Friday, January 4, 2019

প্রশ্ন


সৈয়দ আশরাফ মারা গেলেন। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে বিশেষ করে আওয়ামী রাজনীতিতে এক বিরল ব্যক্তিত্ব তাঁর সততার জন্য, তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, তাঁর সারল্য, তাঁর ভদ্রতার জন্য। বর্তমান রাজনীতিতে এমন লোক খুব একটা দেখা যায় না। তিনি সেই লোক যিনি আদর্শের প্রশ্নে অনমনীয় থেকেও প্রতিপক্ষকে সম্মান করে কথা বলতে জানেন। আমরা সবাই মনে মনে এরকম নেতাই প্রত্যাশা করি, দেশ ও জাতিও তাই করে। ফেসবুকে পোস্ট দেখে বুঝেছি রাজনৈতিক ভাবে একমত হোক বা নাই হোক অধিকাংশ মানুষই তাঁকে আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই যে আমরা আজ সবাই তাঁর কথা বলছি, তাঁর চলে যাওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হল সে কথা বলছি, আমরা কি কেউ তাঁকে কখনও দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে কল্পনা করেছি? করিনি। কেন? শুধু কি তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ নন বলে? শুধু কি শেখ হাসিনার মত একজন নেত্রী এখনও আওয়ামী লীগ তথা দেশকে আরও অনেকদিন পথ দেখাতে পারবেন বলে? এটা একটা কারণ, তবে একমাত্র নয়। আমরা মনে মনে এরকম সৎ নেতৃত্ব চাইলেও ধরেই নেই এ রকম লোক দেশ চালানোর জন্য খুব নরম। রাজনীতির সব করিডোর যখন এমন হিংস্রতায় ভরা, এমন বিপদ সংকুল তখন তাঁর মত লোকেরা সেখানে সফল হতে পারবেন না, আদর্শহীন ও ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিবিদদের হাতে পড়ে বরং বেঘোরে প্রাণ না হারান মান সম্মান সব হারাবেন। এটাই আমাদের বড় দুর্ভাগ্য। আমরা স্বপ্ন দেখি, কিন্তু স্বপ্নকে সফল করার জন্য লড়াই করি না। আমরা বর্তমানের রাজনীতিকে ঘৃণা করি কিন্তু সেই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কিছুই করি না। বার বার নিজেদের স্বপ্নকে মরে যেতে দিই, মরে যেতে দিই.........
দুবনা, ০৪ জানুয়ারি ২০১৯     

সৈয়দ আশরাফ স্মরণে


অতি উজ্বল জ্যোতিষ্কের পাশে অনেক তারাই ম্লান হয়ে যায়, যেমন হয়েছিলেন আমাদের চার জাতীয় নেতা। জীবদ্দশায় তো বটেই, মৃত্যুর পরেও সে অবস্থার তেমন কোন হেরফের ঘটেনি।  হেরফের ঘটেনি তাদের পরিবারের ক্ষেত্রেও। অপরাজনীতির এই যুগে যারা সুস্থ রাজনীতির স্বপ্ন দেখেন, সুস্থ রাজনীতি করতে চান তারা বড়ই অনাদৃত, অবহেলিত এই মাটিতে। মুখে যাই বলুক রাজনীতির কলকাঠি ঘোরান এমন খুব কম লোকই মন থেকে চান এই অবস্থার পরিবর্তন। নিজেদের অসহায়ত্ব বুঝতে পেরে এদের কেউ রাজনীতি থেকে অবসর নেন, কেউ বা চলে যান না ফেরার দেশে। সৈয়দ আশরাফ আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতির সেই বিরল প্রজাতির প্রতিনিধি জীবদ্দশায় আমরা যার মূল্যায়ন করলেও মূল্য দেইনি, মৃত্যুর পর দেব কি? ঐ যে গানে আছে – জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল!  তবে আমার বিশ্বাস ক্ষমতাধররা না দিলেও বাংলার মানুষ ভালবেসে তাকে ঠিকই স্মরণ করবে, তার অভাব বোধ করবে। কারণ তারা তো জানে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাই রাজনীতির শেষ কথা নয়।      
দুবনা, ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ 



Thursday, January 3, 2019

ফাঁকিবাজ সূর্য

আজ ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ সেই তিন দিন আগেই আমাদের উঠানে পায়চারী করছে অথচ সূর্য ব্যাটার টিকিটির দেখা পর্যন্ত নেই। কে জানে ২০১৮ কে বিদায় জানাতে গিয়ে মাতাল হয়ে কোথায় ঘুমিয়ে আছে? যতসব ফাঁকিবাজের দল!

দুবনা, ০৩ জানুয়ারি ২০১৯ 
 
 
 

Wednesday, January 2, 2019

লিটমাস টেস্ট

নির্বাচন পরবর্তী যে ধর্ষণের ঘটনা দেশকে আলোড়িত করেছে তার প্রতি সরকারের অবস্থানই প্রমান করবে দেশ ন্যায় বিচারের নাকি অরাজকতার দিকে যাচ্ছে! এটা হবে আওয়ামী লীগের জন্য লিটমাস টেস্ট। অপরাধীরা যোগ্য শাস্তি পেলে জনগণ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে, মাস্তানরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করা থেকে কিছুটা হলেও বিরত থাকবে। অন্য দিকে যদি বরাবরের মতই দলীয় ছত্রছায়ায় তারা বেকসুর খালাস পেয়ে যায়, তাহলে সারা দেশের দলীয় মাস্তানদের জন্য এটা হবে কার্ড ব্লানশ (carte blanche)। অরাজকতায় ছেয়ে যাবে বাংলাদেশ। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী পরীক্ষিত ও সত্যিকারের আওয়ামী কর্মীদের উচিৎ হবে এই ধর্ষণের ন্যায় বিচার চেয়ে সরকার তথা দলীয় নেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করা।

দুবনা, ০২ জানুয়ারি ২০১৯ 

Tuesday, January 1, 2019

বিশেষণ

আজকাল বিশেষণের এত অপব্যবহার হচ্ছে যে ভাষাবিদদের উচিত এই পদটাকেই বিলুপ্ত করা। এতে যদি কিছুটা হলেও মানুষে মানুষে সমতা সৃষ্টি হয়।

দুবনা, ০১ জানুয়ারি ২০১৯


সম্পর্ক


বাম দল, বিশেষ করে সিপিবি আর আওয়ামী লীগের মধ্য এক অদ্ভুত মনস্তাত্বিক সম্পর্ক বিদ্যমান বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগ মনে করে সিপিবি তার প্রাক্তন প্রেমিকা যার উপর এখনও তার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। সিপিবি মনে করে তাদের মধ্যে পুরনো প্রেমের ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট নেই, আওয়ামী লীগের তার উপর কোনই অধিকার নেই, যদিও পুরনো সম্পর্কের কারণে তার প্রতি আওয়ামী লীগের কিছু দায়িত্ব রয়ে গেছে। কেউই বুঝতে চাইছে না যে তারা পরস্পর বিরোধী দুটো দল যাদের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব আছে, যাদের পরস্পর বিরোধী স্বার্থ আছে, যাদের নিজেদের স্বার্থকে রক্ষা করার সমস্ত নৈতিক এবং আইনগত অধিকার আছে। আর এই বন্ধুত্ব বা বিরোধিতার মাঝে তৃতীয় পক্ষের কোন ভূমিকা বা স্থান নেই। যত তাড়াতাড়ি সবাই এটা বোঝে দেশের রাজনীতির জন্য ততই মঙ্গল। তবে সমস্যা হল শুধু নেতারা বসে ব্যাপারটা সমাধান করতে পারবেন না। কেননা সমস্যা শুধু নেতাদের নয় কর্মীদেরও। গ্রামে গঞ্জে এরা অনেকেই একই সাথে বিভিন্ন প্রশ্নে আন্দোলন করে, গনসংগঠন করে। তাই বন্ধুত্ব, শত্রুতা, প্রতিযোগিতা ইত্যাদি বিভিন্ন পরস্পর বিরোধী বন্ধনে আবদ্ধ এরা। এগুলো আলোচনা করে মেটানোর নয়। জীবনের অভিজ্ঞতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এর সুরাহা করতে পারে। তবে আমাদের রাজনীতি ও সমাজে এই জিনিসটা বলতে গেলে দুর্লভ।
দুবনা, ০১ জানুয়ারি ২০১৯




শুভ জন্মদিন!

শুভ জন্মদিন ২০১৯! মাত্র ৩৬৫ দিনের তোমার ক্ষণস্থায়ী জীবন হোক ঘটনাবহুল! যেন হাজার বছর পরেও মানুষ তোমাকে স্মরণ করে ভালবাসে! 

দুবনা, ০১ জানুয়ারি ২০১৯