Monday, February 2, 2026

স্বনির্ভরতা

অনেক দিন আগের কথা। তখন পাকিস্তান নামে একটি দেশ ছিল। বর্তমান বাংলাদেশ ছিল সেই পাকিস্তানের একটি প্রদেশ। কিন্তু পাকিস্তানিদের, বিশেষ করে পাঞ্জাবী শাসক শোষকদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাঙালিরা স্বাধীন হল। এখন শুনি একদল বাঙালি নাকি পুনরায় পাকিস্তানি হবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ পাকিস্তানে আঁটকে পরা বাঙালিরা আজও পাকিস্তানি হতে পারে নাই। আচ্ছা এদের যদি এতই পাকিস্তানি হতে ইচ্ছে করে তাহলে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপ বা অন্যান্য দেশের পরিবর্তে পাকিস্তানে মাইগ্রেট করে না কেন? এখন তো এ জন্য ভিসা পর্যন্ত লাগে না। এমনকি ডাইরেক্ট ফ্লাইট পর্যন্ত চালু হয়েছে। অযথা দেশের বেশির ভাগ মানুষ যারা পাকিস্তানী হতে চায় না, তাদের সাথে নেবার কী দরকার? তবে তাদের এটাও মনে রাখা দরকার যে শুধু একাত্তর সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মধ্য দিয়েই পাকিস্তান ভাঙ্গনের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। এখনও খোদ পাকিস্তানে পাঞ্জাবী, সিন্ধি, বালুচ, পশতুন এরা এক জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি আর তাই বালুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশে বিদ্রোহ লেগেই আছে। আরব বিশ্বের এতগুলো দেশ একই ধর্ম, একই ভাষা নিয়েও এক রাষ্ট্র হতে পারল না, সেখানে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান শুধু ধর্মের ভিত্তিতে এক হবে কীভাবে? বাঙালিরা বাঙালি হয়েই নিজের দেশ গড়ে তুলুক আর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক। তাহলেই এক দেশ না হয়েও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। এই দুই দেশের ভাগ বাটোয়ারা করার কিছু নেই, স্বল্পকালীন যে যৌথ অতীত আছে সেটাও সুখকর নয়। তাদের চলার পথ ভিন্ন। তারপরেও দু দেশই নিজের পায়ে শক্ত ভাবে দাঁড়ালে আর পরস্পরের পথকে শ্রদ্ধা করলে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো হবে। সেটা সব দেশের জন্যেই সত্য। তাই পাকিস্তানের আগে বাংলাদেশকে ভালবাসতে শিখুন, এই দেশকে উন্নত ও আধুনিক করুন। বাকিটা আপনার দায়িত্ব নয়। দুবনা, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Sunday, February 1, 2026

সাপ

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাব্য সাংসদ মহিলাদের সাথে একই আলোচনা সভায় বসতে রাজি না হলেও একই সাথে একাধিক মহিলার সাথে বসতে (বাস করতে) গররাজি নয়। একই ভাবে গণতন্ত্রের নামে জপে একদল ডিগ্রিধারী হাফ নাগরিক টাউট বাটপার দেশে মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে এতটুকু দ্বিধান্বিত নয়। এসব দু মুখো সাপের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। 

দুবনা, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Thursday, January 29, 2026

জালিয়াত

কল্পনা করুন, একজন প্রধান শিক্ষক বলছেন যে তার স্কুলের সব ছাত্র অপদার্থ, মূর্খ। অথবা কোচ বলছে তার টিমের সব খেলোয়াড় আসলে খেলতেই জানে না। বা রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা বলছেন দলের সব কর্মীরা দল বিরোধী কাজে লিপ্ত। এটা যদি হয় তাহলে দায়টা কার? এরপর কি আর সেই সব মানুষের এসব সংগঠনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা শোভা পায়? পায় না। কথায় আছে মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকে।

মোঃ ইউনুসকে বলতে শুনলাম দেশের সব লোক নাকি জালিয়াত। কিন্তু বাস্তবটা কি? তিনি নিজেকে করমুক্ত করলেন, মামলা থেকে বেকসুর খালাস করলেন, তার সাঙ্গপাঙ্গরাই চোখের পলকে কোটি কোটি মালিক হল। আর সাধারণ মানুষ যেমন ছিল ঠিক তেমনই রয়ে গেল, এমনকি আগের চেয়ে আরও বেশি নিঃস্ব হল। তাহলে জালিয়াতিটা কে করল? জালিয়াতটা কে? একজন মানুষ কতটুকু অপদার্থ হলে দেশের সাধারন মানুষদের জালিয়াত বলতে পারে?

চোরের মায়ের শুনেছি বড় গলা।

দুবনা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

Wednesday, January 28, 2026

তখন?

আত্মসম্মানবোধ ও জাতীয় স্বার্থ - দুটোই জাতির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই চেষ্টা করা উচিৎ উভয়কেই সমুন্নত রাখার। তবে কখনও কখনও এই দুইয়ের মধ্যে কোন একটা বেছে নিতে হয়। তখন? তখন দেখতে হবে জাতির ভবিষ্যতের জন্য কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড, আমেরিকার মত দেশ বলে তাদের চিরস্থায়ী বন্ধু নেই, আছে জাতীয় স্বার্থ। জাতীয় স্বার্থে অনেক সময় তারা আদর্শের সাথে কম্প্রোমাইজ করে। সাধারণত দুর্বল আত্মসম্মান রক্ষা করতে স্বার্থ বিসর্জন দেয়, সবল স্বার্থ রক্ষা করে পরে সম্মান আদায় করে নেয়।

দুবনা, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

Tuesday, January 27, 2026

সমস্যা

পাকিস্তান বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা চায়নি, সে ভারতের সম্ভাব্য হিন্দু শাসন থেকে স্বাধীনতা চেয়েছে। এ রকম একটি ধারণা নতুন নয়। সমস্যা হল যারা পাকিস্তান চেয়েছিল তারা কখনোই হিন্দু্দের কাছে পরাধীন ছিল না। কিন্তু পরাধীন হতে পারে এই ভয় সাধারণ মানুষের মনে তারা এমনভাবে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল যে প্রায় আশি বছর পরেও তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এমনকি বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে পরাধীন থাকার পরেও যতটা না পাকিস্তানি প্রতিশোধের ভয় পায় তারচেয়ে বেশি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, করছে। অথচ এই আগ্রাসন যে কি সেটা কখনোই দৃশ্যমান হয়নি। কারণ একদিকে আমরা ভারতের সবিছু বয়কট করে তার আধিপত্য থেকে মুক্ত হতে চাইব, অন্যদিকে নিজেরাই আগ বাড়িয়ে ভারতের কাছ থেকে তেলটা নুনটা কিনে ভারতের উপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলব অথচ নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে নির্ভরশীলতা কমাব না। বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি দেশই বিভিন্ন ভাবে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। আমরা যখন স্বেচ্ছায় কোন দোকানের চাল কেনা বন্ধ করি, তখন আমার কাছে চালের দোকানের সংখ্যা কমে যায় আর অন্যেরা সেই সুযোগ নিয়ে বেশি দামে আমার কাছে চাল বিক্রি করে। এক নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আমরা আরেক জনের উপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে উঠি। এটা বাজার অর্থনীতির উল্টো স্রোতে চলা। তবে আমাদের সমস্যা অনেক বেশি করে মানসিক। আর সমস্যা যখন মানসিক হয় তখন তার চিকিৎসা অনেক জটিল, আর মানসিক সমস্যা যখন সমষ্টিগত হয় তখন তার নিরাময় প্রায় অসম্ভব। দুবনা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

Monday, January 26, 2026

বিদায়

মস্কো থেকে ফিরছি। অন্যান্য সোমবার আমি সাধারণত ক্লাস নিয়ে রাতের ট্রেনে দুবনা ফিরি। এখন ছুটি। ক্লাস নেই। তবুও মস্কো এসেছিলাম, আসতে হয়েছিল। আসতে হয়েছিল শানুকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য। অন্তত শানুর শারীরিক সত্তার সাথে এটাই ছিল শেষ দেখা। এখন আমাদের দেখা হবে, কথা হবে স্মৃতির পরতে পরতে। মৃত্যুই তো জীবনের শেষ কথা নয়। যতদিন স্মৃতিতে থাকে মানুষ ততদিন পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকে। শানুর জন্য ভালোবাসা।

দুবনার পথে, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

Sunday, January 25, 2026

প্রতিবিম্ব

দেশের অবস্থা সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অমৃত বাণী শুনে মনে হয় তারা আসলে আয়না ঘরে বাস করছে আর আয়নায় গত দেড় বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিজেদের আহ্লাদে গদগদ প্রতিবিম্ব দেখে ধরেই নিয়েছে দেশ ও দেশের সব মানুষও ফুলে ফেঁপে বটগাছ হয়ে গেছে। এরকম কূয়োর ব্যাঙের সমাবেশ কোন সরকারে ইতিপূর্বে ঘটেছে বলে মনে হয় না।

মস্কো, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

উপলব্ধি

সার্বিক পরিস্থিতি দেখে একটাই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় - বাংলাদেশের সরকার ও এমনকি সামান্য প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী প্রায় সবাই স্যাডিস্ট আর তাদের চোখে দেশ ও জনগণ গনিমতের মাল যাদের কোনই অধিকার নেই এবং যাদের যেমন খুশি তেমন ভাবে নির্যাতন করা যায়।

দুবনা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

Saturday, January 24, 2026

গোঁয়ার্তুমি

ছোটবেলায় কোন কারণে রাগ করে অনশন ধর্মঘট করলে মানে খাওয়া বাদ দিলে বড়রা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত "আরেক বার সাধিলেই খাইব"। আসিফ নজরুল নাকি বলেছেন আইসিসি বা ভারত সরকার কারোও পক্ষ থেকেই তাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করা হয়নি। ভারত সরকার তো প্রথম থেকেই ইকুয়েশনে ছিল না। সবাই তো আর বাবা মা না যে আরেক বার সাধবে। আর সব নজরুল নজরুল নয় সেটাও তো প্রমাণিত। কারণ বিদ্রোহ আর গোঁয়ার্তুমি দুটো ভিন্ন জিনিস।

দুবনা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

Wednesday, January 21, 2026

প্রশ্ন

গান্ধী, নেহেরু, সুভাস বসু বা রবীন্দ্রনাথ এদের সবাই ইংল্যান্ডে গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষদের সুযোগ সুবিধা দেখে প্রচণ্ড উদ্বেলিত হয়ে প্রশ্ন করেছেন এই ইংরেজরা কেন ভারতবর্ষের নাগরিকদের জন্য একই রকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারে না। আসলে এখনও কী ইংরেজ, কী আমেরিকান, কী ইউরোপিয়ান - স্বভাবে সেই আগের মতই রয়ে গেছে। তারা আমাদের অর্থে নিজেদের দেশের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করলেও আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আগ্রহী নয়। শুধু সেটুকুই করে যেটা না করলে অন্যদের সামনে লজ্জিত হতে হয়।

দুবনা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

Sunday, January 18, 2026

মানবতা

অনেক দিন আগে বিশ্বে যখন কমিউনিস্ট আন্দোলন শক্তিশালী ছিল তখন আন্তর্জাতিকতাবাদ বা ইন্টারন্যাশনালিজম বলে একটা ধারণা ছিল। এর মূল কথা ছিল সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ লড়াই। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা যখন শক্তির একমাত্র কেন্দ্র হয় তখন নতুন শব্দের আগমন ঘটে - গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন। সুন্দর মোড়কে পরিবেশন করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পুঁজির সীমাহীন শোষণ নিশ্চিত করা। মুক্তি নয় অর্থনীতির নব্য উপনিবেশিক শৃঙ্খলে মেহনতি মানুষ তো বটেই সমগ্র মানব জাতিকে বন্দী করাই এর অঘোষিত লক্ষ্য। 

আগে আমরা বলতাম 

শোনরে মানুষ ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

মানুষ ছিল সবার ঊর্ধ্বে। এখন তার জায়গা দখল করেছে মানবতা। নিঃসন্দেহে সুন্দর শব্দ, শ্রুতিমধুর। আমার কেন যেন মনে হয় আন্তর্জাতিকতাবাদ ও বিশ্বায়নের মত মানুষ ও মানবতার মধ্যেও এক অদৃশ্য দেয়াল আছে, আছে দুইয়ের ব্যবহারিক ও ব্যবসায়িক পার্থক্য। মানুষের নামে মানুষ হত্যা করা যায় না কিন্তু মানবতার নামে দেশে দেশে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তাই সবার মুখে মানবতার বাণী শুনে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই।

দুবনা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

তত্ত্ব

তত্ত্ব প্রমাণ করা যায় না, তাকে শুধু ভুল প্রমাণ করা যায়। সত্য, সত্যবাদী এসবের ক্ষেত্রেও তাই। একজন লোককে সত্যবাদী হবার জন্য আজীবন সত্য কথা বলতে হয়, একবার মিথ্যা বললে সে আর সত্যবাদী থাকে না, তার কথা মানুষ আর নিঃসন্দেহে মেনে নেয় না। 

মৌলবাদীরা আজীবন মৌলবাদীই থাকে। এমনকি সে যদি আদর্শ পরিবর্তন করে তবু সে নতুন আদর্শের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী হয়। আর এ কারণেই হয়তো প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে হর হামেশাই রাজাকারদের দল ভারী করতে দেখা যায়, উল্টোটা ঘটে না বললেই চলে।

দুবনা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৫

Friday, January 16, 2026

উপহার

ট্রাম্প ও মাচাদোকে অনেক ধন্যবাদ, যাকে বলে হাজার শুকরিয়া। এতদিন জানতাম পুরস্কার বা দানের জিনিস কাউকে দান করা যায় না। এরা সেই স্টেরিওটাইপ মুছে দিলেন। কত লোকের কত পয়সা বাঁচবে, কত লোকের ঘরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পুরস্কারগুলো নতুন করে জীবন ফিরে পাবে। এমনিতেই কি বলে 
যেখানে দেখিবে ছাই 
উড়াইয়া দেখ তাই 
পাইলেও পাইতে পার
অমূল্য রতন।

দুবনা, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

Monday, January 12, 2026

বাছাই

আগে মানুষ ভালোদের মধ্য থেকে উত্তমকে বেছে নিত। এখন খারাপের যুগ তাই খারাপদের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয়াই এ যুগের রেওয়াজ।‌ 

দুই জন খারাপের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয় বুদ্ধিমানরা। আমাদের লোকজন করে উল্টোটা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে খারাপ অপশন বেছে নেয়। সেটা রাজনীতিতে হোক, অর্থনীতিতে হোক বা কূটনীতিতে হোক। এটা মনে হয় অনেক তপস্যার ফল।

দুবনা, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

দ্বিচারিতা

প্রচুর লোকজন স্বর্গে যাওয়ার জন্য দিনরাত সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে অথচ সবাই সর্বাত্মক চেষ্টা করে স্বর্গে যাওয়ার ফ্লাইট মিস করতে। মনে হয় এটা এমন এক খেলা যেখানে সেই বিজয়ী হয় যে সবার শেষে ফিনিশিং লাইন টাচ করে। 

দুবনা, ১২ জানুয়ারি ২০২৬


Saturday, January 10, 2026

ইতিহাস

কী ব্যক্তি, কী সমাজ, কী দেশ - জীবনের এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবেই পৌঁছাতে পারে। ব্যক্তি যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লেখক, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশা বেছে নিতে পারে নিজ নিজ যোগ্যতা, সামর্থ্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী, সমাজ তেমনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, আধুনিক বা অন্য পথে যেতে পারে যেমন পারে দেশ। তবে সবক্ষেত্রেই কোন এক নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সবাই কোন এক নির্দিষ্ট পথ বেছে নেয়, সে পথেই সাফল্য অর্জন করে বা ব্যর্থ হয়। আর সেটাই হয় ঐ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিহাস। চাইলেই সেই ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। অনেক সময় অনেকেই সেই ইতিহাস বিকৃত করে। এসব বিকৃতি সাময়িক ভাবে ছোট্ট একটি গোষ্ঠীর জন্য লাভজনক হলেও পরিণামে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর হয়। নকল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরিতে ঢোকা যায় কিন্তু সঠিক ভাবে চিকিৎসা করা যায় না, টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। একই ভাবে মিথ্যা ইতিহাস শেখা জাতি দিনের শেষে ব্যর্থ হয়। আর যদি তাই হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব, ১০ জানুয়ারি এসব প্রশ্নে মিথ্যাচার না করে সঠিক ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার।‌ এতে আর কোন লাভ না হলেও মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে না।

দুবনা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

Friday, January 9, 2026

বিরোধিতা

রাজনীতির মাঠে কোন দেশের প্রতি অন্ধ বিরোধিতা তা সে ভারত হোক, পাকিস্তান হোক, চীন আমেরিকা কিংবা রাশিয়া হোক - এটা কোন সবলতা নয়, এটা দুর্বলতা। কতৃপক্ষ যখন সঠিক ভাবে নিজের কাজ করতে ব্যর্থ হয় বা কর্তৃপক্ষের কাছে যখন নিজের পক্ষে কোন যুক্তি থাকে না তখন সে এক বিরোধী পক্ষ দাঁড় করায় আর সাধারণ মানুষ হজ্ব করতে গিয়ে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর ছোঁড়ার মত এই বিরোধী পক্ষের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে নিজেদের ব্যস্ত রাখে।‌ এ ভাবেই কারো বিরুদ্ধে জনগণকে উত্তেজিত করে স্বার্থান্বেষী একদল মানুষ নিজেদের কাজ হাসিল করে।‌ আর দিনের শেষে পস্তায় জনগণ।

দুবনা, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

Wednesday, January 7, 2026

সাইড ইফেক্ট

অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তুলতে হলে ওষুধ দিতে হয়। একজন ভালো ডাক্তার ওষুধের সাইড ইফেক্ট মাথায় রেখে সেটা দেয়া বা না দেয়ার বা দিলে কত ডোজ দেবেন তার সিদ্ধান্ত নেন। মূল কথা হল ওষুধের সাইড ইফেক্ট যেন মূল রোগের চেয়ে ক্ষতিকর না হয়। চব্বিশের পরিবর্তনে বাম দলগুলো মনে হয় সাইড ইফেক্ট ব্যাপারটা মাথায় রাখেনি। এটা নতুন করে তাদের সমাজ বিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করল। তাদের দাওয়াই বাংলাদেশ নামক রুগিকে মৃত্যু শয্যায় শায়িত করল। তবে অধিকাংশ ডাক্তারের মত তারা সেলামি পেয়েই খুশি। একটাই স্বান্তনা, জীবন মরণের মালিক তারা নন।

দুবাই, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬


Sunday, January 4, 2026

শান্তি

ভেনেজুয়েলায় ঝটিকা আক্রমণ ও আপাত বিজয় শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার নিশ্চয়ই দাবি করবেন যে আটটি নয়, তিনি নয় নয়টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। যদি প্রয়োজন হয় তিনি আরও একানব্বুইটা যুদ্ধ থামাবেন আর প্রয়োজনে এসব যুদ্ধ লাগাবেন। একবার না পারিলে দেখ শতবার। সুতরাং এবার তাঁর নোবেল ঠেকায় কে? আমার তো মনে হয় বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের উচিত ট্রাম্পের জন্য নোবেল শান্তি দাবি করা। রীতিমত ধর্ণা দেয়া। ভাগ্য ভালো হলে আর ট্রাম্প সু চি - ইউনূস - মাচাদোর পথে হাঁটলে আমেরিকায় শান্তি আসতে তাহলে আর খুব দেরি হবে না। আর আমেরিকায় শান্তি এলে বিশ্ব অশান্তিতে ভুগবে না।

দুবনার পথে, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬


ডঃ ডেথ

বিগত কয়েক দিনে দেশে বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছে তথাকথিত মবের হাতে। ডক্টরকে ধন্যবাদই দিতে হয়। তার মব এখন শুধু হত্যাই করে না, সংখ্যালঘুদের কষ্ট লাঘব করতে সেই সাথে শবদাহ পর্যন্ত সম্পন্ন করে নিজ খরচে। এক সময় জার্মানির এক ডাক্তারকে ডঃ ডেথ বলে ডাকা হত। বাংলাদেশের জনগণের উচিত আমাদের ডঃ কে এই পদে মনোনয়ন দেয়া।

মস্কো, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬


Friday, January 2, 2026

অবাক কান্ড

"পরিবর্তনই একমাত্র সত্য বা সবকিছু পরিবর্তনশীল।" যেকোন মার্ক্সবাদী এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, এটা মানে। মানে, কারণ গুরু মার্ক্স এটা বলেছেন। কিন্তু ধার্মিকদের মত তারাও এ ব্যাপারে ডগম্যাটিক। এই বাক্যে বিশ্বাস করলেও নিজেদের বদলাতে রাজী নয়। রাজনীতিতে যে অধিকাংশ বিষয় ইস্যু ও পরিস্থিতি ভিত্তিক সেটা মানতে রাজি নয়। স্থায়ী বন্ধুত্ব বা শত্রুতার চেয়েও দেশের স্বার্থ যে বৃহত্তর সেটা মানতে রাজি নয়। আমার অবাক লাগে সিপিবির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ভারত বিরোধিতা দেখে। এক্ষেত্রে তারা জামায়াত শিবিরকেও হার মানায়। অথচ সেখানেও তাদের বন্ধু সংগঠন আছে, আছে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ, প্রায় সর্বহারা জনতা যাদের বন্ধু হিসেবে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কমিউনিস্ট পার্টি তো কোন এক দেশের নয়, এটা এক বৃহত্তর আন্তর্জাতিক চেইনের একটি অংশ মাত্র।

মস্কোর পথে, ০২ জানুয়ারি ২০২৬

Thursday, January 1, 2026

অঙ্গীকার

ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে মর্ত্যে না করে কি উপায় আছে? হ্যাঁ, বছরের পয়লা দিন ভাত নিজে পুড়ে আমাকে বুঝিয়ে দিল নিয়তির লিখন না যায় খন্ডন। তা ভাত যদি পুড়ে সুখ পায় আমারই বা দুঃখ পাবার কী আছে? ভাতের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি ২০২৬ সালেও ওকে পুড়তে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করব। আপনারা স্বাক্ষী রইলেন।

দুবনা, ০১ জানুয়ারি ২০২৬