক। রমেশ দা তবলা শিখাতেন রঞ্জিত দা আর কল্যাণ দাকে। আমিও শেষ মেশ তবলা পেটাতে শুরু করি। তবে সিরিয়াসলি কিছু শেখা হয় সুশীল বালো দার কাছে, মস্কো আসার আগে দিয়ে। রতন বুলবুল ললিতকলা অ্যাকাডেমি থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর শিক্ষা নেয়। দেশে থাকা কালীন প্রতিদিন সকালে বিকালে ও গাইত, আমি তবলা বাজাতাম। গত ৩০ অক্টোবর ও গাইল মানিকগঞ্জের রাগরস টেলিভিশনে। বাংলাদেশ বেতারে অনেক দিনই গাইছে, তবে যত দূর জানি টিভি তে এই প্রথম। শেয়ার করছি, যদি সময় সুযোগ হয় বন্ধুদের, শুনবেন।
দুবনা, ০১ নভেম্বর ২০১৯
ছবিটা সজা করা গেল না, কষ্ট করে ঘাড় বেঁকিয়ে দেখবেন, সেই সাথে ব্যায়ামটাও হয়ে যাবে

https://www.facebook.com/saifur.selim/videos/2776423519049159/

বাংলার গরু ছাগল

- বঙ্গ দেশে শুনলাম গরু ছাগলের সংখ্যা মিলছে না।
ভারিক্কি গলায় সম্রাট আকবর মোল্লাজী দোপেয়াজাকে প্রশ্ন করলেন। মোল্লাজী যেন প্রশ্নটার অপেক্ষাতেই ছিলেন। আরও ভারিক্কি গলায় উত্তর দিলেন
- হে মহান সম্রাট, সুবে বাংলায় যদি গরু ছাগলের সংখ্যা বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার কিছু প্রজা কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য গরু ছাগলের রূপ ধরেছে, আর যদি গরু ছাগলের সংখ্যা কম হয়, তবে বুঝতে হবে কিছু গরু ছাগল ক্যাসিনো খেলার জন্য মনুষ্য রূপ ধারণ করেছে। কিছুদিন অপেক্ষা করুন। দেখবেন সংখ্যাটা আপনা আপনিই নিজের জায়গায় ফিরে এসেছে। আজকাল কেউ আগের মত অতিথি পরায়ণ নয়, বেশি দিন কাউকে আটকে রাখে না। অবশ্য আরবদেশের শেখেদের কথা আলাদা, বিশেষ করে মহিলা আগন্তুকদের তারা সহজে যেতে দিতে চায় না। তবে জাহাপনা সেটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে।

দুবনা, ০১ নভেম্বর ২০১৯ 
 
 

পরীক্ষা

রাশিয়ায় পরীক্ষার কথা নিয়ে বেশ লেখালেখি চলছে ফেসবুকে। আমরা যারা সোভিয়েত আমলে পড়াশুনা করেছি ৫, ৪ আর ৩ ছিল পাশ মার্ক, ২ ফেল। ইউনিভার্সিটিতে ১ দেওয়া হত না, যদিও স্কুলে ১ বা কোল এর প্রচলন ছিল। নিজেদের শিক্ষাকে ইউরোপিয়ান রূপ দিতে অনেক কিছুই করা হয়েছে, তাতে শিক্ষার মান বাড়েনি, বেড়েছে ব্যুরোক্র্যাসি। ফেল ফেলই সেটা ০ পাও আর ২ পাও। ২ এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, তাতে কেউ আর যাই হোক পাশ করে না। নীচে নিজের পড়ানোর বা পরীক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলছি।
এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পরীক্ষা মত ১০০ নম্বরে, ঠিক পরীক্ষা নয় - ক্লাস থেকে শুরু করে সবকিছু। একেক জন টিচার একেভাবে সেটা করেন। আমি তিন বছর আগে যখন শুরু করি, এক ছাত্র পরীক্ষায় এসে বলল টাকে পাশ করিয়ে দিতে, মানে ৩ বসাতে। জিজ্ঞেস করলাম কেন? সে বলল, ক্লাসের কাজে সে ৫১ নম্বর পেয়েছে। সে এর বেশি আশা করছে না। কী আর করা? পরের সেমিস্টারে আমি ছাত্রেদের বললাম,
ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য ম্যাক্সিমাম ৫ নম্বর। কারণ A গ্রেড পেতে ৯৫ মার্ক লাগে। তোমরা যদি আমার ক্লাসে আসতে না চাও বা না আস, সেটা যেন A গ্রেড পেতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
সেমিস্টারে দুটো কন্ট্রোল প্রব্লেম সল্ভিং এর উপর - ১০ করে মোট ২০।
দুটো কলকিউম থিওরির উপরে - ১০ করে মোট ১০ আর ক্লাসে আক্টিভিটির জন্য ৫। অর্থাৎ ক্লাসের সারা সেমিস্টারের কাজে পাচ্ছ ৫০। যদি পরীক্ষায় পাশ করতে চাও, মানে মিনিমান একান্ন নম্বর পেতে চাও, পরীক্ষায় বসতেই হবে, কিছু না কিছু মার্ক পেতেই হবে। আবার পরীক্ষায় যত ভালই কর না কেন, ক্লাসের কাজে কিছু না কিছু মার্ক না তুলতে পারলে পাশ করবে না।
বর্তমান নম্বর পদ্ধতি এরকম
আক্সিলেন্ট (৫) - ৯৫ - ১০০ (A)
আক্সিলেন্ট (৫) - ৮৬ - ৯৪ (B)
গুড (৪) - ৬৯ - ৮৫ (C)
স্যাটিস্ফেক্টরী (৩) - ৬১ - ৬৮ (D)
স্যাটিস্ফেক্টরী (৩) - ৫১ - ৬০ (E)
ফেল (২) - ৩১ - ৫০ (FX)
ফেল (২) - ০ - ৩০ (F)
তবে এবার থেকে মডিউল সিস্টেম করেছে, পরীক্ষা প্রতি দু মাসে। এখানেও টিচার নিজেই ডিসিশন নেন কীভাবে নেবেন। আমি এখন সোভিয়েত সিস্টেমেই পরীক্ষা নিই। অর্থাৎ খাতায় কি লিখলে সেটা কোন ব্যাপার নয়, মুখে কি বললে, কিভাবে ব্যাখ্যা করলে সেটাই আসল কথা। ৫ পেতে চাও, যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
যারা সত্যিকারেই পড়াশুনা করে, মানে ভাল ছাত্ররা কিভাবে পরীখা নেওয়া বা মার্কিং করা হচ্ছে এ নিয়ে মাথা ঘামায় না। মাথা ঘামায় না তারা যারা একেবারেই পড়াশুনা করে না। তবে যারা ২ -৩ বা ৩ - ৪ এর দোরগোড়ায় তারাই এ নিয়ে বেশি চিন্তিত। এটা আমার ছাত্র জীবনের অভিজ্ঞতা, শিক্ষক হিসেবেও সেটাই দেখছি।

বাংলাদেশে (যেকোনো দেশে) এটা চালু করার কতগুলো পূর্ব শর্ত দরকার।

শিক্ষক নিরপেক্ষ থাকবেন

তার উপর কোন দলীয় বা সাংগঠনিক চাপ থাকবে না।

শিক্ষক যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন আর নিরপেক্ষ না হন, তাহলে এখানেও দুর্নীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থেকে যায়।

আমার কাছে যখন ছাত্ররা উত্তর দিতে আসে, আমি ওদের লিখিত উত্তরটা পাশে রাখতে বলি। আমি দেখতে চাই এত দিন ক্লাস করে ওরা কি বুঝল। ফিজিক্স মুখস্তের বিষয় নয়, বোঝার, আনালাইসিস করার। তাছাড়া চাইলে ওরা নিজেরাই প্রশ্ন বেছে নিতে পার। গোটা পঞ্চাশ প্রশ্ন থেকে দুটো বাছতে হয়। আসল কথা তো ওরা বুঝল কিনা সেটা। কাজে (বিশেষ করে গবেষণার কাজে) বোঝাটাই আসল, আর না বোঝাটা সত্যিকারের বোঝা।


দুবনা, ০১ নভেম্বর ২০১৯